Showing posts with label AGRICULTURAL TECH. NEWS. Show all posts
Showing posts with label AGRICULTURAL TECH. NEWS. Show all posts

Thursday, September 20, 2012

মাকসুদুলের নেতৃত্বে ছত্রাকের জীবনরহস্য উন্মোচন: শাবাশ বাংলার বিজ্ঞানীরা

মাকসুদুলের নেতৃত্বে ছত্রাকের জীবনরহস্য উন্মোচন:
শাবাশ বাংলার বিজ্ঞানীরা

- ইফতেখার মাহমুদ | তারিখ: ২০-০৯-২০১২


পাটের জীবনরহস্য উন্মোচনকে বলা হয়েছিল স্বপ্নযাত্রা। জিন বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে দেশের বিজ্ঞানীরা এবার ওই যাত্রাপথের মধ্যগগনে পৌঁছেছেন। পাটসহ বিশ্বের ৫০০টি উদ্ভিদের অন্যতম শত্রু ছত্রাকের জীবনরহস্য উন্মোচন করেছেন তাঁরা। অর্থাৎ ছত্রাক কীভাবে ফসলের জৈব উপাদান নষ্ট করে, উৎপাদন কমিয়ে দেয়, বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা সেই সূত্র বা রহস্য বের করেছেন। 
ম্যাক্রোফমিনা ফাসিওলিনা নামের ওই ছত্রাকের আক্রমণে দুনিয়াজুড়ে ৫০০টি উদ্ভিদের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ছত্রাকের আক্রমণে শুধু পাটের উৎপাদনই ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ কমে যেতে পারে। ছত্রাক কীভাবে ফসলের ক্ষতি করে তা জানতে বিশ্বের বড় বড় বিজ্ঞানী বছরের পর বছর চেষ্টা করে গেলেও এ সম্পর্কে জানতে পারেননি।
মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে বিজ্ঞানীদের দল সেই অজানা রহস্যের সূত্র খুঁজে পেয়েছে। এখন স্বপ্নের পথ বেয়ে মূল গন্তব্যে পৌঁছানোর পালা। অর্থাৎ ছত্রাকের আক্রমণ সহ্য করে টিকে থাকতে পারে এমন জাত উদ্ভাবন করে কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়া।
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের সম্পদের অপ্রতুলতা আছে। কিন্তু এ ধরনের গবেষণার ক্ষেত্রে আমরা অর্থ দিতে কার্পণ্য করিনি।’ এই গবেষণার সাফল্যকে কৃষকের দরজায় পৌঁছে দিতে সরকার সম্ভাব্য সব কিছু করবে বলে জানান তিনি।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের পাটবিষয়ক মৌলিক ও ফলিত গবেষণা প্রকল্পের আওতায় মাত্র এক বছরের মাথায় দেশের বিজ্ঞানীরা এই অভাবনীয় সফলতা পেলেন। বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটে এই প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত একটি গবেষণা কেন্দ্রে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা এই যুগান্তকারী কাজটি সম্পন্ন করেছেন। গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সফলতার খবরটি জাতীয় সংসদে ঘোষণা করেন। আর বিশ্বের বিজ্ঞানবিষয়ক অন্যতম প্রভাবশালী সাময়িকী বিএমসি জেনোমিকসও ছত্রাকের জীবনরহস্য উন্মোচনবিষয়ক গবেষণাটি গতকালই প্রকাশ করেছে।
মাকসুদুল আলম তাঁর সর্বশেষ আবিষ্কার নিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে সম্পদের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সরকারি অর্থায়ন, ব্যবস্থাপনা ও লোকবল দিয়ে এ ধরনের সুশৃঙ্খল একটি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা পরিচালনা সারা বিশ্বের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
পাট ও ছত্রাকের জীবনরহস্য উন্মোচন করেই থেমে থাকেনি মাকসুদুলের বিজ্ঞানী দল। এই গবেষণার ফলাফলে যাতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মালিকানা বা পেটেন্ট থাকে তা নিশ্চিত করার পথেও তাঁরা অনেক দূর এগিয়েছেন। পাটের ওপর দুটি ও ছত্রাকের ওপর তিনটি গবেষণার পেটেন্ট (কৃতিস্বত্ব) দাবি করে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে। এই পাঁচটি গবেষণার পেটেন্ট পেতে ওই প্রকল্পের আওতায় তিনজন ব্যারিস্টার কাজ করছেন।
শুধু তা-ই নয়, অল্প পানিতে ও দ্রুত পাটের আঁশ জাগ দেওয়া বা পচানোর মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী করার জন্য গবেষণা শুরু করে দিয়েছেন তাঁরা। তবে এর সুফল কৃষক পর্যায়ে পৌঁছাতে দেশবাসীকে আরও কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে বলে এই বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। এই ছত্রাকটি ধান, গম, ভুট্টা, সয়াবিন, তুলা, যবের মতো বিশ্বের প্রধান ফসলগুলোরও অন্যতম শত্রু। 
জীবনরহস্য উন্মোচনের মাধ্যমে ওই ছত্রাক ফসলের শরীরে প্রবেশ করে কীভাবে তাদের প্রোটিনসহ অন্যান্য জীবনীশক্তি নষ্ট করে, তার রহস্য খুঁজে পাওয়া গেছে। ফলে এই দিক থেকে গবেষণাটিকে বৈশ্বিকভাবেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। বিশ্বের তিনটি ফসল, চারটি জীবাণুসহ মোট ১৯টি জীবের জীবনরহস্য উন্মোচনের নেতৃত্বে ছিলেন এই কৃতী বিজ্ঞানী। যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে পেঁপে, মালয়েশিয়ার হয়ে রাবার ও বাংলাদেশের হয়ে পাটের জীবনরহস্য উন্মোচনের মধ্য দিয়ে মাকসুদুল শুধু দেশে নয়, বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। 
পাটের জীবনরহস্য উন্মোচনের গবেষণার সফলতার পর মাকসুদুল আলম ২০১০ সালের নভেম্বর থেকে পাটবিষয়ক মৌলিক ও ফলিত গবেষণা প্রকল্পের কাজে হাত দেন। ২০১৩ সাল পর্যন্ত মেয়াদের ৬৬ কোটি টাকার এ প্রকল্পের প্রধান গবেষক হিসেবে তাঁর জন্য প্রতি মাসে পারিশ্রমিক হিসেবে ১৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ পৌনে ছয় কোটি টাকা শুধু মাকসুদুল আলমের পারিশ্রমিক হিসেবে ধরা হয়েছিল। কিন্তু মাকসুদুল সেই টাকা নিতে রাজি হননি। বিনা পারিশ্রমিকে গবেষণার পুরো কাজটি করে দিয়েছেন তিনি।
দেশের জেনোম গবেষণার পথিকৃৎ মাকসুদুল আলম ও তাঁর সঙ্গী বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পাট ও ছত্রাকের জীবনরহস্য উন্মোচন দেশের অর্থনীতির ইতিহাসকেই বদলে দিতে পারে। ষাট ও সত্তর দশকেও বাংলাদেশের মতো অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল ব্রাজিল ও মালয়েশিয়ার। উন্নত মানের রাবার চাষ করে মালয়েশিয়া, কফি ও লেবুর আবাদ করে ব্রাজিল তাদের অর্থনীতিকে মজবুত করে। কৃষি খাতের এই উদ্ভাবনের ওপর ভিত্তি করেই এই দুই দেশের অর্থনীতি আজ বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। 
গবেষক দলের প্রধান মাকসুদুল আলম এ ব্যাপারে প্রথম আলোকে বলেন, ‘একসময় বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার বড় অংশ আসত পাট থেকে। পাটের ওপর ভিত্তি করে এ দেশের অর্থনীতির প্রাথমিক বুনিয়াদ তৈরি হয়েছিল। আমাদের পাট এবং পাটের প্রধান শত্রু ছত্রাকের জীবনরহস্য উন্মোচনের মধ্য দিয়ে আমরা আবারও পাটের সেই স্বর্ণালী দিন ফিরিয়ে আনতে পারব। সেই স্বপ্নের গন্তব্যে পৌঁছাতে আরও কিছুকাল অপেক্ষা করতে হবে।’
পাট ও ছত্রাকের জীবনরহস্য উন্মোচনকারী বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ২০ বছর আগে দেশের বিজ্ঞানীরা সাদা আঁশের পাটের একটি লাইন (জাত তৈরির আগের পর্যায়) উদ্ভাবন করেছিলেন। এই ধবধবে সাদা আঁশযুক্ত পাটের আঁশ ব্যবহার করতে প্রক্রিয়াজাত (ব্লিচিং) করার দরকার হয় না। প্রক্রিয়াজাত ছাড়াই এটি সরাসরি কাপড় বা অন্যান্য সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহার করা যায়।
পরিশোধন করতে না হলে পাটের উৎপাদন-ব্যয় হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি পাটের বর্জ্য থেকে পরিবেশের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে না। এই জাতকে ঘিরে বিজ্ঞানীরা এমনটাই আশা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু লাইন থেকে জাত তৈরি করতে গিয়েই লাগল বিপত্তি। ধবধবে সাদা আঁশের ওই পাট দেশবাসীর মনে আশার ঝিলিক দিয়ে আবার হতাশায় ডুবিয়ে দিয়েছিল। ওই পাটের জাতটি বড় হওয়ার আগেই ছত্রাকের আক্রমণে কাণ্ডপচা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। পাটের সাদা আঁশ দিয়ে সরাসরি কাপড় তৈরির সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। 
পাটবিষয়ক মৌলিক ও ফলিত গবেষণা প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ওই সাদা পাটের জাতকে ছত্রাকসহিষ্ণু করার কাজটাই শুরু করতে যাচ্ছেন তাঁরা। ওই জাতের ওপর আক্রমণকারী ছত্রাকটির ব্যবহূত হাতিয়ার ও তা ব্যবহারের কলাকৌশল এর জীবনরহস্য উন্মোচনের মাধ্যমে জানা গেছে। 
গবেষকেরা জানিয়েছেন, প্রচলিত পদ্ধতির গবেষণা আমাদের অনেক নতুন নতুন ফসলের উচ্চফলনশীল জাত উপহার দিয়েছে। এসব জাতের আশানুরূপ ফলন বাড়ানো আর সম্ভব হচ্ছে না। কারণ ফসলের জাত উন্নয়নের প্রচলিত পদ্ধতির সক্ষমতার প্রায় পুরোটা ব্যবহার হয়ে গেছে। একমাত্র জেনোম গবেষণার মাধ্যমে নতুন জাত উদ্ভাবন করা যাবে, যার মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বহুগুণ বাড়ানো যাবে। 
বাংলাদেশ আরও কী পাবে: পেটেন্ট পাওয়া গেলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে বাংলাদেশে উদ্ভাবিত পাটের জাত ও ছত্রাক প্রতিরোধক ফসল চাষ করতে হলে বাংলাদেশকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে অর্থ দিতে হবে। যেমন মাইক্রোসফট কোম্পানির সফটওয়্যার ব্যবহারকারী বিশ্বের প্রতিটি কম্পিউটার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে মেধাস্বত্ব বাবদ অর্থ দিতে হয়। ভারত ইতিমধ্যে নিমের পেটেন্টের জন্য আবেদন জমা দিয়েছে। পাট ও ছত্রাকের পেটেন্ট দাবি করে বাংলাদেশই প্রথম আবেদন জমা দিয়েছে বলে জানা গেছে। 
মাকসুদুল আলম এ ব্যাপারে প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা এত দিন জেনোমবিষয়ক যাবতীয় তথ্য উন্নত বিশ্বের তথ্যভান্ডার থেকে শুধু সংগ্রহই করে গেছে। কিন্তু এখন সে তথ্যভান্ডার সমৃদ্ধ করতে আমরাও অংশ নিলাম। বিশ্ব দেখবে আমরা শুধু তথ্য নিই না, দিতেও পারি।



Thursday, October 6, 2011

ব্রির সাফল্য : খরা লবণাক্ততা ঠাণ্ডা প্রতিরোধী তিনটি উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন

ব্রির সাফল্য : খরা লবণাক্ততা ঠাণ্ডা প্রতিরোধী তিনটি উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন

- আশরাফ আলী
দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ‘ব্রি’ আরো তিনটি নতুন উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে। খরা, লবণাক্ততা, ঠাণ্ডা ও রোগবালাই প্রতিরোধী ব্রি ধান৫৫, ব্রি ধান৫৬ এবং ব্রি ধান৫৭ নামে এই জাতগুলো ইতোমধ্যে অবমুক্ত করা হয়েছে। উদ্ভাবিত এ জাত তিনটিসহ ব্রির এ যাবৎ নতুন জাতের ধান উদ্ভাবনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০টিতে। এর বাইরে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্রি ধান২৯ জাতে ভিটামিন ‘এ’, উৎপাদনকারী জিন সংযোজন করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্রি ধান৫০-এর (বাংলামতি) উদ্ভাবন ব্রির আরেকটি বড় অর্জন। এসব ধানের জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে অদূরভবিষ্যতে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুষ্টির পাশাপাশি শরীরের জন্য অতি প্রয়োজনীয় উপাদানের চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে।
ব্রি সূত্র জানিয়েছে, এ পর্যন্ত চারটি হাইব্রিডসহ মোট ৬০টি উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এসব ধান সনাতন ধানের জাতের তুলনায় দু-তিন গুণ বেশি ফলন দেয়। বর্তমানে দেশের প্রায় ৮০ ভাগ জমিতে ব্রি উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ধানের চাষাবাদ করা হচ্ছে। দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ ভাগই আসছে ব্রি উদ্ভাবিত এসব জাতের ধান থেকে। এর ফলে দেশে আবাদি জমি কমে যাওয়া সত্ত্বেও চার দশক আগের তুলনায় ধান উৎপাদন বেড়েছে তিন গুণ।
ব্রির গবেষকেরা জানান, ব্রি ধান৫৫ বোরো মওসুুমে দেশে জনপ্রিয়তায় শীর্ষে থাকা ব্রি ধান২৮ জাত থেকে পাঁচ দিন নাবী। অর্থাৎ বোরোতে এর জীবনকাল ১৪৫ দিন। হেক্টরে এক টন বেশি ফলন দেবে। অন্য দিকে আউশ মওসুমে এর জীবনকাল ব্রি ধান২৭-এর চেয়ে ১০ দিন আগাম অর্থাৎ ১০৫ দিন। হেক্টরে সাড়ে চার থেকে পাঁচ টন ফলন দিতে সক্ষম। এর চাল চিকন ও লম্বাটে। এ জাত মধ্যম মানের লবণাক্ততা, খরা ও ঠাণ্ডা সহ্য করতে পারে। এতে রোগবালাই প্রচলিত অন্যান্য জাতের চেয়েও কম হয়।
ব্রি ধান৫৬-এর জীবনকাল বিনা ধান৭-এর চেয়ে পাঁচ দিন এবং ব্রি ধান৩৩-এর চেয়ে প্রায় ১০ দিন আগাম অর্থাৎ ১১০ দিন। এটি একটি খরা সহনশীল জাত। প্রজননপর্যায়ে সর্বোচ্চ ১০-১২ দিন বৃষ্টি না হলেও ফলনের তেমন কোনো ক্ষতি হয় না। এটি রোপা আমনের জাত। খরা প্রবণ এলাকায় চাষাবাদের উপযোগী এ জাত হেক্টরে সাড়ে চার থেকে পাঁচ টন ফলন দিতে সক্ষম।
অনুরূপভাবে ব্রি ধান৫৭ দেশে খরা প্রবণ এলাকায় স্বল্পমেয়াদি (১০৫ দিন) জীবনকালসম্পন্ন জাত হিসেবে ফলন পরীক্ষায় সনে-াষজনক প্রমাণিত হয়েছে। উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে রোপা আমনের এ জাত হেক্টরে চার থেকে সাড়ে চার টন পর্যন- ফলন দিতে সক্ষম। ব্রি ধান৫৭-এর চালের আকার-আকৃতি প্রচলিত জিরাশাইল ও মিনিকেট চালের মতো। এর জীবনকাল আগাম উফশী জাত বিনা ধান৭-এর চেয়ে ১০ দিন এবং ব্রি ধান৩৩-এর চেয়ে প্রায় ১৫ দিন কম।
ব্রি সূত্র জানায়, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্রি ধান২৯ জাতে ভিটামিন ‘এ’ উৎপাদনকারী জিন সংযোজন করা হয়েছে। পাশাপাশি অধিক আয়রন ও জিঙ্কসমৃদ্ধ কৌলিক সারি চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ধানের সমপ্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশ অদূরভবিষ্যতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুষ্টির পাশাপাশি শরীরের জন্য অতি প্রয়োজনীয় এসব উপাদানের চাহিদাও অনেকখানি পূরণ হবে।
এ ছাড়া ব্রি ধান৫০ (বাংলামতি)-এর উদ্ভাবন ব্রির আরেকটি বড় সামপ্রতিক অর্জন। এটি বোরোধানের জাত। এর জীবনকাল ১৫৫ দিন এবং গড় ফলন হেক্টরে সাড়ে ছয় টন। ব্রি এই প্রথমবারের মতো বোরো মওসুমের উপযোগী একটি সুগন্ধি ধানের জাত উদ্ভাবনে সফল হয়েছে। সাধারণত আমন মওসুমে সুগন্ধি ধানের চাষ হয়ে থাকে। এ দিক থেকে ব্যতিক্রমধর্মী বাংলামতি ধানের চালের আকার পাকিস্তান ও ভারতের বাসমতি চালের অনুরূপ এবং ফলনও হেক্টরে এক টন বেশি।
এ দিকে গত এক বছরের গবেষণা কার্যক্রমের পাশাপাশি দেশের জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের চার দশকের অর্জন ও অগ্রগতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরতে আগামী রোববার থেকে ব্রির বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালা শুরু হচ্ছে। ওই কর্মশালায় ‘গবেষণা অগ্রগতি ২০১০-১১’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস'াপন করবেন ব্রির পরিচালক (গবেষণা) ড. মো: খায়রুল বাশার।
ওইদিন সকাল ১০টায় গাজীপুরে ব্রি মিলনায়তনে এ উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব সি কিউ কে মুসতাক আহমদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপসি'ত থাকবেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপসি'ত থাকবেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. ওয়ায়েস কবীর ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো: হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে ব্রির মহাপরিচালক ড. এ কে জি মো: এনামূল হক সভাপতিত্ব করবেন। এতে বিএআরসি, ডিএই, ইরিসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস'া, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কৃষকসহ তিন শতাধিক প্রতিনিধি যোগ দেবেন বলে গতকাল ব্রির প্রকাশনা ও জনসংযোগ বিভাগের প্রধান ও প্রযুক্তি সম্পাদক এম এ কাসেম জানান।
Source: http://www.dailynayadiganta.com, ৬ অক্টোবর ২০১১

Sunday, September 4, 2011

এক রোপণে দুই ফসল

এক রোপণে দুই ফসল

লেখক: নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, মৌলভীবাজার |

কৃষকদের জন্য একই চাষাবাদে দু’বার ফসল উত্পাদন একটি ব্যতিক্রমী মাত্রা যুক্ত হয়েছে। কেটে ফেলা ধানের মোথা থেকে দ্বিতীয়বার ধান উত্পাদনের উদ্ভাবন করেছেন বিশিষ্ট জিন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী।

২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে জিন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের নিজ গ্রাম কানিহাটি এলাকার ২৫ বর্গমিটারের একটি প্রদর্শনী ক্ষেতে বোরো ধানের চারা রোপণ করেন। সঠিকভাবে সেচ ও পরিচর্যা করে ১৩০ দিনের মধ্যে ৮৫ সেন্টিমিটার থেকে ১ মিটার উচ্চতার গাছে প্রথমবারের মত ফসল বেরিয়ে আসে। আর এই সময়ের মধ্যেই মাটি থেকে ৩৫ সেন্টিমিটার উচ্চতায় পরিকল্পিতভাবে ধান কেটে নিতে হয়েছে। কোনো প্রকার চাষাবাদ ছাড়াই প্রথম দফা ধান কেটে নেয়ার পর ধানের মোথায় পরিমাণমত ইউরিয়া সার প্রয়োগ করে মাত্র ৫২ দিনের মাথায় দ্বিতীয়বারের মত ফসল উত্পাদন করা হয়। প্রথম বারের নতুন ধান কেটে নেয়ার পর দেখা গেছে হেক্টরপ্রতি এ ধান উত্পাদন হয়েছে ৬.৪ মেট্রিক টন এবং দ্বিতীয়বার চাষাবাদ বিহীন ধানের মোথায় বিঘাপ্রতি মাত্র ৩শ’ টাকার ইউরিয়া সার প্রয়োগ করে হেক্টরপ্রতি ধান উত্পাদন হয়েছে ৩ মেট্রিক টন। যেখানে সরকারি হিসাব অনুযায়ী হেক্টরপ্রতি ধান উত্পাদন হয়ে থাকে ৩ থেকে ৪ মেট্রিক টন।

জিন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী জানান, বাংলাদেশে সাধারণত কোনো জমিতে এক ফসল, কোনো জমিতে দু’ ফসল আবার কোনো জমিতে তিন ফসলি ধান উত্পাদন হয়ে থাকে। এসব জমিতে প্রতিবারই ধান কেটে নিয়ে নতুন করে

জমি চাষাবাদের পর সার প্রয়োগ করে সেচ দিয়ে ধান উত্পাদন করতে হয়। এসব ধান কেটে নেওয়ার পর জমিতে দাঁড়িয়ে থাকা ধানের মোথা থেকে হালকাভাবে চিটা মিশ্রিত কিছু ধান উত্পাদন হয়ে থাকে। তিনি মনে করেন তার উদ্ভাবিত এ ধানকে কৃষকরা ব্যাপকহারে চাষাবাদ করলে মঙ্গা বা নিধানের ধান হিসেবে আখ্যায়িত করা যাবে। আবেদ চৌধুরীর নতুন উদ্ভাবিত এ ধানের কোনো নাম এখনো দেয়া হয়নি। তবে শুধুমাত্র সাংকেতিক নম্বর দিয়ে রাখা হয়েছে। কৃষকরা সাধারণত ক্ষেতে ধানের যে চারা রোপণ করেন তার উচ্চতা থাকে ১০ সেন্টিমিটারের মত। জিন বিজ্ঞানীর উদ্ভাবিত ধানগাছ গোড়ায় না কেটে ৩৫ সেন্টিমিটার উপরে কেটে ফেলায় ক্ষেতের মাঝে বেশ উচ্চতার ধানগাছ থেকে যায়। বোরো ধান কেটে নেওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে বন্যা হয়ে থাকে। তখন ক্ষেতে থাকা নতুন উদ্ভাবিত এ ধানগাছ বন্যা প্রতিরোধেও কাজ করবে।

ড. আবেদ চৌধুরীর উদ্ভাবিত ধানের চারা একটি করে কিছু জায়গা নিয়ে (৫ সেন্টিমিটার দূরত্বে) রোপণ করা হয়। ফলে রোপিত একটি ধানগাছ মাটি থেকে ভালভাবে শক্তি নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে এবং একটি ধানগাছ থেকে আরো বেশ কয়েকটি ধানগাছ গজাতে থাকে। ১৩০ দিনের মধ্যে প্রথম ফসল সংগ্রহকালে সতর্কতার সাথে ৩৫ সেন্টিমিট ার উপরে কেটে নিলে গোছায় (ধানের গোড়ায়) অপেক্ষমান ঘুমন্ত অন্যান্য গাছগুলো থেকে মাত্র ৫২ দিনের মাথায় দ্বিতীয় বার ফসল বেরিয়ে আসে। আর এ জন্য জমিতে নতুন করে কোনো চাষ না দিয়েই বিঘাপ্রতি মাত্র ৩শ’ টাকার সার প্রয়োগ করলে

সফলভাবে দ্বিতীয় ফসল পাওয়া যায়। এসময়ে ধানক্ষেতে পোকার আক্রমণ কম হয় এবং কীটনাশক ব্যবহারও করতে হয় কম। ড. আবেদ চৌধুরী পরীক্ষামূলকভাবে একই জমিতে প্রথমবার ফসল কেটে কোনো চাষাবাদ ছাড়াই দ্বিতীয় ফসল উত্পাদনে সক্ষম হয়েছেন।

Source: Daily Ittefaq

Saturday, April 30, 2011

ব্রি উদ্ভাবিত ঘাস কাটার যন্ত্র

ব্রি উদ্ভাবিত ঘাস কাটার যন্ত্র- মনিরুজ্জামান কবির

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট একটি নতুন ধরনের ঘাস কাটার যন্ত্র উদ্ভাবন করেছে। যন্ত্রটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, পার্ক, বোটানিক্যাল গার্ডেন, জেলা এবং উপজেলা পরিষদ, সার্কিট হাউস, স্কুল, কলেজ, আধুনিক ভবন, অবকাশ কেন্দ্র, পার্ক, হোটেল-মোটেলের আঙিনা, প্রবেশপথ এবং রাস্তার দুধারের ঘাস কাটার জন্য খুবই উপযোগী। যন্ত্রটির ঘাস কাটার ক্ষমতা প্রচলিত ঘাস কাটার যন্ত্রের চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি। ব্রি ঘাস কাটা যন্ত্রটি দামে সস্তা এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী।বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের খামার যন্ত্রপাতি ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের প্রধান মাহবুবুল আলম জামী এটি উদ্ভাবন করেছেন। যন্ত্রটি ঘণ্টায় ১.৮ বিঘা জমির ঘাস কাটতে পারে। যন্ত্রটির কর্তন বেস্নডের ব্যাস ৩২ ইঞ্চি বিধায় অল্প সময়ে অধিক পরিমাণ জমির ঘাস কাটে। স্বচালিত এ যন্ত্রটিতে জ্বালানি হিসেবে ডিজেল ব্যবহার করা হয়। এতে জ্বালানি ব্যয় হয় ঘণ্টায় ০.৫ থেকে ০.৭ লিটার, যার বাজার মূল্য বর্তমানে ২৪ থেকে ২৮ টাকা। পক্ষান্তরে বিদেশ থেকে আনা ঘাস কাটা যন্ত্র পেট্রোল, গ্যাসোলিন দিয়ে চালাতে হয় বলে খরচ অনেক বেশি লাগে। দেশের যেকোনো ওয়ার্কশপে তা নির্মাণ ও মেরামত সম্ভব হয় না। অথচ ব্রি ঘাস কাটা যন্ত্রের যন্ত্রাংশগুলো সাধারণ বলে দেশের যেকোনো ওয়ার্কশপে নির্মাণ ও মেরামত সম্ভব। যন্ত্রটি তৈরি প্রসঙ্গে গবেষক মাহবুবুল আলম জামী বলেন, ব্রি মাঠগুলোর সৌন্দর্য বজায় রাখার জন্য ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায় বিদেশ থেকে আনা ঘাস কাটা যন্ত্রগুলো তিন থেকে চার মাস ব্যবহারের পর নষ্ট হয়ে গেলে ব্রি ওয়ার্কশপে নিয়ে আসা হতো। কিন্তু বাজারে এর যন্ত্রাংশ না পাওয়ায় মেরামত সম্ভব হতো না। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তিনি অটোক্যাড প্রোগ্রামিংয়ে নিজস্ব ডিজাইন অনুযায়ী ব্রি ওয়ার্কশপে এটি তৈরি করেন। সমপ্রতি ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. নূর-ই-এলাহী, পরিচালক (গবেষণা) ড. এম এ ছালাম, পরিচালক (প্রশাসন) ডা. বি এ এ মুস্তাফিজ ও ব্রির বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানদের উপস্থিতিতে ব্রি খেলার মাঠ এবং ব্রি প্রগতি স্কুল মাঠে যন্ত্রটির মাঠ দক্ষতা যাচাই করা হয়। এর মাঠ দক্ষতা চমৎকার বলে উপস্থিত সবাই মন্তব্য করেন। সমপ্রতি অনুষ্ঠিত ব্রি বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা সভায় উপস্থাপন করলে ব্রির মহাপরিচালক ও বিজ্ঞানীরা এর ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ প্রসঙ্গে জামী জানান, কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির মাধ্যমে এটি বাজারজাত করা হবে।কারিগরি বিষয়ব্রি ঘাস কাটা যন্ত্রটির কারিগরি বিষয় বেশ সহজ। এর বেস্নড সহজেই পরিবর্তনযোগ্য। এটি ঘূর্ণন গতিতে কাজ করে। এর ঘূর্ণন গতি ১২৫০ আরপিএম। এটি চার অশ্বক্ষমতাসম্পন্ন ডিজেলচালিত ইঞ্জিন বিধায় ওজনে হালকা, এর মাঠ ক্ষমতা ০.২৪৩ হেক্টর/ঘণ্টা, মাঠ দক্ষতা প্রায় ৮৭ শতাংশ।এটি ভূমি থেকে ৪-৬ সেন্টিমিটার উচ্চতায় ঘাস কাটে। এর জ্বালানি খরচ মাত্র ০.৫-০.৭ লি/ঘণ্টা। এর সম্মুখ ৩.৫ কিলোমিটার/ঘণ্টা বলে হেঁটে হেঁটে চালানো সম্ভব।বিশেষ সুবিধা : মাঠে ঘাস কাটার ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশি, জ্বালানি খরচ কম, ওজনে হালকা, যেকোনো ওয়ার্কশপে মেরামত করা সম্ভব, মেরামত খরচ কম।Source: http://www.jjdin.com৩০ এপ্রিল ২০১১


যোগাযোগের ঠিকানা


মহাপরিচালক
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি),
জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০১।
ই-মেইলঃ dg@brri.gov.bd, brrihq@yahoo.com
ফোন নং-  ৮৮০-২-৯২৯৪১১৭-২১
ফ্যাক্স নং-  ৮৮০২-৯২৬১১১০
ওয়েবসাইটঃ www.brri.gov.bd, www.knowledgebank-brri.org

Tuesday, February 15, 2011

উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি প্রযুক্তি "লবণের বাটিতে গাছ"

উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি প্রযুক্তি "লবণের বাটিতে গাছ"

প্রফেসর ড. মো. সদরুল আমিন

আমরা চারা রোপণের পূর্বে গর্তের তলদেশে কয়েক কেজি লবণ দিয়ে যে নারিকেলসহ বেশ কিছু নাট-পাম গাছ লাগাই তা "লবণের বাটিতে গাছ" লাগানোর মতই। দেশের উপকূলীয় কৃষি পরিবেশ অঞ্চল ১৩ থেকে ১৮ এবং ২৩/২৪ মিলে ফসলি জমির প্রায় শতকরা ৩৬ ভাগ অনাবাদি থাকে, যদিও এ মাটির লবণের তীব্রতা মধ্যমেরও কম। পটুয়াখালীর দুমকি এলাকায় আমি হেক্টরে ৪ টন গম, ৭ টন ভুট্টা, ৪৫ টন মিষ্টি আলু, ৩০ টন লাউ, ৩৫ টন মুলা, ৩০ টন টমেটো নিজে উৎপাদন করেছি। এজন্য প্রযুক্তির মধ্যে ছিল মাটির সোডিয়াম, কেলসিয়াম, মেগনেসিয়ামের সালফেট, কার্বনেট/ বাইকার্বনেট লবণসমূহের পারস্পারিক অনুপাত ভিত্তিতে এসএআর, টিএসএস, ইসি এবং পিএইচ বিশেস্নষণ করে মৃত্তিকা পরিচর্যা করা, জমি গভীর চাষ দেয়া ও সুষম সার দেয়া, যা একজন কৃষিবিদ মৃত্তিকা বিজ্ঞানীর দক্ষতার আওতাভুক্ত। তাই উপকূলীয় অঞ্চলের মৃত্তিকা প্রযুক্তি হিসেবে আমি নিম্নরূপ সুপারিশ করছি-

১. একটু লম্বা জাতের ধান (স্থানীয়/উফশী/হাইব্রিড) চাষ করতে হবে; ২. তেল ফসল হিসেবে চিনাবাদাম, তিল ও সূর্যমুখীর চাষ করতে হবে। সূর্যমুখী জাতের মধ্যে হাইব্রিড এসএইচ/কেবিএইচ/পিএসি/সানব্রেড গ্রুপের জাত নির্বাচন করে তাতে বিঘাতে ২৬ কেজি ইউরিয়া, ৮০ কেজি এসএসপি এবং ২৩ কেজি পটাশ সার দিতে হবে। সবজির জন্য জমিতে ভিরিডি পাউডার প্রয়োগসহ উঁচু আইল তৈরি করে তার ঢালে চারা লাগাতে হবে। সকল জমিতে বিঘাপ্রতি ১.৫ থেকে ২ টন জৈব সার এবং ১ থেকে ২ কেজি বোরন সার দিতে হবে।

বাংলাদেশের সাতক্ষীরা থেকে চকোরিয়া মহেশখালী পর্যন্ত কশ মাটিতে (এসিড সালফেট) যে ফসল হয় তা নিতান্তই "লবণের বাটিতে গাছ" লাগানোর মত। বর্ণিত এসব প্রযুক্তি অবলম্বন করে এলাকার বিপুল পরিমাণ জমি আবাদে আনা এবং আবাদকৃত জমির ফসল উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব, এজন্য প্রয়োজন কেবল সরকারের সদিচ্ছা এবং উপযুক্ত মৃত্তিকা প্রযুক্তি নির্বাচন ও প্রতিপালন। দেশের দক্ষিণ এলাকার জন্য ফসল উৎপাদন বাড়ানোর জন্য এ পর্যন্ত অন্তত ১০টি ছোট-মধ্যম প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যার ফাইনাল রিপোর্ট পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায় না, অর্থাৎ সরকারের সদিচ্ছায় দুর্বলতা ছিল। তাই বলছি সরকারের সদিচ্ছা ও যথার্থ মৃত্তিকা পরিচর্যা অবলম্বন করে দেশের উপকূলীয় পশ্চিমাঞ্চলে খাদ্যসহ অনেক ফসল উৎপাদন সম্ভব, যা ভারত থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত উপকূল ও পাশর্্ববতর্ী এলাকার গাছের জন্য প্রজাতিভেদে নূ্যনতম সহনীয় মাত্রার লোনা মাটিতে সম্ভব করা হয়েছে। কেবল খেয়াল রাখতে হবে যে কেউ যেন বাটির লবণ ফেলে দিয়ে সেখানে গাছ লাগিয়ে "লবণের বাটিতে গাছ" লাগানোর কথাটি বলার সুযোগ না পায়।

Friday, February 4, 2011

নাটোরে বিনা চাষে রসুন

নাটোরে বিনা চাষে রসুন

চলতি রবি মৌসুমে নাটোরে বিনা চাষে রসুনের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও প্রায় চার হাজার হেক্টর অতিরিক্ত জমিতে এবার রসুন চাষের আওতায় এসেছে।
১৯৯৫-৯৬ সালে জেলার গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলা এলাকার কৃষকরা স্ব-উদ্যোগে বিনা চাষে রসুনের আবাদ প্রচলন করেন- যা বাংলাদেশে প্রথম। এরপর গ্রামগুলোতে রসুন চাষের জমির পরিমাণ বাড়তে থাকে। পরে গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলার পাশাপাশি অন্য উপজেলাগুলোতে এর চাষাবাদ সমপ্রসারিত হয়।
বিনা চাষে রসুনের চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে গুরুদাসপুরের কাছিকাটা এলাকার কৃষক জেহের আলী বলেন, বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর সাধারণত কার্তিক মাসে নরম জমিতে বিনা চাষে রসুনের কোয়া লাগানো হয়। এতে সেচেরও বেশি প্রয়োজন হয় না। জমিতে আগাছা থাকে কম। তুলনামূলকভাবে সারের ব্যবহারও কম করতে হয়। রোপণের ১২০ দিনের মধ্যে রসুন তোলা যায়। রবি মৌসুমের রসুন উৎপাদন খরচ প্রচলিত চাষাবাদের মাধ্যমে উৎপাদিত রসুনের চেয়ে তুলনামূলকভাবে কম। বিঘাপ্রতি উৎপাদন হয় ২৫ থেকে ৩০ মণ। জেলা কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, ২০০৮-০৯ সালে ৭,৫৫০ হেক্টর এবং ২০০৯-১০ সালে ৯,৩৯০ হেক্টর জমিতে রসুন চাষ হয়। রসুন চাষের পরিধি পর্যায়ক্রমে আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মৌসুমে ১০ হাজার ৭০ হেক্টর জমি চাষাবাদ করে ৬০ হাজার ৪২০ টন রসুন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১৩ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে রসুন চাষ হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, উৎপাদন ৮০ হাজার টন ছাড়িয়ে যাবে। আবাদি জমির মধ্যে ৮ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে বিনা চাষে রসুন এবং অবশিষ্ট জমিতে প্রচলিত পদ্ধতির চাষের মাধ্যমে রসুন আবাদ করা হয়েছে। আবাদি জমির বেশিরভাগ গুরুদাসপুর উপজেলায়।
বিনা চাষে রসুন আবাদ সম্পর্কে শস্য ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত সিংড়া উপজেলার কুমিরা গ্রামের কৃষক জুলফিকার আনাম বলেন, অল্প পরিশ্রমে অল্প ব্যয়ে কৃষকরা বিনা চাষে রসুন আবাদে ঝুঁকছেন। এটি একটি লাভজনক ফসল হিসেবেই আমরা এর আবাদ করে থাকি। পাশাপাশি রসুনের বাজারমূল্য বেশি হওয়ার কারণেও কৃষকদের রসুন আবাদে আগ্রহ আরো বেড়েছে।
নাটোর কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক এম. দেলোয়ার হোসেন বলেন, কৃষকদের মাঝে বিনা চাষে রসুন জনপ্রিয় হওয়ায় কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। রসুনের বাজারমূল্য চড়া হওয়ার কারণে কৃষকরা বেশি মুনাফার আশায় এবার অধিক জমিতে রসুন চাষ করেছেন। কৃষকদের যেকোনো ধরনের সমস্যায় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ তাদের পাশে আছে।
ফারাজী আহম্মদ রফিক বাবন, বাসস

Tuesday, February 1, 2011

এক একর আঙুর বাগান থেকে ৪০ বছরে কোটি টাকা

এক একর আঙুর বাগান থেকে ৪০ বছরে কোটি টাকা

মো. আলী আশরাফ খান
স্বল্প পরিসরে আঙ্গুর চাষের জন্য বাড়তি জায়গার প্রয়োজন হয় না। বসতবাড়ীর আঙ্গিনায় যে স্থানে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত রৌদ্র থাকে অথচ পানি দাঁড়ায় না এমন জায়গা নির্বাচন করে আঙ্গুর চাষ করা যায়। প্রতি ৮০ বর্গফুটে (২.৫০–৩.২৫ মিটার) চারটি আঙ্গুর গাছ লাগানো যায়। যেহেতু আঙ্গুর গাছ ৪০-৫০ বছর বাঁচে সেজন্য লোহা/সিমেন্টের পিলার ও জিআই তার দ্বারা মাচা তৈরী করা উচিত। যদি একর প্রতি ১র্০–র্৮ পদ্ধতিতে ৫৪৪টি গাছ লাগানো যায় এবং প্রতি গাছে বছরে গড়ে কমপক্ষে ৪ কেজি করে আঙ্গুর উত্পাদিত হলে মোট আঙ্গুরের পরিমাণ হবে ২১৭৬ কেজি। বর্তমান বাজারমূল্য প্রতি কেজি ১৫০ টাকা হিসাবে মোট মূল্য দাঁড়াবে ৩,২৬,৪০০ টাকা। এক একর জমিতে আঙ্গুর চাষ করতে খরচ হবে আনুমানিক ১,৫০,০০০ টাকা। খরচ বাদে মোট লাভ দাঁড়াবে ১,৭৬,০০০ টাকা, যা অন্য যে কোনো ফল ও ফসলের তুলনায় বেশ লাভজনক।
ইংরেজিতে Grape এবং এর বৈজ্ঞানিক নাম Vitis Vinifera আঙ্গুর Vitaceae পরিবারভুক্ত। এটা মিষ্ট এবং উপাদেয় ফল। তবে সঠিক পরিচর্যা এবং জমিতে প্রয়োজনীয় উপাদানের অভাবে আঙ্গুরের স্বাদ টকও হতে পারে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে আঙ্গুর চাষের তেমন প্রসার ঘটেনি। সমপ্রতি গাজীপুর জেলার কাশিমপুরে বিএডিসির উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্রের সহযোগিতায় বিভিন্ন স্থানে সীমিত পরিমাণে আঙ্গুরের চাষ হচ্ছে। এদেশের আবহাওয়া এবং জলবায়ু কিছু কিছু জাতের আঙ্গুর চাষের উপযোগী বিধায় এর উত্পাদন বৃদ্ধির উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। আঙ্গুর চাষের জন্য একদিকে যেমন উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়া প্রয়োজন হয়, তেমনি প্রয়োজন অল্প বৃষ্টিসহ শীতল আবহাওয়া। যে সময়ে আঙ্গুরের ফুল আসে সে সময়ে আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে আঙ্গুরের ফলন বেড়ে যায়। শীতকালে আঙ্গুরগাছের পাতা ঝরে পড়ে এবং বসন্তের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন লতাপাতা গজাতে থাকে। এসময় গাছে ফুল আসে এবং কালক্রমে তা ফলে রূপান্তরিত হয়। পরিমিত বৃষ্টিপাত এবং বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা আছে এমন স্থানই আঙ্গুর চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। এছাড়া শুষ্ক এবং উষ্ণ আবহাওয়া অত্যন্ত জরুরি। তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকা উত্তম। তবে সূর্যকরোজ্জ্বল শুষ্ক ও উষ্ণ জলবায়ু আঙ্গুর চাষের জন্য অনুকূল। তবে আঙ্গুর গাছের দৈহিক বৃদ্ধির সময় ঠাণ্ডা জলবায়ু এবং ফল ধারণের সময় শুষ্ক ও উষ্ণ জলবায়ু আবশ্যক। জাতের ভিন্নতাহেতু আঙ্গুর কম-বেশি নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়াতেও জন্মে থাকে।
অপেক্ষাকৃত হালকা দোআঁশযুক্ত লাল মাটি যেখানে বৃষ্টির পানি দাঁড়াতে পারে না অথচ নিষ্কাশন সহজ এমন জমি আঙ্গুর চাষের জন্য নির্বাচন করা উচিত। তাছাড়া জৈবিক সারসহ কাঁকড় জাতীয় মাটি এবং পাহাড়ের পাললিক ভূমিতেও আঙ্গুর চাষ করা যায়। যেহেতু রৌদ্র ব্যতীত আঙ্গুর গাছে ফুল ও ফল ধরে না, সেজন্য ছায়ামুক্ত রৌদ্রজ্জ্বল স্থানই নির্বাচন করা উত্তম।
সারা পৃথিবীতে মোট ১২ ধরনের ৬০০ প্রজাতির আঙ্গুর উত্পাদিত হয়ে থাকে। তন্মধ্যে বেশ কিছু জাত উপমহাদেশীয় জলবায়ুতে লাগসই হওয়াতে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও থাইল্যান্ডে এর চাষ হয়ে থাকে। এসব জাতের মধ্যে উন্নতমানের হলো : (১) থম্পসন (বীজশূন্য), (২) পুসা (বীজশূন্য), (৩) বিউটি (বীজশূন্য), (৪) পারলেট (দু্রত পাকে), (৫) আনার-ই-শাহী, (৬) চিমা সাহেবি, (৭) কালি সাহেবি (কালো), (৮) ভোকাবি, (৯) খলিলি (দ্রুত পাকে), (১০) আর্লি মাস্কাট, (১১) ডিলাইট, (১২) কার্ডিনাল (কালো), (১৩) হোয়াইট মালাগা (থাই) ইত্যাদি। এসব জাতের মধ্যে বীজহীন এবং বীজযুক্ত উভয়ই রয়েছে। বাংলাদেশের আবহাওয়ার উপযোগী জাতের নাম ‘পার্পেল’। এ জাতটি এদেশে সবচেয়ে ভালো জন্মে। চাষের প্রসারতা বাড়ানোর জন্য সঠিক জাত নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আঙ্গুরের বীজ ও শাখা কাটিং দ্বারা বংশবিস্তার করা যায়। ভালো জাতের আঙ্গুর গাছ নির্বাচন করে তা থেকে এক বছরের পুরাতন শাখা যা তামাটে রং ধারণ করছে এমন শাখা থেকে কাটিং করে কলম তৈরি করা যায়। এই পদ্ধতি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য। রোগবিহীন সুস্থ -সবল আঙ্গুর গাছের শাখা বংশবিস্তারের জন্য উপযোগী। শীতকালে অর্থাত্ অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে আঙ্গুর গাছ সুপ্তাবস্থায় চলে যায়। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে শাখা কর্তন পদ্ধতিতে ৩/৪টি গিরাসহ কাটিং করতে হবে, যা লম্বায় ১৩/১৪ সেমি. হবে। কাটিংগুলো একত্রে বেঁধে ২৪ ঘণ্টা ধরে নিচের অংশ উপরের দিক করে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে রাখা উচিত। কারণ কাটার পর থেকে এক ধরনের আঠা নির্গত হয় যা সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লাগালে চারা নাও গজাতে পারে। বীজতলায় কাটিং বসানোর পর এক মাসের মধ্যে চারা উত্পন্ন হয়। মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে উক্ত কলম নির্বাচিত জমিতে রোপণ করা যায়। তবে কলমের জন্য ডাল কেটে নেয়ার পর ভিজে কাপড় দ্বারা ১৫ দিন জড়িয়ে রেখে তারপর বীজতলায় বসালে তাড়াতাড়ি শিকড় গজায়। প্রথমে নির্বাচিত জমিটি উত্তমরূপে চাষ দিতে হবে। তারপর ৭০–৭০–৭০ সেমি. মাপের গর্ত করতে হবে। উক্ত গর্তে ১০ কেজি গোবর, ১০০ গ্রাম ইউরিয়া এবং ১০০ গ্রাম পটাশ একত্রে মিশ্রিত করে খননকৃত মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে উক্ত গর্তটি ভরাট করে দিতে হবে। এভাবে ২০/২৫ দিন উক্ত গর্তটিতে প্রয়োজনানুযায়ী পানি দিতে হবে, যাতে প্রয়োগকৃত সারগুলো পচে যায়। অতঃপর চারা রোপণের জন্য গর্তটি তৈরি হবে। পরে বীজতলা থেকে সংগৃহীত শক্তিশালী একটি চারা এনে উক্ত গর্তে রোপণ করতে হবে। চারাটি সোজাভাবে রোপণ করে একটা লাঠি দ্বারা আটকে দিতে হবে। উক্ত চারার গোড়ায় হালকাভাবে পানি সেচ দিতে হবে।
আঙ্গুর গাছ যেহেতু লতানো সেজন্য এ গাছে প্রচুর সার প্রয়োগের ব্যবস্থা থাকা দরকার। আমাদের এই নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে ৩–৩ মিটার পদ্ধতিতে গাছ লাগানো যায়। রোপণের পর এক মাসের মধ্যে রোপণকৃত গাছ যদি সতেজ না হয় তবে গাছটির গোড়ায় মাটি আলগা করে কিছু পরিমাণ ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে। আবহাওয়াজনিত কারণে বাংলাদেশে আঙ্গুর গাছ রোপণের উত্কৃষ্ট সময় হলো মার্চ ও এপ্রিল মাস। এক থেকে তিন বছরের প্রতিটি গাছে প্রতি বছর ৩ কেজি গোবর সার, ১০ গ্রাম ইউরিয়া ও ১০ গ্রাম পটাশ দিতে হবে। ৫ বছরের উপরে প্রতি গাছে ৫ কেজি গোবর সার ৫০ গ্রাম ইউরিয়া ও ৫০ গ্রাম পটাশ দিতে হবে। পটাশ বেশি দিলে আঙ্গুর মিষ্টি হয় এবং রোগবালাই প্রতিরোধ করে। তাছাড়া প্রতি চার মাস অন্তর অন্তর প্রতি গাছে আধাকেজি করে হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা প্রয়োগ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। আঙ্গুর গাছের ডাল ও কাণ্ড ছাঁটাই করা অতি আবশ্যক। এর ব্যতিক্রম হলে গাছের ফলন অনেক কমে যায়। আঙ্গুর গাছের নতুন ডালে ফুল ও ফল ধরে বিধায় সময়মত এর অঙ্গ ছাঁটাই না করলে ফুল ও ফল ধরবে না। আঙ্গুর গাছের ফল বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। ছাঁটাইয়ের আগে বা পরে সেচ দেয়ার প্রয়োজন নেই। গাছ রোপণের পর থেকে মাচায় ওঠা পর্যন্ত প্রধান কাণ্ড ছাড়া অন্যসব পার্শ্বশাখা ছেঁটে ফেলতে হবে।
ক) প্রথম ছাঁটাই : মাচায় কাণ্ড ওঠার পর ৩৫-৪০ সেমি. লম্বা হলে প্রধান কাণ্ডের শীর্ষদেশ কেটে দিতে হবে, যাতে ওই কাণ্ডের দু’দিক থেকে দুটি করে ৪টি কাণ্ড গজায়।
খ) দ্বিতীয় ছাঁটাই : উক্ত ৪টি কাণ্ড দু’দিকে বড় হতে থাকবে এবং ১৫-২০ দিন পর যখন কাণ্ডগুলো ৪৫-৬০ সেমি. পর্যন্ত লম্বা হবে তখন উক্ত ৪টি কাণ্ডের শীর্ষদেশ কেটে দিতে হবে, যাতে প্রতিটি শাখার দু’দিক থেকে আগের মতো ২টি করে ৪টি কাণ্ড গজায় । এভাবে মোট ১৬টি কাণ্ড গজাবে।
গ) তৃতীয় ছাঁটাই : এবার ওই ১৬টি কাণ্ড ১৫-২০ দিন পর যখন প্রতিটি ৪৫-৬০ সেমি. লম্বা হবে তখন পুনরায় শীর্ষদেশ কেটে দিতে হবে, যাতে করে প্রতিটি শাখার দু’দিকে দুটি করে ৪টি কাণ্ড এবং এভাবে ১৬টি শাখা থেকে সর্বমোট ৬৪টি কাণ্ড গজাবে। অনেক সময় গাছের দুর্বলতার কারণে ৬৪টি কাণ্ড নাও পাওয়া যেতে পারে। কাণ্ড গজানোর পর দুর্বল কাণ্ডগুলো মারা যেতে পারে। ফলে ৪০-৫০টি সতেজ কাণ্ড থাকে এবং এর প্রশাখার ৩/৪টি গিরার মধ্যেই ফুল ও ফল ধরবে। পরবর্তী সময়ে ছাঁটাইয়ের সময় খুব সাবধানে কাণ্ড কর্তন করতে হবে, যাতে ৫ম গিরার পর ছাঁটাই হয়, অন্যথায় আঙ্গুর ধরবে না। আঙ্গুরের জাতের ভিন্নতার কারণে অনেক গাছে ৫ম ও ৬ষ্ঠ গিরাতেও আঙ্গুর ধরে। এমতাবস্থায় ৭ম গিরার পর ছাঁটাই করতে হবে।
এ ছাঁটাই পদ্ধতিতে কলম রোপণের ৬৫-৭৫ দিনের মধ্যেই গাছে ফুল এসে যায় এবং তাতে আঙ্গুর ধরে। ফুল থেকে আঙ্গুর পাকা পর্যন্ত সময় লাগে ১১০-১২৫ দিন। প্রথম বছর ফল পাওয়ার পর শাখাগুলোকে ১৫-২০ সেমি. লম্বা রেখে শীতের প্রারম্ভেই ছেঁটে দিতে হবে। ফলে বসন্তের প্রাক্কালে নতুন শাখা গজাবে এবং ফুল ধরবে। এই পদ্ধতি ৩-৪ বছর পর্যন্ত চলবে। অতঃপর বেশি ফুল ও ফল পাওয়ার জন্য মূল কাণ্ডটিকে সামান্য গোড়া খেকে ছেঁটে দিলে আবার নতুন কাণ্ড ও শাখা গজাবে এবং তাতে ফুল ও ফল ধরবে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে হলে ফোন করা যেতে পারে : মোবাইল নং-০১৭১০৪০৭০৭৪, ০১১৯৯৪২৫৫২৩, ০১৯১১৪০৫৩৬৬, লেখক : কবি, ছড়াকার, প্রাবন্ধিক, গবেষক, গ্রন্থাকার ও প্রধান নিরীক্ষা কর্মকর্তা, বিসিক, প্রধান কার্যালয়, ঢাকা। E-mail: asraf.khan98@yahoo.com

শ্রীবরদীতে নতুন প্রযুক্তিতে কৃষি ক্ষেত্রে সাফল্য

শ্রীবরদীতে নতুন প্রযুক্তিতে কৃষি ক্ষেত্রে সাফল্য

- রেজাউল করিম বকুল শ্রীবরদী (শেরপুর)

এক বছর আগেও বেকারত্বের অভিশাপ জেঁকে বসেছিল হরলাল রায়ের পরিবারে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন হরলাল। তিনি মাঝে-মধ্যেই যেতেন শ্বশুরবাড়ি নিলফামারীতে। তিনি নিলফামারীতে এক কৃষকের কাছ থেকে আপেল আর বাউকুলের কলম (চারা) এনে শুরু করেন চাষাবাদ। মাত্র ৫০ শতাংশ জমিতে কুলের বাগান করে গত বছর চাষাবাদের ব্যয় মিটিয়েও লাভ করেন ৪০ হাজার টাকা। তার এ সাফল্য দেখে স্থানীয় উপজেলা কৃষি অধিদফতর ও জেলা কৃষি অধিদফতরের কর্মকর্তারা তার কুলের বাগান পরিদর্শন করে নানা দিক থেকে সহায়তা দিচ্ছেন। ফলে এবার তার কুল বাগান থেকে লক্ষাধিক টাকা আয় হবে বলে আশা করেছেন তিনি। এ যুবকের বাড়ি শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমুল গ্রামে। এখন তাকে এলাকার মানুষ বড়ই চাষী বলেই চেনে। কর্ণঝোরার জহির রায়হান, বাবেলাকোনার ভূপেন্দ্র মাস্টার, রাঙ্গাজানের ব্রতিন মারাক, তাতিহাটির জামাল উদ্দিনসহ অনেক কৃষকই আপেল কুল, বাউকুল, লিচু, বাঁশ, কমলা, লেবু, পেঁপেসহ বিভিন্ন জাতের শাক-সবজির চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে। শ্রীবরদী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আয়তন ২৫২ বর্গকিলোমিটার। তন্মধ্যে লোকসংখ্যা ৩ লাখ ৫০ হাজার ৭৯১ জন। এতে নিট আবাদি জমি ১৯ হাজার ২২৮ হেক্টর। বনবিভাগ রয়েছে ১ হাজার ২২৮ হেক্টর। এতে কৃষির উপর নির্ভরশীল ৫৫ হাজার ৬৩৩টি পরিবার। নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কারণে অনেক কৃষকই ধান চাষাবাদের পরিবর্তে গম, গোল আলু, আখ, সরিয়া, শাক-সবজি, আপেল, পেঁপে ও মাছ চাষসহ বিভিন্ন চাষাবাদে নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। এতে সাফল্যও পাচ্ছেন তারা। নইলের পাড় গ্রামের কৃষক আমের আলী, সোহরাব আলী, কুমর উদ্দিন, আব্দুল জলিলসহ অনেকে জানান, এ গ্রামে এখন ধান চাষাবাদের পরিবর্তে নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে মাছ চাষাবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েছে অনেকে। কারণ হিসেবে তারা বলেন, ধান চাষাবাদের চেয়ে কম খরচে অল্প সময়ে মাছ চাষাবাদ করে বেশি লাভ পাওয়া যায়। তাই কৃষকরা মাছ চাষ বেশি করছেন।
গারো পাহারের রাঙ্গাজান গ্রামের বাসন্তি মারাক, গোলাপ হোসেন, নিলারাণীসহ অনেকে জানান, তাদের বাড়ি পাহাড়ি টিলায়। বছরের কোনো মৌসুমে তাদের জমিতে কোনো ফসল করা যেত না। কিন্তু নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কারণে এখন তাদের এলাকায় বাঁশ, কলা, আনারস, লেবু, শিমুল আলু, পেঁপে, লেবু, লটকন ইত্যাদির চাষাবাদ বেড়ে গেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এফএম মোবারক আলী বলেন, মাত্র ৩/৪ বছরের ব্যবধানে উপজেলায় নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবনে চাষাবাদে বিপ্লব ঘটেছে। সম্প্রতি এ ব্যাপারে তথ্যানুসন্ধানে গেলে সফল যুবক হরলাল রায়ের স্ত্রী কবরী রানী বলেন, বিয়ের পর থাইকা মেলা কষ্ট করছি। পোলাপান গোরে দু’বেলা ঠিকমত খেতে দিতে পারি নাই। অহন আপেল আর বাউকুলের চাষাবাদ করে লাভের ট্যাহা দিয়ে পুকুর দিছি। পুকুরে মাছ আছে। হাইব্রিড জাতের ধানও চাষ করছি। ১ মেয়ে আর ১ ছেলে। দু’জনেই স্কুলে পড়ালেহা করে। কবরী রানীর মতো কৃষি ক্ষেত্রে স্বপ্ন দেখছেন অনেকে। তবে তাদের মতে, সরকারি-বেসরকারি ও এনজিওগুলো এসব নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে জোরালো ভূমিকা নিলে আরও ছেলে-মেয়েরা খুঁজে পাবে স্বপ্নের ঠিকানা।
Source: Daily Amardesh

Friday, January 28, 2011

রাজ্জাকের সেচযন্ত্রটি হতে পারে মডেল

রাজ্জাকের সেচযন্ত্রটি হতে পারে মডেল

ফরিদপুর (পাবনা) প্রতিনিধি
ফরিদপুর উপজেলার হাদল গ্রামের ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশের মেকানিক্স মোঃ আবদুর রাজ্জাকের (৪০) উদ্ভাবিত নতুন সেচ যন্ত্র পানি সেচ ব্যবস্থাপনায় গত বছর ব্যাপক সাফল্য লাভ করেছে। গত বছর বোরো মৌসুমে উদ্ভাবিত নতুন সেচযন্ত্রের মাধ্যমে দুটি স্কীমে যথাক্রমে ৪৫ বিঘা ও ৩৫ বিঘা জমিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে পানি সরবরাহ করে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করেছে বলে জানা গেছে। তিনি তার উদ্ভাবিত পাম্পযন্ত্রের নাম দিয়েছেন ও.ঝ.উ.অ.জ.(ইরিগ্রেশন সিস্টেম ডিসকভার আবদুর রাজ্জাক)। তার এই সেচযন্ত্রের সাহায্যে রবি মৌসুমে নিরবচ্ছিন্নভাবে পানি পাওয়া সম্ভব। সাধারণত সেচপাম্প ২৪-২৬ ফুট নিচ থেকে পানি উত্তোলন করতে পারে। কিন্তু এই সেচযন্ত্রটি দ্বারা ৪৫-৫০ ফুট নিচ থেকে পানি উত্তোলন করা সম্ভব। মোটর থেকে পাম্পযন্ত্রটি পৃথক করে ১০ ফুট মাটির নিচে নামানো হয়। এতে অতিরিক্ত ব্যবহার করা হয় গিয়ার, সেপ, বিয়ারিং বুস, পাইপসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ। এতে কৃষকের অতিরিক্ত ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি সেচ মৌসুমে পানির সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়। আগের তুলনায় জ্বালানি খরচ হয় অর্ধেক। এই যন্ত্রটি গ্যাস, ডিজেল ও বিদ্যুতে চালানো যায়। প্রতি বছর এই অঞ্চলে ব্যাপকভাবে বোরো ধান চাষসহ অন্যান্য ফসল আবাদ করা হয়ে থাকে। যার ফলে প্রত্যক্ষভাবে নিরবছিন্ন পানির প্রয়োজন হয়। কিন্তু এ সময় পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় নিরবচ্ছিন্নভাবে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্ভব হয় না। এছাড়া অতিরিক্ত চাপে মোটর পুড়ে গিয়েও পানি সরবরাহ ব্যববস্থার বিঘ্ন ঘটে। ফলে সঠিক সময়ে ফসল চাষ করা সম্ভাব হয় না। আবদুর রাজ্জাক ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপাড়া করেছেন। তার উদ্ভাবিত যন্ত্রটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ সেচযন্ত্রটি দেখার জন্য ভিড় করছে। শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর ফেল করার কারণে পানি নিয়ে দুর্ভাবনা দূর করার জন্য এই যন্ত্রের আবিষ্কারক আবদুর রাজ্জাকের শরণাপন্ন হচ্ছেন। উপজেলা কৃষি অফিসার সরকার শফিউল আলম জানান, যেসব অঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে যায় এবং সেচ ব্যবস্থাপনার সমস্যা হয়, সেসব অঞ্চলে তার উদ্ভাবিত যন্ত্রটি ব্যবহৃত হলে কৃষকরা উপকৃত হবেন। অর্থ-সম্পদহীন আবদুর রাজ্জাক বলেন, সাহায্য-সহযোগিতা পেলে কৃষি উপযোগী নতুন নুতন যন্ত্র তিনি উপহার দিতে পারবেন, যা কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রাখতে পারবে। আবদুর রাজ্জাক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কারের জন্য আবেদন করেছেন।
Source: Daily Amardesh,
6th Feb-2010

Wednesday, January 26, 2011

সিরাজগঞ্জ ও চলনবিলে সরিষার ফুল থেকে মধু আহরণ: মৌচাষিরা প্রায় ১০কোটি টাকা আয় করেন ।


সিরাজগঞ্জ ও চলনবিলে সরিষার ফুল থেকে মধু আহরণ: মৌচাষিরা প্রায় ১০কোটি টাকা আয় করেন ।
০০সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা

সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌচাষিরা। এ জন্য শীত মৌসুমের শুরু থেকেই জেলার বেলকুচি,উলস্নাপাড়া, শাহজাদপুর,রায়গঞ্জ, তাড়াশ উপজেলারসহ চলনবিলের বিভিন্ন জায়গায় মৌচাষিরা মধু সংগ্রহ করে মৌচাষিরা প্রায় ১০কোটি টাকা আয় করেন ।

চলনবিলের রায়গঞ্জ, তাড়াশ, উলস্নাপাড়া, শাহজাদপুর, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, সিংড়া, আত্রাই ও সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি, কাজিপুর উপজেলায় পযর্াপ্ত সরিষার ফলন হয়ে থাকে। কৃষি অফিস জানিয়েছে , এবার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। সরিষার ফুলে ছেয়ে গেছে বিস্তৃীর্ণ অঞ্চল।

নারায়ণগঞ্জ, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মৌচাষিরা ফুল থেকে মধু সংগ্রহে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। ভাড়া করা সরিষার ক্ষেতসংলগ্ন স্থানে মৌমাছির বাক্সগুলো সারি সারিভাবে সাজিয়ে রেখেছে চাষিরা। চলনবিলের দীঘি সগুনা, গোয়ালগ্রাম, ভেটুয়া, কুসুম্বী, মাকড়শোন, কুন্দইল,মাগুড়া, রুহাই, প্রতাপ, নওগাঁ, শ্যামপুর, তেলীপাড়া, চান্দাইকোনা, বেলকুচিরচালা, শেরপুরসহ বিভিন্ন মাঠে মৌচাষিরা মৌ বাক্স বসিয়ে মধু আহরণ করছে।

এ বছর এ অঞ্চল থেকে প্রায় ১০০ মেট্রিক টন মধু সংগ্রহ করা সম্ভব বলে মৌচাষিরা জানিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জের জননী মৌ খামারের চাষি আলমগীর হোসেন জানান, প্রতিটি বাক্সে একটি করে রাণী মৌমাছি রয়েছে। মৌমাছিগুলো সরিষার মধু আহরণ করে রক্ষিত বাক্সে এনে জমা করে। ৫-৭ দিন পর পর বাক্স থেকে চাকগুলো আলাদা করে মধু সংগ্রহ করা হয়। ৫০-৫৫টি বাক্সে গড়ে ৫-৭ মণ করে মধু সংগ্রহ করা যায়। তিনি আরো জানান, সরিষা মৌসুম ছাড়াও তারা লিচু মৌসুম ও সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করে থাকেন। তবে সরিষা মৌসুমে মধু আহরণ করে লাভবান হলেও অন্য সময়ে তাদের লোকসান গুনতে হয়।

সাতক্ষীরার মৌচাষি গোলাম মোস্তফা ও আবুল হোসেন ইত্তেফাককে জানান, প্রতিবছর তারা সরিষার মৌসুমে চলনবিল থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ মণ মধু সংগ্রহ করে থাকেন।

মৌচাষিদের অভিযোগ, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি ও বাণিজ্যিকভাবে মধু বাজারজাতকারী কোম্পানিগুলো বেশিরভাগ মধু পাশর্্ববতর্ী দেশ ভারত থেকে আমদানি করে থাকে। যে কারণে তারা প্রকৃত দাম থেকে বঞ্চিত হন। গুটিকয়েক কোম্পানি খামারীদের নিকট থেকে ১২০/১৪০ টাকা কেজি দরে মধু ক্রয় করে এবং ২০০-৩০০ কেজি হিসেবে বাজারজাত করে।
Source: Daily Ittefaq, 27 th january-2011

Tuesday, January 25, 2011

মির্জাপুরে গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ যন্ত্রের চাহিদা বেড়েছে

মির্জাপুরে গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ যন্ত্রের চাহিদা বেড়েছে

০০ মির্জাপুর সংবাদদাতা

টাংগাইলের মির্জাপুর উপজেলায় পরিবেশবান্ধব গুটি ইউরিয়া সার প্রয়োগ যন্ত্রের চাহিদা বেড়েছে। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভাবিত ব্রি ধান-৫০ (বাংলা মতি) জমিতে সার প্রয়োগে এই যন্ত্র কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার টাংগাইলের মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন ঘুরে পরিবেশ বান্ধব এই যন্ত্র কৃষকদের ব্যবহার করতে দেখা গেছে। মির্জাপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ব্রি ধান- ৫০ (বাংলা মতি) অধিক ফলনের লক্ষ্যে এই গুটী ইউরিয়া প্রয়োগ যন্ত্র আবিষ্কার করেছে। কৃষি বিভাগ মির্জাপুর উপজেলায় বিনা মূল্যে ২৫টি যন্ত্র বিতরণ করেছে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি অফিসার নিখিল চন্দ্র বসাক জানিয়েছেন, গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ যন্ত্রের মাধ্যমে কৃষকরা উপকৃত হচ্ছে। এতে সময় কম লাগে, শ্রমিক খরচ ৩০-৪০% কম, ধানের ফলন ২০% বৃদ্ধি হচ্ছে। আগে একরে ১০০-১২০ কেজি সার প্রয়োজন হত এখন লাগছে ৬০-৬৫ কেজি।
Source: Daily Ittefaq, 26th January-2011

Sunday, January 23, 2011

নতুন পদ্ধতিতে বোরো আবাদে ঝুঁকছেন কৃষক

নতুন পদ্ধতিতে বোরো আবাদে ঝুঁকছেন কৃষক

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জে নতুন পদ্ধতিতে শুরু হয়েছে বোরো আবাদ। নতুন পদ্ধতিতে বীজতলায় পানি না হলেও চারা উত্পাদনে কৃষকদের আর বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না। এ পদ্ধতিতে উত্পাদিত বীজ জমিতে রোপণ করলে ফলনও বেশি পাওয়া যায়। আবার বীজধানও কম লাগে।
ধান উত্পাদনের পূর্বশর্ত হলো বীজ থেকে সুস্থ-সবল চারা উত্পাদন করে তা সঠিক সময়ে রোপণ করা আর সেই লক্ষ্যেই মানিকগঞ্জে এবার শুরু হয়েছে নতুন পদ্ধতিতে বোরো ধানের আবাদ। জমিতে পানি না উঠায় প্রতি বছর কৃষকদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয় এ বীজতলা তৈরি করতে। আর এ সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এসেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর মানিকগঞ্জ। এ পদ্ধতিতে বর্ষা বা সেচের পানি কোনোটির ওপর নির্ভর না করে যে কোনো জমিতে অঙ্কুরিত বীজ মাটিতে ছিটিয়ে পলিথিন পেপার দিয়ে ঢেকে দিতে হয়। এতেই উত্পাদন হয় সুস্থ-সবল ধানের চারা। ১০/১২ দিন পরে পলিথিন উঠিয়ে দিলে চারাগুলো সোজা হয়ে ওঠে। এই পদ্ধতিতে মাত্র ২০/২৫ দিনের মধ্যেই চারা রোপণের উপযোগী হয়ে ওঠে। রোপণের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত চারাগুলো পলিথিনে ঢেকে রাখতে হয়। আগে যেখানে ১ একর জমিতে ৬০ কেজি বীজ ধান লাগত, এখন এ পদ্ধতিতে মাত্র ১০ কেজি বীজধানই যথেষ্ট। মানিকগঞ্জ জেলায় এ বছর ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এরই মধ্যে জেলার কৃষকরা শুরু করে দিয়েছেন বোরো ধান রোপণের কাজ। মানিকগঞ্জ সদর থানার কেওয়ারজানি গ্রামের মোতালেব মাস্টার জানান, তিনি গত ২ বছর যাবত এই পদ্ধতিতে ৩০ বিঘা জমিতে ধান চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন।কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. মফিজুল ইসলাম জানান, আমাদের এই এলাকায় প্রতি বছর ধানের চারার সঙ্কট হতো, এই সঙ্কট নিরসনে আমিই প্রথম মানিকগঞ্জে এই পদ্ধতিতে বীজ উত্পাদন করে চাষাবাদের জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করি। এতে ব্যাপক সফলতা লাভ করেন এই এলাকার কৃষকরা।
এই পদ্ধতিতে একদিকে বীজধান কম প্রয়োজন হচ্ছে, অপর দিকে ধানও ৩ গুণ বেশি উত্পাদিত হচ্ছে।
Source: Daily Amardesh

Saturday, January 22, 2011

বীজ সংরক্ষণে শতবর্ষী চয়েন বানু

বীজ সংরক্ষণে শতবর্ষী চয়েন বানু

ধান বীজসহ বিভিন্ন বীজ সংরক্ষণের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণসহ গবেষণা চলছে দীর্ঘদিন। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়াই সনাতন পদ্ধতিতে বীজ সংরক্ষণ করে আসছেন বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার তালশন গ্রামের চয়েন বানু। মাটির তৈরি কুঠরীতে নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে বছরের পর বছর ধান, গম, যব, কলাইসহ যেকোনো শস্য বীজ সংরক্ষণ করেন চয়েন বানু। তার কাছে থেকে মাটির কুঠরীতে বীজ সংরক্ষণ পদ্ধতি শিখে বর্তমানে উপকৃত হচ্ছেন তালশনসহ আশেপাশের গ্রামের হাজার হাজার কৃষক। চয়েন বানুর মাটির তৈরি এই কুঠরিতে সব ধরনের বীজ ছাড়াও যেকোনো ধরনের খাদ্যদ্রব্যও রাখা যায় দীর্ঘদিন পর্যন্ত। এলাকার একাধিক কৃষকের কাছে থেকে জানা গেছে, চয়েন বানুর প্রযুক্তিতে তৈরি করা মাটির কুঠরীতে বীজ সংরক্ষণ করলে বীজের গুণগতমান ভাল থাকে। এই পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা বীজে ৮০ থেকে ৯০ ভাগ সুস্থ চারা পাওয়া যায়।

চয়েন বানু। বয়স ১০২ বছর ছুঁই ছুই করছে। এখনো দিন যাপন করছে সুস্থভাবে। কোনো বড় ধরনের রোগ-বালাই হয়নি কোনোদিন। এই বয়সেও থেমে নেই তার চলার গতি। কখনো বসে থাকেন না। বসে থাকলে নাকি শরীরে ব্যথা হয়। শারিরীক গঠন দেখে অবশ্য বয়সটা অনুমান করা কঠিন। বীজ সংরক্ষণের সুফল কুফলের মত নিজের জীবনের চলার পথে সুফল কুফল সমর্্পকে অত্যন্ত সচেতন তিনি। অলসতা তাকে যেন স্পর্শ করতে পারে না। রাতে খাবারের পরই ঘুম। ভোর রাতে উঠে তাহাজ্জদ নামাজ আদায় এবং কোরান তেলাওয়াত করেন। ঘর ঝাড়- দেয়া, থালা-বাসন মাজা, তরিতরকারি কাটা ইত্যাদি সাংসারিক কাজের পাশাপাশি গাছপালা ও জীবজন্তুর পরিচর্যা করা তার দৈনন্দিন কাজ। ছোটবেলা থেকেই তিনি ঢেঁকিতেই ধান ছাঁটেন। আজো সংসারের পুরো খোরাকির চালের জোগাড় হয় ঢেঁকিতে ছেঁটে। এছাড়া যাঁতায় গম পিষে আটা তৈরি করেন খাবারের জন্য।

চয়েন বানু বীজ সংরক্ষণের নিরপদ ব্যবস্থা মাটির তৈরি এই কুঠরী সম্পর্কে বলেন, মাটির কুঠরী তৈরি করা শিখেছেন তার মায়ের কাছ থেকে। এ কুঠরী তৈরি করতে তেমন কোনো খরচ নেই। প্রয়োজন শুধু পরিশ্রম আর কৌশলের। কুঠরী তৈরির উত্তম সময় হল কার্তিক থেকে অগ্রাহায়ণ মাস পর্যন্ত। প্রথমে কালো দো-অাঁশ মাটি ভিজিয়ে শোধন করে নিতে হয় টুথপেস্টের মত। তারপর সেই মাটির সাথে খড়ের কুচি, ধানের চিটা এবং সামান্য পরিমাণ তুষ মিশিয়ে নিতে হয়। এরপর প্রথমে কুঠরীর তলদেশ তৈরি করতে হয়। তলদেশ তৈরির পর কমপক্ষে ৩ দিন রোদে শুকাতে হয়। পরবর্তীতে কুপের পাটার মত করে ৩ থেকে ৪ দিন পর পর পাটা তৈরি করে একটির পর আর একটি বসাতে হয়। অবশেষে মুখের দিকে সরু করে আনতে হয় এবং মাপ মত ঢাকনা তৈরি করতে হয়। কুঠরী বিভিন্ন আকৃতির বানানো যায়। ছোট, মাঝারী ও বড় চৌকোনা। বীজ সংরক্ষণ ছাড়া ও বড় আকৃতির একটি কুঠরীতে ৩০ থেকে ৪০ মণ চাল রাখা যায়। তিনি জানান, এই পদ্ধতি তৈরি করা কুঠীরতে সাধারণত বাতাস প্রবেশ করতে পারে না। এ কারণে দীর্ঘদিন বীজ রাখলে বীজের কোনো ক্ষতি হয় না।

আগের দিনে অধিকাংশ মানুষ কাঁচা বাড়ি অর্থাৎ খড়ের ছাউনি দেয়া ঘরেই বেশি বাস করত। ওই সকল খড়ের ঘরে আগুন লাগার সম্ভাবনা থাকত বেশি। সে কারণে তখনকার দিনে মাটির কুঠরীর বেশ কদর ছিল। কারণ ঘড় পুড়ে গেলেও কুঠরীর মধ্যে রাখা জিনিসের কোনো ক্ষতি হত না। চয়েন বানু জোর দিয়ে বলেন, বর্তমানে ধান-চাল রাখার জন্য বিভিন্ন আধুনিক ব্যবস্থা হওয়ায় মাটির কুঠরীর কদর কমে গেলেও বীজ সংরক্ষণের এর বিকল্প নেই বলে আমার মনে হয়।

চয়েন বানু আরো বলেন, শুধুমাত্র কুঠরীতে বীজ রাখলেই ভাল বীজ পাওয়া যায় না। বীজ সংরক্ষণের জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। ভাল বীজ না হলে ভাল ফসল পাওয়া যায় না। প্রথমে পুষ্ট ও দানাদার বীজ বেছে নিতে হয়, খেয়াল রাখতে হয় বীজ যেন ভেজা না হয়। এ কারণে কুঠরীতে রাখার আগে সব ধরনের বীজ ভালভাবে শুকিয়ে নিতে হয়। বীজে যেন পোকা না থাকে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হয়।

উপজেলার জিনইর গ্রামের কৃষক মেহেদী হাসান জানান, চয়েন বানুর সংরক্ষণ করা ধান বীজ ব্যবহার করে তিনি আশাতীত ফলন পেয়েছেন। তিনি নিজেও চয়েন বানুর তৈরি করা কুঠরীর মত করে কুঠরী তৈরি করে বীজ সংরক্ষণ করছেন। তালশন গ্রামের আরেক কৃষক নুর ইসলাম বলেন, শীত মৌসুমে ইরি-বোরো ধানের বীজ থেকে বেশি ভাগ সময় চারা তৈরি কঠিন হয় কিন্তু চয়েন বানুর কুঠরী পদ্ধতিতে ধান সংরক্ষণ করলে এ সমস্যা থাকে না।

আদমদীঘি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রওশন জামাল বলেন, চয়েন বানু যে পদ্ধতি ব্যবহার করে বীজ সংরক্ষণ করছেন তা সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত। তিনি যে পাত্রে বীজ রাখেন তা বায়ু প্রতিরোধক হওয়ার কারণে তার পাত্রের বীজ নষ্ট হয় না। তার এ পদ্ধতি অনুসরণ করে আশপাশ গ্রামের আরো অনেক কৃষক উপকৃত হচ্ছে। ফলে চয়েন বানুর এ উদ্যোগকে উৎসাহিত করার ব্যাপারে সব ধরনের সহয়তাও দেয়া হবে।

-এস. এম. নাজমুল হক ইমন, বগুড়া
Source: Daily Ittefaq

Wednesday, January 19, 2011

বছরে ২০ হাজার কোটি টাকা বাড়তি আয় সম্ভব

বছরে ২০ হাজার কোটি টাকা বাড়তি আয় সম্ভব:
পাবনায় দুই সহোদরের 'দোতলা কৃষি' পদ্ধতি উদ্ভাবন
০০ পাবনা সংবাদদাতা

জেলার আটঘরিয়া কলেজের সহকারী অধ্যাপক কৃষিবিদ জাফর সাদেক ও তার সহোদর বিশ্বব্যাংকের সাবেক কনসালট্যান্ট সৌখিন জ্যোতির্বিদ মো:আব্দুল্লাহ সাদেক দেশের প্রচলিত কৃষি ব্যবস্থার বিপরীতে 'দোতলা কৃষি' পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন।
তাদের উদ্ভাবিত এই নতুন পদ্ধতি বাংলাদেশে চালু হলে কৃষিক্ষেত্রে বার্ষিক গড়ে ২০ হাজার কোটি টাকা বা ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাড়তি আয় হবে বলে জানা গেছে। কৃষিবিদ জাফর সাদেক তাদের এই উদ্ভাবনে তিনটি মাঠ গবেষণা পরিচালনা করে সফলও হয়েছেন।
কৃষিতত্ত্ব ও জ্যোতির্বিদ্যার সফল প্রয়োগে তারা এই 'দোতলা কৃষি' পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। এক্ষেত্রে উদ্ভিদের ২৪ ঘন্টার খাদ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় নূ্যনতম ৮ ঘন্টাব্যাপী সূর্যালোকের প্রয়োজনীয়তার কৃষি তাত্তি্বক সূত্রকে মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। একই জমিতে একই সময়ে ভিন্ন উচ্চতায় দু'টি ভিন্ন ফসল ফলানোর পদ্ধতিকেই তিনি 'দোতলা কৃষি' পদ্ধতি নামে অভিহিত করেছেন।
রবিবার পাবনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে কৃষিবিদ জাফর সাদেক তাদের দুই ভাইয়ের উদ্ভাবিত 'দোতলা কৃষি' পদ্ধতি সম্পর্কে সংবাদকর্মীদের অবহিত করেন। সংবাদ সম্মেলনে 'দোতলা কৃষি' সম্পর্কে জানানো হয়, '২০০৮ সালের মে মাস হতে ২০০৯ সালের জুন মাস পর্যন্ত ১৪ মাসব্যাপী প্রাথমিক গবেষণায় কৃষিবিদ জাফর সাদেক নিশ্চিত হন যে, বাংলাশের যে কোন স্থানে যে কোন আকারের ও আকৃতির জমিতে ঠিক উত্তর-দক্ষিণ বরাবর ভূমি হতে ৫ ফুট উঁচুতে, ৪ ফুট চওড়া ও ১৩ ফুট পরপর মাচা নির্মাণ করলে জমিতে অনধিক আড়াই ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট একটি ফসল এবং মাচায় লতা জাতীয় অন্য ফসল আবাদ করা সম্ভব।'
সম্মেলনে আরো জানানো হয়, কৃষিবিদ জাফর সাদেক ও তার সহোদর সৌখিন জ্যোতির্বিদ আব্দুল্লাহ সাদেক দোতলা কৃষি উদ্ভাবনে তিনটি মাঠ গবেষণা পরিচালনা করেছেন। তারা পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ধোপাদহ ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের মো: রওশন আলীর জমিতে মাচায় কভারক্রপ হিসিবে পটল ও মাটিতে বেসক্রপ হিসেবে মরিচ আবাদ করে কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ করেন এবং সিরাজগঞ্জের মাচার ছায়ায় বেসক্রপ হিসেবে প্রতি বিঘায় মিনিকেট জাতের ২২ মণ ধান ফলান।
এছাড়া নওগাঁ জেলার বদলগাছি ইউনিয়নের ডাঙ্গিসারা গ্রামের দীনেশ সিংয়ের ৭ কাঠা জমিতে মাচায় লাউ, মাটিতে বিআর-২৮ জাতের ধান আবাদ করেন। ওই ৭ কাঠা জমিতে ধানের ফলন পাওয়া যায় ৮ মণ বা বিঘায় ২৩ মণ। যা জাতীয় গড় ফলনের সমান। সেই সঙ্গে ৭ কাঠা জমিতে কভারক্রপ হিসেবে ২১৫টি লাউ উৎপাদিত হয়। আমন মৌসুমেও একই জমিতে বিনা-৭ জাতের ধান আবাদ করে সাড়ে ৬ মণ ধান ফলান, যা বিঘা প্রতি দাঁড়ায় ১৮ মণ এবং কভারক্রপ হিসেবে মাচায় ২৪৯টি লাউ আবাদ করেন, যা বিঘা প্রতি দাঁড়ায় ৭২০টি।
সাদেক ভ্রাতৃদ্বয় পরিচালিত গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, দোতলা কৃষি পদ্ধতিতে মাচার ক্ষেত্রফল জমির মোট পরিমাণের ২৫% হওয়ায় একই জমি ব্যবহারগত দিক দিয়ে ২৫% বেড়ে যায়। গবেষণায় তারা দেখিয়েছেন, এক বিঘা জমির কভারক্রপের (মাচা) থেকে উৎপাদিত ফসলের মূল্য দাঁড়ায় সাড়ে ১৩ হাজার টাকা বা হেক্টরে ১ লাখ টাকা। এ হিসেবে বাংলাদেশের মোট ৮২.৯০ লক্ষ হেক্টর আবাদি জমির ২৫% বা ২০.৭৩ লক্ষ হেক্টর জমিতে মাচায় লতা জাতীয় ফসল চাষ করে বার্ষিক ২০ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা বা ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাড়তি আয় করা সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনে কৃষিবিদ জাফর সাদেক তাদের দুই ভাইয়ের উদ্ভাবিত 'দোতলা কৃষি' পদ্ধতি দেশব্যাপী চালু করার জন্য সরকারের সুদৃষ্টি ও আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
Source: Daily Ittefaq, 20th January-2011

গোবিন্দগঞ্জের লতিফের বালাইনাশক ওষুধ সাড়া ফেলেছে

গোবিন্দগঞ্জের লতিফের বালাইনাশক ওষুধ সাড়া ফেলেছে
০০ গোবিন্দগঞ্জ সংবাদদাতা
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের প্রতিভাবান কৃষক আব্দুল লতিফ দেশীয় গাছ-পালা দিয়ে বালাইনাশক ওষুধ তৈরি করে এলাকায় সাড়া ফেলে দিয়েছে। দেশের প্রচলিত কীটনাশক ব্যবহার না করে এ এলাকার প্রায় ২শ' কৃষক ১ হাজার ৮শ' বিঘা জমিতে আবদুল লতিফের তৈরি ভেষজ কীট ও বালাইনাশক ব্যবহার করে আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়ায় ক্রমেই অন্য কৃষকরা উক্ত বালাইনাশক ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাবাড়ী ইউনিয়নের বাগদা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল লতিফ। এসএসসি পাসের পর কারিগরি শিক্ষার জন্য টেকনিক্যাল কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু সেখানে আর পড়াশুনা শেষ করতে পারেননি। পরবর্তীতে তিনি কৃষি কাজে মনোযোগী হয়ে ওঠেন। অবিবাহিত লতিফ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গাছ-পালা, লতা-গুল্ম নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে উলেস্নখিত ভেষজ কীট ও বালাইনাশক আবিষ্কার করেন। লতিফ জানান, পরিমাণ মত নিমপাতা, নিম গাছের অংশ, নিমের বীজ, তুলশী পাতা, মেহগনি গাছের বীজ, আতা গাছের পাতা মিশিয়ে পরিবেশবান্ধব এই ভেষজ কীট ও বালাইনাশক ওষুধ তৈরি করা হয়েছে। আর এ কীটনাশক তৈরির কাজে কৃষি অফিস থেকে পাওয়া ভর্তুকির ১ হাজার টাকা দিয়ে বিভিন্ন ওষধি গাছের চারা কিনে বাড়ির পাশে, ঘরের কোণায় গড়ে তুলেছেন ভেষজ বাগান। আবদুল লতিফ বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে দেশে প্রচলিত কীটনাশক ব্যবহারে কৃষককে ৭শ' টাকা থেকে ৮শ' টাকা ব্যয় করতে হয়। কিন্তু তার তৈরি কীটনাশক প্রতিবিঘায় প্রয়োগে মাত্র ৬০ টাকা খরচ হয়। তবে তিনি এবার কৃষকদের মাঝে ১৮শ' বিঘা জমিতে প্রয়োগের জন্য বিনামূল্যে ভেষজ কীটনাশক প্রদান করেন। এলাকার কৃষকদের মতে প্রতিভাবান এই কৃষককে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দিলে তিনি দেশের কল্যাণে কৃষি খাতে ভাল অবদান রাখতে পারবেন।
কাটাবাড়ী ইউনিয়নের বোগদা কলোনীর কৃষক আহম্মদ আলী বলেন, বর্তমান রোপা আমন মৌসুমে তার ১২ বিঘা ধানের জমিতে মাজরা পোকা, খোলপচা রোগ দেখা দিলে দেশের বিভিন্ন কোম্পানীর তৈরি ওষুধ ব্যবহার করি। তাতেও ফল না পেয়ে প্রতিবেশীর পরামর্শ মত আব্দুল লতিফের তৈরি ভেষজ কীটনাশক ব্যবহার করি। এরপর থেকে লক্ষ্য করছি ক্ষেতে কোন পোকা-মাকড় ও রোগ-বালাই নেই। বর্তমানে জমির ধানও বেশ ভাল হয়েছে।
কাটাবাড়ী ইউনিয়ন বস্নকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামসুল ইসলাম ও জিয়াউল হক জিয়া বলেন, আমরা নিজে মাঠ ঘুরে দেখেছি, ভেষজ কীটনাশক ব্যবহারকারী কৃষকদের কারো ক্ষেতেই কোন রোগ-বালাই নেই।
Source: Daily Ittefaq, 20th January-2011

Monday, January 17, 2011

কৃষিকে সমৃদ্ধ করতে লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বিনার সাফল্য

কৃষিকে সমৃদ্ধ করতে লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বিনার সাফল্য

বিনাতে বার্ষিক কর্মশালার উদ্বোধন

০০বাকৃবি সংবাদদাতা, জানুয়ারি ১৬, ২০১১

লবণসহিষ্ণু ধানের জাত উদ্ভাবন, বায়োফার্টিলাইজারের ব্যবহারসহ ৪৭ টি উন্নতজাতের খাদ্যশস্যের জাত উদ্ভাবন করে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)। শস্য উৎপাদনে পরমাণু শক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি গবাদিপশু, পোলট্রি ও মৎস্য সম্পদেও পরমাণু শক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিনাতে এ্যানিম্যাল সাইন্স বিভাগ চালু করতে হবে। সৌর শক্তিকে কাজে লাগানোর প্রয়াস চালাতে হবে। অর্থনৈতিকভাবে লাভবান প্রযুক্তি কৃষকদের হাতে সমপ্রসারণ করতে হবে। শনিবার সকালে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তা ও কৃষিবিজ্ঞানীরা এসব কথা বলেন।

জানা যায়, গত এক বছরের গবেষণা কর্মকান্ড নিয়ে আয়োজিত ৫দিন ব্যাপী এ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিনা'র মহাপরিচালক ড. এম.এ সাত্তারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৪ এর সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম.এ সাত্তার মন্ডল। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিনা'র পরিচালক (গবেষণা) ড. আব্দুস সালাম, গবেষণা সমন্বয়ক আব্দুর রব হাওলাদার, কৃষক প্রতিনিধি মো. নজরুল ইসলাম খান ও মো. ইয়ার উদ্দিন। ৫দিন ব্যাপী এ কর্মশালায় ১০ টি বৈজ্ঞানিক সেশনের মাধ্যমে ৮ টি গবেষণা বিভাগের অধীনে প্রায় শতাধিক চলমান গবেষণা প্রকল্পের প্রবন্ধ সমূহ উপস্থাপন করা হবে। উলেস্নখ্য, কর্মশালাটি শেষ হবে আগামী ১৯ জানুয়ারি বুধবার ।
Source:

Thursday, January 13, 2011

গোপালপুরে সালাউদ্দীনের কৃষিযন্ত্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে


গোপালপুরে সালাউদ্দীনের কৃষিযন্ত্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে

০০ গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

গোপালপুরের ক্ষুদে কৃষি বিজ্ঞানী গাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দীন বহুমুখি কৃষি যন্ত্র উদ্ভাবন করে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এ যন্ত্রের নাম দেয়া হয়েছে ফার্মারস হ্যান্ড পাওয়ার মেশিন। স্বল্প দামের এবং হালকা ওজনের সহজেই বহনোপযোগী এ মেশিন দিয়ে একজন কৃষক তার প্রয়োজনীয় সব কাজই খুব দ্রুত এবং সুচারুরুপে সম্পন্ন করতে পারবে। এ হ্যান্ড পাওয়ার মেশিন দিয়ে জমিতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সব ধরনের শস্য বীজ রোপণ, সুষম সার ছিঁটানো, পোকামাকড় দমনে সঠিক মাপে কীটনাশক ও বিষ প্রয়োগ, ফসলী জমিতে সেচ প্রদান, আগাছা নিড়ানি দেয়া, ফসল পরিবহন, মিটার পদ্ধতিতে ফসলের ওজন নিরুপণ এবং বিদু্যৎ উৎপাদনের জন্য জেনারেটর মেশিনের কাজ করবে।

গাজী মোহম্মদ সালাউদ্দীনের বাড়ি গোপালপুর উপজেলার ধোপাকান্দি ইউনিয়নের জোতগোপাল গ্রামে। তার পিতার নাম গোলাম কিবরিয়া। সালাউদ্দীন জানান, ছোটকাল থেকেই তার মধ্যে আবিস্কারের নেশা ছিল। মিনি কারখানার নাম দিয়েছেন ইজতিহাদ প্রকৌশলী ওয়ার্কশপ ও গবেষণা সেন্টার। এলাকার বিভিন্ন খামারে এ হ্যান্ড পাওয়ার মেশিন ব্যবহার করে কৃষি খাতে বহুমুখি সুফল পাওয়া গেছে বলে গ্রামবাসিরা জানায়। উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, সালাউদ্দীনের এ নব্য আবিষ্কার কৃষিবিদ সহ সংশিস্নষ্ট সবাইকে মুগ্ধ করেছে।
SOURCE: Daily Ittefaq

Tuesday, January 11, 2011

বাঁশ চাষে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে ব্যাপক সাফল্য

বাঁশ চাষে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে ব্যাপক সাফল্য

মিজানুর রহমান রাঙ্গা সাঘাটা (গাইবান্ধা)
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালীর কৃষিবিদ মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বাঁশ চাষের এক নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন, যাতে স্বল্প ব্যয়ে খুব দ্রুত বাঁশবাগান সৃজন করা সম্ভব। তার নব উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে শুধু গাইবান্ধা জেলায়ই নয়, জেলার বাইরে ঠাকুরগাঁও, নওগাঁ, নীলফামারী, পঞ্চগড়, যশোর, টাঙ্গাইল এবং শরীয়তপুর জেলায়ও কৃষকরা কাটিং পদ্ধতিতে বাঁশ চাষ করে দ্রুত উন্নতজাতের বাঁশ উত্পাদনে সক্ষম হয়েছেন। কৃষি উদ্যানতত্ত্ব বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্স করা নজরুল ইসলাম বৃক্ষ সার্জন নামেও গাইবান্ধায় ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তার উদ্ভাবিত বাঁশচাষ পদ্ধতিটি এমন—বাঁশঝাড় থেকে দুই বছর বয়সী সতেজ ও সবল বাঁশ চিহ্নিত করে কেটে নিতে হবে। বাঁশের কঞ্চিগুলো দুই ইঞ্চি পরিমাণ লম্বা রেখে বাকি অংশ ছেঁটে ফেলে সম্পূর্ণ বাঁশটিকে দুই গিটের মাঝখানে করাতের সাহায্যে বাঁশের আকৃতিভেদে ৪০ থেকে ৫০ টুকরো করে নিতে হবে। এক বিঘা জমিতে বাঁশের চারা তৈরির জন্য এরকম ৩০০ টুকরো দরকার হবে। বাঁশ টুকরা করার পর সব টুকরো একটি গর্তে রেখে খড় দিয়ে ঢেকে প্রতিদিন হালকা সেচ দিয়ে ভেজাতে হবে। এরপর পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। এভাবে ১০ থেকে ১৫ দিন রাখার পর দেখা যাবে প্রতিটি গিট থেকে কুশি (নতুন পাতা) বেরিয়েছে। টুকরাগুলো তুলে নিয়ে নির্ধারিত জমিতে ৮-৬ ফুট পরপর নালা কেটে তার মধ্যে বসিয়ে মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। এই মাটি দিয়ে ঢাকার পদ্ধতি হবে আলু চাষের মতো। পরবর্তী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই বাঁশের চারাগাছ কঞ্চি আকারে বেরুতে থাকবে। এগুলো মাটি পুঁতে দিলে পুরো বাঁশঝাড় তৈরি হতে এক থেকে দেড় বছর সময় লাগে। কৃষির উন্নয়নে এই অভূতপূর্ব সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকারের জাতীয় কৃষি পুরস্কার, রোটারি ক্লাব বাংলাদেশ পুরস্কারসহ একাধিকবার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কৃষি মেলার শ্রেষ্ঠ কৃষিবিদ হিসেবে পুরস্কৃত হন তিনি।
SOURCE: Daily Amardesh

Saturday, January 8, 2011

শুকনো পদ্ধতিতে বোরো চাষ

শুকনো পদ্ধতিতে বোরো চাষ

শুকনো পদ্ধতিতে বোরো ধান চাষ করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কৃষিতত্ত্ব বিভাগ, ডিএই (এইসি) ডানিডা এএসপিএস গতবছর ৪টি জেলায় (নেত্রকোনার নারান্দিয়া, দিনাজপুরের সুন্দরবন, রাজশাহীর বিজয় নগর, টাঙ্গাইলের নরকোনায়) পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করে সফলতার পর এবারো কৃষক পানি সাশ্রয়ের জন্য চাষ করতে পারেন তার জমিতে। এ পদ্ধতিতে কমপক্ষে ৫০ থেকে ৬০ ভাগ সেচের পানি সাশ্রয় হবে ও ধানের ফলন ভাল পাওয়া যাবে।
প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মশিউর রহমান জানান, শুকনো জমিতে প্রাইমিং করা ধানের বীজ নির্দিষ্ট দূরত্বে বপন করতে হবে। পরবর্তীতে প্রয়োজনমত সেচ দিতে হবে। ডিসেম্বরের ১ম সপ্তাহ থেকে জানুয়ারি মাসের ২য় সপ্তাহ পর্যন্ত বীজ বপন করলে ভাল ফলন পাওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে ব্রিধান ২৯ সবেচেয়ে ভাল। তবে বিনা ধান ৬, ব্রিধান ৪৭ ও ব্রিধান ২৮ জাতের চাষ করা যেতে পারে। বীজ প্রথমে ২৪ থেকে ৩০ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখার পর ২৪ থেকে ৩০ ঘণ্টা জাগ দিয়ে ধান বীজের মুখ ফাটা অবস্থা তৈরি করতে হবে। আমন ধান কাটার পরে জোঁ অবস্থায় প্রয়োজনমত চাষ ও মই দিয়ে ভালভাবে জমি তৈরি করতে হবে। জমিতে রস না থাকলে সেচ দিয়ে পরে জোঁ অবস্থা তৈরি করে নিতে হবে। হাতে অথবা যন্ত্রের সাহায্যে ২৫ সেমি. দূরে দূরে লাইন এবং লাইনে ১৫ সেমি. দূরে দূরে ৩ থেকে ৫ সেমি. গভীর গর্তে ও প্রতি গর্তে ৪ থেকে ৬টি বীজ বপন করতে হবে। জমির উর্বরতা ধানের জাত ভেদে সারের মাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। তবে বিএআরসি/সরকারি সার প্রয়োগ সুপারিশ নীতিমালা অনুয়ায়ী অঞ্চলভেদে যে মাত্রা নির্ধারিত আছে সে অনুযায়ী সার প্রয়োগ করতে হবে। গোবর, কম্পোস্ট, টিএসপি, এমপি, জিপসাম ও দস্তা সার জমি তৈরির সময় প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া ৪ কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম কিস্তি শেষে চাষের সময়, দ্বিতীয় কিস্তি বীজ বপনের ৪৫ থেকে ৫৫ দিন পরে, তৃতীয় কিস্তি ৬০ থেকে ৭০ দিন পরে এবং শেষ কিস্তি ৭৫ থেকে ৮০ দিন পরে প্রয়োগ করতে হবে।
আগাছা দমন এই পদ্ধতির প্রধান সমস্যা। যন্ত্র বা নিড়ানির মাধ্যমে আগাছা দমন করতে হবে। এ পদ্ধতিতে আগাছার আক্রমণ রোধ করতে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় ২ বা ৩টি বেশি নিড়ানি দরকার হয়। নিড়ানি খরচ বেশি হলেও পানি ও চারা রোপণের খরচ কম লাগে বলে অধিক মুনাফা পাওয়া যাবে। চীন ও ভারতের বিভিন্ন আগাছা নাশক যেমন বাই স্পাইরিকেব সোডিয়াম, ট্রাইফ্লুরালিন, পেনক্সসুলাম ইত্যাদি ব্যবহার করে কম খরচে সফলতার সাথে শুকনো পদ্ধতির ধানের জমিতে আগাছা দমন করতে হবে। বপনের পরে জমিতে রস না থাকলে হালকা সেচ দিতে হবে। এরপর ৬০ থেকে ৭০ দিন পর হতে প্রয়োজনমত ৭ থেকে ১০টি সেচ দিতে হবে। উলেস্নখ্য যে, শুকনো পদ্ধতিতে বপন থেকে ৯০ দিন পর্যন্ত খুব অল্প পরিমাণ সেচ লাগে। থোড় আসার সময় থেকে বীজ পুষ্ট হওয়ার সময় পর্যন্ত জমিতে সামান্য পানি রাখা ভাল। প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় এই পদ্ধতিতে পোকামাকড় ও রোগবালাইয়ের আক্রমণ কম হয়। পোকামাকাড় ও রোগের আক্রমণ হলে আইপিএম অথবা আইসিএম পদ্ধতি অনুসরণ করে পোকামাকাড় দমন করতে হবে।
Source: Daily Ittefaq

পঞ্চগড়ে চা চাষে নীরব বিপ্লব

পঞ্চগড়ে চা চাষে নীরব বিপ্লব

আতাউর রহমান কাজল, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)
দেশের উত্তর জনপদের পঞ্চগড়ে চা চাষ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও সিলেটের পর পঞ্চগড় অন্যতম চা অঞ্চল হিসেবে এরই মধ্যে দেশে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। গত ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত মৌসুমে (২০১০) পঞ্চগড় জেলায় ৮ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৫ কেজি চা উত্পাদন হয়েছে, যা ২০০৯ সালের তুলনায় ২ লাখ ১১ হাজার ৫১ কেজি বেশি।
২০০৯ সালে পঞ্চগড়ে চা উত্পাদন হয়েছিল ৬ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫৪ কেজি। অপরদিকে ২০০৮ সালে এ জেলায় চা উত্পাদন হয় ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩২৪ কেজি। ২০০৫ সালে যাত্রা শুরুর বছর ওই জেলায় চা উত্পাদন হয়েছিল ১ লাখ ৬১ হাজার ২২৬ কেজি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পঞ্চগড়ে প্রতি বছর চা উত্পাদন বাড়ছে।
শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্র জানায়, অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ ও রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ চা বোর্ড দেশের নতুন নতুন এলাকায় চা চাষ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রম হাতে নেয় চা বোর্ড। ১৯৯৯ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিট ও বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের একটি চা বিশেষজ্ঞ দল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলায় জরিপ চালিয়ে চা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। ২০০০ সালের ২ এপ্রিল তেঁতুলিয়া উপজেলায় চা চাষের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিট সূত্র জানায়, বর্তমানে পঞ্চগড় জেলায় ২ হাজার ৩৯২ দশমিক ১৫ একর জমিতে চা চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে কাজী অ্যান্ড কাজী, তেতুলিয়া টি কোম্পানি ও করতোয়া কারখানায় চা উত্পাদন হচ্ছে। কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট তাদের নিজস্ব বাগানে উত্পাদিত সবুজ পাতা প্রক্রিয়াজাত করে অর্গানিক চা তৈরি করে।
পঞ্চগড়ে অবস্থিত বাংলাদেশ চা বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয়ের উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আমির হোসেনের সঙ্গে সেলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ জেলায় এখন ৮টি চা বাগান, ১৫ জন ক্ষুদ্র চা খামারি ও ১৯০ জন ক্ষুদ্র চাষী চা চাষে যুক্ত আছেন। ফলে গত কয়েক বছরের মধ্যেই পঞ্চগড়ে চা চাষে ঘটে যায় বিপ্লব। তিনি আরও জানান, উত্তর জনপদের পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলায় চা চাষ উপযোগী প্রায় ৪০ হাজার একর জমি রয়েছে। এসব জমিতে চা আবাদ বাড়িয়ে উন্নতমানের পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পারলে আগামীতে ওই দুই জেলায় চায়ের উত্পাদন হেক্টরপ্রতি ৩ হাজার কেজি দাঁড়াবে বলে চা বোর্ড আশা করছে।
Source: Daily Amardesh