বাঁশ চাষে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে ব্যাপক সাফল্য
মিজানুর রহমান রাঙ্গা সাঘাটা (গাইবান্ধা)

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালীর কৃষিবিদ মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বাঁশ চাষের এক নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন, যাতে স্বল্প ব্যয়ে খুব দ্রুত বাঁশবাগান সৃজন করা সম্ভব। তার নব উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে শুধু গাইবান্ধা জেলায়ই নয়, জেলার বাইরে ঠাকুরগাঁও, নওগাঁ, নীলফামারী, পঞ্চগড়, যশোর, টাঙ্গাইল এবং শরীয়তপুর জেলায়ও কৃষকরা কাটিং পদ্ধতিতে বাঁশ চাষ করে দ্রুত উন্নতজাতের বাঁশ উত্পাদনে সক্ষম হয়েছেন। কৃষি উদ্যানতত্ত্ব বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্স করা নজরুল ইসলাম বৃক্ষ সার্জন নামেও গাইবান্ধায় ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তার উদ্ভাবিত বাঁশচাষ পদ্ধতিটি এমন—বাঁশঝাড় থেকে দুই বছর বয়সী সতেজ ও সবল বাঁশ চিহ্নিত করে কেটে নিতে হবে। বাঁশের কঞ্চিগুলো দুই ইঞ্চি পরিমাণ লম্বা রেখে বাকি অংশ ছেঁটে ফেলে সম্পূর্ণ বাঁশটিকে দুই গিটের মাঝখানে করাতের সাহায্যে বাঁশের আকৃতিভেদে ৪০ থেকে ৫০ টুকরো করে নিতে হবে। এক বিঘা জমিতে বাঁশের চারা তৈরির জন্য এরকম ৩০০ টুকরো দরকার হবে। বাঁশ টুকরা করার পর সব টুকরো একটি গর্তে রেখে খড় দিয়ে ঢেকে প্রতিদিন হালকা সেচ দিয়ে ভেজাতে হবে। এরপর পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। এভাবে ১০ থেকে ১৫ দিন রাখার পর দেখা যাবে প্রতিটি গিট থেকে কুশি (নতুন পাতা) বেরিয়েছে। টুকরাগুলো তুলে নিয়ে নির্ধারিত জমিতে ৮-৬ ফুট পরপর নালা কেটে তার মধ্যে বসিয়ে মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। এই মাটি দিয়ে ঢাকার পদ্ধতি হবে আলু চাষের মতো। পরবর্তী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই বাঁশের চারাগাছ কঞ্চি আকারে বেরুতে থাকবে। এগুলো মাটি পুঁতে দিলে পুরো বাঁশঝাড় তৈরি হতে এক থেকে দেড় বছর সময় লাগে। কৃষির উন্নয়নে এই অভূতপূর্ব সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকারের জাতীয় কৃষি পুরস্কার, রোটারি ক্লাব বাংলাদেশ পুরস্কারসহ একাধিকবার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কৃষি মেলার শ্রেষ্ঠ কৃষিবিদ হিসেবে পুরস্কৃত হন তিনি।
SOURCE: Daily Amardesh
SOURCE: Daily Amardesh
No comments:
Post a Comment