বিলের বাঁধে হাঁসের খামার
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার রক্তদহ বিলের বাঁধ এখন হাঁসের খামারে পরিণত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বেকার যুবকরা এসে বিলের বাঁধে গড়ে তুলেছেন একাধিক হাঁসের খামার। এদের মধ্যে রিপন আলীর হাঁসের খামার সকলের দৃষ্টি কেড়েছে। বর্তমানে তার খামারে হাঁসের সংখ্যা প্রায় ৫ থেকে ৬শ'।
রিপন আলী। বাড়ি বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলার পাতাঞ্জু গ্রামে। বেকার ছিলেন। মানুষের নানান কথা আর খারাপ ব্যবহারে মন যখন ভারাক্রান্ত তখন মাথায় আসে রক্তদহ বিলের বাঁধে হাঁসের খামারের কথা। সামান্য কিছু পুঁজি নিয়ে নেমে পড়েন তিনি। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রমাণ করেছেন ইচ্ছে থাকলে উপায় একটা হয়-ই হয়। তার সফলতা দেখে এখন এলাকার অনেক বেকার যুবক এগিয়ে এসেছেন রক্তদহ বিলের বাঁধে হাঁসের খামার করতে।
মাত্র ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে এ পদ্ধতিতে হাঁসের খামার করে অভাবনীয় সফলতা পেয়ে যান রিপন। হাঁসের খামার থেকে আসা লাভের টাকা দিয়ে নিজের বাড়িতে গড়ে তোলেন হাঁসের হ্যাচারি। নিজের হ্যাচারিতে তিনি এখন তুষ পদ্ধতিতে হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন করছেন। পাশাপাশি সেই বাচ্চা অন্য খামারিদের কাছে বিক্রি করে হচ্ছেন লাভবান। রিপন জানান, অনেকদিন ধরেই হাঁসের খামারের কথা তার মাথায় ঘুরপাক খেলেও তাদের বাড়ি বিল এলাকায় না হওয়ায় হাঁসের খামার গড়ে তুলতে সাহস পাচ্ছিলেন না। একদিন পাশর্্ববর্তী নওগাঁ জেলার আত্রাই হাটে গিয়ে খোলা জলাশয়ে বিলের বাঁধে হাঁস পালন করা দেখে তার মধ্যে এই পদ্ধতিতে হাঁসের খামার করার আগ্রহ সৃষ্টি হয়। অনেক কষ্টে কিছু টাকা জোগাড় করে মাত্র ৫০টি হাঁস কিনে তিনি হাঁসের খামার শুরু করেন।
খোলা জলাশয়ে হাঁস পালন সমর্্পকে রিপন আরো জানান, সাধারণত খামারে আটকে রেখে হাঁস পালনে অনেক বেশি খরচ। খামারে ১টি হাঁসের জন্য যে পরিমাণ খরচ হয়, খোলা বিল এলাকায় সে খরচ অর্ধেকেরও কম হয়। কারণ বিলে হাঁস শামুকসহ নানা খাবার সহজেই পায়। বিলের খোলা জায়গার খাবার খাওয়ার জন্য হাঁস ডিমও দেয় অনেক বেশি। এ ছাড়া হাঁস রাখার জন্য কোনো ঘর তৈরি করতে হয় না। বাঁেধর উপর পলিথিন দিয়ে ঘিরে সামান্য খরচে হাঁস রাখার জায়গা তৈরি করতে হয়। খোলা বিলে ১টি হাঁসে জন্য খরচ হয় সর্বোচ্চ ৮০ থেকে ১শ' টাকা। ৪ থেকে ৫ মাস বয়স হলে হাঁস ডিম দেয়া শুরু করে। ক্যাম্বেল জাতের প্রতিটি হাঁস একটানা ২৫০ থেকে ২৮০টি পর্যন্ত ডিম দেয়।
বর্ষা মৌসুমের ৬ মাস রিপনের কাটে বিলের বাঁধে, বাকি সময় থাকে হ্যাচারি নিয়ে। হাঁসের ডিম দেয়া শেষ হলে হাঁস ও ডিম বিক্রি করে তার লাভ হয় ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা। রিপনকে অনুসরণ করে বর্তমানে রক্তদহ বিল এলাকার বাঁধে খামার করেছে জাকারিয়া, মোতালেব, রুহুল, জাকিরুলসহ ১০ জন বেকার যুবক। এদের প্রত্যেকের হাঁসের সংখ্যা ৩ থেকে ৪শ'র উপরে। হাঁস পালনকারী জাকারিয়া বলেন, লেখাপড়া শিখে চাকরির আশায় বসে না থেকে বেকার যুবকরা ছোটখাট হাঁস-মুরগির খামার গড়ে তুলতে পারেন। বর্তমানে যারা বিলের বাঁধ থেকে হাঁসের খামার গড়ে তুলেছেন তারা সবাই কমবেশি লেখাপড়া জানেন।
খোলা জলাশয়ে হাঁস পালন সম্পর্কে আদমদীঘি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এনামুল হক রক্তদহ বিলের বাঁধে হাঁস পালন সম্পর্কে বলেন, বেকার যুবকদের এ ধরনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তারা চাইলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এ ছাড়া তাদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেবে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। তিনি আরো বলেন, হাঁসের যেকোনো ধরনের রোগ দেখা দেয়ার আগেই তার বিভাগের লোকজন বিল এলাকায় ওই সমস্ত খামারে গিয়ে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন দেয়ার ব্যবস্থা করবে।
এস. এম. নাজমুল হক ইমন, সান্তাহার, বগুড়া
রিপন আলী। বাড়ি বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলার পাতাঞ্জু গ্রামে। বেকার ছিলেন। মানুষের নানান কথা আর খারাপ ব্যবহারে মন যখন ভারাক্রান্ত তখন মাথায় আসে রক্তদহ বিলের বাঁধে হাঁসের খামারের কথা। সামান্য কিছু পুঁজি নিয়ে নেমে পড়েন তিনি। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রমাণ করেছেন ইচ্ছে থাকলে উপায় একটা হয়-ই হয়। তার সফলতা দেখে এখন এলাকার অনেক বেকার যুবক এগিয়ে এসেছেন রক্তদহ বিলের বাঁধে হাঁসের খামার করতে।
মাত্র ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে এ পদ্ধতিতে হাঁসের খামার করে অভাবনীয় সফলতা পেয়ে যান রিপন। হাঁসের খামার থেকে আসা লাভের টাকা দিয়ে নিজের বাড়িতে গড়ে তোলেন হাঁসের হ্যাচারি। নিজের হ্যাচারিতে তিনি এখন তুষ পদ্ধতিতে হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন করছেন। পাশাপাশি সেই বাচ্চা অন্য খামারিদের কাছে বিক্রি করে হচ্ছেন লাভবান। রিপন জানান, অনেকদিন ধরেই হাঁসের খামারের কথা তার মাথায় ঘুরপাক খেলেও তাদের বাড়ি বিল এলাকায় না হওয়ায় হাঁসের খামার গড়ে তুলতে সাহস পাচ্ছিলেন না। একদিন পাশর্্ববর্তী নওগাঁ জেলার আত্রাই হাটে গিয়ে খোলা জলাশয়ে বিলের বাঁধে হাঁস পালন করা দেখে তার মধ্যে এই পদ্ধতিতে হাঁসের খামার করার আগ্রহ সৃষ্টি হয়। অনেক কষ্টে কিছু টাকা জোগাড় করে মাত্র ৫০টি হাঁস কিনে তিনি হাঁসের খামার শুরু করেন।
খোলা জলাশয়ে হাঁস পালন সমর্্পকে রিপন আরো জানান, সাধারণত খামারে আটকে রেখে হাঁস পালনে অনেক বেশি খরচ। খামারে ১টি হাঁসের জন্য যে পরিমাণ খরচ হয়, খোলা বিল এলাকায় সে খরচ অর্ধেকেরও কম হয়। কারণ বিলে হাঁস শামুকসহ নানা খাবার সহজেই পায়। বিলের খোলা জায়গার খাবার খাওয়ার জন্য হাঁস ডিমও দেয় অনেক বেশি। এ ছাড়া হাঁস রাখার জন্য কোনো ঘর তৈরি করতে হয় না। বাঁেধর উপর পলিথিন দিয়ে ঘিরে সামান্য খরচে হাঁস রাখার জায়গা তৈরি করতে হয়। খোলা বিলে ১টি হাঁসে জন্য খরচ হয় সর্বোচ্চ ৮০ থেকে ১শ' টাকা। ৪ থেকে ৫ মাস বয়স হলে হাঁস ডিম দেয়া শুরু করে। ক্যাম্বেল জাতের প্রতিটি হাঁস একটানা ২৫০ থেকে ২৮০টি পর্যন্ত ডিম দেয়।
বর্ষা মৌসুমের ৬ মাস রিপনের কাটে বিলের বাঁধে, বাকি সময় থাকে হ্যাচারি নিয়ে। হাঁসের ডিম দেয়া শেষ হলে হাঁস ও ডিম বিক্রি করে তার লাভ হয় ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা। রিপনকে অনুসরণ করে বর্তমানে রক্তদহ বিল এলাকার বাঁধে খামার করেছে জাকারিয়া, মোতালেব, রুহুল, জাকিরুলসহ ১০ জন বেকার যুবক। এদের প্রত্যেকের হাঁসের সংখ্যা ৩ থেকে ৪শ'র উপরে। হাঁস পালনকারী জাকারিয়া বলেন, লেখাপড়া শিখে চাকরির আশায় বসে না থেকে বেকার যুবকরা ছোটখাট হাঁস-মুরগির খামার গড়ে তুলতে পারেন। বর্তমানে যারা বিলের বাঁধ থেকে হাঁসের খামার গড়ে তুলেছেন তারা সবাই কমবেশি লেখাপড়া জানেন।
খোলা জলাশয়ে হাঁস পালন সম্পর্কে আদমদীঘি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এনামুল হক রক্তদহ বিলের বাঁধে হাঁস পালন সম্পর্কে বলেন, বেকার যুবকদের এ ধরনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তারা চাইলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এ ছাড়া তাদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেবে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। তিনি আরো বলেন, হাঁসের যেকোনো ধরনের রোগ দেখা দেয়ার আগেই তার বিভাগের লোকজন বিল এলাকায় ওই সমস্ত খামারে গিয়ে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন দেয়ার ব্যবস্থা করবে।
এস. এম. নাজমুল হক ইমন, সান্তাহার, বগুড়া
No comments:
Post a Comment