-
Showing posts with label OTHER TECH. NEWS. Show all posts
Showing posts with label OTHER TECH. NEWS. Show all posts
Saturday, April 27, 2013
Tuesday, January 1, 2013
জাপানে বাংলাদেশী ছাত্রের কৃতিত্ব: মাছের সেক্স পরিবর্তনের অজানা রহস্য উঘাটিত
জাপানে বাংলাদেশী ছাত্রের কৃতিত্ব:
মাছের সেক্স পরিবর্তনের অজানা রহস্য উঘাটিত
মশিউর রহমান : সমুদ্রে এমন কিছু মাছ বসবাস করে যারা
জীবনের একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে সেক্স পরিবর্তন করে পুরুষ মাছ স্ত্রীতে
অথবা স্ত্রী মাছ পুরুষ মাছে রূপান্তরিত হয়। ঠিক কী কারণে এসব মাছ সেক্স
পরিবর্তন করে তা এতদিন বিজ্ঞানীদের অজানা ছিল। সম্প্রতি জাপানের ওকিনাওয়ার
রিউকিউ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডিতে গবেষণারত বাংলাদেশী ছাত্র ড. মোহাম্মদ
আশরাফুল আলম এ অজানা রহস্য উঘাটন করতে সমর্থ হয়েছেন। উদ্ভাবনের স্বীকৃতি
হিসেবে গত ১১ সেপ্টেম্বর তাকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সম্মান
প্রেসিডেন্ট পদকে ভূষিত করা হয়।
ড. আলম জানান, সেক্স পরিবর্তনকারী মাছের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কোরাল রীফে (প্রবালের খাঁজ) বসবাসকারী গ্রুপার (Grouper) মাছ। এ গ্রুপার মাছ প্রথমে স্ত্রী হিসেবে জন্মগ্রহণ করে ও পরিপক্কতা লাভ করে এবং এক বা একাধিকবার প্রজননে অংশ নেয়। এসব স্ত্রী মাছ পরবর্তীতে সেক্স পরিবর্তন করে পুরুষ মাছে রূপান্তরিত হয় এবং সক্রিয় পুরুষ মাছ হিসেবে প্রজননে অংশগ্রহণ করে। গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সম্মান প্রেসিডেন্ট পদকে ভূষিত হন।
মজার ব্যাপার হলো এসব মাছ আর কখনই পূর্বের সেক্সে ফিরে আসে না। কিন্তু কিভাবে এই গ্রুপার (Grouper) মাছ সেক্স পরিবর্তন করে সক্রিয় পুরুষ মাছে রূপান্তরিত হয় তাই ছিল ডঃ মোহাম্মদ আশরাফুল আলমের গবেষণার বিষয়বস্তু। তিনি প্রথমবারের মতো তার গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, স্ত্রী মাছের গোনাডের (প্রজনন অঙ্গ) মধ্যে এক ধরনের বিশেষ কোষ আছে যারা পুরুষ হরমোন (এন্ড্রোজেন) তৈরি করে। সাধারণত এসব মাছ যখন তার মূল দৈর্ঘ্যের দুই-তৃতীয়াংশ বড় হয় তখনই এই বিশেষ কোষগুলো এন্ড্রোজেন তৈরি শুরু করে এবং স্ত্রী মাছ ধীরে ধীরে পুরুষ মাছে রূপান্তরিত হয়। আর এ অনবদ্য গবেষণার জন্য ড. আলম জাপান সরকারের সর্বোচ্চ সম্মান প্রেসিডেন্ট পদকে ভূষিত হন।
তিনি আরও দেখিয়েছেন যে, এ পরিবর্তনের সময় স্ত্রী মাছের (ফিমেল স্পেসেফিক) জিনগুলো ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং তাদের প্রকাশ (expression) কমে যায়। অন্যদিকে এ সময় পুরুষ মাছের (মেইল স্পেসেফিক) জিনগুলো সক্রিয় হয় এবং এদের প্রকাশ (expression)-এর পরিমাণ বেড়ে যায়। আর এভাবেই স্ত্রী মাছটি পুরুষ মাছে রূপান্তরিত হয়। ড. আলমের এ গবেষণা সম্পর্কিত ১০টি নিবন্ধ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। ড. আলমের জাপানের পিএইচডি তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক মাশারু নাকামুরা জানান, এটি একটি অনবদ্য ও যুগান্তকারী উদ্ভাবন। এর ফলে কৌলিতত্ত্ব গবেষণায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো।
ড. আলমের বাংলাদেশের এমএস তত্ত্বাবধায়ক বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসারিজ বায়োলজি এন্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ সামছুল আলম বলেন, বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা সুযোগ পেলে মেধার স্বাক্ষর রাখতে পারে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ড. আলম। তিনি কৌলিতত্ত্ব গবেষণায় পদক লাভ করে দেশের সুনাম বাড়িয়েছেন। ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্রে প্রবালের খাঁজে ভেটকি বা কোরাল মাছও ওইভাবে সেক্স পরিবর্তন করে। তিনি তার গবেষণালব্ধ জ্ঞান দেশ ও জাতির সেবায় কাজে লাগাতে চান।
মাছের সেক্স পরিবর্তনের সময় ব্রেন (মস্তিষ্ক) কি ভূমিকা পালন করে বর্তমানে এর ওপর তিনি তার গবেষণা কর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। মাছের সেক্স পরিবর্তনের বর্তমান জ্ঞানের বাইরে কারো কোন প্রস্তাবনা থাকলে তার ল্যাবে উচ্চতর গবেষণার সুযোগ আছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আলম ১৯৭৭ সালে টাঙ্গাইল জেলার মগড়া ইউনিয়নের ভিতর শিমুল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। টাঙ্গাইলে পড়াশুনা শেষ করে ১৯৯৩-১৯৯৪ শিক্ষাবর্ষে তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদে ভর্তি হন এবং ১৯৯৭ সালের (২০০০ সনে অনুষ্ঠিত) বিএসসি ফিসারিজ অনার্স চূড়ান্ত পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান লাভ করেন। ২০০২ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় হতে মাস্টার্সে এ প্লাস (A+) প্রাপ্ত হন। ২০০২ সালে তিনি ডেনমার্কের Aarhus বিশ্ববিদ্যালয় হতে জেনেটিক্স ডাটা এনালাইসিস-এর সফটওয়ারের ওপর প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেন। অতঃপর ২০০৩ সালে জাপান সরকার প্রদত্ত মনোবুকাগাকুশো বৃত্তি নিয়ে জাপানের ওকিনাওয়ার রিউকিউ বিশ্ববিদ্যালয়ে এম এস শুরু করেন এবং এ ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মাছের সেক্স পরিবর্তনের ওপর পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। পিএইচডিতে অনন্য গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সম্মান প্রেসিডেন্ট পদকে ভূষিত হন।
ড. আলম জানান, সেক্স পরিবর্তনকারী মাছের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কোরাল রীফে (প্রবালের খাঁজ) বসবাসকারী গ্রুপার (Grouper) মাছ। এ গ্রুপার মাছ প্রথমে স্ত্রী হিসেবে জন্মগ্রহণ করে ও পরিপক্কতা লাভ করে এবং এক বা একাধিকবার প্রজননে অংশ নেয়। এসব স্ত্রী মাছ পরবর্তীতে সেক্স পরিবর্তন করে পুরুষ মাছে রূপান্তরিত হয় এবং সক্রিয় পুরুষ মাছ হিসেবে প্রজননে অংশগ্রহণ করে। গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সম্মান প্রেসিডেন্ট পদকে ভূষিত হন।
মজার ব্যাপার হলো এসব মাছ আর কখনই পূর্বের সেক্সে ফিরে আসে না। কিন্তু কিভাবে এই গ্রুপার (Grouper) মাছ সেক্স পরিবর্তন করে সক্রিয় পুরুষ মাছে রূপান্তরিত হয় তাই ছিল ডঃ মোহাম্মদ আশরাফুল আলমের গবেষণার বিষয়বস্তু। তিনি প্রথমবারের মতো তার গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, স্ত্রী মাছের গোনাডের (প্রজনন অঙ্গ) মধ্যে এক ধরনের বিশেষ কোষ আছে যারা পুরুষ হরমোন (এন্ড্রোজেন) তৈরি করে। সাধারণত এসব মাছ যখন তার মূল দৈর্ঘ্যের দুই-তৃতীয়াংশ বড় হয় তখনই এই বিশেষ কোষগুলো এন্ড্রোজেন তৈরি শুরু করে এবং স্ত্রী মাছ ধীরে ধীরে পুরুষ মাছে রূপান্তরিত হয়। আর এ অনবদ্য গবেষণার জন্য ড. আলম জাপান সরকারের সর্বোচ্চ সম্মান প্রেসিডেন্ট পদকে ভূষিত হন।
তিনি আরও দেখিয়েছেন যে, এ পরিবর্তনের সময় স্ত্রী মাছের (ফিমেল স্পেসেফিক) জিনগুলো ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং তাদের প্রকাশ (expression) কমে যায়। অন্যদিকে এ সময় পুরুষ মাছের (মেইল স্পেসেফিক) জিনগুলো সক্রিয় হয় এবং এদের প্রকাশ (expression)-এর পরিমাণ বেড়ে যায়। আর এভাবেই স্ত্রী মাছটি পুরুষ মাছে রূপান্তরিত হয়। ড. আলমের এ গবেষণা সম্পর্কিত ১০টি নিবন্ধ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। ড. আলমের জাপানের পিএইচডি তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক মাশারু নাকামুরা জানান, এটি একটি অনবদ্য ও যুগান্তকারী উদ্ভাবন। এর ফলে কৌলিতত্ত্ব গবেষণায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো।
ড. আলমের বাংলাদেশের এমএস তত্ত্বাবধায়ক বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসারিজ বায়োলজি এন্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ সামছুল আলম বলেন, বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা সুযোগ পেলে মেধার স্বাক্ষর রাখতে পারে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ড. আলম। তিনি কৌলিতত্ত্ব গবেষণায় পদক লাভ করে দেশের সুনাম বাড়িয়েছেন। ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্রে প্রবালের খাঁজে ভেটকি বা কোরাল মাছও ওইভাবে সেক্স পরিবর্তন করে। তিনি তার গবেষণালব্ধ জ্ঞান দেশ ও জাতির সেবায় কাজে লাগাতে চান।
মাছের সেক্স পরিবর্তনের সময় ব্রেন (মস্তিষ্ক) কি ভূমিকা পালন করে বর্তমানে এর ওপর তিনি তার গবেষণা কর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। মাছের সেক্স পরিবর্তনের বর্তমান জ্ঞানের বাইরে কারো কোন প্রস্তাবনা থাকলে তার ল্যাবে উচ্চতর গবেষণার সুযোগ আছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আলম ১৯৭৭ সালে টাঙ্গাইল জেলার মগড়া ইউনিয়নের ভিতর শিমুল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। টাঙ্গাইলে পড়াশুনা শেষ করে ১৯৯৩-১৯৯৪ শিক্ষাবর্ষে তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদে ভর্তি হন এবং ১৯৯৭ সালের (২০০০ সনে অনুষ্ঠিত) বিএসসি ফিসারিজ অনার্স চূড়ান্ত পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান লাভ করেন। ২০০২ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় হতে মাস্টার্সে এ প্লাস (A+) প্রাপ্ত হন। ২০০২ সালে তিনি ডেনমার্কের Aarhus বিশ্ববিদ্যালয় হতে জেনেটিক্স ডাটা এনালাইসিস-এর সফটওয়ারের ওপর প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেন। অতঃপর ২০০৩ সালে জাপান সরকার প্রদত্ত মনোবুকাগাকুশো বৃত্তি নিয়ে জাপানের ওকিনাওয়ার রিউকিউ বিশ্ববিদ্যালয়ে এম এস শুরু করেন এবং এ ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মাছের সেক্স পরিবর্তনের ওপর পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। পিএইচডিতে অনন্য গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সম্মান প্রেসিডেন্ট পদকে ভূষিত হন।
Source: http://www.dailysangram.com
Friday, October 5, 2012
বগুড়ার আমির হোসেনের অটোব্রিক্স মেশিন বিদেশে রফতানি হচ্ছে
বগুড়ার আমির হোসেনের অটোব্রিক্স মেশিন বিদেশে রফতানি হচ্ছে
মোস্তফা মোঘল, বগুড়া অফিস : কোন প্রকৌশল বিদ্যালয়
বা বিশ্ববিদ্যালয়ে না পড়েও প্রকৌশলী হয়েছেন তিনি। তার উদ্ভাবিত যন্ত্র এখন
দেশের কৃষি বিপ্লবের অন্যতম হাতিয়ার। শুধু তাই নয়; দেশের পাশাপাশি বিদেশেও
সুনাম অর্জন করেছেন তিনি। তার উদ্ভাবিত স্বল্পমূল্যের মিনি অটোব্রিক্স
মেশিন এখন রফতানি হচ্ছে বিদেশে। আগুন যেমন ছাই চাপা দিয়ে রাখা সম্ভব নয়,
তেমনি হাজারো প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও প্রতিভার বিকাশ ঠেকানো যায় না। চিরসত্য
এই কথার বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন স্বশিক্ষিত যন্ত্রবিজ্ঞানী
আমির হোসেন।
আমির হোসেন বগুড়া শহরের কাটনারপাড়ায় অবস্থিত রহিম ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপের মালিক। ইতিপুর্বে তিনি কৃষি কাজে ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তৈরি করে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিলেন। এবার অটোমেটিক পদ্ধতি ইট তৈরির মেশিন আবিষ্কার করে আবারও সবাইকে তাক লাগিয়েছেন। আমির হোসেন জানান, আধুনিক মডেলের এই মেশিন সহজে স্থানান্তর করা যায়। মেশিনটি রাখতে জায়গা লাগবে ৬ ফুট বাই ২২ ফুট। জনবল লাগবে ১০ জন। এই মেশিন থেকে প্রতি ঘণ্টায় ১২শ' ইট তৈরি করা যাবে। ইলেকট্রিক ও ডিজেল দুই পদ্ধতিতে এই মেশিন চলানো যাবে। ৩৫ হর্সের একটি ডিজেল শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে চলবে প্রতি ঘণ্টায় ১.৫ লিটার ডিজেল লাগবে। ৩টি মেশিন সংযোগ করলে সম্পূর্ণ ইটভাটা চলবে।
কম খরচে স্বল্প জনবলে এ মেশিনে ইট উৎপাদিত হওয়ায় ভাটা মালিকদের কাছে ইতিমধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশের বাজারে ব্যাপক চাহিদার পাশাপাশি এই মিনি অটো ব্রিক্স মেশিন ভারত, নেপাল ও ভুটানে রফতানি হচ্ছে। ভবিষ্যতে বিশ্বের আরও অনেক দেশে এই মেশিন রফতানি হবে এমন প্রত্যাশা করছেন আমির হোসেন।
আমির হোসেন কোন প্রযুক্তি একবার চোখে দেখেই তা তৈরি করতে সক্ষম। ফলশ্রুতিতে নিত্য নতুন মেশিন আবিস্কার করেই চলেছেন তিনি। দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষি যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে রেলগাড়ী, ইটভাঙ্গা মেশিন, সেমাই তৈরি মেশিন, ফিস ফিড, পোলট্রি ফিড, গো-খাদ্য অটো মেশিন, মিকচার মেশিন, ভুট্টা মাড়াই ও ভাঙ্গা মেশিন, শুটকি মাছ, ঝিনুক খৈল ক্রাশার মেশিন, সিলিকান ভাঙ্গা অটো মেশিন, জৈব মিশ্র সার তৈরি সেমি অটো মেশিন ও প্লাসটিক পাইপ তৈরি মেশিন তৈরি করে দেশে ব্যাপক আলোচনায় চলে এসেছেন তিনি। এছাড়াও তার আবিস্কৃত রয়েছে বড়ই, আদা, রশুন, মরিচ ও সস তৈরি অটো ক্রাশার মেশিন, আম, আনারস, টমেটো, কমলা লেবু ক্রাশার মেশিন, ড্রাম সিডার চাষ ছাড়াই বীজ বপন যন্ত্র, শস্য মাড়াই, ধান কাটা মেশিন। এছাড়া বিনোদন পার্কে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তিনি তৈরি করে আলোচিত হয়েছেন।
বগুড়া শহরের ঠিকাদারপাড়া লেনের ধলু মেকার প্রথম ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ গড়ে তোলেন ১৯৪০ সালে। ১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় তৎকালিন বগুড়ার ডিসির নির্দেশে ধলু মেকার সতর্কতামুলক ‘সাইরেন মেশিন' তৈরি করে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। এই ধলু মেকার নিজেই হস্ত চালিত লেদ মেশিন তৈরি করে বগুড়াসহ উত্তরবঙ্গে আলোচনায় আসেন। তিনি ১৯৮৮ সালের ১৩ নবেম্বর মাসে মারা যাওয়ার পর রহিম ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপের দায়িত্ব নেন তার ছেলে আমির হোসেন। ধলু মেকারের ৮ ছেলে- মেয়ের মধ্যে আমির হোসেন চতুর্থ। পিতার মৃত্যুর পর থেকেই শুরু হয় গবেষণা। শুরু হয় বিভিন্ন মেশিন তৈরির কল্পনা। প্রকৌশলী আমির হোসেন ২০০৩ সালে বুয়েট থেকে বিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী ও জিটিজেড থেকে কৃষি সামগ্রী উদ্ভাবনের উপর প্রশিক্ষণ নেন। এ কাজে আমির হোসেনকে সাহায্য করেন তার দ্বিতীয় মেয়ে আসমা খানম আশা ও তৃতীয় মেয়ে তাহিয়া খানম। তার প্রথম মেয়ে আমনিরা খানম এলএলবিতে লেখাপড়া করলেও মাঝে মাঝে তিনিও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। আমিরের মেয়ে আসমা খানম আশা বুয়েট থেকে এই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপর পদকও পেয়েছেন। আমির হোসেন পাথর ভাঙা মেশিন উদ্ভাবন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একের পর এক আবিস্কার তাকে নিয়ে গেছে অনেক উচ্চাসনে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় নতুন নতুন আবিস্কারের জন্য তাগাদা দেয়া হয়। এতে তিনি আরও উৎসাহিত হয়ে নতুন নতুন যন্ত্র আবিষ্কারে সক্ষম হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন আমির হোসেন।
Source: http://www.dailysangram.com
4th October, 2012
আমির হোসেন বগুড়া শহরের কাটনারপাড়ায় অবস্থিত রহিম ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপের মালিক। ইতিপুর্বে তিনি কৃষি কাজে ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তৈরি করে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিলেন। এবার অটোমেটিক পদ্ধতি ইট তৈরির মেশিন আবিষ্কার করে আবারও সবাইকে তাক লাগিয়েছেন। আমির হোসেন জানান, আধুনিক মডেলের এই মেশিন সহজে স্থানান্তর করা যায়। মেশিনটি রাখতে জায়গা লাগবে ৬ ফুট বাই ২২ ফুট। জনবল লাগবে ১০ জন। এই মেশিন থেকে প্রতি ঘণ্টায় ১২শ' ইট তৈরি করা যাবে। ইলেকট্রিক ও ডিজেল দুই পদ্ধতিতে এই মেশিন চলানো যাবে। ৩৫ হর্সের একটি ডিজেল শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে চলবে প্রতি ঘণ্টায় ১.৫ লিটার ডিজেল লাগবে। ৩টি মেশিন সংযোগ করলে সম্পূর্ণ ইটভাটা চলবে।
কম খরচে স্বল্প জনবলে এ মেশিনে ইট উৎপাদিত হওয়ায় ভাটা মালিকদের কাছে ইতিমধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশের বাজারে ব্যাপক চাহিদার পাশাপাশি এই মিনি অটো ব্রিক্স মেশিন ভারত, নেপাল ও ভুটানে রফতানি হচ্ছে। ভবিষ্যতে বিশ্বের আরও অনেক দেশে এই মেশিন রফতানি হবে এমন প্রত্যাশা করছেন আমির হোসেন।
আমির হোসেন কোন প্রযুক্তি একবার চোখে দেখেই তা তৈরি করতে সক্ষম। ফলশ্রুতিতে নিত্য নতুন মেশিন আবিস্কার করেই চলেছেন তিনি। দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষি যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে রেলগাড়ী, ইটভাঙ্গা মেশিন, সেমাই তৈরি মেশিন, ফিস ফিড, পোলট্রি ফিড, গো-খাদ্য অটো মেশিন, মিকচার মেশিন, ভুট্টা মাড়াই ও ভাঙ্গা মেশিন, শুটকি মাছ, ঝিনুক খৈল ক্রাশার মেশিন, সিলিকান ভাঙ্গা অটো মেশিন, জৈব মিশ্র সার তৈরি সেমি অটো মেশিন ও প্লাসটিক পাইপ তৈরি মেশিন তৈরি করে দেশে ব্যাপক আলোচনায় চলে এসেছেন তিনি। এছাড়াও তার আবিস্কৃত রয়েছে বড়ই, আদা, রশুন, মরিচ ও সস তৈরি অটো ক্রাশার মেশিন, আম, আনারস, টমেটো, কমলা লেবু ক্রাশার মেশিন, ড্রাম সিডার চাষ ছাড়াই বীজ বপন যন্ত্র, শস্য মাড়াই, ধান কাটা মেশিন। এছাড়া বিনোদন পার্কে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তিনি তৈরি করে আলোচিত হয়েছেন।
বগুড়া শহরের ঠিকাদারপাড়া লেনের ধলু মেকার প্রথম ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ গড়ে তোলেন ১৯৪০ সালে। ১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় তৎকালিন বগুড়ার ডিসির নির্দেশে ধলু মেকার সতর্কতামুলক ‘সাইরেন মেশিন' তৈরি করে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। এই ধলু মেকার নিজেই হস্ত চালিত লেদ মেশিন তৈরি করে বগুড়াসহ উত্তরবঙ্গে আলোচনায় আসেন। তিনি ১৯৮৮ সালের ১৩ নবেম্বর মাসে মারা যাওয়ার পর রহিম ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপের দায়িত্ব নেন তার ছেলে আমির হোসেন। ধলু মেকারের ৮ ছেলে- মেয়ের মধ্যে আমির হোসেন চতুর্থ। পিতার মৃত্যুর পর থেকেই শুরু হয় গবেষণা। শুরু হয় বিভিন্ন মেশিন তৈরির কল্পনা। প্রকৌশলী আমির হোসেন ২০০৩ সালে বুয়েট থেকে বিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী ও জিটিজেড থেকে কৃষি সামগ্রী উদ্ভাবনের উপর প্রশিক্ষণ নেন। এ কাজে আমির হোসেনকে সাহায্য করেন তার দ্বিতীয় মেয়ে আসমা খানম আশা ও তৃতীয় মেয়ে তাহিয়া খানম। তার প্রথম মেয়ে আমনিরা খানম এলএলবিতে লেখাপড়া করলেও মাঝে মাঝে তিনিও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। আমিরের মেয়ে আসমা খানম আশা বুয়েট থেকে এই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপর পদকও পেয়েছেন। আমির হোসেন পাথর ভাঙা মেশিন উদ্ভাবন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একের পর এক আবিস্কার তাকে নিয়ে গেছে অনেক উচ্চাসনে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় নতুন নতুন আবিস্কারের জন্য তাগাদা দেয়া হয়। এতে তিনি আরও উৎসাহিত হয়ে নতুন নতুন যন্ত্র আবিষ্কারে সক্ষম হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন আমির হোসেন।
Source: http://www.dailysangram.com
4th October, 2012
Saturday, January 8, 2011
অপার সম্ভাবনাময় ধোলাইখাল
অপার সম্ভাবনাময় ধোলাইখাল

০০ মোহাম্মদ আবু তালেব
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে অপার সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে পুরনো ঢাকার ধোলাইখাল। এখানে মোটর পার্টস ও ইলেকট্রনিক্স তৈরির এক বিশাল সম্ভাবনা গড়ে উঠেছে। লাইনার, পিস্টন, বেয়ারিং থেকে শুরু করে দেশি-বিদেশি মোটর পার্টস, গাড়ির ব্রেকড্রাম, ইঞ্জিন, কার্টিজ, সকেট, জগ, জাম্পার, স্প্রিং, হ্যামার, ম্যাকেল জয়েন্ট, বল জয়েন্টসহ নানা সামগ্রী তৈরি হচ্ছে।
ধোলাইখালে তৈরি মেশিনারি পার্টস ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ নানা দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এছাড়া ভাল রিকন্ডিশন্ড পার্টসের জন্য ধোলাইখালের দেশব্যাপী সুনাম রয়েছে। পুরনো গাড়ি ভেঙ্গে পার্টস সংগ্রহ করা হয় এখানে। ধোলাইখালের পার্টসের চাহিদা গোটা দেশে। ইতিমধ্যেই সারাদেশে সুখ্যাতি অর্জন করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের অপার সম্ভাবনাময় এই ধোলাইখালের মেশিনারি ও পার্টস শিল্প এক সময় বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
ঢাকা বিশারদ অধ্যাপক ড. মুনতাসির মামুন ইত্তেফাককে বলেন, ধোলাইখালের উৎপত্তি মোগল আমলে সুবেবাংলার রাজধানী হিসাবে ঢাকার জন্মলগ্ন থেকে। ঢাকের আওয়াজের ব্যাপ্তি জুড়ে ঢাকা রাজধানী হওয়ার পর প্রথম সুবেদার ইসলাম খান চিশতি (১৬১০-১৩) বুড়িগঙ্গার সঙ্গে দুলাই নদীর সংযোগ স্থাপনের জন্য একটি খাল খনন করেছিলেন, যা পরবতর্ীকালে দোলাইখাল ও শেষ লোকমুখে ধোলাইখাল নামে পরিচিতি পায়। স্বাধীনতার আগে থেকেই এখানে এলাকায় মোটর পার্টস তৈরির গোড়াপত্তন ঘটে। স্বাধীনতা পরবতর্ী সময়ে ধোলাইখাল ভরাট হতে থাকে। এইসঙ্গে এখানে প্রসার ঘটতে থাকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের।
কমমূল্যে ভাল রিকন্ডিশন্ড পার্টস কেনার জন্যই ধোলাইখাল সুনাম অর্জন করেছে। বর্তমানে এ এলাকায় ছোটবড় কয়েক হাজার দোকান ও কারখানা রয়েছে। এ শিল্প ব্যবসার সঙ্গে জড়িত লক্ষাধিক শ্রমিক ও ব্যবসায়ী। ধোলাইখালের পুরো এলাকাতেই ছড়িয়ে রয়েছে পার্টস এবং ইলেকট্রনিক্স দোকান ও কারখানা। গাড়ির পার্টসসহ বিভিন্ন অংশের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা মার্কেট। মার্কেটের মধ্যে রয়েছে হাজী মনসুর 'মার্কেট', 'বাঁশপট্টি মার্কেট', 'গাছ মার্কেট' এবং 'টং মার্কেট।' হাজী মনসুর মার্কেটে প্রাইভেটকারের স্পেয়ার পার্টস, বাঁশপট্টি মার্কেটে টয়োটা, হোন্ডাসহ অন্যান্য গাড়ির পার্টস, গাছ মার্কেটে বেডফোর্ডের পার্টস, টং মার্কেটে প্রায় সব ধরনের স্পেয়ার পার্টস এবং এর পাশেই গাড়ির পুরনো টায়ার ও রিম পাওয়া যায়।
এসব মার্কেটে প্রায় সব ধরনের প্রাইভেটকার, বাস ও ট্রাকের স্পেয়ার পার্টস পাওয়া যায়। সুলভমূল্যে ভাল রিকন্ডিশন্ড পার্টস কিনতে গাড়ির মালিকরা বাধ্য হয়েই ধোলাইখাল যান।
ধোলাইখালের ব্যবসায়ীরা জানান, এসব পার্টস বিভিন্ন মোটর গ্যারেজ থেকে সংগৃহীত এবং কিছু জিনিস নিজস্ব কারিগরি দক্ষতায় তৈরি করা হয়। পুরনো গাড়ি ভেঙ্গেও পার্টস সংগ্রহ করা হয়।
ধোলাইখালের রীনা ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক হাজী নূরুজ্জামান শেখ বলেন, তার প্রতিষ্ঠানটি মোটর গাড়ির সব ধরনের পার্টস মেরামত ও গাড়ির ২৫ শতাংশ যন্ত্রপাতি তৈরি করে থাকে। তিনি বলেন, দেশের চাহিদা মিটিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি যন্ত্রাংশ পাশর্্ববর্তী দেশসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। রপ্তানিকৃত লাইনার, পিস্টন, নজল, বেয়ারিংসহ নানা যন্ত্রাংশ গুণগত মানের দিক থেকে চীন ও জাপানে তৈরি যন্ত্রাংশের চেয়ে অধিকতর টেকসই এবং দামে সস্তা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, গাড়ির ব্রেকডাম, ইঞ্জিনসহ সব ধরনের যন্ত্রাংশ মেরামত করা হয় এ ধরনের কারখানায়। সাধারণত গাড়ির মালিকরা এখানে স্পেয়ার পার্টসের জন্যই আসেন। নতুনের চেয়ে অনেক কম দামে এসব মালামাল কিনে থাকেন। এখানে গাড়ির কার্টিজ, সকেট জাম্পার, স্প্রিং, হ্যাঙ্গার, ম্যাক্ল জয়েন্ট, বল জয়েন্টসহ সবই মেলে অতি সুলভে। আর যে পার্টস মিলবে না তার পুরনোটি দিলে নতুনের মত তৈরিও করে দেয়া হয়। এসব যন্ত্রাংশের দাম গাড়ির মডেল অনুযায়ী হয়ে থাকে।
ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা গাড়ি চোর সিন্ডিকেটের সাথে যোগসাজশের মাধ্যমে চোরাই যন্ত্রাংশ এনে বিক্রি করেন। তবে সংশিস্নষ্টরা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এখানে গাড়ির সাইড গস্নাস বা বডির যন্ত্রাংশ বিক্রি হয় না যা চোরাই হিসাবে ধরা হয়। মাদকাসক্ত যুবক ও ছিঁচকে চোর এসব যন্ত্রাংশ চুরি করে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে। অল্পসংখ্যক অসাধু ব্যবসায়ীর জন্য সবাইকে ভোগান্তি পোহাতে হয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
ধোলাইখালের প্রবীণ ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন মিয়া জানান, ধোলাইখালের তৈরি পার্টস ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ভুটানসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে।
ধোলাইখাল এলাকার পার্টস শিল্প উন্নয়নে এরশাদ সরকারের আমলে ১৯৮৪ সালে একটি প্রতিনিধিদল জাপানে গিয়ে গাড়ি তৈরির কারখানা পরিদর্শনসহ বেশকিছু কারিগরি জ্ঞান অর্জন করে আসে। সেটিই ছিল সরকারি পর্যায়ের প্রথম এবং শেষ উদ্যোগ। তারপর আর কোন ধরনের অভিজ্ঞতা ছাড়াই এখানকার 'মেকাররা' নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে যন্ত্রাংশ তৈরি করছেন। দেশে তৈরি এসব যন্ত্রাংশের গায়ে লেখা থাকে 'মেড ইন জাপান'। তারা বলেন, 'দেশের জিনিসের কদর নাই তাই জাপানের নামেই মাল চালাই।' গাড়ির ইঞ্জিন, পার্টস ছাড়াও ধোলাইখালে রয়েছে ইলেকট্রনিক্স বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরির কারখানা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ফিরোজ আলম জানান, তারা নিজস্ব উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন সকেট ক্যাব্ল, বেঞ্চ ওভার সুইচ, লাইট টেপের মতো সরঞ্জামাদির কারখানা। ২০০১ সালে ছোট পরিসরে আরম্ভ করেছিলেন তার কারখানাটি। বর্তমানে ৩৫ জন কর্মচারি নিয়ে দুইটি কারখানা রয়েছে তার। তিনি জানান, ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জামাদির চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। দেশে তৈরি এসব জিনিসের দাম খুবই কম। দেশীয় শিল্প বাঁচাতে ভ্যাট কর্তৃপক্ষের হয়রানি থেকে মুক্তি দাবি করেন তারা।
সরকার শিল্প উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণ করলে দেশের সম্ভাবনাময় ধোলাইখালের পার্টস শিল্প ও ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জামাদি অনেক এগিয়ে যাবে। দেশীয় শিল্পের অপার সম্ভাবনাময় এ শিল্পটি দেশের জন্য বয়ে আনতে পারে উজ্জ্বল সম্ভাবনা এমনটিই মনে করেন ধোলাইখালের পার্টস ব্যবসায়ী, কারখানার মালিক-শ্রমিক ও বিশেষজ্ঞ মহল।
Source: Daily Ittefaq
RELATED BLOG-
Dholai Khal
ধোলাইখালে তৈরি মেশিনারি পার্টস ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ নানা দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এছাড়া ভাল রিকন্ডিশন্ড পার্টসের জন্য ধোলাইখালের দেশব্যাপী সুনাম রয়েছে। পুরনো গাড়ি ভেঙ্গে পার্টস সংগ্রহ করা হয় এখানে। ধোলাইখালের পার্টসের চাহিদা গোটা দেশে। ইতিমধ্যেই সারাদেশে সুখ্যাতি অর্জন করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের অপার সম্ভাবনাময় এই ধোলাইখালের মেশিনারি ও পার্টস শিল্প এক সময় বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
ঢাকা বিশারদ অধ্যাপক ড. মুনতাসির মামুন ইত্তেফাককে বলেন, ধোলাইখালের উৎপত্তি মোগল আমলে সুবেবাংলার রাজধানী হিসাবে ঢাকার জন্মলগ্ন থেকে। ঢাকের আওয়াজের ব্যাপ্তি জুড়ে ঢাকা রাজধানী হওয়ার পর প্রথম সুবেদার ইসলাম খান চিশতি (১৬১০-১৩) বুড়িগঙ্গার সঙ্গে দুলাই নদীর সংযোগ স্থাপনের জন্য একটি খাল খনন করেছিলেন, যা পরবতর্ীকালে দোলাইখাল ও শেষ লোকমুখে ধোলাইখাল নামে পরিচিতি পায়। স্বাধীনতার আগে থেকেই এখানে এলাকায় মোটর পার্টস তৈরির গোড়াপত্তন ঘটে। স্বাধীনতা পরবতর্ী সময়ে ধোলাইখাল ভরাট হতে থাকে। এইসঙ্গে এখানে প্রসার ঘটতে থাকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের।
কমমূল্যে ভাল রিকন্ডিশন্ড পার্টস কেনার জন্যই ধোলাইখাল সুনাম অর্জন করেছে। বর্তমানে এ এলাকায় ছোটবড় কয়েক হাজার দোকান ও কারখানা রয়েছে। এ শিল্প ব্যবসার সঙ্গে জড়িত লক্ষাধিক শ্রমিক ও ব্যবসায়ী। ধোলাইখালের পুরো এলাকাতেই ছড়িয়ে রয়েছে পার্টস এবং ইলেকট্রনিক্স দোকান ও কারখানা। গাড়ির পার্টসসহ বিভিন্ন অংশের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা মার্কেট। মার্কেটের মধ্যে রয়েছে হাজী মনসুর 'মার্কেট', 'বাঁশপট্টি মার্কেট', 'গাছ মার্কেট' এবং 'টং মার্কেট।' হাজী মনসুর মার্কেটে প্রাইভেটকারের স্পেয়ার পার্টস, বাঁশপট্টি মার্কেটে টয়োটা, হোন্ডাসহ অন্যান্য গাড়ির পার্টস, গাছ মার্কেটে বেডফোর্ডের পার্টস, টং মার্কেটে প্রায় সব ধরনের স্পেয়ার পার্টস এবং এর পাশেই গাড়ির পুরনো টায়ার ও রিম পাওয়া যায়।
এসব মার্কেটে প্রায় সব ধরনের প্রাইভেটকার, বাস ও ট্রাকের স্পেয়ার পার্টস পাওয়া যায়। সুলভমূল্যে ভাল রিকন্ডিশন্ড পার্টস কিনতে গাড়ির মালিকরা বাধ্য হয়েই ধোলাইখাল যান।
ধোলাইখালের ব্যবসায়ীরা জানান, এসব পার্টস বিভিন্ন মোটর গ্যারেজ থেকে সংগৃহীত এবং কিছু জিনিস নিজস্ব কারিগরি দক্ষতায় তৈরি করা হয়। পুরনো গাড়ি ভেঙ্গেও পার্টস সংগ্রহ করা হয়।
ধোলাইখালের রীনা ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক হাজী নূরুজ্জামান শেখ বলেন, তার প্রতিষ্ঠানটি মোটর গাড়ির সব ধরনের পার্টস মেরামত ও গাড়ির ২৫ শতাংশ যন্ত্রপাতি তৈরি করে থাকে। তিনি বলেন, দেশের চাহিদা মিটিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি যন্ত্রাংশ পাশর্্ববর্তী দেশসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। রপ্তানিকৃত লাইনার, পিস্টন, নজল, বেয়ারিংসহ নানা যন্ত্রাংশ গুণগত মানের দিক থেকে চীন ও জাপানে তৈরি যন্ত্রাংশের চেয়ে অধিকতর টেকসই এবং দামে সস্তা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, গাড়ির ব্রেকডাম, ইঞ্জিনসহ সব ধরনের যন্ত্রাংশ মেরামত করা হয় এ ধরনের কারখানায়। সাধারণত গাড়ির মালিকরা এখানে স্পেয়ার পার্টসের জন্যই আসেন। নতুনের চেয়ে অনেক কম দামে এসব মালামাল কিনে থাকেন। এখানে গাড়ির কার্টিজ, সকেট জাম্পার, স্প্রিং, হ্যাঙ্গার, ম্যাক্ল জয়েন্ট, বল জয়েন্টসহ সবই মেলে অতি সুলভে। আর যে পার্টস মিলবে না তার পুরনোটি দিলে নতুনের মত তৈরিও করে দেয়া হয়। এসব যন্ত্রাংশের দাম গাড়ির মডেল অনুযায়ী হয়ে থাকে।
ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা গাড়ি চোর সিন্ডিকেটের সাথে যোগসাজশের মাধ্যমে চোরাই যন্ত্রাংশ এনে বিক্রি করেন। তবে সংশিস্নষ্টরা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এখানে গাড়ির সাইড গস্নাস বা বডির যন্ত্রাংশ বিক্রি হয় না যা চোরাই হিসাবে ধরা হয়। মাদকাসক্ত যুবক ও ছিঁচকে চোর এসব যন্ত্রাংশ চুরি করে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে। অল্পসংখ্যক অসাধু ব্যবসায়ীর জন্য সবাইকে ভোগান্তি পোহাতে হয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
ধোলাইখালের প্রবীণ ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন মিয়া জানান, ধোলাইখালের তৈরি পার্টস ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ভুটানসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে।
ধোলাইখাল এলাকার পার্টস শিল্প উন্নয়নে এরশাদ সরকারের আমলে ১৯৮৪ সালে একটি প্রতিনিধিদল জাপানে গিয়ে গাড়ি তৈরির কারখানা পরিদর্শনসহ বেশকিছু কারিগরি জ্ঞান অর্জন করে আসে। সেটিই ছিল সরকারি পর্যায়ের প্রথম এবং শেষ উদ্যোগ। তারপর আর কোন ধরনের অভিজ্ঞতা ছাড়াই এখানকার 'মেকাররা' নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে যন্ত্রাংশ তৈরি করছেন। দেশে তৈরি এসব যন্ত্রাংশের গায়ে লেখা থাকে 'মেড ইন জাপান'। তারা বলেন, 'দেশের জিনিসের কদর নাই তাই জাপানের নামেই মাল চালাই।' গাড়ির ইঞ্জিন, পার্টস ছাড়াও ধোলাইখালে রয়েছে ইলেকট্রনিক্স বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরির কারখানা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ফিরোজ আলম জানান, তারা নিজস্ব উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন সকেট ক্যাব্ল, বেঞ্চ ওভার সুইচ, লাইট টেপের মতো সরঞ্জামাদির কারখানা। ২০০১ সালে ছোট পরিসরে আরম্ভ করেছিলেন তার কারখানাটি। বর্তমানে ৩৫ জন কর্মচারি নিয়ে দুইটি কারখানা রয়েছে তার। তিনি জানান, ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জামাদির চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। দেশে তৈরি এসব জিনিসের দাম খুবই কম। দেশীয় শিল্প বাঁচাতে ভ্যাট কর্তৃপক্ষের হয়রানি থেকে মুক্তি দাবি করেন তারা।
সরকার শিল্প উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণ করলে দেশের সম্ভাবনাময় ধোলাইখালের পার্টস শিল্প ও ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জামাদি অনেক এগিয়ে যাবে। দেশীয় শিল্পের অপার সম্ভাবনাময় এ শিল্পটি দেশের জন্য বয়ে আনতে পারে উজ্জ্বল সম্ভাবনা এমনটিই মনে করেন ধোলাইখালের পার্টস ব্যবসায়ী, কারখানার মালিক-শ্রমিক ও বিশেষজ্ঞ মহল।
Source: Daily Ittefaq
RELATED BLOG-
Dholai Khal
Sunday, January 2, 2011
বাংলা ভাষার নতুন ভ্রমণ
বাংলা ভাষার নতুন ভ্রমণ
সিরাজুল ইসলাম | তারিখ: ২১-০১-২০১১
ইউএনএল (ইউনিভার্সাল নেটওয়ার্কিং ল্যাঙ্গুয়েজ) মানবসভ্যতার জন্য একটি অতুলনীয় অর্জন। আট বছর আগেও মানুষ ভাবতে পারেনি যে একটি ডিজিটাল ভাষার মাধ্যমে পৃথিবীর সব ভাষাভাষীর মানুষ নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে পারবে নিজ ভাষার মাধ্যমে। অথচ তা-ই হলো। আপনি যত বড় পণ্ডিতই হোন না কেন, পৃথিবীর ডজন খানেক ভাষা আপনি সারা জীবনে হয়তো আয়ত্ত করতে পারেন। কিন্তু ইউএনএল এমন একটি প্রাযুক্তিক ভাষা, যার মাধ্যমে আপনি অন্য শত শত ভাষার সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করতে পারেন নিজ ভাষার মাধ্যমেই। এ ভাষা অদৃশ্য। তা ধরাছোঁয়ার বাইরে। কম্পিউটারে ইউএনএল প্রোগ্রামে যান এবং আপনার নিজ ভাষায় ভিন্ন ভাষী বন্ধুকে পত্র, প্রবন্ধ, বই—যা ইচ্ছা লিখুন। উপমাস্বরূপ, বন্ধুটি যদি আরবি ভাষাভাষী হন, নিজ ভাষায় লিখুন এবং টিপ দিন আরবি ভাষার বোতামে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি তা আরবি ভাষায় পেয়ে যাবেন, চীনা হলে চীনা ভাষায় পাবেন। জাপানি হলে জাপানি ভাষায়। আবার ওপার থেকে তিনি যখন তাঁর নিজ ভাষায় উত্তর লিখে বাংলা ভাষার বোতামে চাপ দেবেন, তৎক্ষণাৎ তা আপনি বাংলা ভাষায় পেয়ে যাবেন। অর্থাৎ লেখালেখি, গবেষণা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কূটনৈতিক—যেকোনো যোগাযোগ এখন ইউএনএলের মাধ্যমে করা সম্ভব এবং তাৎক্ষণিকভাবে। এর জন্য বিদেশি ভাষা জানার দরকার নেই।
তবে বাংলা ভাষার জন্য এ সুবিধা এখনো সৃষ্টি করা যায়নি। কারণ, বাংলা ভাষাকে এখনো ইউএনএলের সদস্যভুক্ত করা হয়নি। হিন্দি, উর্দুসহ দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি ভাষা ইউএনএলের সদস্য হয়ে নিজ ভাষার মাধ্যমে পৃথিবীর অন্যান্য ভাষার সঙ্গে যোগাযোগ করছে; কিন্তু বাংলাদেশ এখনো এর সদস্য হওয়ার জন্য এগিয়ে আসেনি। সদস্য হওয়ার কিছু পূর্বপ্রস্তুতি আছে, যেমন ইউএনএল নির্মিত ছকে বাংলা ভাষার একটি ডিজিটাল অভিধান ও একটি ডিজিটাল শব্দকোষ নির্মাণ করা, যা কিনা এ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান করেনি। ইউএনএল পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে জাতিসংঘের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সাল নেটওয়ার্কিং ল্যাঙ্গুয়েজ ফাউন্ডেশন, জেনেভা। বিশ্বের প্রতিটি ভাষা যেন ইউএনএলের সুবিধা নিতে পারে এবং প্রত্যেক মানুষ যেন তা অবাধে ব্যবহার করতে পারে, সে জন্য ইউএনএল সবার জন্য বিনা মূল্যে খুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক যে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইউএনএলের সদস্য হওয়ার জন্য এগিয়ে আসেনি। সদস্য হতে গেলে যে ডিজিটাল শর্ত পূরণ করতে হয়, তা পালন করার সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি।
সুখের কথা, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি এ উদ্দেশ্যে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্পের কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। ইউএনএলের সদস্য হওয়ার পূর্বশর্তে বাংলা ডিজিটাল শব্দকোষ ও অভিধান নির্মাণে একটি বড় কলাকুশলী দল কাজ শুরু করেছে। প্রকল্পটিকে প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহায়তা দেওয়ার জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, সরকারি সাহায্য পেলে দেড়-দুই বছরের মধ্যে বাংলা ভাষাও ইউএনএলের সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করবে। তখন বাংলা ভাষার মাধ্যমে অন্যান্য ভাষার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে ইউএনএলভুক্ত ভাষার সদস্যসংখ্যা ১৬৫। কিন্তু বিশ্বের পঞ্চম বৃহৎ ভাষা বাংলা এখনো এর সদস্যপদ নিতে পারেনি। অর্থাৎ সদস্যপদ নেওয়ার শর্তাবলি পূরণ করতে পারেনি। এটা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় গ্লানি বলতে হবে। কেননা, যে ভাষার জন্য মানুষ আন্দোলন করেছে, প্রাণ দিয়েছে, যে ভাষা আন্দোলনের সম্মানে একুশে ফেব্রয়ারি বিশ্বের মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে, সে ভাষা এখনো ইউএনএলের মাধ্যমে বিশ্বভাষাগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারেনি, সে গ্লানি রাখার জায়গা কোথায়?
সভাপতি, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি
সালাহ্ উদ্দিন
ভাষার প্রধান বাহক মানুষ। আরও কিছু বিষয় আছে, যারা ভাষাকে বয়ে নিয়ে চলে, যেমন বই। ভাষার এই গমনাগমনে ভাষা নিজে পরিবর্তিত হয়, অপরিচিতের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে। কিন্তু তার জন্য এক ভাষার মূল বক্তব্যকে অন্য ভাষায় রূপান্তরিত হতে হয়। এই কাজ করে থাকেন কোনো অনুবাদক। রাষ্ট্রীয় কোনো যোগাযোগ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য বা সাহিত্যের ক্ষেত্রেও অনুবাদকের দয়ার ওপর সবাইকে নির্ভর করতে হয়। এমন যদি হয়, পৃথিবীর অন্তত ১৫০টি ভাষাকে সহজেই অনুবাদ করে ফেলা যাবে বাংলায় এবং এর জন্য অনুবাদককেও কাঠ-খড় পোড়াতে হবে না। বসে থাকতে হবে না দীর্ঘ সময়। স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তা করা যাবে। কেবল একটি বোতাম চাপায় দেখা গেল মুহূর্তেই সাহিত্যে ২০১০ সালের নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক মারিয়া বার্গাস য়োসা স্প্যানিশ ভাষায় রচিত বা পর্তুগিজ ভাষায় রচিত আরেক নোবেল বিজয়ী হোসে সারামাগোর উপন্যাস খুব সহজেই রূপান্তরিত হয়ে গেল বাংলায়। এরকম কিছু স্বপ্ন বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েই কাজ শুরু করেছিল জাপানের ‘ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সিটি’ ১৯৯৬ সালে। এখন বলা যায় ইউএনএল বা ইউনিভার্সাল নেটওয়ার্কিং ল্যাঙ্গুয়েজ প্রযুক্তির আওতায় ১৬৫টি ভাষাকে অন্য যেকোনো ভাষায় রূপান্তরের কাজ করা যাবে চোখের পলকেই। নতুন খবর হচ্ছে বাংলা ভাষাও এখন সংযুক্ত হচ্ছে এই প্রকল্পের সঙ্গে।
প্রসঙ্গ ইউএনএল
ইউএনএল বা ইউনিভার্সাল নেটওয়ার্কিং ল্যাঙ্গুয়েজ এমন একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, সংক্ষেপে যদি বলা হয়: কেবল একটি বোতাম চাপার ব্যবধানে পাল্টে দেবে এক ভাষাকে অন্য ভাষায়। তবে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা পেতে হলে প্রাথমিক শর্ত হলো অনুবাদের সুবিধা পাওয়ার আগে ওই ভাষার সম্পূর্ণ একটি অভিধান ও ব্যাকরণকে ইউনিকোডে ব্যবহারের উপযুক্ত করে তৈরি করতে হবে। অর্থাৎ এমন একটি নির্দেশাবলি তৈরি করতে হবে, যা যেকোনো ভাষাকে সেই নির্দেশাবলির আওতায় ইপ্সিত ভাষায় রূপান্তরিত করতে পারবে। যে কারণে এই সেবামূলক প্রকল্পে যে প্রতিষ্ঠান তার ভাষার ব্যাকরণ ও অভিধান তৈরি করতে পারবে, তারাই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে। ইউএনের তত্ত্বাবধানে জাপান এই প্রকল্পের কাজ শুরু করে প্রায় ২০০ কম্পিউটার প্রযুক্তিবিদ ও ভাষাবিদের সমন্বয়ে।
এখান আসা যাক বাংলা ভাষার কথায়, অন্য একটি নির্দিষ্ট ভাষাকে বাংলায় রূপান্তর করতে প্রথমে ওই ফরমায়েশটি ইউএনএল প্রযুক্তিতে সরবরাহ করতে হবে। সরবরাহকৃত লেখা অনুবাদের জন্য এই প্রযুক্তি যাঁরা নিয়ন্ত্রণ করছেন, অর্থাৎ ইউএন, তাঁদের অনুমতি পেতে হবে। তাঁদের অনুমতি পাওয়ার পরই কেবল ভিন ভাষার বইটি আমাদের ভাষায় প্রয়োজনীয় অনুবাদ করা যাবে। শুরু থেকেই জাতিসংঘের আওতায় এই অনুবাদ প্রকল্পের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম বেধে দেওয়া হয়েছে। যেমন, একটি রাষ্ট্র কেবল একটি ভাষাকেই তাদের রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে ইউএনএল প্রযুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। আর এই প্রযুক্তিতে সব ভাষা অনুবাদের ক্ষেত্রে ইংরেজি হলো মান ভাষা অর্থাৎ আমি ভাত খাই রুশ ভাষার এই বাক্যটি প্রথমে অনুবাদ হবে ইংরেজিতে তারপর বাংলায়।
বাংলা ভাষার নতুন ভ্রমণ
বর্তমান ইন্টারনেটের দুনিয়ায় সারা বিশ্বই এখন হাতের মুঠোয়, কিন্তু ভাষাগত সমস্যায় অনেক সময় সহজ কাজটিও দুর্বোধ্য ঠেকে। কিন্তু বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ যদি এই ইউএনএল-এর আওতায় চলে আসে তাহলে আর্থিক লেনদেন থেকে শুরু করে কূটনৈতিক যোগাযোগ বা সাংস্কৃতিক যোগাযোগ সব ক্ষেত্রেই ইন্টারনেটের নতুন দুনিয়াকে আরও সহজ ও গতিশীল করে তুলবে।
ভারত হিন্দি ভাষার পাশাপাশি বাংলাকেও এই প্রযুক্তির আওতায় আনতে চেয়েছিল কিন্তু ইউনাইটেড নেশনস ল্যাঙ্গুয়েজ ফাউন্ডেশনের অনুমোদন না পাওয়ায় তা বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ বাংলাকে এই প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় অবকাঠামো ও আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছে। প্রযুক্তিবিদ ও ভাষাবিদদের সমন্বয়ে এখন একদল গবেষক কাজ করছেন ইউএনএল প্রযুক্তির সঙ্গে কাজ করতে পারে বাংলা ভাষার এমন একটি ব্যাকরণ ও অভিধান তৈরির। এতে সংযুক্ত হবে বাংলা ভাষায় মান ভাষার বাইরেও সাহিত্যে ব্যবহূত ভাষা, আঞ্চলিক ভাষা ও রবীন্দ্র-সাহিত্য। গবেষকেরা মনে করেন রবীন্দ্র-সাহিত্য অভিধান তৈরিতে, ভাষা নির্মাণে একটা বড় ভূমিকা রাখবে। ইতিমধ্যে ইন্টারনেটে রবীন্দ্র-সাহিত্য ইউনিকোডে রূপান্তর করা হয়েছে। এশিয়াটিক সোসাইটির সঙ্গে যোগ দিয়ে এই কাজে সংশ্লিষ্ট হয়েছে কলকাতার সোসাইটি অব ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ টেকনোলজি রিসার্চ বা এসএনএলটিআর। আশা করা যায়, দেশি-বিদেশী গবেষকদের চেষ্টায় এক বছরের মধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। অভিধান ও ব্যাকরণ তৈরির পর এই প্রযুক্তি ব্যবহারের অনুমোদন পেয়ে যাবে বাংলাদেশ। এশিয়াটিক সোসাইটির পরিকল্পনা অনুযায়ী তারপরই শুরু হয়ে যাবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ অনুবাদ এবং তা বাজারজাত করার কাজ।
ইউএনএলের আবিষ্কার এবং এই প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার অন্তর্ভুক্তি রাষ্ট্রিক-সামাজিক, গবেষণাসহ নানা ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ উন্মোচন করবে সন্দেহ নেই। বিশ্বের পঞ্চম ভাষা হিসেবে এর ব্যবহার হবে বহুমাত্রিক। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের বাংলাভাষী কোনো মানুষ সহজে অন্য ভাষাকে যেমন নিজের ভাষায় পড়তে পারবে, ঠিক তেমনি অন্য ভাষার মানুষও বাংলা ভাষার রসাস্বাদন করতে পারবে নিজের ভাষায়। এখন শুধু অপেক্ষা।
Source: Daily Prothom alo
তবে বাংলা ভাষার জন্য এ সুবিধা এখনো সৃষ্টি করা যায়নি। কারণ, বাংলা ভাষাকে এখনো ইউএনএলের সদস্যভুক্ত করা হয়নি। হিন্দি, উর্দুসহ দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি ভাষা ইউএনএলের সদস্য হয়ে নিজ ভাষার মাধ্যমে পৃথিবীর অন্যান্য ভাষার সঙ্গে যোগাযোগ করছে; কিন্তু বাংলাদেশ এখনো এর সদস্য হওয়ার জন্য এগিয়ে আসেনি। সদস্য হওয়ার কিছু পূর্বপ্রস্তুতি আছে, যেমন ইউএনএল নির্মিত ছকে বাংলা ভাষার একটি ডিজিটাল অভিধান ও একটি ডিজিটাল শব্দকোষ নির্মাণ করা, যা কিনা এ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান করেনি। ইউএনএল পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে জাতিসংঘের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সাল নেটওয়ার্কিং ল্যাঙ্গুয়েজ ফাউন্ডেশন, জেনেভা। বিশ্বের প্রতিটি ভাষা যেন ইউএনএলের সুবিধা নিতে পারে এবং প্রত্যেক মানুষ যেন তা অবাধে ব্যবহার করতে পারে, সে জন্য ইউএনএল সবার জন্য বিনা মূল্যে খুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক যে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইউএনএলের সদস্য হওয়ার জন্য এগিয়ে আসেনি। সদস্য হতে গেলে যে ডিজিটাল শর্ত পূরণ করতে হয়, তা পালন করার সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি।
সুখের কথা, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি এ উদ্দেশ্যে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্পের কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। ইউএনএলের সদস্য হওয়ার পূর্বশর্তে বাংলা ডিজিটাল শব্দকোষ ও অভিধান নির্মাণে একটি বড় কলাকুশলী দল কাজ শুরু করেছে। প্রকল্পটিকে প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহায়তা দেওয়ার জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, সরকারি সাহায্য পেলে দেড়-দুই বছরের মধ্যে বাংলা ভাষাও ইউএনএলের সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করবে। তখন বাংলা ভাষার মাধ্যমে অন্যান্য ভাষার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে ইউএনএলভুক্ত ভাষার সদস্যসংখ্যা ১৬৫। কিন্তু বিশ্বের পঞ্চম বৃহৎ ভাষা বাংলা এখনো এর সদস্যপদ নিতে পারেনি। অর্থাৎ সদস্যপদ নেওয়ার শর্তাবলি পূরণ করতে পারেনি। এটা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় গ্লানি বলতে হবে। কেননা, যে ভাষার জন্য মানুষ আন্দোলন করেছে, প্রাণ দিয়েছে, যে ভাষা আন্দোলনের সম্মানে একুশে ফেব্রয়ারি বিশ্বের মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে, সে ভাষা এখনো ইউএনএলের মাধ্যমে বিশ্বভাষাগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারেনি, সে গ্লানি রাখার জায়গা কোথায়?
সভাপতি, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি
সালাহ্ উদ্দিন
ভাষার প্রধান বাহক মানুষ। আরও কিছু বিষয় আছে, যারা ভাষাকে বয়ে নিয়ে চলে, যেমন বই। ভাষার এই গমনাগমনে ভাষা নিজে পরিবর্তিত হয়, অপরিচিতের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে। কিন্তু তার জন্য এক ভাষার মূল বক্তব্যকে অন্য ভাষায় রূপান্তরিত হতে হয়। এই কাজ করে থাকেন কোনো অনুবাদক। রাষ্ট্রীয় কোনো যোগাযোগ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য বা সাহিত্যের ক্ষেত্রেও অনুবাদকের দয়ার ওপর সবাইকে নির্ভর করতে হয়। এমন যদি হয়, পৃথিবীর অন্তত ১৫০টি ভাষাকে সহজেই অনুবাদ করে ফেলা যাবে বাংলায় এবং এর জন্য অনুবাদককেও কাঠ-খড় পোড়াতে হবে না। বসে থাকতে হবে না দীর্ঘ সময়। স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তা করা যাবে। কেবল একটি বোতাম চাপায় দেখা গেল মুহূর্তেই সাহিত্যে ২০১০ সালের নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক মারিয়া বার্গাস য়োসা স্প্যানিশ ভাষায় রচিত বা পর্তুগিজ ভাষায় রচিত আরেক নোবেল বিজয়ী হোসে সারামাগোর উপন্যাস খুব সহজেই রূপান্তরিত হয়ে গেল বাংলায়। এরকম কিছু স্বপ্ন বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েই কাজ শুরু করেছিল জাপানের ‘ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সিটি’ ১৯৯৬ সালে। এখন বলা যায় ইউএনএল বা ইউনিভার্সাল নেটওয়ার্কিং ল্যাঙ্গুয়েজ প্রযুক্তির আওতায় ১৬৫টি ভাষাকে অন্য যেকোনো ভাষায় রূপান্তরের কাজ করা যাবে চোখের পলকেই। নতুন খবর হচ্ছে বাংলা ভাষাও এখন সংযুক্ত হচ্ছে এই প্রকল্পের সঙ্গে।
প্রসঙ্গ ইউএনএল
ইউএনএল বা ইউনিভার্সাল নেটওয়ার্কিং ল্যাঙ্গুয়েজ এমন একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, সংক্ষেপে যদি বলা হয়: কেবল একটি বোতাম চাপার ব্যবধানে পাল্টে দেবে এক ভাষাকে অন্য ভাষায়। তবে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা পেতে হলে প্রাথমিক শর্ত হলো অনুবাদের সুবিধা পাওয়ার আগে ওই ভাষার সম্পূর্ণ একটি অভিধান ও ব্যাকরণকে ইউনিকোডে ব্যবহারের উপযুক্ত করে তৈরি করতে হবে। অর্থাৎ এমন একটি নির্দেশাবলি তৈরি করতে হবে, যা যেকোনো ভাষাকে সেই নির্দেশাবলির আওতায় ইপ্সিত ভাষায় রূপান্তরিত করতে পারবে। যে কারণে এই সেবামূলক প্রকল্পে যে প্রতিষ্ঠান তার ভাষার ব্যাকরণ ও অভিধান তৈরি করতে পারবে, তারাই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে। ইউএনের তত্ত্বাবধানে জাপান এই প্রকল্পের কাজ শুরু করে প্রায় ২০০ কম্পিউটার প্রযুক্তিবিদ ও ভাষাবিদের সমন্বয়ে।
এখান আসা যাক বাংলা ভাষার কথায়, অন্য একটি নির্দিষ্ট ভাষাকে বাংলায় রূপান্তর করতে প্রথমে ওই ফরমায়েশটি ইউএনএল প্রযুক্তিতে সরবরাহ করতে হবে। সরবরাহকৃত লেখা অনুবাদের জন্য এই প্রযুক্তি যাঁরা নিয়ন্ত্রণ করছেন, অর্থাৎ ইউএন, তাঁদের অনুমতি পেতে হবে। তাঁদের অনুমতি পাওয়ার পরই কেবল ভিন ভাষার বইটি আমাদের ভাষায় প্রয়োজনীয় অনুবাদ করা যাবে। শুরু থেকেই জাতিসংঘের আওতায় এই অনুবাদ প্রকল্পের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম বেধে দেওয়া হয়েছে। যেমন, একটি রাষ্ট্র কেবল একটি ভাষাকেই তাদের রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে ইউএনএল প্রযুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। আর এই প্রযুক্তিতে সব ভাষা অনুবাদের ক্ষেত্রে ইংরেজি হলো মান ভাষা অর্থাৎ আমি ভাত খাই রুশ ভাষার এই বাক্যটি প্রথমে অনুবাদ হবে ইংরেজিতে তারপর বাংলায়।
বাংলা ভাষার নতুন ভ্রমণ
বর্তমান ইন্টারনেটের দুনিয়ায় সারা বিশ্বই এখন হাতের মুঠোয়, কিন্তু ভাষাগত সমস্যায় অনেক সময় সহজ কাজটিও দুর্বোধ্য ঠেকে। কিন্তু বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ যদি এই ইউএনএল-এর আওতায় চলে আসে তাহলে আর্থিক লেনদেন থেকে শুরু করে কূটনৈতিক যোগাযোগ বা সাংস্কৃতিক যোগাযোগ সব ক্ষেত্রেই ইন্টারনেটের নতুন দুনিয়াকে আরও সহজ ও গতিশীল করে তুলবে।
ভারত হিন্দি ভাষার পাশাপাশি বাংলাকেও এই প্রযুক্তির আওতায় আনতে চেয়েছিল কিন্তু ইউনাইটেড নেশনস ল্যাঙ্গুয়েজ ফাউন্ডেশনের অনুমোদন না পাওয়ায় তা বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ বাংলাকে এই প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় অবকাঠামো ও আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছে। প্রযুক্তিবিদ ও ভাষাবিদদের সমন্বয়ে এখন একদল গবেষক কাজ করছেন ইউএনএল প্রযুক্তির সঙ্গে কাজ করতে পারে বাংলা ভাষার এমন একটি ব্যাকরণ ও অভিধান তৈরির। এতে সংযুক্ত হবে বাংলা ভাষায় মান ভাষার বাইরেও সাহিত্যে ব্যবহূত ভাষা, আঞ্চলিক ভাষা ও রবীন্দ্র-সাহিত্য। গবেষকেরা মনে করেন রবীন্দ্র-সাহিত্য অভিধান তৈরিতে, ভাষা নির্মাণে একটা বড় ভূমিকা রাখবে। ইতিমধ্যে ইন্টারনেটে রবীন্দ্র-সাহিত্য ইউনিকোডে রূপান্তর করা হয়েছে। এশিয়াটিক সোসাইটির সঙ্গে যোগ দিয়ে এই কাজে সংশ্লিষ্ট হয়েছে কলকাতার সোসাইটি অব ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ টেকনোলজি রিসার্চ বা এসএনএলটিআর। আশা করা যায়, দেশি-বিদেশী গবেষকদের চেষ্টায় এক বছরের মধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। অভিধান ও ব্যাকরণ তৈরির পর এই প্রযুক্তি ব্যবহারের অনুমোদন পেয়ে যাবে বাংলাদেশ। এশিয়াটিক সোসাইটির পরিকল্পনা অনুযায়ী তারপরই শুরু হয়ে যাবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ অনুবাদ এবং তা বাজারজাত করার কাজ।
ইউএনএলের আবিষ্কার এবং এই প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার অন্তর্ভুক্তি রাষ্ট্রিক-সামাজিক, গবেষণাসহ নানা ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ উন্মোচন করবে সন্দেহ নেই। বিশ্বের পঞ্চম ভাষা হিসেবে এর ব্যবহার হবে বহুমাত্রিক। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের বাংলাভাষী কোনো মানুষ সহজে অন্য ভাষাকে যেমন নিজের ভাষায় পড়তে পারবে, ঠিক তেমনি অন্য ভাষার মানুষও বাংলা ভাষার রসাস্বাদন করতে পারবে নিজের ভাষায়। এখন শুধু অপেক্ষা।
Source: Daily Prothom alo
Wednesday, December 1, 2010
বাংলাদেশে হীরার বাজার
বাংলাদেশে হীরার বাজার
একসময় রাজা-বাদশারা মুকুট ও সিংহাসনে যে হীরা ব্যবহার করতে এখন বেচাকেনা হচ্ছে বাংলাদেশের বিভিল্পু মার্কেটে। রাজধানীর গুলশান, বনানী, ধানমন্ডিসহ বিভাগীয় শহরগুলোর দোকানে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে হীরার অলংকার। দেশে যখন হীরার ব্যবহার শুরু হয় তখন কেবলমাত্র ধনাঢ্য ব্যক্তিরাই আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করত। এখন তা আর শুধু অভিজাত শ্রেণীর সম্পত্তি নয়। ক্ষেত্রবিশেষে এটি সাধারণ মানুষেরও নাগালে চলে এসেছে।
মূল্যবান পাথর হিসেবে সৃষ্টির আদি থেকেই সমাদৃত হয়ে আসছে হীরা। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে দামি পাথরগুলোর একটি। যাকে নিয়ে মানুষের কৌতুহল আর আগ্রহের শেষ নেই। তাই হীরার আদ্দৌপান্ত জানাতে আমাদের এই আয়োজন।
হীরার ইংরেজি শব্দ ডায়মন্ড গ্রীক আদামাস শব্দ থেকে এসেছে। যার অর্থ খুব কঠিন জিনিস। কঠিন পদার্থ হওয়ার কারণে হীরার এই নামকরণ করা হয়েছে। ইস্পাতকেও ফুটো করতে পারে হীরা। সবচেয়ে কড়া এসিডে ডুবিয়ে রাখলেও হীরার কোনো ক্ষতি হয় না। তবে হীরা আগুনে পুড়ে যায়। কারণ এটি এক ধরণের কার্বন। কেলাসিত কার্বনই একসময় হীরায় রুপ নেয়। বর্ণহীন এ রত্নটি একটি মাত্র বিশুদ্ধ উপাদান কার্বন থেকে সৃষ্ট।
হীরক সর্বপ্রথম ভারতবর্ষে মূল্যবান হিসেবে খনি থেকে উত্তোলন ও ব্যবহার করা শুরু হয়। হীরা ভারতবর্ষের মানুষের কাছে কমপক্ষে ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার বছর ধরে পরিচিত। মানুষের জানা সকল প্রাকৃতিক পদার্থ থেকে হীরা অনেক বেশি শক্ত এবং এটি দ্বারা সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা পর্যন্ত কাজ করা যায়। মাটির প্রায় ১৪০ থেকে ১৯০ কি.মি. নিচে পৃথিবীর কেন্দ্র ও পৃথিবীর আবরণের মাঝে প্রচন্ড তাপ ও চাপের কারনে হীরা গঠিত হতে প্রায় ১ থেকে ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি থেকে সাড়ে ৩০০ কোটি বছর পর্যন্ত সময় লাগে । যেখানে পৃথিবীর বয়স ধরা হয় সাড়ে ৪০০ কোটি বছর । সকল হীরাই পৃথিবীতে তৈরি হয়েছে এমন নয়, পৃথিবীতে এমন অনেক হীরা পাওয়া গেছে যেগুলো পৃথিবীর বাইরে তৈরী। হীরাকে আদর্শ ধরে তৈরি করা মোহ্স স্কেল অফ মিনারেল হার্ডনেস অনুযায়ী হীরার কাঠিন্য ১০ এ ১০। পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় ২৬ হাজার কেজি হীরা উত্তোলিত হয় যার মূল্য প্রায় ৯ মিলিয়ন ডলার।
সবচেয়ে মূল্যবান হীরা কোহিনূর
কোহিনূর বা আলোর পর্বত নামে খ্যাত হীরার ইতিহাস অতি দীর্ঘ এবং বর্ণাঢ্য। এর ইতিহাসের সূচনা ১৩০৪ সালে মালব রাজাদের হাতে, তারপর আসে মোগলদের হাতে । পরে বিভিন্ন হাত ঘুরে এখন স্থান পেয়েছে টাওয়ার অফ লন্ডনে। সম্রাট শাহজাহান নির্মিত ময়ুর সিংহাসনের একটা চোখ তৈরী করা হয় আকবর শাহ হীরা দিয়ে, আরেকটা কোহিনূর দিয়ে। পরে নাদির শাহ ভারতবর্ষ জয় করে কৌশলে তিনি মোগলদের কাছ থেকে কোহিনূর উদ্ধার করে নিয়ে যান ইরানে। কোহিনূর নামটিও নাদির শাহের দেয়া। নাদির শাহ নিহত হবার পর কোহিনূর আসে আফগানিস্তান সম্রাট হুমায়ুনের পুত্রের কাছে। আফগানিস্তান থেকে মহারাজা রণজিৎ সিং সেটি গ্রহণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত রণজিৎ সিংএর পুত্র সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে ১৮৫০ সালে তুলে দেন রাণী ভিক্টোরিয়ার হাতে। ১০৮.৯৩ ক্যারেট ওজনবিশিষ্ট কোহিনূর প্রথমে রাণী ভিক্টোরিয়া ব্যবহার করতেন তার হাতে। এরপর সেটি স্থান পায় বৃটিশ মুকুটে। এদিকে গত জুলাই এ তিন দিনের যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ভারত সফরে আসলে ভারতীয় বংশোদ্ভূত বৃটিশ এমপি কেইথ ভাজ কোহিনুর হীরা ভারতকে ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেন। কিন্তুু বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কারভাবেই জানিয়ে দিয়েছেন তা আর সম্ভব নয়।
রক্ত হীরক
আফ্রিকার হীরার প্রচুর খনি আছে। পৃথিবীর দুই তৃতীয়াংশ হীরা এখানে উৎপাদিত হয়। এ সব হীরা থেকে প্রাপ্ত অর্থ যুদ্ধ্, হানাহানি, সন্ত্রাস ইত্যাদির অর্থায়নে ব্যবহূত হয়। এ জন্যে এরুপ হীরাকে রক্ত হীরক নামে অভিহিত করা হয়। এজন্য কনভার্টেড ডায়মন্ড, কনফ্লিক্ট ডায়মন্ড, হট ডায়মন্ড এবং ওয়ার ডায়মন্ড নামেও অভিহিত করা হয়।
অভিশপ্ত হিরা
হোপ ডায়মন্ড নীলচে রঙের কারণে-হোপ নামে পরিচিত। বাংলায় হীরাটির নাম 'আশা' হলেও এটি শেষ পর্যন্ত অনেকেরই হতাশা আর ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনশ্রুতি আছে, হীরাটি অভিশপ্ত।
এছাড়া হীরা নিয়ে প্রচলিত আছে বহু মিথ আর ভ্রান্ত ধারণা। রামের ইতিহাসবিদ পিস্ননি লেখেন এক হীরা উপত্যকার কথা, যেটি ভারতবর্ষে রয়েছে। মার্কোপোলোও এই উপত্যকার গল্প বর্ণনা করেন। হীরা নিয়ে এমন আরো বহু কাহিনীর প্রচলন রয়েছে।
রহস্যময় হীরা
পৃথিবীর রহস্যময় কয়েকটি হীরা হচ্ছে গ্রেট মোগল, গোল্ডেন জায়ান্ট, ব্রাগেনজা। গ্রেট মোগল ভারতের হীরক খনিতে পাওয়া যায় ১৬৫০ সালে। ৭৮৭ দশমিক৫০ ক্যারেটের এই অপূর্ব সুন্দর হীরাটিকে সম্রাট শাহজাহানের কাছে উপহার হিসেবে পাঠানো হয়। ১৭৩৯ সালে নাদির শাহ দিলস্নী আক্রমণ করে অনেক ধন সম্পদ লুট করে নিয়ে যান। তখন গ্রেট মোগলও পারস্যের রাজভান্ডারে জমা হয়। এরপর থেকে এই হীরাটির আর কোন সংবাদ পাওয়া যায়নি। গোল্ডেন জায়ান্ট বর্তমানে পৃথিবীর অন্যতম এক ধনকুবেরের কাছে রয়েছে। কিন্তুু ৮৯০ ক্যারেটের এই হীরাটির উৎপত্তি কোথায় তা আজও রহস্যে ঘেরা। ব্রাগেনজা ছিল ১৬৮০ ক্যারেটের হীরা। এই হীরাটি এখন কোথায় আছে তা আজও অজানা।
পৃথিবীর অন্যতম আরেকটি রহস্যময় সুন্দর হীরক হল 'দ্যা উইটেলসব্যাক গ্রাফ ডায়মন্ড'। যেটি এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির স্মিথসোনিয়ান'স ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিষ্ট্রিতে এখন শোভা পাচ্ছে। মহামূল্যবান এই হীরক খন্ডটি বিক্রির উদ্দেশ্যেই এখানে রাখা হয়েছে।
এই হীরা শেষবারের মতো দেখা গিয়েছিলো ১৯৫৮ সালে, ব্রাসেলসের ওয়ার্ল্ড এক্সিবিশনে। তারপরেই রহস্যজনকভাবেই উধাও হয়ে যায় এই হীরাটি। এরপর ২০০৮ সালের এক নিলামে লরেন্স গ্রাফ এটিকে কিনে নেবার পর আবারো আলোচনায় আসে হীরাটি।
নারীর সঙ্গী হীরা
পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন পদার্থ হীরা একইসঙ্গে সবচেয়ে বেশি চাপ সহ্য করার ক্ষমতাও রাখে। সে হিসেবে সম্ভবত কোনো প্রিয়জন নন, অলংকার কিংবা আভরণ হিসেবে নারীর সবচেয়ে সঙ্গী এই হীরাই।
হীরা কিনতে ফোর সি (চার সি)
ডায়মন্ডের অলংকার কেনার প্রথমেই ধারণা নিতে হবে 'ফোর-সি' সম্পর্কে। ফোর সি হচ্ছে_ডায়মন্ড ক্যারেট ওয়েট, ডায়মন্ড ক্ল্যারিটি, ডায়মন্ড কালার এবং ডায়মন্ড কাট (শেইপ নয়)। ক্যারেট মানদন্ডে ডায়মন্ডের ওজন মাপাই ডায়মন্ড ক্যারেট। স্বর্ণের ক্ষেত্রে এটি হল বিশুদ্ধতার একক। আর রত্নপাথরের ক্ষেত্রে ক্যারেট হচ্ছে ভরের একক। এক্ষেত্রে ১ ক্যারেট সমান দশমিক ২ গ্রাম বা ২০০ মিলিগ্রাম। এক ক্যারেটকে ১০০ পয়েন্টে ভাগ করা হয়। এ হিসেবে ৭৫ পয়েন্ট হচ্ছে ০.৭৫ ক্যারেট। ডায়মন্ডের দাম নির্ধারণে ক্যারেট ওয়েট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। কিন্তুু কোয়ালিটির ওপর নির্ভর করে দু'টি সমান ক্যারেটের ডায়মন্ডের দাম ভিন্ন হতেই পারে।
ভেতরের গঠন ও অবিশুদ্ধতার পরিমাপই ডায়মন্ডের ক্ল্যারিটি। গঠনগত দিক থেকে বাইরের বা ভেতরের কোন বাধা ডায়মন্ডের আলোক বর্ণালির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। একজন বিশেষজ্ঞই ডায়মন্ডের ক্ল্যারিটি বুঝতে পারেন। তবে ডায়মন্ডে সামান্য পরিমাণ অবিশুদ্ধতা থাকলেও তা হীরার ঘাতসহতায় সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে না। হীরা কতটা পরিষ্কার তার ওপর নির্ভর করবে এটি কতটা সুন্দর ও আকর্ষণীয় দেখাবে। এ কারণে হীরার ক্ল্যারিটি নির্ণয়ে নানা ধরনের স্বীকৃত স্ট্যান্ডার্ড রয়েছে। যেমন ক্ল্যারিটির দিক থেকে এফ এল, আই এফ ডায়মন্ড সবচেয়ে বেশি পরিস্কার। তবে কোন 'ফ্ল' নেই, এমন হীরা সত্যি বিরল। ওগুলো সবচেয়ে দামি। তবে ১১, ১২ ও ১৩ নম্বর হীরা কম পরিস্কার, দামও কম।
ডায়মন্ড কেনার ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হচ্ছে কালার। কালার পরিমাপেরও একটা স্বীকৃত স্কেল রয়েছে। 'ডি' ও 'এফ' রেঞ্জের মধ্যে হীরা মূলত কালারলেস। 'জি' ও 'জে' প্রায় বর্ণহীন। 'কে' ও 'এন' হচ্ছে অস্বচ্ছ হলুদ। 'ও' এবং 'আর' হচ্ছে খুবই হালকা হলুদ। 'টি' ও 'জেড' হচ্ছে হালকা হলুদ। হীরা উজ্জ্বল হলুদ, গোলাপি ও নীলও হতে পারে। তবে অধিকাংশ হীরা অস্বচ্ছ হলুদ ও হালকা হলুদ হয়ে থাকে।
হীরার স্বীকৃত ফোর-সি'র মধ্যে কাটা সবচেয়ে বেশি জটিল। একটি হীরা যখন সমানুপাতে বা ভারসাম্য রেখে কাটা হয়, তখন এটার আলোক প্রতিফলন ক্ষমতা বাড়ে। তবে হীরা অগভীরভাবে কাটলে আলো পাশর্্ব দিয়ে প্রতিফলিত হয়ে হীরা ধূসর মনে হতে পারে। একটি আদর্শ হীরার বৈশিষ্ট্য, এটা যত ধরণের আলো ধারণ করতে পারবে তার সবটাই প্রতিফলন করবে।
কৃত্রিমভাবে হীরা তৈরি কি সম্ভব?
সবচেয়ে মূল্যবান পাথর হীরাকেও কৃত্রিমভাবে বানানো হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। আর তার মানও আসল হীরার চেয়ে খুব একটা মন্দ নয়। এগুলো প্রাকৃতিক হীরার মতোই উজ্জ্বল। কৃত্রিম উপায়ে হীরা উৎপাদন শুরু করে জেনারেল ইলেকট্রিক কোম্পানি। সে ১৯৫৬ সালের কথা। ওই সময়ে তারা যে হীরা উৎপাদন করে তা ছিল ক্ষুদ্র আকারের রত্নপাথর। তবে আরও ১৫ বছর সাধনা করে এই কোম্পানি ১৯৭১ সালে উৎপাদন করে রত্ন-মানের এক ক্যারেটের হীরা। কৃত্রিম উপায়ে হীরা উৎপাদনের ইতিহাস এখান থেকেই শুরু।
অতি উচ্চ তাপ ও চাপের ক্রিয়ায় ভূপৃষ্ঠের নিচে অবস্থিত গ্রাফাইট থেকে প্রাকৃতিকভাবে হীরা তৈরি করা হয়। গ্রাফাইটের ওপর পর্যাপ্ত চাপ এবং বৈদ্যুতিক চুলিস্নতে ২৫০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপ প্রয়োগ করা হয়। ঠান্ডা হওয়ার পর, এই গলিত বস্তুুতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কৃত্রিম হীরা থাকে, যা লোহা দ্বারা শক্তভাবে আবৃত থাকে। এসিড দ্বারা এই লোহা দ্রবীভূত করে হীরা মুক্ত করা হয়। প্রাকৃতিক হীরার তুলনায় কৃত্রিম হীরার আকার অপেক্ষাকৃত ছোট।
চুল ও দেহভস্ম দিয়ে হীরা তৈরী
মহারানী ভিক্টোরিয়ার সম থেকেই 'শোকের পাথর' হিসেবে হীরা পরিচিত। কারও হাতে একটি আংটি বা গলার হার স্মরণ করিয়ে দিতো হারানো স্বজনের কথা। কিন্তুু প্রযুক্তির উত্তরণের সঙ্গে সঙ্গে প্রিয়জনের ওই সব উপহার বহনের চেয়ে তাকে আরও কাছে রাখার উপায় উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। আর তা হলো প্রিয়জনের চুল বা দেহভস্ম ব্যবহার করে হীরা উদ্ভাবন। এর ফলে যে হীরা উৎপাদন হয় তা ব্যবহার করলে যে কেউ হারানো স্বজনকে সব সময় নিজের সঙ্গে সঙ্গে রাখতে পারেন।
মানুষের চুল থেকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ল্যাবরেটরিতে বানানো হচ্ছে মহামূল্যবান হীরা। আর এই দামি শিল্পের পণ্য চুলের বিপুল যোগান এই বাংলাদেশ থেকেই। ঝিনাইদহে জেলায় গড়ে উঠেছে বিশাল বাজার ও প্রক্রিয়াকরণ কারখানা। লাখ লাখ টাকার চুল বেচাকেনার জন্য ক্রয় অফিস খুলে তা কিনে নিচ্ছেন বিদেশীরা। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পনেরোটির বেশি জেলায় চুল বেচাকেনা হচ্ছে। হীরা তৈরির জন্য পশ্চিমা বিশ্বে অনেক কোম্পানি গড়ে উঠেছে। তারা এ ব্যবসা করে উপার্জন করছে কোটি কোটি ডলার।
গত বছর পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসন মারা যাওয়ার পর শিকাগোর একটি কোম্পানি এরকম এক ঘোষণা দেয়। শিকাগোর লাইফজেম নামের ওই সংস্থা ঘোষণা দেয়-১৯৮৪ সালে পেপসির বিজ্ঞাপন নির্মাণের সময় যখন পপ তারকা মাইকেল জ্যাকসনের চুলে আগুন ধরে যায়। তখন তারা সেই চুলের কিছু অংশ সংগ্রহ করে তা দিয়ে ১০টি হীরা বানিয়েছে। ২০০৭ সালে সংগীত স্রষ্টা বিঠোফেন-এর চুল থেকে উৎপাদন করেছেন তিনটি হীরা। মৃত মানুষের প্রতি ভালবাসা প্রদর্শনের ভিন্ন ভিন্ন এক মাত্রা যোগ করতে সমপ্রতি সুইজারল্যান্ডের একটি কোম্পানি মৃত মানুষের ছাই দিয়ে হলুদ রঙের হীরা বানিয়েছে।
বিশ্বের সর্ববৃহৎ ১০ হীরা
দ্যা কালিনান বিশ্বের সবচেয়ে বড় হীরা। ১৯০৫ সালে ফ্রেডারিক ওয়েলস স্যার থমাস কালিনান এর হীরক খনি থেকে এটি আবিস্কার করেন। স্যার থমাস কালিনানের নাম অনুসারেই এ হীরার নামকরণ করা হয়। অপরিশোধিত অবস্থায় এটির ওজন ছিল ৩ হাজার ১০৬ দশমিক ৭৫ ক্যারেট বা ৬২১ দশমিক ৩৫ গ্রাম। তারপর অপরিশোধিত হীরাকে ঘঁষে মেজে ৫৩০ দশমিক২০ ক্যারেট বা ১০৬ দশমিক ৪ গ্রামের দ্যা কালিনান আই-একা দ্যা স্টার অফ আফ্রিকা তৈরী করা হয়। বর্তমানে বৃটিশ রাণির মুকুটে কালিনান শোভা পাচ্ছে।
কালিনান ছাড়া বৃহৎ হীরাগুলো হলো: ব্রাগেনজা, এক্সেলসিওর, স্টার অফ সিয়েরা লিওন, গোল্ডেন জায়ান্ট, গ্রেট মোগল, ওয়ি রিভার, প্রেসিডেন্ট ভারগাস, জোংকার এবং রিজ। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ দশটি হীরার তালিকায় নাম না থাকলেও কোহিনুর যথেষ্ট আলোচিত একটি হীরা।
সর্ববৃহৎ হীরার বাজার
বিশ্বের বৃহত্তম হীরার বাজার ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্ব্বাইয়ের বান্দ্রা-কুরলা কমপেস্নক্সে অবস্থিত। মার্কেটটির নাম 'ভারত ডায়মন্ড বোরস'। ২০ একর জমির ওপর নির্মিত নয়তলাবিশিষ্ট ৩০লাখ বর্গফুটের এই কমপেস্নক্সটিতে নয়টি টাওয়ার রয়েছে। এটি তৈরি করতে ভারতীয় মুদ্রায় এক হাজার ১০০ কোটি রুপি ব্যয় হয়েছে। এখানে হীরার আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম থেকে শুরু করে হীরার শেয়ারবাজার ও ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এই বিশাল হীরক বাণিজ্যকেন্দ্র চালু হওয়ায় হীরক লেনদেনের ক্ষেত্রে বেলজিয়ামের আন্টওয়ের্প শহর ও ইসরাইলের রাজধানী তেলআবিবকে পেছনে ফেলল।
হীরা পরিশোধণে শীর্ষে ভারত
হীরক খ কাটা, হিরার অলংকার তৈরী এবং পরিশোধণের বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ ভারত। এ পরিচিতির সাথে ভারতে সর্ববৃহত বাজার থাকায় লেনদেনের ক্ষেত্রেও দেশটি অনেক এগিয়ে যাবে। ভারতের মোট হীরার ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশই বিদেশের বাজারে রপ্তানি করা হয়। হীরা কাটা, পালিশ করা, হীরার অলংকার তৈরি ইত্যাদি মিলিয়ে এই শিল্কেপ্পর সঙ্গে বর্তমানে প্রায় আট লাখ ৫০ হাজার কর্মী জড়িত রয়েছেন। আর ভারতে হীরা রপ্তানির ব্যবসায় নিয়োজিত রয়েছে ৪০০টি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে ভারত প্রতিবছর হীরার গয়না রপ্তানি করে প্রায় আড়াই হাজার কোটি ডলার আয় করছে।
দেশে হীরার চাহিদা বাড়ছে
দফায় দফায় স্বর্ণের দাম বাড়ার কারণে হীরার চাহিদা বাড়ছে। হাতের কাছে হীরার গহনা পাওয়ায় ক্রমেই বাড়ছে এর ব্যবহার। ফ্যাশনপ্রিয় ধনাঢ্য তরুণ-তরুণীদের এখন প্রথম পছন্দ হীরার গহনা। বাগদান অনুষ্ঠানে হীরার আংটি ব্যবহার এখন স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এ কারণে স্বর্ণের পরিবর্তে এখন অনেকেই ঝুঁকে পড়ছেন হীরার গহনার দিকে।
বর্তমানে দেশের প্রায় সব বড় স্বর্ণের দোকানেই হীরার গহনা পাওয়া যাচ্ছে। তবে ধানমন্ডির রাইফেলস স্কয়ারের কার্বন ক্রাফট, গুলশান-১ ও উত্তরায় রয়াল ডায়মন্ড এবং ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড এই ৪টি দোকানে শুধুমাত্র হীরার গহনা বিক্রি করে থাকে।
বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশী হীরার অলংকার
বাংলাদেশের তৈরি হীরার অলংকার এখন দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। তবে রপ্তানির পরিমাণ খুবই সামান্য। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর ৫০ কোটি টাকার মতো হীরার অলংকার রপ্তানি হচ্ছে। প্রতিযোগী অন্যান্য রপ্তানিকারক দেশের তুলনায় গুণগত মান ও নকশা ভালো হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, কানাডা, জাপান, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন ধনী দেশের ক্রেতারা বাংলাদেশি অংলকারের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন।
জিএসপি'র রুলস অফ অরিজিনের শিথিল ও সরলীকরণের সুফল বাংলাদেশ পাবে
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং টিকে থাকার লক্ষ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যে উন্নয়ন অংশীদার দেশগুলোর কাছ থেকে দ্বি-পাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক পর্যায়ে সহযোগিতার আশা করে। ইইউভূক্ত দেশগুলোর জিএসপি ( জেনারেলাইজড সিস্টেম অভ প্রিফারেন্সেস) উদ্যোগের রুলস অভ অরিজিনের শিথিল ও সরলীকরণের সুফল বাংলাদেশ পাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্য মন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান।
গেল সপ্তাহে ঢাকার একটি হোটেলে ইইউ আয়োজিত "ইইউ-বাংলাদেশ বাণিজ্য: সর্বাধুনিক সমপ্রসারণ এবং চ্যালেঞ্জসমূহ" শীর্ষক সেমিনারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সেমিনারে ইইউ ডেলিগেশনের প্রথম সচিব এন্ড্রু বার্নার্ড এবং ট্রেড এডভাইজার জিলস্নুল হাই বক্তৃতা করেন।
ইইউ হচ্ছে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের প্রধান গন্তব্যস্থল উলেস্নখ করে মন্ত্রী বলেন, ইইউ যেভাবে বিভিন্ন পলিসির মাধ্যমে সহযোগিতা করছে, বিশেষ করে স্বল্পোন্নত ৪৯টি দেশের জন্য ইবিএ ( এভরিথিং বাট আর্মস) উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশ ভাল সুফল পেয়েছে। এর সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে অনেকগুণ বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। তেমনি নতুন জিএসপি সুযোগের সদ্ব্যবহার করে দেশ ও নিজের জন্য সুফল লাভের লক্ষ্যে চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলা করতে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
তিনি বলেন জলবায়ু সংক্রান্ত দুর্যোগের জন্য যেমনি বাংলাদেশ দায়ী নয় তেমনি বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার জন্যও বাংলাদেশ দায়ী নয়। অথচ এজন্য বাংলাদেশের মানুষকে কষ্ট পেতে হয়েছে। গত বছর বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ বাড়লেও বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানি করে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্যের মূল্য অনেক কম পেয়েছে। তাই পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন এবং নেগোশিয়েশনের সক্ষমতা বাড়িয়ে সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নতির জন্য আমাদের প্রধান টেকনিক্যাল লক্ষ্য ছিল দেশের জন্য স্বাধীনতা অর্জন-তা অর্জিত হয়েছে। দ্বিতীয় লক্ষ্য ছিল কৌশলগত লক্ষ্য- অর্থনৈতিক মুক্তি। যা, অর্জনে সকলে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, বাঙালি অতীতে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জয়লাভ করেছে, আগামী দিনেও সকল ধরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের জনগণকে সামনের দিকে এগিয়ে নেবে।
উলেস্নখ্য যে, ২০০৯-১০ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৮,২২০.৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য ইইউ'র দেশগুলোতে রপ্তানি করেছে। পক্ষান্তরে আমদানি করেছে ১৭৫৩.২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। ২০০৯ সালের এক হিসেব অনুযায়ী এ সময়ে সারাবিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের প্রধান গন্তব্যস্থল ছিল ইইউ, যার পরিমাণ ৪,৯৮৬.৪ মিলিয়ন ইউরো। যা, বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৪৮.৩%। আমদানি পণ্যের পরিমাণ ছিল ১,২৯৪ মিলিয়ন ইউরো এবং বাংলাদেশের মোট আমদানির ৮.৫%। এসময়ে ইইউ'র ২৭টি দেশের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬,২৮১.০ মিলিয়ন ইউরো। যা, বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যের ২৪.৫%।
Source: Daily Ittefaq
মূল্যবান পাথর হিসেবে সৃষ্টির আদি থেকেই সমাদৃত হয়ে আসছে হীরা। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে দামি পাথরগুলোর একটি। যাকে নিয়ে মানুষের কৌতুহল আর আগ্রহের শেষ নেই। তাই হীরার আদ্দৌপান্ত জানাতে আমাদের এই আয়োজন।
হীরার ইংরেজি শব্দ ডায়মন্ড গ্রীক আদামাস শব্দ থেকে এসেছে। যার অর্থ খুব কঠিন জিনিস। কঠিন পদার্থ হওয়ার কারণে হীরার এই নামকরণ করা হয়েছে। ইস্পাতকেও ফুটো করতে পারে হীরা। সবচেয়ে কড়া এসিডে ডুবিয়ে রাখলেও হীরার কোনো ক্ষতি হয় না। তবে হীরা আগুনে পুড়ে যায়। কারণ এটি এক ধরণের কার্বন। কেলাসিত কার্বনই একসময় হীরায় রুপ নেয়। বর্ণহীন এ রত্নটি একটি মাত্র বিশুদ্ধ উপাদান কার্বন থেকে সৃষ্ট।
হীরক সর্বপ্রথম ভারতবর্ষে মূল্যবান হিসেবে খনি থেকে উত্তোলন ও ব্যবহার করা শুরু হয়। হীরা ভারতবর্ষের মানুষের কাছে কমপক্ষে ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার বছর ধরে পরিচিত। মানুষের জানা সকল প্রাকৃতিক পদার্থ থেকে হীরা অনেক বেশি শক্ত এবং এটি দ্বারা সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা পর্যন্ত কাজ করা যায়। মাটির প্রায় ১৪০ থেকে ১৯০ কি.মি. নিচে পৃথিবীর কেন্দ্র ও পৃথিবীর আবরণের মাঝে প্রচন্ড তাপ ও চাপের কারনে হীরা গঠিত হতে প্রায় ১ থেকে ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি থেকে সাড়ে ৩০০ কোটি বছর পর্যন্ত সময় লাগে । যেখানে পৃথিবীর বয়স ধরা হয় সাড়ে ৪০০ কোটি বছর । সকল হীরাই পৃথিবীতে তৈরি হয়েছে এমন নয়, পৃথিবীতে এমন অনেক হীরা পাওয়া গেছে যেগুলো পৃথিবীর বাইরে তৈরী। হীরাকে আদর্শ ধরে তৈরি করা মোহ্স স্কেল অফ মিনারেল হার্ডনেস অনুযায়ী হীরার কাঠিন্য ১০ এ ১০। পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় ২৬ হাজার কেজি হীরা উত্তোলিত হয় যার মূল্য প্রায় ৯ মিলিয়ন ডলার।
সবচেয়ে মূল্যবান হীরা কোহিনূর
কোহিনূর বা আলোর পর্বত নামে খ্যাত হীরার ইতিহাস অতি দীর্ঘ এবং বর্ণাঢ্য। এর ইতিহাসের সূচনা ১৩০৪ সালে মালব রাজাদের হাতে, তারপর আসে মোগলদের হাতে । পরে বিভিন্ন হাত ঘুরে এখন স্থান পেয়েছে টাওয়ার অফ লন্ডনে। সম্রাট শাহজাহান নির্মিত ময়ুর সিংহাসনের একটা চোখ তৈরী করা হয় আকবর শাহ হীরা দিয়ে, আরেকটা কোহিনূর দিয়ে। পরে নাদির শাহ ভারতবর্ষ জয় করে কৌশলে তিনি মোগলদের কাছ থেকে কোহিনূর উদ্ধার করে নিয়ে যান ইরানে। কোহিনূর নামটিও নাদির শাহের দেয়া। নাদির শাহ নিহত হবার পর কোহিনূর আসে আফগানিস্তান সম্রাট হুমায়ুনের পুত্রের কাছে। আফগানিস্তান থেকে মহারাজা রণজিৎ সিং সেটি গ্রহণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত রণজিৎ সিংএর পুত্র সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে ১৮৫০ সালে তুলে দেন রাণী ভিক্টোরিয়ার হাতে। ১০৮.৯৩ ক্যারেট ওজনবিশিষ্ট কোহিনূর প্রথমে রাণী ভিক্টোরিয়া ব্যবহার করতেন তার হাতে। এরপর সেটি স্থান পায় বৃটিশ মুকুটে। এদিকে গত জুলাই এ তিন দিনের যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ভারত সফরে আসলে ভারতীয় বংশোদ্ভূত বৃটিশ এমপি কেইথ ভাজ কোহিনুর হীরা ভারতকে ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেন। কিন্তুু বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কারভাবেই জানিয়ে দিয়েছেন তা আর সম্ভব নয়।
রক্ত হীরক
আফ্রিকার হীরার প্রচুর খনি আছে। পৃথিবীর দুই তৃতীয়াংশ হীরা এখানে উৎপাদিত হয়। এ সব হীরা থেকে প্রাপ্ত অর্থ যুদ্ধ্, হানাহানি, সন্ত্রাস ইত্যাদির অর্থায়নে ব্যবহূত হয়। এ জন্যে এরুপ হীরাকে রক্ত হীরক নামে অভিহিত করা হয়। এজন্য কনভার্টেড ডায়মন্ড, কনফ্লিক্ট ডায়মন্ড, হট ডায়মন্ড এবং ওয়ার ডায়মন্ড নামেও অভিহিত করা হয়।
অভিশপ্ত হিরা
হোপ ডায়মন্ড নীলচে রঙের কারণে-হোপ নামে পরিচিত। বাংলায় হীরাটির নাম 'আশা' হলেও এটি শেষ পর্যন্ত অনেকেরই হতাশা আর ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনশ্রুতি আছে, হীরাটি অভিশপ্ত।
এছাড়া হীরা নিয়ে প্রচলিত আছে বহু মিথ আর ভ্রান্ত ধারণা। রামের ইতিহাসবিদ পিস্ননি লেখেন এক হীরা উপত্যকার কথা, যেটি ভারতবর্ষে রয়েছে। মার্কোপোলোও এই উপত্যকার গল্প বর্ণনা করেন। হীরা নিয়ে এমন আরো বহু কাহিনীর প্রচলন রয়েছে।
রহস্যময় হীরা
পৃথিবীর রহস্যময় কয়েকটি হীরা হচ্ছে গ্রেট মোগল, গোল্ডেন জায়ান্ট, ব্রাগেনজা। গ্রেট মোগল ভারতের হীরক খনিতে পাওয়া যায় ১৬৫০ সালে। ৭৮৭ দশমিক৫০ ক্যারেটের এই অপূর্ব সুন্দর হীরাটিকে সম্রাট শাহজাহানের কাছে উপহার হিসেবে পাঠানো হয়। ১৭৩৯ সালে নাদির শাহ দিলস্নী আক্রমণ করে অনেক ধন সম্পদ লুট করে নিয়ে যান। তখন গ্রেট মোগলও পারস্যের রাজভান্ডারে জমা হয়। এরপর থেকে এই হীরাটির আর কোন সংবাদ পাওয়া যায়নি। গোল্ডেন জায়ান্ট বর্তমানে পৃথিবীর অন্যতম এক ধনকুবেরের কাছে রয়েছে। কিন্তুু ৮৯০ ক্যারেটের এই হীরাটির উৎপত্তি কোথায় তা আজও রহস্যে ঘেরা। ব্রাগেনজা ছিল ১৬৮০ ক্যারেটের হীরা। এই হীরাটি এখন কোথায় আছে তা আজও অজানা।
পৃথিবীর অন্যতম আরেকটি রহস্যময় সুন্দর হীরক হল 'দ্যা উইটেলসব্যাক গ্রাফ ডায়মন্ড'। যেটি এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির স্মিথসোনিয়ান'স ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিষ্ট্রিতে এখন শোভা পাচ্ছে। মহামূল্যবান এই হীরক খন্ডটি বিক্রির উদ্দেশ্যেই এখানে রাখা হয়েছে।
এই হীরা শেষবারের মতো দেখা গিয়েছিলো ১৯৫৮ সালে, ব্রাসেলসের ওয়ার্ল্ড এক্সিবিশনে। তারপরেই রহস্যজনকভাবেই উধাও হয়ে যায় এই হীরাটি। এরপর ২০০৮ সালের এক নিলামে লরেন্স গ্রাফ এটিকে কিনে নেবার পর আবারো আলোচনায় আসে হীরাটি।
নারীর সঙ্গী হীরা
পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন পদার্থ হীরা একইসঙ্গে সবচেয়ে বেশি চাপ সহ্য করার ক্ষমতাও রাখে। সে হিসেবে সম্ভবত কোনো প্রিয়জন নন, অলংকার কিংবা আভরণ হিসেবে নারীর সবচেয়ে সঙ্গী এই হীরাই।
হীরা কিনতে ফোর সি (চার সি)
ডায়মন্ডের অলংকার কেনার প্রথমেই ধারণা নিতে হবে 'ফোর-সি' সম্পর্কে। ফোর সি হচ্ছে_ডায়মন্ড ক্যারেট ওয়েট, ডায়মন্ড ক্ল্যারিটি, ডায়মন্ড কালার এবং ডায়মন্ড কাট (শেইপ নয়)। ক্যারেট মানদন্ডে ডায়মন্ডের ওজন মাপাই ডায়মন্ড ক্যারেট। স্বর্ণের ক্ষেত্রে এটি হল বিশুদ্ধতার একক। আর রত্নপাথরের ক্ষেত্রে ক্যারেট হচ্ছে ভরের একক। এক্ষেত্রে ১ ক্যারেট সমান দশমিক ২ গ্রাম বা ২০০ মিলিগ্রাম। এক ক্যারেটকে ১০০ পয়েন্টে ভাগ করা হয়। এ হিসেবে ৭৫ পয়েন্ট হচ্ছে ০.৭৫ ক্যারেট। ডায়মন্ডের দাম নির্ধারণে ক্যারেট ওয়েট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। কিন্তুু কোয়ালিটির ওপর নির্ভর করে দু'টি সমান ক্যারেটের ডায়মন্ডের দাম ভিন্ন হতেই পারে।
ভেতরের গঠন ও অবিশুদ্ধতার পরিমাপই ডায়মন্ডের ক্ল্যারিটি। গঠনগত দিক থেকে বাইরের বা ভেতরের কোন বাধা ডায়মন্ডের আলোক বর্ণালির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। একজন বিশেষজ্ঞই ডায়মন্ডের ক্ল্যারিটি বুঝতে পারেন। তবে ডায়মন্ডে সামান্য পরিমাণ অবিশুদ্ধতা থাকলেও তা হীরার ঘাতসহতায় সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে না। হীরা কতটা পরিষ্কার তার ওপর নির্ভর করবে এটি কতটা সুন্দর ও আকর্ষণীয় দেখাবে। এ কারণে হীরার ক্ল্যারিটি নির্ণয়ে নানা ধরনের স্বীকৃত স্ট্যান্ডার্ড রয়েছে। যেমন ক্ল্যারিটির দিক থেকে এফ এল, আই এফ ডায়মন্ড সবচেয়ে বেশি পরিস্কার। তবে কোন 'ফ্ল' নেই, এমন হীরা সত্যি বিরল। ওগুলো সবচেয়ে দামি। তবে ১১, ১২ ও ১৩ নম্বর হীরা কম পরিস্কার, দামও কম।
ডায়মন্ড কেনার ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হচ্ছে কালার। কালার পরিমাপেরও একটা স্বীকৃত স্কেল রয়েছে। 'ডি' ও 'এফ' রেঞ্জের মধ্যে হীরা মূলত কালারলেস। 'জি' ও 'জে' প্রায় বর্ণহীন। 'কে' ও 'এন' হচ্ছে অস্বচ্ছ হলুদ। 'ও' এবং 'আর' হচ্ছে খুবই হালকা হলুদ। 'টি' ও 'জেড' হচ্ছে হালকা হলুদ। হীরা উজ্জ্বল হলুদ, গোলাপি ও নীলও হতে পারে। তবে অধিকাংশ হীরা অস্বচ্ছ হলুদ ও হালকা হলুদ হয়ে থাকে।
হীরার স্বীকৃত ফোর-সি'র মধ্যে কাটা সবচেয়ে বেশি জটিল। একটি হীরা যখন সমানুপাতে বা ভারসাম্য রেখে কাটা হয়, তখন এটার আলোক প্রতিফলন ক্ষমতা বাড়ে। তবে হীরা অগভীরভাবে কাটলে আলো পাশর্্ব দিয়ে প্রতিফলিত হয়ে হীরা ধূসর মনে হতে পারে। একটি আদর্শ হীরার বৈশিষ্ট্য, এটা যত ধরণের আলো ধারণ করতে পারবে তার সবটাই প্রতিফলন করবে।
কৃত্রিমভাবে হীরা তৈরি কি সম্ভব?
সবচেয়ে মূল্যবান পাথর হীরাকেও কৃত্রিমভাবে বানানো হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। আর তার মানও আসল হীরার চেয়ে খুব একটা মন্দ নয়। এগুলো প্রাকৃতিক হীরার মতোই উজ্জ্বল। কৃত্রিম উপায়ে হীরা উৎপাদন শুরু করে জেনারেল ইলেকট্রিক কোম্পানি। সে ১৯৫৬ সালের কথা। ওই সময়ে তারা যে হীরা উৎপাদন করে তা ছিল ক্ষুদ্র আকারের রত্নপাথর। তবে আরও ১৫ বছর সাধনা করে এই কোম্পানি ১৯৭১ সালে উৎপাদন করে রত্ন-মানের এক ক্যারেটের হীরা। কৃত্রিম উপায়ে হীরা উৎপাদনের ইতিহাস এখান থেকেই শুরু।
অতি উচ্চ তাপ ও চাপের ক্রিয়ায় ভূপৃষ্ঠের নিচে অবস্থিত গ্রাফাইট থেকে প্রাকৃতিকভাবে হীরা তৈরি করা হয়। গ্রাফাইটের ওপর পর্যাপ্ত চাপ এবং বৈদ্যুতিক চুলিস্নতে ২৫০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপ প্রয়োগ করা হয়। ঠান্ডা হওয়ার পর, এই গলিত বস্তুুতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কৃত্রিম হীরা থাকে, যা লোহা দ্বারা শক্তভাবে আবৃত থাকে। এসিড দ্বারা এই লোহা দ্রবীভূত করে হীরা মুক্ত করা হয়। প্রাকৃতিক হীরার তুলনায় কৃত্রিম হীরার আকার অপেক্ষাকৃত ছোট।
চুল ও দেহভস্ম দিয়ে হীরা তৈরী
মহারানী ভিক্টোরিয়ার সম থেকেই 'শোকের পাথর' হিসেবে হীরা পরিচিত। কারও হাতে একটি আংটি বা গলার হার স্মরণ করিয়ে দিতো হারানো স্বজনের কথা। কিন্তুু প্রযুক্তির উত্তরণের সঙ্গে সঙ্গে প্রিয়জনের ওই সব উপহার বহনের চেয়ে তাকে আরও কাছে রাখার উপায় উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। আর তা হলো প্রিয়জনের চুল বা দেহভস্ম ব্যবহার করে হীরা উদ্ভাবন। এর ফলে যে হীরা উৎপাদন হয় তা ব্যবহার করলে যে কেউ হারানো স্বজনকে সব সময় নিজের সঙ্গে সঙ্গে রাখতে পারেন।
মানুষের চুল থেকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ল্যাবরেটরিতে বানানো হচ্ছে মহামূল্যবান হীরা। আর এই দামি শিল্পের পণ্য চুলের বিপুল যোগান এই বাংলাদেশ থেকেই। ঝিনাইদহে জেলায় গড়ে উঠেছে বিশাল বাজার ও প্রক্রিয়াকরণ কারখানা। লাখ লাখ টাকার চুল বেচাকেনার জন্য ক্রয় অফিস খুলে তা কিনে নিচ্ছেন বিদেশীরা। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পনেরোটির বেশি জেলায় চুল বেচাকেনা হচ্ছে। হীরা তৈরির জন্য পশ্চিমা বিশ্বে অনেক কোম্পানি গড়ে উঠেছে। তারা এ ব্যবসা করে উপার্জন করছে কোটি কোটি ডলার।
গত বছর পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসন মারা যাওয়ার পর শিকাগোর একটি কোম্পানি এরকম এক ঘোষণা দেয়। শিকাগোর লাইফজেম নামের ওই সংস্থা ঘোষণা দেয়-১৯৮৪ সালে পেপসির বিজ্ঞাপন নির্মাণের সময় যখন পপ তারকা মাইকেল জ্যাকসনের চুলে আগুন ধরে যায়। তখন তারা সেই চুলের কিছু অংশ সংগ্রহ করে তা দিয়ে ১০টি হীরা বানিয়েছে। ২০০৭ সালে সংগীত স্রষ্টা বিঠোফেন-এর চুল থেকে উৎপাদন করেছেন তিনটি হীরা। মৃত মানুষের প্রতি ভালবাসা প্রদর্শনের ভিন্ন ভিন্ন এক মাত্রা যোগ করতে সমপ্রতি সুইজারল্যান্ডের একটি কোম্পানি মৃত মানুষের ছাই দিয়ে হলুদ রঙের হীরা বানিয়েছে।
বিশ্বের সর্ববৃহৎ ১০ হীরা
দ্যা কালিনান বিশ্বের সবচেয়ে বড় হীরা। ১৯০৫ সালে ফ্রেডারিক ওয়েলস স্যার থমাস কালিনান এর হীরক খনি থেকে এটি আবিস্কার করেন। স্যার থমাস কালিনানের নাম অনুসারেই এ হীরার নামকরণ করা হয়। অপরিশোধিত অবস্থায় এটির ওজন ছিল ৩ হাজার ১০৬ দশমিক ৭৫ ক্যারেট বা ৬২১ দশমিক ৩৫ গ্রাম। তারপর অপরিশোধিত হীরাকে ঘঁষে মেজে ৫৩০ দশমিক২০ ক্যারেট বা ১০৬ দশমিক ৪ গ্রামের দ্যা কালিনান আই-একা দ্যা স্টার অফ আফ্রিকা তৈরী করা হয়। বর্তমানে বৃটিশ রাণির মুকুটে কালিনান শোভা পাচ্ছে।
কালিনান ছাড়া বৃহৎ হীরাগুলো হলো: ব্রাগেনজা, এক্সেলসিওর, স্টার অফ সিয়েরা লিওন, গোল্ডেন জায়ান্ট, গ্রেট মোগল, ওয়ি রিভার, প্রেসিডেন্ট ভারগাস, জোংকার এবং রিজ। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ দশটি হীরার তালিকায় নাম না থাকলেও কোহিনুর যথেষ্ট আলোচিত একটি হীরা।
সর্ববৃহৎ হীরার বাজার
বিশ্বের বৃহত্তম হীরার বাজার ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্ব্বাইয়ের বান্দ্রা-কুরলা কমপেস্নক্সে অবস্থিত। মার্কেটটির নাম 'ভারত ডায়মন্ড বোরস'। ২০ একর জমির ওপর নির্মিত নয়তলাবিশিষ্ট ৩০লাখ বর্গফুটের এই কমপেস্নক্সটিতে নয়টি টাওয়ার রয়েছে। এটি তৈরি করতে ভারতীয় মুদ্রায় এক হাজার ১০০ কোটি রুপি ব্যয় হয়েছে। এখানে হীরার আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম থেকে শুরু করে হীরার শেয়ারবাজার ও ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এই বিশাল হীরক বাণিজ্যকেন্দ্র চালু হওয়ায় হীরক লেনদেনের ক্ষেত্রে বেলজিয়ামের আন্টওয়ের্প শহর ও ইসরাইলের রাজধানী তেলআবিবকে পেছনে ফেলল।
হীরা পরিশোধণে শীর্ষে ভারত
হীরক খ কাটা, হিরার অলংকার তৈরী এবং পরিশোধণের বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ ভারত। এ পরিচিতির সাথে ভারতে সর্ববৃহত বাজার থাকায় লেনদেনের ক্ষেত্রেও দেশটি অনেক এগিয়ে যাবে। ভারতের মোট হীরার ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশই বিদেশের বাজারে রপ্তানি করা হয়। হীরা কাটা, পালিশ করা, হীরার অলংকার তৈরি ইত্যাদি মিলিয়ে এই শিল্কেপ্পর সঙ্গে বর্তমানে প্রায় আট লাখ ৫০ হাজার কর্মী জড়িত রয়েছেন। আর ভারতে হীরা রপ্তানির ব্যবসায় নিয়োজিত রয়েছে ৪০০টি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে ভারত প্রতিবছর হীরার গয়না রপ্তানি করে প্রায় আড়াই হাজার কোটি ডলার আয় করছে।
দেশে হীরার চাহিদা বাড়ছে
দফায় দফায় স্বর্ণের দাম বাড়ার কারণে হীরার চাহিদা বাড়ছে। হাতের কাছে হীরার গহনা পাওয়ায় ক্রমেই বাড়ছে এর ব্যবহার। ফ্যাশনপ্রিয় ধনাঢ্য তরুণ-তরুণীদের এখন প্রথম পছন্দ হীরার গহনা। বাগদান অনুষ্ঠানে হীরার আংটি ব্যবহার এখন স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এ কারণে স্বর্ণের পরিবর্তে এখন অনেকেই ঝুঁকে পড়ছেন হীরার গহনার দিকে।
বর্তমানে দেশের প্রায় সব বড় স্বর্ণের দোকানেই হীরার গহনা পাওয়া যাচ্ছে। তবে ধানমন্ডির রাইফেলস স্কয়ারের কার্বন ক্রাফট, গুলশান-১ ও উত্তরায় রয়াল ডায়মন্ড এবং ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড এই ৪টি দোকানে শুধুমাত্র হীরার গহনা বিক্রি করে থাকে।
বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশী হীরার অলংকার
বাংলাদেশের তৈরি হীরার অলংকার এখন দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। তবে রপ্তানির পরিমাণ খুবই সামান্য। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর ৫০ কোটি টাকার মতো হীরার অলংকার রপ্তানি হচ্ছে। প্রতিযোগী অন্যান্য রপ্তানিকারক দেশের তুলনায় গুণগত মান ও নকশা ভালো হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, কানাডা, জাপান, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন ধনী দেশের ক্রেতারা বাংলাদেশি অংলকারের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন।
জিএসপি'র রুলস অফ অরিজিনের শিথিল ও সরলীকরণের সুফল বাংলাদেশ পাবে
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং টিকে থাকার লক্ষ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যে উন্নয়ন অংশীদার দেশগুলোর কাছ থেকে দ্বি-পাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক পর্যায়ে সহযোগিতার আশা করে। ইইউভূক্ত দেশগুলোর জিএসপি ( জেনারেলাইজড সিস্টেম অভ প্রিফারেন্সেস) উদ্যোগের রুলস অভ অরিজিনের শিথিল ও সরলীকরণের সুফল বাংলাদেশ পাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্য মন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান।
গেল সপ্তাহে ঢাকার একটি হোটেলে ইইউ আয়োজিত "ইইউ-বাংলাদেশ বাণিজ্য: সর্বাধুনিক সমপ্রসারণ এবং চ্যালেঞ্জসমূহ" শীর্ষক সেমিনারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সেমিনারে ইইউ ডেলিগেশনের প্রথম সচিব এন্ড্রু বার্নার্ড এবং ট্রেড এডভাইজার জিলস্নুল হাই বক্তৃতা করেন।
ইইউ হচ্ছে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের প্রধান গন্তব্যস্থল উলেস্নখ করে মন্ত্রী বলেন, ইইউ যেভাবে বিভিন্ন পলিসির মাধ্যমে সহযোগিতা করছে, বিশেষ করে স্বল্পোন্নত ৪৯টি দেশের জন্য ইবিএ ( এভরিথিং বাট আর্মস) উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশ ভাল সুফল পেয়েছে। এর সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে অনেকগুণ বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। তেমনি নতুন জিএসপি সুযোগের সদ্ব্যবহার করে দেশ ও নিজের জন্য সুফল লাভের লক্ষ্যে চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলা করতে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
তিনি বলেন জলবায়ু সংক্রান্ত দুর্যোগের জন্য যেমনি বাংলাদেশ দায়ী নয় তেমনি বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার জন্যও বাংলাদেশ দায়ী নয়। অথচ এজন্য বাংলাদেশের মানুষকে কষ্ট পেতে হয়েছে। গত বছর বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ বাড়লেও বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানি করে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্যের মূল্য অনেক কম পেয়েছে। তাই পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন এবং নেগোশিয়েশনের সক্ষমতা বাড়িয়ে সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নতির জন্য আমাদের প্রধান টেকনিক্যাল লক্ষ্য ছিল দেশের জন্য স্বাধীনতা অর্জন-তা অর্জিত হয়েছে। দ্বিতীয় লক্ষ্য ছিল কৌশলগত লক্ষ্য- অর্থনৈতিক মুক্তি। যা, অর্জনে সকলে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, বাঙালি অতীতে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জয়লাভ করেছে, আগামী দিনেও সকল ধরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের জনগণকে সামনের দিকে এগিয়ে নেবে।
উলেস্নখ্য যে, ২০০৯-১০ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৮,২২০.৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য ইইউ'র দেশগুলোতে রপ্তানি করেছে। পক্ষান্তরে আমদানি করেছে ১৭৫৩.২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। ২০০৯ সালের এক হিসেব অনুযায়ী এ সময়ে সারাবিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের প্রধান গন্তব্যস্থল ছিল ইইউ, যার পরিমাণ ৪,৯৮৬.৪ মিলিয়ন ইউরো। যা, বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৪৮.৩%। আমদানি পণ্যের পরিমাণ ছিল ১,২৯৪ মিলিয়ন ইউরো এবং বাংলাদেশের মোট আমদানির ৮.৫%। এসময়ে ইইউ'র ২৭টি দেশের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬,২৮১.০ মিলিয়ন ইউরো। যা, বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যের ২৪.৫%।
Source: Daily Ittefaq
Thursday, November 11, 2010
Wednesday, November 10, 2010
উখিয়ার ঘুনধুমে আরেকটি কুমির চাষ প্রকল্প
উখিয়ার ঘুনধুমে আরেকটি কুমির চাষ প্রকল্প
০০ উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদতা
কক্সবাজারের উখিয়া ঘুনধুমে পাহাড়ী এলাকায় বাস্তবায়ন হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম কুমির প্রজনন কেন্দ । প্রায় ২৫একর সরকারি বনভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত এ কুমির চাষ প্রকল্পের কাজ পূর্ণ উদ্যমে শুরু হলে আগামী ১০বছর পরে হাজার কোটি টাকা আয়করা সম্ভব হবে বলে সংশিস্নষ্টরা মনে করছেন। কুমির চাষ প্রকল্পকে ঘিরে ৫একর জায়গা জুড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে পর্যটন স্পট। প্রতিদিন শত শত নারী-পুরুষ কুমির চাষ প্রকল্প দেখার জন্য ভীড় করতে দেখা গেছে। জানা গেছে, কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের টেলিভিশন রিলে কেন্দ থেকে ১কিঃমিঃ অদূরে ঘুনধুম সীমান্ত এলাকায় সরকারি পরিত্যক্ত বনভূমির ৩০একর জায়গা বন্দোবস্তী গ্রহণ করে আকিজ গ্রুপ। ২০০৯ সালে কুমির চাষ প্রকল্পের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ শুরু করে ৩শতাধিক কুমির বসবাসের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে। চলতি বছরের আগস্ট মাসে মালেশিয়া থেকে আমদানি করা ৫০টি মেইল-ফিমেইল কুমির উক্ত খামারে অবমুক্ত করে। এর আগে বিশেষজ্ঞ কুমির পরিবেশ সম্মত বসবাসের সম্ভাব্যতা যাচাই করেন। এরি মধ্যে অজ্ঞাত কারণবসত একটি কুমির মারা গেলেও ৪৯টি কুমির জীবিত রয়েছে।
প্রকল্পের ব্যবস্থাপক হাসান জাহেদ বলেন, ৩১ ফিমেইল কুমির আগামী মে, জুন, জুলাই-এ ডিম ছাড়বে। প্রতিটি কুমির এসময় ৫০/৫৫টি পর্যন্ত ডিম দেবে। তিনি বলেন, মালেশিয়া থেকে আমদানি করা একটি কুমিরের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৩ লাখ টাকা। এক বছর লালন-পালন করার পর একটি কুমির থেকে আয় হবে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। এখামারে আরো ২৫০টি কুমির অবমুক্ত করার পর কুমির চাষ প্রকল্পে পূর্ণতা আসবে। আগামী ১০বছর পরে এ কুমির চাষ প্রকল্প থেকে হাজার-কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। একজন বিদেশী কুমির বিশেষজ্ঞ ও ১৬জন কর্মচারী দিয়ে পরিচালিত এ কুমির চাষ প্রকল্পে একটি মেইল ও একটি ফিমেইল কুমিরকে একত্রে খাঁচাবন্দি করে রাখা হয়েছে।
এ ভাবে ১০জোড়া কুমিরকে খাঁচাবন্দি রাখা হলেও বাকি কুমিরগুলোকে পাহাড়ের পাদদেশে বিকল্প তৈরি উম্মুক্ত জলাশয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে ৩কেজি মাংস একটি কুমিরের খাবার হিসাবে সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। কুমির চাষ প্রকল্পকে ঘিরে ৫একর জায়গার উপর গড়ে তোলা হচ্ছে পাখিদের বিচরণ ক্ষেত্র, কটেজ ও বিনোদন কেন্দ । পর্যটন স্পটের উন্নয়ন কাজ অতি শিঘ্রই সম্পন্ন করা হবে বলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন।
Source: Daily Ittefaq
প্রকল্পের ব্যবস্থাপক হাসান জাহেদ বলেন, ৩১ ফিমেইল কুমির আগামী মে, জুন, জুলাই-এ ডিম ছাড়বে। প্রতিটি কুমির এসময় ৫০/৫৫টি পর্যন্ত ডিম দেবে। তিনি বলেন, মালেশিয়া থেকে আমদানি করা একটি কুমিরের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৩ লাখ টাকা। এক বছর লালন-পালন করার পর একটি কুমির থেকে আয় হবে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। এখামারে আরো ২৫০টি কুমির অবমুক্ত করার পর কুমির চাষ প্রকল্পে পূর্ণতা আসবে। আগামী ১০বছর পরে এ কুমির চাষ প্রকল্প থেকে হাজার-কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। একজন বিদেশী কুমির বিশেষজ্ঞ ও ১৬জন কর্মচারী দিয়ে পরিচালিত এ কুমির চাষ প্রকল্পে একটি মেইল ও একটি ফিমেইল কুমিরকে একত্রে খাঁচাবন্দি করে রাখা হয়েছে।
এ ভাবে ১০জোড়া কুমিরকে খাঁচাবন্দি রাখা হলেও বাকি কুমিরগুলোকে পাহাড়ের পাদদেশে বিকল্প তৈরি উম্মুক্ত জলাশয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে ৩কেজি মাংস একটি কুমিরের খাবার হিসাবে সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। কুমির চাষ প্রকল্পকে ঘিরে ৫একর জায়গার উপর গড়ে তোলা হচ্ছে পাখিদের বিচরণ ক্ষেত্র, কটেজ ও বিনোদন কেন্দ । পর্যটন স্পটের উন্নয়ন কাজ অতি শিঘ্রই সম্পন্ন করা হবে বলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন।
Source: Daily Ittefaq
Monday, November 1, 2010
ভালুকার রেপটাইলস ফার্ম চারশ' কুমির রফতানি করবে
ভালুকার রেপটাইলস ফার্ম চারশ' কুমির রফতানি করবে
০০ ভালুকা সংবাদদাতা
উপজেলার হাতীবেড় গ্রামে অবস্থিত রেপ্টাইলস্ ফার্ম থেকে উৎপাদিত ৪শত কুমির এ বছর ডিসেম্বরে ইউরোপে রপ্তানি হবে। যার মূল্য ৪ লাখ ইউরো গত অর্থবছর কুমির রপ্তানি করে এ ফার্ম ৭৫ হাজার ডলার অর্জন করে। এ বছর কুমির রপ্তানি করে গত অর্থবছরের চেয়ে তিনগুণ বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ফার্মের নির্বাহী পরিচালক মোস্তাক আহম্মেদ। তিনি আরো জানান, ইউরোপীয় দেশগুলোর ক্রেতারা কুমির ক্রয়ের আগ্রহ দেখিয়েছে। কিন্তু কুমির আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে সরকারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় নানাবিধ প্রতিকূলতার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে যথাসময়ে রপ্তানি অনিশ্চিত হয়ে পড়লে কোটি কোটি ডলার আয় থেকে বঞ্চিত হবো আমরা। তবে রপ্তানিক্ষেত্রে সরকারের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা থাকলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে রেপ্টাইলস্ ফার্ম ৪ লাখ ইউরো মূল্যের ৪ শত কুমির ইউরোপে রপ্তানি করতে পারবে।
পদ্মা নদীতে কুমির ধরা পড়েছে
মানিকগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার কবীরপুর এলাকায় পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় জেলেদের জালে ধরা পড়েছে আড়াই ফুট দৈর্ঘ্যের একটি কুমির। ফরেষ্ট বিভাগ জানিয়েছে, কুমিরটি সোমবার কক্সবাজারের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে পাঠানো হচ্ছে।
পদ্মা নদীতে কুমির ধরা পড়েছে
মানিকগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার কবীরপুর এলাকায় পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় জেলেদের জালে ধরা পড়েছে আড়াই ফুট দৈর্ঘ্যের একটি কুমির। ফরেষ্ট বিভাগ জানিয়েছে, কুমিরটি সোমবার কক্সবাজারের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে পাঠানো হচ্ছে।
Source: Daily Ittefaq
Sunday, October 24, 2010
ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন-৪ : ঝড় সতর্কীকরণ সরল যন্ত্র
ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন-৪ : ঝড় সতর্কীকরণ সরল যন্ত্র
এমরানা আহমেদ
ঝড় বা ঘূর্ণিঝড় আসার আগেই বায়ুর গতি, চাপ ও দিক নির্ণয় করা যাবে ঝড় সতর্কীকরণ সরল যন্ত্রগুলোর সাহায্যে। এগুলোর কিছু কিছু প্রধান যন্ত্র অতি সহজেই ঘরে তৈরি করে বৈরী আবহাওয়া সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা পাবেন সমুদ্রতীরবর্তী ঝড়প্রবণ এলাকার মানুষ। নিতে পারবেন সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
এই প্রকল্পটির ক্ষুদে দুই উদ্ভাবক খন্দকার মাসুক ইবনে মাহফুজ এবং ইরতেজা ইনাম কবির জানান, তিনটি যন্ত্রের সাহায্যে এই প্রকল্পটি কাজ করে থাকে। প্রথমটি হচ্ছে ‘অ্যানিমোমিটার’ বা বায়ুর বেগ মাপক যন্ত্র। এর দ্বারা বায়ুর গতি বাড়ছে না কমছে তা নির্ণয় করা যাবে। দ্বিতীয় যন্ত্রটি ছিল ‘সরল ব্যারোমিটার’। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র। এর দ্বারা বায়ুর চাপ কমছে না বাড়ছে তা নির্ণয় করা যায়। বায়ুর চাপ কমলে বোঝা যাবে যে আবহাওয়া খারাপ হতে পারে। ঝড় বা বৃষ্টির সম্ভাবনা কম না বেশি তা বোঝা যায়। তৃতীয় যন্ত্রটি ছিল ‘উইন্ড ভেন বা বাত পতাকা’ যা বায়ুর দিক নির্দেশ করে। এ থেকে বোঝা যাবে ঝড় কোনদিকে প্রবাহিত হচ্ছে। তারা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আবহাওয়া অধিদফতরের ঝড় সতর্কীকরণ যন্ত্রের মাধ্যম সম্পর্কে জনসাধারণকে সতর্ক করতে বেশ সময় লেগে যায়। ঝড়ের কবলে পড়ে ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়। সম্পদসহ ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। অতি দ্রুত প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে তাদের এই প্রকল্পটি অতি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন এই দুই ক্ষুদে উদ্ভাবক।তাদের প্রকল্পের উদ্দেশ্য সম্পর্কে খন্দকার মাসুক ইবনে মাহফুজ ও ইরতেজা ইনান কবির বলেন, বিশেষ করে এই প্রকল্পটি উপকূলীয় জনবসতিতে ভালো কাজ দেবে। ঝড় সম্পর্কে জনসাধারণকে সতর্ক করা যাবে। তারা আরও বলেন, এতে জনসাধারণ নিজেরাই সতর্ক হতে পারবেন। সিডর ও আইলার মতো ঝূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে বিশাল মৃত্যু আর আমাদের দেখতে হবে না।
এই প্রকল্পটির ক্ষুদে দুই উদ্ভাবক খন্দকার মাসুক ইবনে মাহফুজ এবং ইরতেজা ইনাম কবির জানান, তিনটি যন্ত্রের সাহায্যে এই প্রকল্পটি কাজ করে থাকে। প্রথমটি হচ্ছে ‘অ্যানিমোমিটার’ বা বায়ুর বেগ মাপক যন্ত্র। এর দ্বারা বায়ুর গতি বাড়ছে না কমছে তা নির্ণয় করা যাবে। দ্বিতীয় যন্ত্রটি ছিল ‘সরল ব্যারোমিটার’। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র। এর দ্বারা বায়ুর চাপ কমছে না বাড়ছে তা নির্ণয় করা যায়। বায়ুর চাপ কমলে বোঝা যাবে যে আবহাওয়া খারাপ হতে পারে। ঝড় বা বৃষ্টির সম্ভাবনা কম না বেশি তা বোঝা যায়। তৃতীয় যন্ত্রটি ছিল ‘উইন্ড ভেন বা বাত পতাকা’ যা বায়ুর দিক নির্দেশ করে। এ থেকে বোঝা যাবে ঝড় কোনদিকে প্রবাহিত হচ্ছে। তারা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আবহাওয়া অধিদফতরের ঝড় সতর্কীকরণ যন্ত্রের মাধ্যম সম্পর্কে জনসাধারণকে সতর্ক করতে বেশ সময় লেগে যায়। ঝড়ের কবলে পড়ে ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়। সম্পদসহ ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। অতি দ্রুত প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে তাদের এই প্রকল্পটি অতি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন এই দুই ক্ষুদে উদ্ভাবক।তাদের প্রকল্পের উদ্দেশ্য সম্পর্কে খন্দকার মাসুক ইবনে মাহফুজ ও ইরতেজা ইনান কবির বলেন, বিশেষ করে এই প্রকল্পটি উপকূলীয় জনবসতিতে ভালো কাজ দেবে। ঝড় সম্পর্কে জনসাধারণকে সতর্ক করা যাবে। তারা আরও বলেন, এতে জনসাধারণ নিজেরাই সতর্ক হতে পারবেন। সিডর ও আইলার মতো ঝূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে বিশাল মৃত্যু আর আমাদের দেখতে হবে না।
Friday, October 22, 2010
রাঙ্গুনিয়ায় তৈরি হচ্ছে পাখিশালা
রাঙ্গুনিয়ায় তৈরি হচ্ছে পাখিশালা
- মুহাম্মদ সেলিম, রাঙ্গুনিয়া থেকে ফিরে
- মুহাম্মদ সেলিম, রাঙ্গুনিয়া থেকে ফিরে
চট্টগ্রামে রাঙ্গুনিয়ায় নির্মিত হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম পাখিশালা 'শেখ রাসেল এভিয়ারি অ্যান্ড ইকো-পার্ক'। এ পাখিশালায় বিলুপ্ত হতে যাওয়া পাখি ও বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ সংরক্ষণ করা হবে।
কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরপাখির জগৎ সম্পর্কে ধারণা দিতে গড়ে তোলা হচ্ছে এই ইকো-পার্ক। প্রাণিজগৎ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের গবেষণায় সহায়তার পাশাপাশি পর্যটকদের আকর্ষণ করতে এখানে বিভিন্ন ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। গতকাল পার্কটির নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। উদ্বোধনের পর প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, পার্ক তৈরির মাধ্যমে এখানে পরিবেশের উন্নয়ন ঘটানো হবে। বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পার্কটিতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রাখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সভাপতি পাখিবিশেষজ্ঞ মওদুদুল আলম বলেন, এখানে বিলুপ্ত হওয়া বিভিন্ন পাখি ও বৃক্ষ সংরক্ষণ করা হবে। দক্ষিণ এশিয়ায় কোনো দেশে এভিয়ারি অ্যান্ড ইকো-পার্ক নেই। এশিয়ায় শুধু মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে এ পার্ক রয়েছে। এশিয়ার তৃতীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এভিয়ারি পার্ক প্রতিষ্ঠা করছে। এ ধরনের পার্কে সাধারণত বিলুপ্ত হওয়া পাখি সংরক্ষণ করা হয়। সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, রাঙ্গুনিয়ার পাহাড় ও সমতলের ২১০ হেক্টর এলাকা জুড়ে পার্কটি গড়ে উঠছে। এটি তৈরিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ কোটি টাকা। এখানে বাবুই, হলদে পাখি, ইগল, শকুন, বুলবুলি, দোয়েল, শ্যামা, শালিক, ভিংবাজ, পেঁচা, টুনটুনি, টিয়া, ঘুঘু, মাছরাঙা, সাদা বকের মতো বিলুপ্তপ্রায় পাখিগুলো সংরক্ষণ করা হবে। প্রকল্প এলাকায় ভেষজ ও অন্যান্য বিলুপ্তপ্রায় ৭১ হাজার ৫০০ গাছ লাগানো হচ্ছে। এ ছাড়া রোপণ করা হচ্ছে ৩০ হাজার সৌন্দর্যবর্ধক গাছ। পাশাপাশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে থাকছে রেস্টহাউস, ঝুলন্ত সেতু, আধুনিক রেস্তোরাঁ, লেক, হেলানো বেঞ্চ, আরসিসি স্টিল ছাতা, ওয়াচ টাওয়ার এবং শিশুদের জন্য দোলনা ও স্লিপার। এ ছাড়া প্রকল্প এলাকায় থাকছে শেখ রাসেলের ম্যুরাল, হরিণ বিচরণক্ষেত্র ও কুমির প্রজননক্ষেত্র। এ বিষয়ে প্রকল্প কর্মকর্তা এস এম গোলাম মওলা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ পাহাড় ও বনজঙ্গল ধ্বংস করার ফলে পাখির অনেক প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। শেখ রাসেল এভিয়ারি অ্যান্ড ইকো-পার্কে বিলুপ্ত হওয়া বিভিন্ন প্রজাতির পাখি সংরক্ষণ করা হবে।
Source: Daily Bangladesh-Pratidin, 8th August
Source: Daily Bangladesh-Pratidin, 8th August
আধুনিক পদ্ধতিতে অগ্নিনির্বাপণ : রুহুল আমিনের আবিষ্কার সাড়া ফেলেছে বিশ্বময়
আধুনিক পদ্ধতিতে অগ্নিনির্বাপণ : রুহুল আমিনের আবিষ্কার সাড়া ফেলেছে বিশ্বময়
ডালিম হোসেন
গ্রীষ্ম এলেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি, বহুতল ভবন, শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ বাসাবাড়িতে ঘটে থাকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। আগুনে মারা যাচ্ছে বহু মানুষ। কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। আমাদের দেশে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। দেখা গেছে, দূরে কোথাও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায়। বাংলাদেশে প্রতি বছর আগুনে পুড়ে কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে গার্মেন্ট ব্যবসায়ী সংগঠন বিজিএমইএ’র দাবি।
বাংলাদেশের এ ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সুদূর মালয়েশিয়ায় বসে চুয়াডাঙ্গার বেগমপুর গ্রামের রুহুল আমিন তৈরি করেছেন অটোমেটিক অগ্নিনির্বাপণ সিস্টেম। রুহুল আমিনের দাবি, তার এ সিস্টেম ব্যবহার করে মালয়েশিয়ার বড় বড় ৮টি কোম্পানি সফলতা পেয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদরের বেগমপুর গ্রামের আবুল ফজলের ছেলে দেশে চাকরি না পেয়ে ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে প্রায় ১৮ বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে প্রথমে একটি কোম্পানিতে চাকরির পাশাপাশি মেকানিক্যাল ডিপ্লোমা কোর্স করেন। এরপর ’৯৩ সালে মালয়েশিয়ার ওয়াইটেল নামে বিখ্যাত একটি কোম্পানিতে প্রজেক্ট ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে যোগ দেন। সেখানেই তিনি ১৫ বছরের গবেষণা শেষে তৈরি করেন আগুন নেভানো এ স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম ব্যবস্থা।
সম্প্রতি রুহুল আমিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, মূলত দেশের ক্ষয়ক্ষতির কথা চিন্তা করেই আমার এই স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপণ সিস্টেম তৈরি করা। মালয়েশিয়ার ৮টি কোম্পানির মধ্যে একটি কোম্পানিতে আগুন লাগলেও তার এ প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে সেই কোম্পানিতে মাত্র ৭ শতাংশ ক্ষতি হয় বলে দাবি করেন রুহুল আমিন। এখন ইচ্ছে তার সফল প্রযুক্তি বাংলাদেশে ব্যবহার হোক।
সমপ্রতি মালয়েশিয়া থেকে মাত্র ৩৩ দিনের ছুটিতে দেশে এসেছেন তিনি। এরই মধ্যে তিনি তার অবিষ্কার দেশে কাজে লাগানোর জন্য বাংলাদেশ বিজিএমইএ ও বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাঈমুল হক আসাদুল্লাহর সঙ্গে দেখা করেছেন। ৮ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এ সংক্রান্ত একটি বৈঠকেও তিনি যোগ দেন। আলোচনাকালে কর্তৃপক্ষ তার অবিষ্কার কাজে লাগানোর আশ্বাস দিয়েছেন বলে তিনি জানান।
রুহুল আমিন বলেন, আমাদের দেশে আধুনিক প্রযুক্তির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে থাকে। এসব ক্ষতির হাত থেকে রেহায় পেতে আধুনিক এ আবিষ্কার ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। স্থাপনাগুলোর বিভিন্ন পয়েন্টে অটোমেটিক এ অগ্নিনির্বাপণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হলে অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে সঙ্গে খুব অল্পসময়ের মধ্যে বাল্ব ফেটে দ্রুতগতিতে পানি বের হয়ে আগুন নিন্ত্রয়ণে আনতে সহায়ক হবে। প্রয়োজন হবে না কোনো ব্যক্তির সহযোগিতা। ফলে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে বড় ধরনের ক্ষতক্ষতি থেকে রেহায় পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশের এ ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সুদূর মালয়েশিয়ায় বসে চুয়াডাঙ্গার বেগমপুর গ্রামের রুহুল আমিন তৈরি করেছেন অটোমেটিক অগ্নিনির্বাপণ সিস্টেম। রুহুল আমিনের দাবি, তার এ সিস্টেম ব্যবহার করে মালয়েশিয়ার বড় বড় ৮টি কোম্পানি সফলতা পেয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদরের বেগমপুর গ্রামের আবুল ফজলের ছেলে দেশে চাকরি না পেয়ে ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে প্রায় ১৮ বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে প্রথমে একটি কোম্পানিতে চাকরির পাশাপাশি মেকানিক্যাল ডিপ্লোমা কোর্স করেন। এরপর ’৯৩ সালে মালয়েশিয়ার ওয়াইটেল নামে বিখ্যাত একটি কোম্পানিতে প্রজেক্ট ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে যোগ দেন। সেখানেই তিনি ১৫ বছরের গবেষণা শেষে তৈরি করেন আগুন নেভানো এ স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম ব্যবস্থা।
সম্প্রতি রুহুল আমিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, মূলত দেশের ক্ষয়ক্ষতির কথা চিন্তা করেই আমার এই স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপণ সিস্টেম তৈরি করা। মালয়েশিয়ার ৮টি কোম্পানির মধ্যে একটি কোম্পানিতে আগুন লাগলেও তার এ প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে সেই কোম্পানিতে মাত্র ৭ শতাংশ ক্ষতি হয় বলে দাবি করেন রুহুল আমিন। এখন ইচ্ছে তার সফল প্রযুক্তি বাংলাদেশে ব্যবহার হোক।
সমপ্রতি মালয়েশিয়া থেকে মাত্র ৩৩ দিনের ছুটিতে দেশে এসেছেন তিনি। এরই মধ্যে তিনি তার অবিষ্কার দেশে কাজে লাগানোর জন্য বাংলাদেশ বিজিএমইএ ও বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাঈমুল হক আসাদুল্লাহর সঙ্গে দেখা করেছেন। ৮ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এ সংক্রান্ত একটি বৈঠকেও তিনি যোগ দেন। আলোচনাকালে কর্তৃপক্ষ তার অবিষ্কার কাজে লাগানোর আশ্বাস দিয়েছেন বলে তিনি জানান।
রুহুল আমিন বলেন, আমাদের দেশে আধুনিক প্রযুক্তির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে থাকে। এসব ক্ষতির হাত থেকে রেহায় পেতে আধুনিক এ আবিষ্কার ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। স্থাপনাগুলোর বিভিন্ন পয়েন্টে অটোমেটিক এ অগ্নিনির্বাপণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হলে অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে সঙ্গে খুব অল্পসময়ের মধ্যে বাল্ব ফেটে দ্রুতগতিতে পানি বের হয়ে আগুন নিন্ত্রয়ণে আনতে সহায়ক হবে। প্রয়োজন হবে না কোনো ব্যক্তির সহযোগিতা। ফলে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে বড় ধরনের ক্ষতক্ষতি থেকে রেহায় পাওয়া যাবে।
Thursday, October 21, 2010
খুবিতে রোবট উদ্ভাবনে বিস্ময় সৃষ্টিকারী মুক্তা
খুবিতে রোবট উদ্ভাবনে বিস্ময় সৃষ্টিকারী মুক্তা
সোহেল রানা বীর
সভ্যতার বিকাশের সেই শুরু থেকেই নারীরা পুরুষের সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে। জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিত্সাসহ সব ক্ষেত্রে নারীদের ভূমিকা পুরুষের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। এটা আবারও প্রমাণিত হলো খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমপ্রতি উদ্ভাবিত রোবটে নারীর বিস্ময়কর অবদানের মাধ্যমে। এ ধরনের উদ্ভাবনে প্রথমবারের মতো ভূমিকা রেখে সত্যিই এক বিস্ময় সৃষ্টি করলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষকা শামীমা ইয়াসমিন মুক্তা।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো একদল তরুণ প্রকৌশলী উদ্ভাবন করলেন মানুষের বিভিন্ন কাজ বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক কাজ করতে সক্ষম এমন এক ‘রোবটিক আর্ম’, যা মানুষের হাতের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে সক্ষম। রোবটিক আর্ম উদ্ভাবনের পেছনে রয়েছে ৫ জন পুরুষ আর একজন নারী। রোবট উদ্ভাবনে তত্ত্বাবধায়নের মতো এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন একমাত্র নারী শামীমা ইয়াসমিন মুক্তা। এই উদ্ভাবনের দুজন তত্ত্বাবধায়ক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) ডিসিপ্লিনের প্রভাষক এস কে আলমগীর হোসেন ও প্রভাষক কাজী মাসুদুল আলম ৬ মাস পর উচ্চতর ডিগ্রির জন্য কানাডায় চলে গেলে নবীন এই শিক্ষিকা রোবট উদ্ভাবনের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে অপর তত্ত্বাবধায়ক একই ডিসিপ্লিনের প্রভাষক মো. মাসুদুর রহমানের সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শামীমা ইয়াসমিন মুক্তা খুলনা সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শেষ করার পর ২০০৪ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হন। এখান থেকে ৪ বছর মেয়াদি স্নাতক কোর্স শেষ করে ২০০৯ সালের ৩ নভেম্বর একই ডিসিপ্লিনে নবীন শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি এ ডিসিপ্লিনে লেকচারার হিসেবে পাঠদান করছেন।
রোবট আবিষ্কারের মতো এ উদ্ভাবনে নিজে জড়িত থাকার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে উদ্ভাবনের একমাত্র নারী শামীমা ইয়াসমিন মুক্তা বলেন, ‘আমার খুবই ভালো লাগছে যে নারী হয়েও এ ধরনের বিরল উদ্ভাবনে পুরুষের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে পেরেছি। তাছাড়া আমরা সব সময়ই নতুন কিছু করার চেষ্টা করে থাকি। বাংলাদেশে সফটওয়ারের কাজ হলেও হার্ডওয়ারের কাজ খুব একটা হয় না। সফটওয়ারের পাশাপাশি হার্ডওয়ারের কাজেও বিশেষ ভূমিকা রাখতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ উদ্ভাবনকে কাজে লাগিয়ে আমাদের দেশেও উন্নতমানের রোবট আবিষ্কার সম্ভব। শুধু প্রয়োজন পৃষ্ঠপোষকতা।’
এ ধরনের উদ্ভাবন তথ্য-প্রযুক্তির উন্নয়নে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশকে আরও একধাপ সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করেন সবাই। সেই সঙ্গে সভ্যতার উন্নয়নে রোবটের মতো যেকোনো বড় ধরনের উদ্ভাবনে নারীরা সব সময় পুরুষের সহযোগী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা করতে সক্ষম হবে বলে বিশ্বাস করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে রোবট উদ্ভাবনে ভূমিকা রাখা একমাত্র নারী শামীমা ইয়াসমিন মুক্তা। আমাদের দেশের সমাজব্যবস্থায় মুক্তার মতো দীপ্ত উদ্ভাবনে নারীদের রোল মডেলও হতে পারেন তিনি—এ প্রত্যাশা আজ কোটি কোটি বাঙালি নারীর।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো একদল তরুণ প্রকৌশলী উদ্ভাবন করলেন মানুষের বিভিন্ন কাজ বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক কাজ করতে সক্ষম এমন এক ‘রোবটিক আর্ম’, যা মানুষের হাতের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে সক্ষম। রোবটিক আর্ম উদ্ভাবনের পেছনে রয়েছে ৫ জন পুরুষ আর একজন নারী। রোবট উদ্ভাবনে তত্ত্বাবধায়নের মতো এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন একমাত্র নারী শামীমা ইয়াসমিন মুক্তা। এই উদ্ভাবনের দুজন তত্ত্বাবধায়ক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) ডিসিপ্লিনের প্রভাষক এস কে আলমগীর হোসেন ও প্রভাষক কাজী মাসুদুল আলম ৬ মাস পর উচ্চতর ডিগ্রির জন্য কানাডায় চলে গেলে নবীন এই শিক্ষিকা রোবট উদ্ভাবনের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে অপর তত্ত্বাবধায়ক একই ডিসিপ্লিনের প্রভাষক মো. মাসুদুর রহমানের সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শামীমা ইয়াসমিন মুক্তা খুলনা সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শেষ করার পর ২০০৪ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হন। এখান থেকে ৪ বছর মেয়াদি স্নাতক কোর্স শেষ করে ২০০৯ সালের ৩ নভেম্বর একই ডিসিপ্লিনে নবীন শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি এ ডিসিপ্লিনে লেকচারার হিসেবে পাঠদান করছেন।
রোবট আবিষ্কারের মতো এ উদ্ভাবনে নিজে জড়িত থাকার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে উদ্ভাবনের একমাত্র নারী শামীমা ইয়াসমিন মুক্তা বলেন, ‘আমার খুবই ভালো লাগছে যে নারী হয়েও এ ধরনের বিরল উদ্ভাবনে পুরুষের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে পেরেছি। তাছাড়া আমরা সব সময়ই নতুন কিছু করার চেষ্টা করে থাকি। বাংলাদেশে সফটওয়ারের কাজ হলেও হার্ডওয়ারের কাজ খুব একটা হয় না। সফটওয়ারের পাশাপাশি হার্ডওয়ারের কাজেও বিশেষ ভূমিকা রাখতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ উদ্ভাবনকে কাজে লাগিয়ে আমাদের দেশেও উন্নতমানের রোবট আবিষ্কার সম্ভব। শুধু প্রয়োজন পৃষ্ঠপোষকতা।’
এ ধরনের উদ্ভাবন তথ্য-প্রযুক্তির উন্নয়নে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশকে আরও একধাপ সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করেন সবাই। সেই সঙ্গে সভ্যতার উন্নয়নে রোবটের মতো যেকোনো বড় ধরনের উদ্ভাবনে নারীরা সব সময় পুরুষের সহযোগী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা করতে সক্ষম হবে বলে বিশ্বাস করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে রোবট উদ্ভাবনে ভূমিকা রাখা একমাত্র নারী শামীমা ইয়াসমিন মুক্তা। আমাদের দেশের সমাজব্যবস্থায় মুক্তার মতো দীপ্ত উদ্ভাবনে নারীদের রোল মডেলও হতে পারেন তিনি—এ প্রত্যাশা আজ কোটি কোটি বাঙালি নারীর।
Wednesday, October 20, 2010
কেম্ব্রিজের অসামান্য গবেষণা সাফল্য
কেম্ব্রিজের অসামান্য গবেষণা সাফল্য
আফতাব হোসেন
সূত্র ঃ দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্ট, যুক্তরাজ্য
[ লেখক : সাংবাদিক ]
গবেষণায় অত্যন্ত নাটকীয় এক অগ্রগতির ফলে এই পৃথিবীর লাখো কোটি মানুষের জীবন বদলে যেতে পারে। কেম্ব্রিজ গবেষণাগারের গবেষণায় প্রথমবারের মতো বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে, দেহে যে স্বাভাবিক অনাক্রম্যতা শক্তি বা দেহে প্রবিষ্ট জীবাণু বা দুশমনের বিরুদ্ধে যে প্রতিরক্ষা দলটি রয়েছে তা ভাইরাসজনিত সাধারণ ঠাণ্ডা লাগা বা সর্দিজ্বর প্রতিরোধ করতে পারে। এ পরীক্ষায় প্রমাণিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো ঠাণ্ডা বা সর্দিজ্বরের ভাইরাস মানুষের দেহকোষের একান্ত ভেতরের স্তরে পেঁৗছে যাবার পরও দেহের অনাক্রম্যতা ব্যবস্থা তা প্রতিরোধ করতে পারে। বিষয়টি অদ্যাবধি অসম্ভব মনে করা হতো।
ব্রিটিশ পত্রিকা দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর বিজ্ঞান সম্পাদক স্টিভ কনর বলছেন, ঘন লাল রঙের ভাইরাস দেহে অনুপ্রবেশ করার পর আমাদের দেহের রক্তপ্রবাহে প্রবাহিত হয়ে থাকে। আর সেই রক্তে থাকে অ্যান্টিবডি উৎপাদক অ্যান্টিবডি ( হলুদ বর্ণের)। অ্যান্টিবডি ভাইরাস শনাক্ত করতে পারে।
কেম্ব্রিজ গবেষণাগারের আবিষ্কার নতুন নতুন ভাইরাসবিধ্বংসী ওষুধ তৈরির দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছে যা মানুষের দেহকোষের ভাইরাস ধ্বংসের স্বাভাবিক ব্যবস্থাকে আরো অনেক বেশি শক্তিশালী করে তুলতে পারে। বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন, আগামী দুই থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে এই গবেষণালব্ধ ফলের ভিত্তিতে নতুন নতুন ওষুধের প্রথম ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়ে যাবে।
গবেষকরা বলছেন, আরো অনেক ধরনের রোগব্যাধির ভাইরাসের বিরুদ্ধেও এ পদ্ধতিতে প্রতিকার পাওয়া যেতে পারে। নন-ভাইরাস রোগ বা রোটাভাইরাস সংক্রমণজনিত উদরাময়ও এসব রোগের অন্তভর্ুক্ত থাকতে পারে। রোটাভাইরাস ডায়রিয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলোতে হাজার হাজার শিশু প্রাণ হারায়।
তথ্য হলো, ভাইরাস এখনও সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী রোগ। ক্যান্সারে পৃথিবীতে যতো বেশি লোক প্রাণ হারায় তার দ্বিগুণ লোক মারা যায় এই ভাইরাসে। এর মূল কারণ হলো ভাইরাস দেহে সংক্রমণের পর গভীরে গিয়ে লুকিয়ে পড়ে। আর তখন দেহের যে অনাক্রম্যতা শক্তি রযেছে তা সেখানে গিয়ে কাজ করতে পারে না। কাজ করতে পারে না এমনকি অনেক শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক অথচ এসব অ্যান্টিবায়োটিক জীবাণুর বিরুদ্ধে খুবই ভালো কাজ করতে পারে।
কেম্ব্রিজের বিশ্বখ্যাত আণব জীববিদ্যা গবেষণাগারে একটি সমীক্ষাদল কার্যত প্রমাণ করেছেন যে, মানব দেহের অনাক্রম্যতা ক্ষমতা যে একটা সীমা পর্যন্ত কাজ করতে পারে বলে পাঠ্যপুস্তকে যে কথা বলা হয়েছে তা ঠিক নয়। কারণ ভাইরাসধ্বংসকারী অ্যান্টিবডি আসলে ভাইরাস দেহের কোষে প্রবেশ করে তার সাথে ঐ অ্যান্টিভাইরাস অ্যান্টিবডিও ঢুকতে পারে। আর অনুপ্রবেশকারী বিজাতীয় ভাইরাসকেও ধ্বংস করার জন্য দ্রুত সক্রিয় হতে পারে। '' রোগ অনাক্রম্যতা সম্পর্কিত বিজ্ঞানের যে কোনো পাঠ্যবই থেকে জানা যায় যে, একবার কোনো ভাইরাস দেহকোষে ঢুকে যেতে পারলে সব খেলা শেষ তখন আর কিছুই করার থাকে না কেননা কোষটি আক্রান্ত হয়ে যায়। তখন দেহের মাঝে রোগ অনাক্রম্যতার যে স্বাভাবিক ক্ষমতাটি থাকে তা কেবল কোষটিকে ধ্বংস করে দিতে পারে। ভাইরাসজনিত রোগটি নিরাময় করতে পারে না। একথা বলছেন কেম্ব্রিজ গবেষণা টিম প্রধান লিও জেমস।
তবে মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলের গবেষণাগারের সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেহের অনাক্রম্যতা ব্যবস্থায় যে অ্যান্টিবডি উৎপাদিত হয় তা হামলাকারী ভাইরাসকে শনাক্ত করে তার বিরুদ্ধে আক্রমণ চালায়। আসলে এ প্রক্রিয়ায় অ্যান্টিবডি বহিরাগত ঐ ভাইরাসের ঘাড়ে চড়েই দেহকোষে প্রবেশ করে। আর একবার কোষে ঢুকতে পারলেই দেহকোষে ট্রিম২১ নামে যে স্বাভাবিক প্রোটিন থাকে তা অ্যান্টিবডিকে শনাক্ত করলে ওটা শক্তিশালী ভাইরাস ধ্বংসকারী মেশিন বা যন্ত্রে রূপান্তরিত হয় আর মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যে ঐ ভাইরাসকে সেল বা দেহকোষটিকে ছিনতাই করে সেটিকে তার নিজস্ব প্রোটিনে রূপান্তরিত করার ক্ষমতা অর্জনের আগেই খতম করে দেয়। '' এটা দেহকোষের জন্য সংক্রমিত হওয়ার পর তা থেকে অব্যাহতি লাভের শেষ সুযোগ নইলে কোষটির ধ্বংস হওয়া ছাড়া গতি থাকে না বলেছেন ডঃ জেমস।
সেলের তথা দেহকোষের ভেতরে যখন ভাইরাসটি ঢুকে যায় তার সাথে অ্যান্টিবডিও আঠার মতো লেগে থাকে - কোনো মতেই অ্যান্টিবডিকে ভাইরাস ঝেড়ে ফেলতে পারে না। আর সেজন্যই অ্যান্টিবডির সাথে যা লেগে থাকে অর্থাৎ ভাইরাসটি লেগে থাকলে তা বিজাতীয় হিসেবে শনাক্ত হবার পর ভেঙে গিয়ে ধ্বংস হয়ে যায়। এ হলো সবচেয়ে বড়ো সুবিধা।
এ যাবৎ ভাবা হতো যে দেহের অনাক্রম্যতা ব্যবস্থায় অ্যান্টিবডি যে কাজই করুক তা করে রক্ত কিংবা অন্য ধরনের সেলরস ইত্যাদিতে থাকা দেহকোষের একান্ত বাইরে। এখন বিজ্ঞানীরা বুঝতে পেরেছেন যে দেহকোষের মধ্যে আরো একটি ভেতরের অনাক্রম্যতা স্তর আছে যার ভাইরাসবিধ্বংসী ব্যবস্থাকে আরো অনেক বেশি শক্তিশালী করে তোলা যায়। এখানে একটি অতি চমৎকার বিষয় হলো প্রতিটি সংক্রমণের বেলায় যখনই কোনো ভাইরাস দেহকোষে প্রবেশ করে তখনই অ্যান্টিবড়ির জন্য সুযোগ তৈরি হয় ওটাকে বহিষ্কার করার। আর এটাই হলো দেহের অনাক্রম্যতা শক্তি সম্পর্কে এতোকালের যে ধারণা তার মোৗলিক পার্থক্য। ঠিক এ মুহূর্তে আমরা জানি টি সেল (রক্তের শ্বেতকণিকা) পেশাদার দেহরক্ষাকারী হিসেবে সংক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করে এবং সেরকম কোনো কিছু ধরা পড়লে সেটাকে ধ্বংস করে।
ডঃ জেমস বলছেন, এ ব্যবস্থাটা অনেকটা অতর্কিতে আক্রমণ পরিচালনার মতো। যতোবারই ভাইরাস কোষে প্রবেশ করতে চায় ততোবারই অনাক্রম্যতা ব্যবস্থার সুযোগ থাকে ঐ ভাইরাসকে বের করে দেয়ার। প্রক্রিয়াটি খুবই দ্রুত। আমরা প্রমাণ পেয়েছি যে, সেলে ভাইরাস ঢোকার ২-১ ঘণ্টার মধ্যেই সেটাকে অকার্যকর করে দেয় অ্যান্টিভাইরাস।
এ সমীক্ষার বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সের জার্নালে। গবেষণাগারে মানুষের যে দেহকোষ কালচার করে তৈরি করা হয়েছে সেটাকে প্রাণীর দেহে প্রয়োগ করে সংখ্যাবৃদ্ধি করতে হবে যাতে তার প্রথম ক্লিনিক্যাল টেস্টটি মানুষের দেহে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
এর এক সম্ভাবনা হলো এই যে, সর্দিঠাণ্ডা ডেকে আনে এমন অনেক জাতের ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রোটিন ট্রিম২১কে নাকের স্প্রে হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। রাইনোভাইরাসের মতো ভাইরাসগুণো সাধারণত নোরাভাইরাস সংক্রমণের কারণ যা থেকে শীতকালে সাধারণত বমির মতো রোটাভাইরাস সংক্রমণ ঘটে। এ থেকে আবার গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস বা পাকস্থলী প্রদাহের সৃষ্টি হয়।
ডঃ জেমস জানান, এভাবে দেহের সকল অ্যান্টিবডিকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে আরো সক্রিয়, আরো শক্তিশালী করে তোলা যায়। তাতে সুবিধে হবে এই যে, এটাকে বহু ভাইরাস সংক্রমণের বেলায়ও ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, আমরা এভাবে যেসব ওষুধ তৈরি করবো সেগুলো নাকের স্প্রে বা ইনহেলার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে, পিল হিসেবে সেবনের দরকার হবে না। আর এ দিয়ে ঠাণ্ডা-সর্দির চমৎকার চিকিৎসা করা যাবে। এটার সুবিধে আগেই বলা হয়েছে, সংক্রমিত ভাইরাস তার নিজের প্রোটিন তৈরি করে পাল্টা লড়ার সুযোগ পাবে না বা বেঁচে থাকতেও পারবে না।
এ গবেষণাগারের আরেক বিজ্ঞানী স্যার গ্রেগ উইন্টার বলেছেন, অ্যান্টিবডিগুলো আসলে দারুণ ক্ষমতাধর আণব সমরযন্ত্র বিশেষ। এখন দেখা যায়, তারা কোষের ভেতরে গিয়েও ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে পারে। কাজেই আজকে গবেষণা যে পর্যায়ে উপস্থিত হয়েছে সেটা থেকে শুধু এটাই জানা যায়নি অ্যাটিভাইরাস কেমন করে কোথায় কাজ করে বরং তার চেয়েও আমাদের বড়ো লাভ হয়েছে অনাক্রম্যতা ও সংক্রমণ সম্পর্কে আমরা যে জ্ঞান নিয়েছিলাম তাতে রীতিমতো একটা বিপস্নব এসেছে।
ব্রিটিশ পত্রিকা দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর বিজ্ঞান সম্পাদক স্টিভ কনর বলছেন, ঘন লাল রঙের ভাইরাস দেহে অনুপ্রবেশ করার পর আমাদের দেহের রক্তপ্রবাহে প্রবাহিত হয়ে থাকে। আর সেই রক্তে থাকে অ্যান্টিবডি উৎপাদক অ্যান্টিবডি ( হলুদ বর্ণের)। অ্যান্টিবডি ভাইরাস শনাক্ত করতে পারে।
কেম্ব্রিজ গবেষণাগারের আবিষ্কার নতুন নতুন ভাইরাসবিধ্বংসী ওষুধ তৈরির দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছে যা মানুষের দেহকোষের ভাইরাস ধ্বংসের স্বাভাবিক ব্যবস্থাকে আরো অনেক বেশি শক্তিশালী করে তুলতে পারে। বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন, আগামী দুই থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে এই গবেষণালব্ধ ফলের ভিত্তিতে নতুন নতুন ওষুধের প্রথম ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়ে যাবে।
গবেষকরা বলছেন, আরো অনেক ধরনের রোগব্যাধির ভাইরাসের বিরুদ্ধেও এ পদ্ধতিতে প্রতিকার পাওয়া যেতে পারে। নন-ভাইরাস রোগ বা রোটাভাইরাস সংক্রমণজনিত উদরাময়ও এসব রোগের অন্তভর্ুক্ত থাকতে পারে। রোটাভাইরাস ডায়রিয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলোতে হাজার হাজার শিশু প্রাণ হারায়।
তথ্য হলো, ভাইরাস এখনও সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী রোগ। ক্যান্সারে পৃথিবীতে যতো বেশি লোক প্রাণ হারায় তার দ্বিগুণ লোক মারা যায় এই ভাইরাসে। এর মূল কারণ হলো ভাইরাস দেহে সংক্রমণের পর গভীরে গিয়ে লুকিয়ে পড়ে। আর তখন দেহের যে অনাক্রম্যতা শক্তি রযেছে তা সেখানে গিয়ে কাজ করতে পারে না। কাজ করতে পারে না এমনকি অনেক শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক অথচ এসব অ্যান্টিবায়োটিক জীবাণুর বিরুদ্ধে খুবই ভালো কাজ করতে পারে।
কেম্ব্রিজের বিশ্বখ্যাত আণব জীববিদ্যা গবেষণাগারে একটি সমীক্ষাদল কার্যত প্রমাণ করেছেন যে, মানব দেহের অনাক্রম্যতা ক্ষমতা যে একটা সীমা পর্যন্ত কাজ করতে পারে বলে পাঠ্যপুস্তকে যে কথা বলা হয়েছে তা ঠিক নয়। কারণ ভাইরাসধ্বংসকারী অ্যান্টিবডি আসলে ভাইরাস দেহের কোষে প্রবেশ করে তার সাথে ঐ অ্যান্টিভাইরাস অ্যান্টিবডিও ঢুকতে পারে। আর অনুপ্রবেশকারী বিজাতীয় ভাইরাসকেও ধ্বংস করার জন্য দ্রুত সক্রিয় হতে পারে। '' রোগ অনাক্রম্যতা সম্পর্কিত বিজ্ঞানের যে কোনো পাঠ্যবই থেকে জানা যায় যে, একবার কোনো ভাইরাস দেহকোষে ঢুকে যেতে পারলে সব খেলা শেষ তখন আর কিছুই করার থাকে না কেননা কোষটি আক্রান্ত হয়ে যায়। তখন দেহের মাঝে রোগ অনাক্রম্যতার যে স্বাভাবিক ক্ষমতাটি থাকে তা কেবল কোষটিকে ধ্বংস করে দিতে পারে। ভাইরাসজনিত রোগটি নিরাময় করতে পারে না। একথা বলছেন কেম্ব্রিজ গবেষণা টিম প্রধান লিও জেমস।
তবে মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলের গবেষণাগারের সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেহের অনাক্রম্যতা ব্যবস্থায় যে অ্যান্টিবডি উৎপাদিত হয় তা হামলাকারী ভাইরাসকে শনাক্ত করে তার বিরুদ্ধে আক্রমণ চালায়। আসলে এ প্রক্রিয়ায় অ্যান্টিবডি বহিরাগত ঐ ভাইরাসের ঘাড়ে চড়েই দেহকোষে প্রবেশ করে। আর একবার কোষে ঢুকতে পারলেই দেহকোষে ট্রিম২১ নামে যে স্বাভাবিক প্রোটিন থাকে তা অ্যান্টিবডিকে শনাক্ত করলে ওটা শক্তিশালী ভাইরাস ধ্বংসকারী মেশিন বা যন্ত্রে রূপান্তরিত হয় আর মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যে ঐ ভাইরাসকে সেল বা দেহকোষটিকে ছিনতাই করে সেটিকে তার নিজস্ব প্রোটিনে রূপান্তরিত করার ক্ষমতা অর্জনের আগেই খতম করে দেয়। '' এটা দেহকোষের জন্য সংক্রমিত হওয়ার পর তা থেকে অব্যাহতি লাভের শেষ সুযোগ নইলে কোষটির ধ্বংস হওয়া ছাড়া গতি থাকে না বলেছেন ডঃ জেমস।
সেলের তথা দেহকোষের ভেতরে যখন ভাইরাসটি ঢুকে যায় তার সাথে অ্যান্টিবডিও আঠার মতো লেগে থাকে - কোনো মতেই অ্যান্টিবডিকে ভাইরাস ঝেড়ে ফেলতে পারে না। আর সেজন্যই অ্যান্টিবডির সাথে যা লেগে থাকে অর্থাৎ ভাইরাসটি লেগে থাকলে তা বিজাতীয় হিসেবে শনাক্ত হবার পর ভেঙে গিয়ে ধ্বংস হয়ে যায়। এ হলো সবচেয়ে বড়ো সুবিধা।
এ যাবৎ ভাবা হতো যে দেহের অনাক্রম্যতা ব্যবস্থায় অ্যান্টিবডি যে কাজই করুক তা করে রক্ত কিংবা অন্য ধরনের সেলরস ইত্যাদিতে থাকা দেহকোষের একান্ত বাইরে। এখন বিজ্ঞানীরা বুঝতে পেরেছেন যে দেহকোষের মধ্যে আরো একটি ভেতরের অনাক্রম্যতা স্তর আছে যার ভাইরাসবিধ্বংসী ব্যবস্থাকে আরো অনেক বেশি শক্তিশালী করে তোলা যায়। এখানে একটি অতি চমৎকার বিষয় হলো প্রতিটি সংক্রমণের বেলায় যখনই কোনো ভাইরাস দেহকোষে প্রবেশ করে তখনই অ্যান্টিবড়ির জন্য সুযোগ তৈরি হয় ওটাকে বহিষ্কার করার। আর এটাই হলো দেহের অনাক্রম্যতা শক্তি সম্পর্কে এতোকালের যে ধারণা তার মোৗলিক পার্থক্য। ঠিক এ মুহূর্তে আমরা জানি টি সেল (রক্তের শ্বেতকণিকা) পেশাদার দেহরক্ষাকারী হিসেবে সংক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করে এবং সেরকম কোনো কিছু ধরা পড়লে সেটাকে ধ্বংস করে।
ডঃ জেমস বলছেন, এ ব্যবস্থাটা অনেকটা অতর্কিতে আক্রমণ পরিচালনার মতো। যতোবারই ভাইরাস কোষে প্রবেশ করতে চায় ততোবারই অনাক্রম্যতা ব্যবস্থার সুযোগ থাকে ঐ ভাইরাসকে বের করে দেয়ার। প্রক্রিয়াটি খুবই দ্রুত। আমরা প্রমাণ পেয়েছি যে, সেলে ভাইরাস ঢোকার ২-১ ঘণ্টার মধ্যেই সেটাকে অকার্যকর করে দেয় অ্যান্টিভাইরাস।
এ সমীক্ষার বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সের জার্নালে। গবেষণাগারে মানুষের যে দেহকোষ কালচার করে তৈরি করা হয়েছে সেটাকে প্রাণীর দেহে প্রয়োগ করে সংখ্যাবৃদ্ধি করতে হবে যাতে তার প্রথম ক্লিনিক্যাল টেস্টটি মানুষের দেহে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
এর এক সম্ভাবনা হলো এই যে, সর্দিঠাণ্ডা ডেকে আনে এমন অনেক জাতের ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রোটিন ট্রিম২১কে নাকের স্প্রে হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। রাইনোভাইরাসের মতো ভাইরাসগুণো সাধারণত নোরাভাইরাস সংক্রমণের কারণ যা থেকে শীতকালে সাধারণত বমির মতো রোটাভাইরাস সংক্রমণ ঘটে। এ থেকে আবার গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস বা পাকস্থলী প্রদাহের সৃষ্টি হয়।
ডঃ জেমস জানান, এভাবে দেহের সকল অ্যান্টিবডিকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে আরো সক্রিয়, আরো শক্তিশালী করে তোলা যায়। তাতে সুবিধে হবে এই যে, এটাকে বহু ভাইরাস সংক্রমণের বেলায়ও ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, আমরা এভাবে যেসব ওষুধ তৈরি করবো সেগুলো নাকের স্প্রে বা ইনহেলার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে, পিল হিসেবে সেবনের দরকার হবে না। আর এ দিয়ে ঠাণ্ডা-সর্দির চমৎকার চিকিৎসা করা যাবে। এটার সুবিধে আগেই বলা হয়েছে, সংক্রমিত ভাইরাস তার নিজের প্রোটিন তৈরি করে পাল্টা লড়ার সুযোগ পাবে না বা বেঁচে থাকতেও পারবে না।
এ গবেষণাগারের আরেক বিজ্ঞানী স্যার গ্রেগ উইন্টার বলেছেন, অ্যান্টিবডিগুলো আসলে দারুণ ক্ষমতাধর আণব সমরযন্ত্র বিশেষ। এখন দেখা যায়, তারা কোষের ভেতরে গিয়েও ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে পারে। কাজেই আজকে গবেষণা যে পর্যায়ে উপস্থিত হয়েছে সেটা থেকে শুধু এটাই জানা যায়নি অ্যাটিভাইরাস কেমন করে কোথায় কাজ করে বরং তার চেয়েও আমাদের বড়ো লাভ হয়েছে অনাক্রম্যতা ও সংক্রমণ সম্পর্কে আমরা যে জ্ঞান নিয়েছিলাম তাতে রীতিমতো একটা বিপস্নব এসেছে।
সূত্র ঃ দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্ট, যুক্তরাজ্য
[ লেখক : সাংবাদিক ]
দেখেই মেশিন তৈরি করতে পারেন বগুড়ার আমির হোসেন
দেখেই মেশিন তৈরি করতে পারেন বগুড়ার আমির হোসেন
আসাদুজ্জামান ফিরোজ
একবার চোখে দেখেই তৈরি করেন মেশিন। তাই তার আবিষ্কারের ঝোলায় যোগ হয় নিত্যনতুন সব আইটেম। তিনি আমির হোসেন। তার বাবা বগুড়া শহরের ঠিকাদারপাড়া লেনের ধলু মেকার প্রথম ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ গড়ে তোলেন ১৯৪০ সালের দিকে। ১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় তত্কালীন বগুড়ার ডিসির নির্দেশে ধলু মেকার সতর্কতামূলক সাইরেন মেশিন তৈরি করে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। এই ধলু মেকার নিজেই হস্তচালিত লেদ মেশিন তৈরি করে বগুড়াসহ উত্তরবঙ্গে আলোচনায় আসেন। তিনি ১৯৮৮ সালের ১৩ নভেম্বরে মারা যাওয়ার পর রহিম ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের দায়িত্ব নেন ছেলে আমির হোসেন। বর্তমানে ওয়ার্কশপটি ওই এলাকায় রয়েছে। আমির হোসেনের হাতেখড়ি হয় তার বাবা ধলু মেকারের কাছে। ধলু মেকারের ৮ ছেলেমেয়ের মধ্যে আমির হোসেন চতুর্থ। বাবার মৃত্যুর পর থেকেই শুরু হয় গবেষণা। প্রকৌশলী আমির হোসেন ২০০৩ সালে বুয়েট থেকে বিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ও জিটিজেড থেকে কৃষি সামগ্রী উদ্ভাবনের ওপর প্রশিক্ষণ নেন। এ কাজে আমির হোসেনকে সাহায্য করেন তার দ্বিতীয় মেয়ে আসমা খানম আশা ও তৃতীয় মেয়ে তাহিয়া খানম।
আবিষ্কার : নিজের চোখে যা দেখেন অবিকল সেটিই তৈরি করার কারিগর আমির হোসেন ১৯৯১ সালে ইট ও পাথর ভাঙা মেশিন উদ্ভাবন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একের পর এক তৈরি করেছেন বিভিন্ন মেশিন।
অটোব্রিকস মেশিন : ২০০৩ সালে আমির হোসেন বানিয়েছেন অটোব্রিকস তৈরি মেশিন, যা চীনের তৈরি অটোব্রিকস মেশিনের চেয়ে একটু উন্নত। এই মেশিনটি পরবর্তী সময়ে চলতি বছরে আরও আধুনিক করা হয়েছে। আগে তৈরি করা মেশিনটি বিদ্যুত্ ও স্যালো মেশিন দিয়ে চলত। এবারেরটি বিদ্যুত্ ছাড়া। মেশিনটি তৈরি করা হয়েছে ২টি স্যালো মেশিন দিয়ে। জনবল লাগবে মাত্র ২০ জন। প্রতি ঘণ্টায় ইট তৈরি হবে ১৫০০ থেকে ২০০০টি। জ্বালানি তেল লাগবে ৩ লিটার। মেশিনটি ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে। ইটের গুণগতমান বিদেশি মেশিনের মতোই। দুই সাইজের মেশিনের মধ্যে একটি মুভিং সিস্টেম রয়েছে, যা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সহজে নেয়া যাবে। দাম ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা।
জ্বালানিবিহীন গাড়ি : জ্বালানিবিহীন গাড়ি তৈরি করে আলোচনায় চলে এসেছেন আমির হোসেন। এখন ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। ২৫০ কেজি ওজনের এ গাড়ি পরিবেশ সহায়ক এবং দেশীয় যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি। ড্রাইভারসহ ৫ জন নিয়ে এ গাড়ি ঘণ্টায় ৭০/৮০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে। গাড়ি চলার সময় ব্যাটারি রিচার্জ হয়ে যাবে। গাড়িতে ব্যবহার করা হয়েছে ১২ ভোল্টের ৫টি সেকেন্ডারি সেল। ৬০ ভোল্টের ডিসি মোটর এ গাড়ি চালাবে। তেল-মবিল লাগবে না। গাড়ির দাম মাত্র আড়াই লাখ টাকা। গাড়ির মডেল করা হয়েছে হিটলার ও রাণী এলিজাবেথের ব্যবহার করা দুটি গাড়ির মডেলের আদলে। এছাড়াও নিত্যনতুন গাড়ি তৈরির গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। গবেষণায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে ১২০ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন জ্বালানিবিহীন গাড়ি।
ধান কাটা মেশিন : হালকা ও শস্তা ধান কাটার মেশিন তৈরি করেছেন প্রকৌশলী আমির হোসেন। ২ ঘণ্টায় এক বিঘা জমির ধান কাটা যাবে এ মেশিন দিয়ে। খরচ হবে ২ লিটার পেট্রোল। মেশিনটির ওজন ১০/১৫ কেজি। দাম ৮/১০ হাজার টাকা। যন্ত্রটির বৈশিষ্ট্য হলো—ধানের গাছ যে অবস্থায় থাক না কেন সে অবস্থায়ই কাটা যায়। এ মেশিন আরও শস্তা ও আধুনিক করার জন্য কৃষিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের সহযোগিতা চেয়েছেন আমির হোসেন। বর্তমানে সোলার পাওয়ারের সাহায্যে মেশিন চালানোর জন্য গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
অটো জৈব ও মিশ্র সার : অটো জৈব ও মিশ্র সার মেশিন তৈরি করে সারা দেশে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন আমির হোসেন। মেশিনটি শ্রেণীভেদে দাম দেড় লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। মেশিনের প্রকারভেদে সার উত্পন্ন হয় ১০০ কেজি থেকে ১ টন পর্যন্ত। এরই মধ্যে এ জৈব ও মিশ্র সার তৈরির মেশিনটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও দিনাজপুর জেলায় ব্যবহৃত হচ্ছে। সুফলও পাচ্ছেন সাধারণ কৃষকরাও।
ফিশ ফিড ও পোলট্রি ফিড : আধুনিক মানে তৈরি করেছেন ফিশ ফিড ও পোলট্রি ফিড। প্রকারভেদে এ মেশিনগুলোর মূল্য ২৫ হাজার টাকা থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত। এর মধ্যে রয়েছে অটো মেশিন, যার সুফল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ফিশ ও পোলট্রি ফিড ব্যবসায়ীরা ভোগ করতে শুরু করেছে।
অন্যান্য : আমির হোসেন আরও আবিষ্কার করে এরই মধ্যে বাজারজাত করেছেন অনেক মেশিন। এর মধ্যে রয়েছে রেলগাড়ি, ইটভাঙা মেশিন, সেমাই তৈরি মেশিন, গো-খাদ্য অটো মেশিন, মিক্সচার মেশিন, ভুট্টা মাড়াই ও ভাঙা মেশিন শুঁটকি মাছ, ঝিনুক খৈল ক্রাশার মেশিন, সিলিকন ভাঙা অটো মেশিন, পল্গাস্টিক পাইপ তৈরি মেশিন। এছাড়াও রয়েছে আদা, রসুন, মরিচ ও সস তৈরি অটো ক্রাশার মেশিন। আম, আনারস, টমেটো, কমলালেবু ক্রাশার মেশিন, ড্রাম সিডার চাষ ছাড়াই বীজ বপন যন্ত্র, শস্য মাড়াই যন্ত্র।
আমির হোসেনের মতামত : এতকিছু করেছি সবই নিজ উদ্যোগে। এগুলো করতে গিয়ে কখনও গচ্ছিত টাকায়, কখনও স্ত্রীর গয়না বিক্রি, কখনও ঋণ করতে হয়েছে। কিন্তু সরকারি কোনো পৃষ্ঠপোষকতা বা সহযোগিতা পাইনি। এমনকি ব্যাংকও এসব গবেষণা কাজে কোনো সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি। আমি মনে করি, যারা নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে চায় তাদের জন্য সুদবিহীন ঋণের ব্যবস্থা করা উচিত। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কলয়া খনিতে বিকল মেশিনগুলো খুব কম দামে মেরামত করা সম্ভব। অথচ তা না করে কোটি কোটি টাকা দামের মেশিনগুলো খোলা আকাশের নিচে ফেলে নষ্ট করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ারও দাবি জানান তিনি। যোগাযোগ : ০১৭১৫-৩১৯৯৩৭
আবিষ্কার : নিজের চোখে যা দেখেন অবিকল সেটিই তৈরি করার কারিগর আমির হোসেন ১৯৯১ সালে ইট ও পাথর ভাঙা মেশিন উদ্ভাবন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একের পর এক তৈরি করেছেন বিভিন্ন মেশিন।
অটোব্রিকস মেশিন : ২০০৩ সালে আমির হোসেন বানিয়েছেন অটোব্রিকস তৈরি মেশিন, যা চীনের তৈরি অটোব্রিকস মেশিনের চেয়ে একটু উন্নত। এই মেশিনটি পরবর্তী সময়ে চলতি বছরে আরও আধুনিক করা হয়েছে। আগে তৈরি করা মেশিনটি বিদ্যুত্ ও স্যালো মেশিন দিয়ে চলত। এবারেরটি বিদ্যুত্ ছাড়া। মেশিনটি তৈরি করা হয়েছে ২টি স্যালো মেশিন দিয়ে। জনবল লাগবে মাত্র ২০ জন। প্রতি ঘণ্টায় ইট তৈরি হবে ১৫০০ থেকে ২০০০টি। জ্বালানি তেল লাগবে ৩ লিটার। মেশিনটি ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে। ইটের গুণগতমান বিদেশি মেশিনের মতোই। দুই সাইজের মেশিনের মধ্যে একটি মুভিং সিস্টেম রয়েছে, যা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সহজে নেয়া যাবে। দাম ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা।
জ্বালানিবিহীন গাড়ি : জ্বালানিবিহীন গাড়ি তৈরি করে আলোচনায় চলে এসেছেন আমির হোসেন। এখন ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। ২৫০ কেজি ওজনের এ গাড়ি পরিবেশ সহায়ক এবং দেশীয় যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি। ড্রাইভারসহ ৫ জন নিয়ে এ গাড়ি ঘণ্টায় ৭০/৮০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে। গাড়ি চলার সময় ব্যাটারি রিচার্জ হয়ে যাবে। গাড়িতে ব্যবহার করা হয়েছে ১২ ভোল্টের ৫টি সেকেন্ডারি সেল। ৬০ ভোল্টের ডিসি মোটর এ গাড়ি চালাবে। তেল-মবিল লাগবে না। গাড়ির দাম মাত্র আড়াই লাখ টাকা। গাড়ির মডেল করা হয়েছে হিটলার ও রাণী এলিজাবেথের ব্যবহার করা দুটি গাড়ির মডেলের আদলে। এছাড়াও নিত্যনতুন গাড়ি তৈরির গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। গবেষণায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে ১২০ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন জ্বালানিবিহীন গাড়ি।
ধান কাটা মেশিন : হালকা ও শস্তা ধান কাটার মেশিন তৈরি করেছেন প্রকৌশলী আমির হোসেন। ২ ঘণ্টায় এক বিঘা জমির ধান কাটা যাবে এ মেশিন দিয়ে। খরচ হবে ২ লিটার পেট্রোল। মেশিনটির ওজন ১০/১৫ কেজি। দাম ৮/১০ হাজার টাকা। যন্ত্রটির বৈশিষ্ট্য হলো—ধানের গাছ যে অবস্থায় থাক না কেন সে অবস্থায়ই কাটা যায়। এ মেশিন আরও শস্তা ও আধুনিক করার জন্য কৃষিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের সহযোগিতা চেয়েছেন আমির হোসেন। বর্তমানে সোলার পাওয়ারের সাহায্যে মেশিন চালানোর জন্য গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
অটো জৈব ও মিশ্র সার : অটো জৈব ও মিশ্র সার মেশিন তৈরি করে সারা দেশে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন আমির হোসেন। মেশিনটি শ্রেণীভেদে দাম দেড় লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। মেশিনের প্রকারভেদে সার উত্পন্ন হয় ১০০ কেজি থেকে ১ টন পর্যন্ত। এরই মধ্যে এ জৈব ও মিশ্র সার তৈরির মেশিনটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও দিনাজপুর জেলায় ব্যবহৃত হচ্ছে। সুফলও পাচ্ছেন সাধারণ কৃষকরাও।
ফিশ ফিড ও পোলট্রি ফিড : আধুনিক মানে তৈরি করেছেন ফিশ ফিড ও পোলট্রি ফিড। প্রকারভেদে এ মেশিনগুলোর মূল্য ২৫ হাজার টাকা থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত। এর মধ্যে রয়েছে অটো মেশিন, যার সুফল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ফিশ ও পোলট্রি ফিড ব্যবসায়ীরা ভোগ করতে শুরু করেছে।
অন্যান্য : আমির হোসেন আরও আবিষ্কার করে এরই মধ্যে বাজারজাত করেছেন অনেক মেশিন। এর মধ্যে রয়েছে রেলগাড়ি, ইটভাঙা মেশিন, সেমাই তৈরি মেশিন, গো-খাদ্য অটো মেশিন, মিক্সচার মেশিন, ভুট্টা মাড়াই ও ভাঙা মেশিন শুঁটকি মাছ, ঝিনুক খৈল ক্রাশার মেশিন, সিলিকন ভাঙা অটো মেশিন, পল্গাস্টিক পাইপ তৈরি মেশিন। এছাড়াও রয়েছে আদা, রসুন, মরিচ ও সস তৈরি অটো ক্রাশার মেশিন। আম, আনারস, টমেটো, কমলালেবু ক্রাশার মেশিন, ড্রাম সিডার চাষ ছাড়াই বীজ বপন যন্ত্র, শস্য মাড়াই যন্ত্র।
আমির হোসেনের মতামত : এতকিছু করেছি সবই নিজ উদ্যোগে। এগুলো করতে গিয়ে কখনও গচ্ছিত টাকায়, কখনও স্ত্রীর গয়না বিক্রি, কখনও ঋণ করতে হয়েছে। কিন্তু সরকারি কোনো পৃষ্ঠপোষকতা বা সহযোগিতা পাইনি। এমনকি ব্যাংকও এসব গবেষণা কাজে কোনো সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি। আমি মনে করি, যারা নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে চায় তাদের জন্য সুদবিহীন ঋণের ব্যবস্থা করা উচিত। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কলয়া খনিতে বিকল মেশিনগুলো খুব কম দামে মেরামত করা সম্ভব। অথচ তা না করে কোটি কোটি টাকা দামের মেশিনগুলো খোলা আকাশের নিচে ফেলে নষ্ট করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ারও দাবি জানান তিনি। যোগাযোগ : ০১৭১৫-৩১৯৯৩৭
Wednesday, October 13, 2010
খুবি প্রকৌশলীদের রোবট উদ্ভাবন
খুবি প্রকৌশলীদের রোবট উদ্ভাবন
সোহেল রানা বীর, খুবি
রোবট শব্দটি শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে মানবসদৃশ কোনো যন্ত্র। মনের কল্পনায় আমরা হয়তো দেখি যন্ত্রটি হেঁটে চলছে কিংবা কথাও বলছে। কিন্তু আসলে রোবট কী?
রোবট শব্দটির উত্পত্তি চেক শব্দ ‘রোবোটা’ থেকে, যার অর্থ ফোরসড লেবার বা মানুষের দাসত্ব কিংবা একঘেয়েমি খাটুনি বা পরিশ্রম করতে পারে এমন যন্ত্র।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো একদল তরুণ প্রকৌশলী উদ্ভাবন করেছেন মানুষের বিভিন্ন কাজ বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ, বিপজ্জনক কাজ করতে সক্ষম এমন এক ‘রোবটিক আর্ম’। যা মানুষের হাতের বিকল্প হিসেবে গৃহস্থালির কাজ থেকে শুরু করে শিল্পক্ষেত্রের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ খুব সহজে অল্প সময়ে করতে সক্ষম। একই কাজ মানুষের জন্য বারবার করা বিরক্তিকর ও কষ্টদায়ক। এমন বিরক্তিকর কাজও খুব সহজে এ যন্ত্র দ্বারা সম্পন্ন করা যায়।
রোবটিক আর্ম উদ্ভাবনের চিন্তা প্রথমে আসে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) ডিসিপ্লিনের প্রভাষক এসকে আলমগীর হোসেনের মাথায়। তাকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেন একই ডিসিপ্লিনের প্রভাষক কাজী মাসুদুল আলম। এ উদ্যোগকে সফল করতে ভাবী প্রকৌশলী কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল ডিসিপ্লিনের তৃতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আবদুল্লাহ আল আহসানকে প্রধান করে নিযুক্ত করা হয় আরও একজন তরুণ প্রকৌশলী তানভির আহমেদ শুভকে। ছয় মাস পর এসকে আলমগীর হোসেন ও কাজী মাসুদুল আলম কম্পিউটার বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষার উদ্দেশ্যে কানাডায় চলে গেলে এ আবিষ্কারে তত্ত্বাবধায়ন করেন একই ডিসিপ্লিনের প্রভাষক মো. মাসুদুর রহমান এবং শামীমা ইয়াসমিন। দীর্ঘ এক বছর গবেষণার পর তারা এ রোবটিক আর্ম আবিষ্কার করতে সক্ষম হন।
আবিষ্কারকরা জানান, এটি আমাদের দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। এতে ব্যবহৃত সব যন্ত্রাংশ সুলভ মূল্যে পাওয়া যায়। তাছাড়া এ যন্ত্রের অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি মানুষের কথামতো কাজ করতে পারে।
এ রোবটিক আর্ম সক্রিয় করতে প্রয়োজন একটি কম্পিউটার, বিভিন্ন ড্রাইভার সার্কিট, হেডফোন এবং রোবটসদৃশ যান্ত্রিক হাত। প্রথমে কম্পিউটার, ড্রাইভার সার্কিট ও রোবটিক আর্মকে বৈদ্যুতিক সংযোগ দিতে হবে এবং হেডফোনকে কম্পিউটারের সঙ্গে সংযুক্ত করলে ব্যবহারকারী তার কথার মাধ্যমে যন্ত্রটিকে ইচ্ছা অনুযায়ী পরিচালনা করতে পারবেন।
এ বিষয়ে মো. আবদুল্লাহ আল আহসান বলেন, রোবটিক আর্ম হলো এক ধরনের রোবট, যা মানুষের হাতের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে সক্ষম। তিনি আরও বলেন, গবেষণাগারে বিভিন্ন বিষাক্ত ও বিপজ্জনক রাসায়নিক বস্তু ব্যবহার মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে এ যন্ত্রটি দ্বারা বিনা সংস্পর্শে সফলতার সঙ্গে কাজ সম্পাদন করা যায়।
তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বে রোবটের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। রোবটের মাধ্যমে মানুষ বিনা ঝুঁকিতে অসাধ্য কাজও সাধন করতে চলেছে। এ ধরনের উদ্ভাবন তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশকে আরও একধাপ সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করেন উদ্ভাবনকারীরা।
এ উদ্ভাবনের তত্ত্বাবধায়ক প্রভাষক মো. মাসুদুর রহমান বলেন, এ উদ্ভাবন উন্নতমানের রোবট তৈরির প্রথম ধাপ হলেও এটি অনায়াসে মানুষের হাতের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে। এটি গৃহস্থালির কাজ থেকে শুরু করে শিল্পক্ষেত্রের বিভিন্ন বিপজ্জনক কাজও করতে সক্ষম।
এ উদ্ভাবনকে স্বাগত জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাইফুদ্দিন শাহ ও কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং প্রকৌশল ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, এ ধরনের উদ্ভাবন আমাদের দেশে খুবই বিরল। এ উদ্ভাবনকে কাজে লাগিয়ে আমাদের দেশেও উন্নতমানের রোবট আবিষ্কার সম্ভব।
উল্লেখ্য, এর আগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘রোবটিক্স অ্যান্ড ইনটেলিজেন্ট সিস্টেম’ বিষয়ক সেমিনার ও সফটওয়্যার ফেয়ার এবং ঢাকা পরমাণু শক্তি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক্স সোসাইটির (বিইএস) বার্ষিক সম্মেলনে এই রোবটিক আর্মের কার্যকারিতা প্রদর্শন করা হয়। সেমিনারে বক্তারা মানুষের কাজকে আরও সহজ করতে এ ধরনের আবিষ্কারের যথেষ্ট প্রয়োজনীয়তা আছে উল্লেখ করে এ আবিষ্কারকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিয়ে বাজারজাত করতে সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা কামনা করেন।
রোবট শব্দটির উত্পত্তি চেক শব্দ ‘রোবোটা’ থেকে, যার অর্থ ফোরসড লেবার বা মানুষের দাসত্ব কিংবা একঘেয়েমি খাটুনি বা পরিশ্রম করতে পারে এমন যন্ত্র।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো একদল তরুণ প্রকৌশলী উদ্ভাবন করেছেন মানুষের বিভিন্ন কাজ বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ, বিপজ্জনক কাজ করতে সক্ষম এমন এক ‘রোবটিক আর্ম’। যা মানুষের হাতের বিকল্প হিসেবে গৃহস্থালির কাজ থেকে শুরু করে শিল্পক্ষেত্রের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ খুব সহজে অল্প সময়ে করতে সক্ষম। একই কাজ মানুষের জন্য বারবার করা বিরক্তিকর ও কষ্টদায়ক। এমন বিরক্তিকর কাজও খুব সহজে এ যন্ত্র দ্বারা সম্পন্ন করা যায়।
রোবটিক আর্ম উদ্ভাবনের চিন্তা প্রথমে আসে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) ডিসিপ্লিনের প্রভাষক এসকে আলমগীর হোসেনের মাথায়। তাকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেন একই ডিসিপ্লিনের প্রভাষক কাজী মাসুদুল আলম। এ উদ্যোগকে সফল করতে ভাবী প্রকৌশলী কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল ডিসিপ্লিনের তৃতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আবদুল্লাহ আল আহসানকে প্রধান করে নিযুক্ত করা হয় আরও একজন তরুণ প্রকৌশলী তানভির আহমেদ শুভকে। ছয় মাস পর এসকে আলমগীর হোসেন ও কাজী মাসুদুল আলম কম্পিউটার বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষার উদ্দেশ্যে কানাডায় চলে গেলে এ আবিষ্কারে তত্ত্বাবধায়ন করেন একই ডিসিপ্লিনের প্রভাষক মো. মাসুদুর রহমান এবং শামীমা ইয়াসমিন। দীর্ঘ এক বছর গবেষণার পর তারা এ রোবটিক আর্ম আবিষ্কার করতে সক্ষম হন।
আবিষ্কারকরা জানান, এটি আমাদের দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। এতে ব্যবহৃত সব যন্ত্রাংশ সুলভ মূল্যে পাওয়া যায়। তাছাড়া এ যন্ত্রের অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি মানুষের কথামতো কাজ করতে পারে।
এ রোবটিক আর্ম সক্রিয় করতে প্রয়োজন একটি কম্পিউটার, বিভিন্ন ড্রাইভার সার্কিট, হেডফোন এবং রোবটসদৃশ যান্ত্রিক হাত। প্রথমে কম্পিউটার, ড্রাইভার সার্কিট ও রোবটিক আর্মকে বৈদ্যুতিক সংযোগ দিতে হবে এবং হেডফোনকে কম্পিউটারের সঙ্গে সংযুক্ত করলে ব্যবহারকারী তার কথার মাধ্যমে যন্ত্রটিকে ইচ্ছা অনুযায়ী পরিচালনা করতে পারবেন।
এ বিষয়ে মো. আবদুল্লাহ আল আহসান বলেন, রোবটিক আর্ম হলো এক ধরনের রোবট, যা মানুষের হাতের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে সক্ষম। তিনি আরও বলেন, গবেষণাগারে বিভিন্ন বিষাক্ত ও বিপজ্জনক রাসায়নিক বস্তু ব্যবহার মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে এ যন্ত্রটি দ্বারা বিনা সংস্পর্শে সফলতার সঙ্গে কাজ সম্পাদন করা যায়।
তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বে রোবটের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। রোবটের মাধ্যমে মানুষ বিনা ঝুঁকিতে অসাধ্য কাজও সাধন করতে চলেছে। এ ধরনের উদ্ভাবন তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশকে আরও একধাপ সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করেন উদ্ভাবনকারীরা।
এ উদ্ভাবনের তত্ত্বাবধায়ক প্রভাষক মো. মাসুদুর রহমান বলেন, এ উদ্ভাবন উন্নতমানের রোবট তৈরির প্রথম ধাপ হলেও এটি অনায়াসে মানুষের হাতের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে। এটি গৃহস্থালির কাজ থেকে শুরু করে শিল্পক্ষেত্রের বিভিন্ন বিপজ্জনক কাজও করতে সক্ষম।
এ উদ্ভাবনকে স্বাগত জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাইফুদ্দিন শাহ ও কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং প্রকৌশল ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, এ ধরনের উদ্ভাবন আমাদের দেশে খুবই বিরল। এ উদ্ভাবনকে কাজে লাগিয়ে আমাদের দেশেও উন্নতমানের রোবট আবিষ্কার সম্ভব।
উল্লেখ্য, এর আগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘রোবটিক্স অ্যান্ড ইনটেলিজেন্ট সিস্টেম’ বিষয়ক সেমিনার ও সফটওয়্যার ফেয়ার এবং ঢাকা পরমাণু শক্তি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক্স সোসাইটির (বিইএস) বার্ষিক সম্মেলনে এই রোবটিক আর্মের কার্যকারিতা প্রদর্শন করা হয়। সেমিনারে বক্তারা মানুষের কাজকে আরও সহজ করতে এ ধরনের আবিষ্কারের যথেষ্ট প্রয়োজনীয়তা আছে উল্লেখ করে এ আবিষ্কারকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিয়ে বাজারজাত করতে সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা কামনা করেন।
Thursday, October 7, 2010
আধুনিক জীবনের মডেল পাবনার প্রযুক্তি জাদুঘর
আধুনিক জীবনের মডেল পাবনার প্রযুক্তি জাদুঘর
জহুরুল ইসলাম, পাবনা
আধুনিক জীবন ব্যবস্থার এক মডেল হিসেবে পাবনা সদর উপজেলা চত্বরে গড়ে তোলা হয়েছে দেশের প্রথম লাগসই প্রযুক্তি জাদুঘর। স্বল্প জমির বহুবিধ ব্যবহারের মাধ্যমে উন্নত জীবন ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে ধারণা সৃষ্টি এ মডেল উপস্থাপনের মূল লক্ষ্য। কৃষি উন্নয়ন, মত্স্য চাষ, স্বাস্থ্যসম্মত পানীয় জল, উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, সৌরবিদ্যুত্, স্বল্প ব্যয়ে সাশ্রয়ী চুল্লী, এক পুকুরের বহুবিধ ব্যবহার, মাশরুম চাষ, বাড়ির আঙিনার ব্যবহার, ঔষধিসহ নানা বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা, হাঁস-মুরগি পালন পদ্ধতি—সবই এ জাদুঘরে প্রদর্শন করা হয়েছে। সঙ্গে থাকছে নির্মল বিনোদন কেন্দ্র। নির্মল অনিন্দ্যের সঙ্গে আধুনিক জীবনের অনেক কিছু জেনে নেয়ার এই আয়োজনের মূল পরিকল্পনাকারী পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল হাকিম ও ইউনির্ভাসাল গ্রুপের ব্যবস্থপনা পরিচালক সোহানী হোসেন। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় সদর উপজেলা পরিষদ এ কাজ বাস্তবায়ন করেছে। এই জাদুঘর গড়ে তোলার আগে ঢাকার সায়েন্স ল্যাবটরি থেকে ১২ জন বিজ্ঞানী এখানে এসে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি সম্পর্কে একটি সেমিনার করেন।
পাবনা ইউএনও’র অফিসের সামনে প্রায় এক একর জমির ওপর প্রাচীরঘেরা শান্ত পরিবেশে এ জাদুঘর গড়ে তোলা হয়েছে। জাদুঘরের প্রাচীরের ভেতরে এবং বাইরে লেখা রয়েছে পবিত্র আল-কোরআন ও হাদিসের উদ্ধৃতি হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মের গ্রন্থ ও মনীষীদের বাণী। জাদুঘরের প্রবেশমুখে রয়েছে লালবাগ কেল্লার আদলে একটি গেট। ভেতরে ঢুকে বাঁ দিকে রয়েছে গোলাকৃতির একটি ঘর, যাতে রয়েছে ডিসপ্লে বোর্ড। এখানে নানাবিধ ঔষধি গাছের গুণাগুণ ও পরিচিতি উল্লেখ রয়েছে। হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু বিষয়ে রয়েছে নানা তথ্য।পাশেই রয়েছে একটি ছোট পুকুর। তার পাশে ফোয়ারা। পুকুরের বহুবিধ ব্যবহার তুলে ধরা হয়েছে। পুকুরের ওপর রয়েছে কোয়েল, হাঁস ও খরগোসের পৃথক খাঁচা। পানিতে রয়েছে ভাসমান সবজি চাষ পদ্ধতির মডেল। রয়েছে দ্রুতবর্ধনশীল দৃষ্টিনন্দন দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির মাছ। ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হলে অনায়াসেই যাতে বিশ্রাম নেয়া যায় তার জন্য এখানে রয়েছে ব্যবস্থা। পুকুরের মাঝখানে বাঁশের একটি ঘর। বাঁশের সাঁকো দিয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে পুকুরপাড়ের সঙ্গে। এখানে বসে দেখা যাবে পুকুরের পানিতে রঙিন মাছ ও হাঁসের চলাচল।
রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে দেখা যাবে নানা ধরনের গাছ। বিলুপ্তপ্রায় অনেক গাছ রয়েছে এখানে। গাছের গায়ে লেমিনেটিং করে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও এর প্রয়োজনীয় ব্যবহার সম্পর্কে লেখা রয়েছে। এগিয়ে গেলে চোখে পড়বে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ল্যাট্রিন। মডেল হিসেবে এটি উপস্থাপন করা হয়েছে। একটু এগিয়ে গেলে সৌরশক্তির ব্যবহার বিষয়ক মডেল দেখা যাবে। এখানে দেখানো হয়েছে সৌরচুল্লীর ব্যবহার, সৌরবিদ্যুত্ ও সাশ্রয়ী চুলার মডেল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল হাকিম বদলি হওয়ার পর লাগসই প্রযুক্তি জাদুঘর দেখাশোনা করছেন ইউনির্ভাসাল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহানী হোসেন। তিনি জানান, এটা এমন একটা মডেল, যার মাধ্যমে অল্প সম্পদের বহুবিধ ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান কীভাবে উন্নত করা যায় তা শেখা যাবে। জনগণ বিশেষত কৃষকের কাছে এমন ধারণা পৌঁছে দিতেই তাদের এ প্রচেষ্টা।
Source: Daily Amardesh, 07-10-10
পাবনা ইউএনও’র অফিসের সামনে প্রায় এক একর জমির ওপর প্রাচীরঘেরা শান্ত পরিবেশে এ জাদুঘর গড়ে তোলা হয়েছে। জাদুঘরের প্রাচীরের ভেতরে এবং বাইরে লেখা রয়েছে পবিত্র আল-কোরআন ও হাদিসের উদ্ধৃতি হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মের গ্রন্থ ও মনীষীদের বাণী। জাদুঘরের প্রবেশমুখে রয়েছে লালবাগ কেল্লার আদলে একটি গেট। ভেতরে ঢুকে বাঁ দিকে রয়েছে গোলাকৃতির একটি ঘর, যাতে রয়েছে ডিসপ্লে বোর্ড। এখানে নানাবিধ ঔষধি গাছের গুণাগুণ ও পরিচিতি উল্লেখ রয়েছে। হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু বিষয়ে রয়েছে নানা তথ্য।পাশেই রয়েছে একটি ছোট পুকুর। তার পাশে ফোয়ারা। পুকুরের বহুবিধ ব্যবহার তুলে ধরা হয়েছে। পুকুরের ওপর রয়েছে কোয়েল, হাঁস ও খরগোসের পৃথক খাঁচা। পানিতে রয়েছে ভাসমান সবজি চাষ পদ্ধতির মডেল। রয়েছে দ্রুতবর্ধনশীল দৃষ্টিনন্দন দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির মাছ। ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হলে অনায়াসেই যাতে বিশ্রাম নেয়া যায় তার জন্য এখানে রয়েছে ব্যবস্থা। পুকুরের মাঝখানে বাঁশের একটি ঘর। বাঁশের সাঁকো দিয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে পুকুরপাড়ের সঙ্গে। এখানে বসে দেখা যাবে পুকুরের পানিতে রঙিন মাছ ও হাঁসের চলাচল।
রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে দেখা যাবে নানা ধরনের গাছ। বিলুপ্তপ্রায় অনেক গাছ রয়েছে এখানে। গাছের গায়ে লেমিনেটিং করে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও এর প্রয়োজনীয় ব্যবহার সম্পর্কে লেখা রয়েছে। এগিয়ে গেলে চোখে পড়বে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ল্যাট্রিন। মডেল হিসেবে এটি উপস্থাপন করা হয়েছে। একটু এগিয়ে গেলে সৌরশক্তির ব্যবহার বিষয়ক মডেল দেখা যাবে। এখানে দেখানো হয়েছে সৌরচুল্লীর ব্যবহার, সৌরবিদ্যুত্ ও সাশ্রয়ী চুলার মডেল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল হাকিম বদলি হওয়ার পর লাগসই প্রযুক্তি জাদুঘর দেখাশোনা করছেন ইউনির্ভাসাল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহানী হোসেন। তিনি জানান, এটা এমন একটা মডেল, যার মাধ্যমে অল্প সম্পদের বহুবিধ ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান কীভাবে উন্নত করা যায় তা শেখা যাবে। জনগণ বিশেষত কৃষকের কাছে এমন ধারণা পৌঁছে দিতেই তাদের এ প্রচেষ্টা।
Source: Daily Amardesh, 07-10-10
Friday, October 1, 2010
লামায় বিরল প্রজাতির প্রাণী আটক
লামায় বিরল প্রজাতির প্রাণী আটক
লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি
বান্দরবানের লামায় বিরল প্রজাতির একটি প্রাণী ধরা পড়েছে। স্থানীয় লোকজন দাবি করছেন, ধরাপড়া প্রাণীটি লতা বাঘ। সোমবার সকালে লামা বন বিভাগের আওতাধীন বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের পূর্বপাড়ায় এইচএম এরফানের বাড়িতে হানা দিলে লোকজন প্রাণীটিকে ধাওয়া করে কৌশলে ধরে ফেলে। প্রাণীটি খয়েরি ও কালো রংয়ের ডোরাকাটা। দৈর্ঘ্য আনুমানিক ৪ ফুট। বর্তমানে এটি এরফানের বাড়িতে রয়েছে।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট লামা সদর রেঞ্জ বন কর্মকর্তা কেএম নিজাহার উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। কাল সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বিরল প্রজাতির প্রাণীটি দেখার জন্য দূরদূরান্ত থেকে শত শত উত্সুক জনতা ভিড় জমায়।
Source: Daily Amardesh, 22-10-10
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট লামা সদর রেঞ্জ বন কর্মকর্তা কেএম নিজাহার উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। কাল সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বিরল প্রজাতির প্রাণীটি দেখার জন্য দূরদূরান্ত থেকে শত শত উত্সুক জনতা ভিড় জমায়।
Source: Daily Amardesh, 22-10-10
Friday, September 24, 2010
অটো ওয়াটার পাম্প কন্ট্রোল সুইচ
অটো ওয়াটার পাম্প কন্ট্রোল সুইচ
মোঃ হাবিবুর রহমান
বিদুত্ এবং পানির অপচয় দুটিই রোধ করা যাবে এমন ছোট একটি ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র মাইনূর হোসেন নিহাদ। এ যন্ত্র সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার পানির পাম্পটিকে নিয়ন্ত্রণ করবে। ছোট এই ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রের নাম দেয়া হয়েছে ‘অটোপাম্প সুইচ’। অন্যান্য অটোসার্কিটের তুলনায় এ অটোপাম্প সুইচটি সাশ্রয়ী দামে ডিজাইন করা হয়েছে এবং এটি খুবই নিখুঁতভাবে কাজ করতে পারে।
যেভাবে কাজ করবে : প্রতিটি বাড়িতে অন্তত দুটি ওয়াটার রিজার্ভার বা পানির আধার থাকে। একটি হলো আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার বা ভূগর্ভস্থ পানির আধার এবং অন্যটি হলো রুফটপ ওয়াটার রিজার্ভার বা ছাদের ওপর থাকা পানির আধার। সার্কিট ডিজাইনে দুটি সংক্ষিপ্ত নাম দেয়া হয়েছে। ১. অ = আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার এবং ২. ই = রুফটপ ওয়াটার রিজার্ভার।
মডেল ১.যদি আপনার রুফটপ ওয়াটার রিজার্ভারে (ই) পানির পরিমাণ কমে যায় তাহলে রুফটপ ওয়াটার রিজার্ভার (ই) থেকে ‘অটোপাম্প সুইচ’ সংকেত দিয়ে আপনাকে সতর্ক করে দেবে, যাতে আপনি পরীক্ষা করে দেখতে পারেন আপনার আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভারে (অ) পরিমাণ মতো পানি আছে কিনা। যখন আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার (অ) ‘অটোপাম্প সুইচ’-কে সংকেত দেবে রিজার্ভারে যথেষ্ট পানি আছে [পানির পরিমাণ হবে ৮০% থেকে ১০০% পর্যন্ত] তখন ‘অটোপাম্প সুইচ’টি পাম্পকে (অন) করবে। আবার যদি আপনার আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার (অ) পানির পরিমাণ ১০%-এর নিচে থাকে তাহলে পাম্প (অন) হবে না এবং যখনই আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার (অ) পানির পরিমাণ ৮০% থেকে ১০০% হবে, তখনই ‘অটোপাম্প সুইচ’টি পাম্পকে (অন) করবে। এতে করে বিদুত্ অপচয় রোধ হবে এবং অনেক সময় পানি ছাড়া পাম্প চলার কারণে পাম্পের যে ক্ষতি হয় তাও রোধ করা যাবে।
মডেল ২.
আপনার পাম্প যদি অন থাকে এবং আপনার রুফটপ ওয়াটার রিজার্ভার (ই) যদি পানিতে পরিপূর্ণ হয় তখন সঙ্গে সঙ্গে ‘অটোপাম্প সুইচ’ সংকেত দেবে যে, রিজার্ভার পানিতে পরিপূর্ণ হয়েছে। সংকেত দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘অটোপাম্প সুইচ’ পাম্পটি অফ করে দেবে। আবার যখন রুফটপ ওয়াটার রিজার্ভারে (ই) পানির পরিমাণ কম থাকবে তখন আবার মডেল ১ অনুযায়ী কাজ করবে রিজার্ভার পানি পরিপূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত। একবার পাম্পের সঙ্গে সংযোগ হয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এটি চলতে থাকবে। এই ‘অটোপাম্প সুইচ’টির দাম পড়বে ১৪০ টাকা। যদি রুফটপ ওয়াটার রিজার্ভারটি ৬ তলায় থাকে তাহলে সম্পূর্ণ সেটআপসহ খরচ পড়তে পারে ৩ থেকে ৪শ’ টাকার মতো।
যেভাবে কাজ করবে : প্রতিটি বাড়িতে অন্তত দুটি ওয়াটার রিজার্ভার বা পানির আধার থাকে। একটি হলো আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার বা ভূগর্ভস্থ পানির আধার এবং অন্যটি হলো রুফটপ ওয়াটার রিজার্ভার বা ছাদের ওপর থাকা পানির আধার। সার্কিট ডিজাইনে দুটি সংক্ষিপ্ত নাম দেয়া হয়েছে। ১. অ = আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার এবং ২. ই = রুফটপ ওয়াটার রিজার্ভার।
মডেল ১.যদি আপনার রুফটপ ওয়াটার রিজার্ভারে (ই) পানির পরিমাণ কমে যায় তাহলে রুফটপ ওয়াটার রিজার্ভার (ই) থেকে ‘অটোপাম্প সুইচ’ সংকেত দিয়ে আপনাকে সতর্ক করে দেবে, যাতে আপনি পরীক্ষা করে দেখতে পারেন আপনার আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভারে (অ) পরিমাণ মতো পানি আছে কিনা। যখন আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার (অ) ‘অটোপাম্প সুইচ’-কে সংকেত দেবে রিজার্ভারে যথেষ্ট পানি আছে [পানির পরিমাণ হবে ৮০% থেকে ১০০% পর্যন্ত] তখন ‘অটোপাম্প সুইচ’টি পাম্পকে (অন) করবে। আবার যদি আপনার আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার (অ) পানির পরিমাণ ১০%-এর নিচে থাকে তাহলে পাম্প (অন) হবে না এবং যখনই আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার (অ) পানির পরিমাণ ৮০% থেকে ১০০% হবে, তখনই ‘অটোপাম্প সুইচ’টি পাম্পকে (অন) করবে। এতে করে বিদুত্ অপচয় রোধ হবে এবং অনেক সময় পানি ছাড়া পাম্প চলার কারণে পাম্পের যে ক্ষতি হয় তাও রোধ করা যাবে।
মডেল ২.
আপনার পাম্প যদি অন থাকে এবং আপনার রুফটপ ওয়াটার রিজার্ভার (ই) যদি পানিতে পরিপূর্ণ হয় তখন সঙ্গে সঙ্গে ‘অটোপাম্প সুইচ’ সংকেত দেবে যে, রিজার্ভার পানিতে পরিপূর্ণ হয়েছে। সংকেত দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘অটোপাম্প সুইচ’ পাম্পটি অফ করে দেবে। আবার যখন রুফটপ ওয়াটার রিজার্ভারে (ই) পানির পরিমাণ কম থাকবে তখন আবার মডেল ১ অনুযায়ী কাজ করবে রিজার্ভার পানি পরিপূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত। একবার পাম্পের সঙ্গে সংযোগ হয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এটি চলতে থাকবে। এই ‘অটোপাম্প সুইচ’টির দাম পড়বে ১৪০ টাকা। যদি রুফটপ ওয়াটার রিজার্ভারটি ৬ তলায় থাকে তাহলে সম্পূর্ণ সেটআপসহ খরচ পড়তে পারে ৩ থেকে ৪শ’ টাকার মতো।
Monday, July 5, 2010
ওয়েবে শেয়ারবাজার
ওয়েবে শেয়ারবাজার শেয়ারবাজারের খোঁজখবর জানতে স্টক এক্সচেঞ্জে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। এ-সংক্রান্ত অধিকাংশ তথ্য ওয়েবসাইটেই পাওয়া যায়। শেয়ারবাজারগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইট ছাড়াও রয়েছে একাধিক শেয়ারবাজার ফোরাম।
www.dsebd.org
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এটি। এখানে সব শেয়ারের দাম, প্রতিদিনের সর্বমোট লেনদেন, শেয়ারের সূচকসহ শেয়ারসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য মিলবে। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে তথ্য মিলবে company info বিভাগে। www.csebd.com
চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারের নিজস্ব ওয়েবসাইট এটি। এ সাইটের মাধ্যমে চট্টগ্রামের শেয়ারবাজারের সর্বশেষ সংবাদ, বাজার মূল্য ইত্যাদি খবর পাওয়া যাবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক শেয়ারের জন্য আবেদনকারীদের ফলাফল জানা যাবে IPO LOTTERY RESULT বিভাগে। market information বিভাগে পাওয়া যাবে বাজারের সর্বশেষ তথ্য। Trading System, Listing Requirement, Listed Company-সহ আরো কিছু জরুরি বিভাগ রয়েছে এ সাইটে।
www.dg4q.com
সাইটটিতে নিবন্ধন করে মোবাইল ফোনে (আপাতত শুধু বাংলালিংক) এসএমএসের মাধ্যমে শেয়ারবাজারসংক্রান্ত সেবা পাওয়া যাবে। এখানে বিনামূল্যে পছন্দের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের সর্বশেষ দামও জানা যাবে। এ জন্য সাইটটিতে প্রবেশ করে নাম, ই-মেইল ও পাসওয়ার্ড দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে এবং পছন্দের প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারণ করে দিতে হবে।
bdstock.mobi
এটি মোবাইল ব্রাউজারের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ওয়েবসাইট। সাইটটিতে ঝযধৎব, ঝঃধঃং, ঘবংি এবং অমস-সহ বেশ কয়েকটি বিভাগ রয়েছে। ঘবংি ট্যাবে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন খবর পাওয়া যাবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক সাধারণ সভার তথ্য মিলবে 'অমস' বিভাগে।
নিচের সাইটগুলোতেও শেয়ারবাজারের বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাবে।
www.bangladeshstockmarket.com
www.bdstock.com
www.mydse.com
www.stockbangladesh.com
-আল-আমিন কবির
www.dsebd.org
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এটি। এখানে সব শেয়ারের দাম, প্রতিদিনের সর্বমোট লেনদেন, শেয়ারের সূচকসহ শেয়ারসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য মিলবে। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে তথ্য মিলবে company info বিভাগে। www.csebd.com
চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারের নিজস্ব ওয়েবসাইট এটি। এ সাইটের মাধ্যমে চট্টগ্রামের শেয়ারবাজারের সর্বশেষ সংবাদ, বাজার মূল্য ইত্যাদি খবর পাওয়া যাবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক শেয়ারের জন্য আবেদনকারীদের ফলাফল জানা যাবে IPO LOTTERY RESULT বিভাগে। market information বিভাগে পাওয়া যাবে বাজারের সর্বশেষ তথ্য। Trading System, Listing Requirement, Listed Company-সহ আরো কিছু জরুরি বিভাগ রয়েছে এ সাইটে।
www.dg4q.com
সাইটটিতে নিবন্ধন করে মোবাইল ফোনে (আপাতত শুধু বাংলালিংক) এসএমএসের মাধ্যমে শেয়ারবাজারসংক্রান্ত সেবা পাওয়া যাবে। এখানে বিনামূল্যে পছন্দের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের সর্বশেষ দামও জানা যাবে। এ জন্য সাইটটিতে প্রবেশ করে নাম, ই-মেইল ও পাসওয়ার্ড দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে এবং পছন্দের প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারণ করে দিতে হবে।
bdstock.mobi
এটি মোবাইল ব্রাউজারের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ওয়েবসাইট। সাইটটিতে ঝযধৎব, ঝঃধঃং, ঘবংি এবং অমস-সহ বেশ কয়েকটি বিভাগ রয়েছে। ঘবংি ট্যাবে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন খবর পাওয়া যাবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক সাধারণ সভার তথ্য মিলবে 'অমস' বিভাগে।
নিচের সাইটগুলোতেও শেয়ারবাজারের বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাবে।
www.bangladeshstockmarket.com
www.bdstock.com
www.mydse.com
www.stockbangladesh.com
-আল-আমিন কবির
Subscribe to:
Posts (Atom)




