বছরে ২০ হাজার কোটি টাকা বাড়তি আয় সম্ভব:
পাবনায় দুই সহোদরের 'দোতলা কৃষি' পদ্ধতি উদ্ভাবন০০ পাবনা সংবাদদাতা
জেলার আটঘরিয়া কলেজের সহকারী অধ্যাপক কৃষিবিদ জাফর সাদেক ও তার সহোদর বিশ্বব্যাংকের সাবেক কনসালট্যান্ট সৌখিন জ্যোতির্বিদ মো:আব্দুল্লাহ সাদেক দেশের প্রচলিত কৃষি ব্যবস্থার বিপরীতে 'দোতলা কৃষি' পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন।
তাদের উদ্ভাবিত এই নতুন পদ্ধতি বাংলাদেশে চালু হলে কৃষিক্ষেত্রে বার্ষিক গড়ে ২০ হাজার কোটি টাকা বা ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাড়তি আয় হবে বলে জানা গেছে। কৃষিবিদ জাফর সাদেক তাদের এই উদ্ভাবনে তিনটি মাঠ গবেষণা পরিচালনা করে সফলও হয়েছেন।
কৃষিতত্ত্ব ও জ্যোতির্বিদ্যার সফল প্রয়োগে তারা এই 'দোতলা কৃষি' পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। এক্ষেত্রে উদ্ভিদের ২৪ ঘন্টার খাদ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় নূ্যনতম ৮ ঘন্টাব্যাপী সূর্যালোকের প্রয়োজনীয়তার কৃষি তাত্তি্বক সূত্রকে মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। একই জমিতে একই সময়ে ভিন্ন উচ্চতায় দু'টি ভিন্ন ফসল ফলানোর পদ্ধতিকেই তিনি 'দোতলা কৃষি' পদ্ধতি নামে অভিহিত করেছেন।
রবিবার পাবনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে কৃষিবিদ জাফর সাদেক তাদের দুই ভাইয়ের উদ্ভাবিত 'দোতলা কৃষি' পদ্ধতি সম্পর্কে সংবাদকর্মীদের অবহিত করেন। সংবাদ সম্মেলনে 'দোতলা কৃষি' সম্পর্কে জানানো হয়, '২০০৮ সালের মে মাস হতে ২০০৯ সালের জুন মাস পর্যন্ত ১৪ মাসব্যাপী প্রাথমিক গবেষণায় কৃষিবিদ জাফর সাদেক নিশ্চিত হন যে, বাংলাশের যে কোন স্থানে যে কোন আকারের ও আকৃতির জমিতে ঠিক উত্তর-দক্ষিণ বরাবর ভূমি হতে ৫ ফুট উঁচুতে, ৪ ফুট চওড়া ও ১৩ ফুট পরপর মাচা নির্মাণ করলে জমিতে অনধিক আড়াই ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট একটি ফসল এবং মাচায় লতা জাতীয় অন্য ফসল আবাদ করা সম্ভব।'
সম্মেলনে আরো জানানো হয়, কৃষিবিদ জাফর সাদেক ও তার সহোদর সৌখিন জ্যোতির্বিদ আব্দুল্লাহ সাদেক দোতলা কৃষি উদ্ভাবনে তিনটি মাঠ গবেষণা পরিচালনা করেছেন। তারা পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ধোপাদহ ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের মো: রওশন আলীর জমিতে মাচায় কভারক্রপ হিসিবে পটল ও মাটিতে বেসক্রপ হিসেবে মরিচ আবাদ করে কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ করেন এবং সিরাজগঞ্জের মাচার ছায়ায় বেসক্রপ হিসেবে প্রতি বিঘায় মিনিকেট জাতের ২২ মণ ধান ফলান।
এছাড়া নওগাঁ জেলার বদলগাছি ইউনিয়নের ডাঙ্গিসারা গ্রামের দীনেশ সিংয়ের ৭ কাঠা জমিতে মাচায় লাউ, মাটিতে বিআর-২৮ জাতের ধান আবাদ করেন। ওই ৭ কাঠা জমিতে ধানের ফলন পাওয়া যায় ৮ মণ বা বিঘায় ২৩ মণ। যা জাতীয় গড় ফলনের সমান। সেই সঙ্গে ৭ কাঠা জমিতে কভারক্রপ হিসেবে ২১৫টি লাউ উৎপাদিত হয়। আমন মৌসুমেও একই জমিতে বিনা-৭ জাতের ধান আবাদ করে সাড়ে ৬ মণ ধান ফলান, যা বিঘা প্রতি দাঁড়ায় ১৮ মণ এবং কভারক্রপ হিসেবে মাচায় ২৪৯টি লাউ আবাদ করেন, যা বিঘা প্রতি দাঁড়ায় ৭২০টি।
সাদেক ভ্রাতৃদ্বয় পরিচালিত গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, দোতলা কৃষি পদ্ধতিতে মাচার ক্ষেত্রফল জমির মোট পরিমাণের ২৫% হওয়ায় একই জমি ব্যবহারগত দিক দিয়ে ২৫% বেড়ে যায়। গবেষণায় তারা দেখিয়েছেন, এক বিঘা জমির কভারক্রপের (মাচা) থেকে উৎপাদিত ফসলের মূল্য দাঁড়ায় সাড়ে ১৩ হাজার টাকা বা হেক্টরে ১ লাখ টাকা। এ হিসেবে বাংলাদেশের মোট ৮২.৯০ লক্ষ হেক্টর আবাদি জমির ২৫% বা ২০.৭৩ লক্ষ হেক্টর জমিতে মাচায় লতা জাতীয় ফসল চাষ করে বার্ষিক ২০ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা বা ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাড়তি আয় করা সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনে কৃষিবিদ জাফর সাদেক তাদের দুই ভাইয়ের উদ্ভাবিত 'দোতলা কৃষি' পদ্ধতি দেশব্যাপী চালু করার জন্য সরকারের সুদৃষ্টি ও আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
Source: Daily Ittefaq, 20th January-2011
তাদের উদ্ভাবিত এই নতুন পদ্ধতি বাংলাদেশে চালু হলে কৃষিক্ষেত্রে বার্ষিক গড়ে ২০ হাজার কোটি টাকা বা ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাড়তি আয় হবে বলে জানা গেছে। কৃষিবিদ জাফর সাদেক তাদের এই উদ্ভাবনে তিনটি মাঠ গবেষণা পরিচালনা করে সফলও হয়েছেন।
কৃষিতত্ত্ব ও জ্যোতির্বিদ্যার সফল প্রয়োগে তারা এই 'দোতলা কৃষি' পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। এক্ষেত্রে উদ্ভিদের ২৪ ঘন্টার খাদ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় নূ্যনতম ৮ ঘন্টাব্যাপী সূর্যালোকের প্রয়োজনীয়তার কৃষি তাত্তি্বক সূত্রকে মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। একই জমিতে একই সময়ে ভিন্ন উচ্চতায় দু'টি ভিন্ন ফসল ফলানোর পদ্ধতিকেই তিনি 'দোতলা কৃষি' পদ্ধতি নামে অভিহিত করেছেন।
রবিবার পাবনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে কৃষিবিদ জাফর সাদেক তাদের দুই ভাইয়ের উদ্ভাবিত 'দোতলা কৃষি' পদ্ধতি সম্পর্কে সংবাদকর্মীদের অবহিত করেন। সংবাদ সম্মেলনে 'দোতলা কৃষি' সম্পর্কে জানানো হয়, '২০০৮ সালের মে মাস হতে ২০০৯ সালের জুন মাস পর্যন্ত ১৪ মাসব্যাপী প্রাথমিক গবেষণায় কৃষিবিদ জাফর সাদেক নিশ্চিত হন যে, বাংলাশের যে কোন স্থানে যে কোন আকারের ও আকৃতির জমিতে ঠিক উত্তর-দক্ষিণ বরাবর ভূমি হতে ৫ ফুট উঁচুতে, ৪ ফুট চওড়া ও ১৩ ফুট পরপর মাচা নির্মাণ করলে জমিতে অনধিক আড়াই ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট একটি ফসল এবং মাচায় লতা জাতীয় অন্য ফসল আবাদ করা সম্ভব।'
সম্মেলনে আরো জানানো হয়, কৃষিবিদ জাফর সাদেক ও তার সহোদর সৌখিন জ্যোতির্বিদ আব্দুল্লাহ সাদেক দোতলা কৃষি উদ্ভাবনে তিনটি মাঠ গবেষণা পরিচালনা করেছেন। তারা পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ধোপাদহ ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের মো: রওশন আলীর জমিতে মাচায় কভারক্রপ হিসিবে পটল ও মাটিতে বেসক্রপ হিসেবে মরিচ আবাদ করে কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ করেন এবং সিরাজগঞ্জের মাচার ছায়ায় বেসক্রপ হিসেবে প্রতি বিঘায় মিনিকেট জাতের ২২ মণ ধান ফলান।
এছাড়া নওগাঁ জেলার বদলগাছি ইউনিয়নের ডাঙ্গিসারা গ্রামের দীনেশ সিংয়ের ৭ কাঠা জমিতে মাচায় লাউ, মাটিতে বিআর-২৮ জাতের ধান আবাদ করেন। ওই ৭ কাঠা জমিতে ধানের ফলন পাওয়া যায় ৮ মণ বা বিঘায় ২৩ মণ। যা জাতীয় গড় ফলনের সমান। সেই সঙ্গে ৭ কাঠা জমিতে কভারক্রপ হিসেবে ২১৫টি লাউ উৎপাদিত হয়। আমন মৌসুমেও একই জমিতে বিনা-৭ জাতের ধান আবাদ করে সাড়ে ৬ মণ ধান ফলান, যা বিঘা প্রতি দাঁড়ায় ১৮ মণ এবং কভারক্রপ হিসেবে মাচায় ২৪৯টি লাউ আবাদ করেন, যা বিঘা প্রতি দাঁড়ায় ৭২০টি।
সাদেক ভ্রাতৃদ্বয় পরিচালিত গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, দোতলা কৃষি পদ্ধতিতে মাচার ক্ষেত্রফল জমির মোট পরিমাণের ২৫% হওয়ায় একই জমি ব্যবহারগত দিক দিয়ে ২৫% বেড়ে যায়। গবেষণায় তারা দেখিয়েছেন, এক বিঘা জমির কভারক্রপের (মাচা) থেকে উৎপাদিত ফসলের মূল্য দাঁড়ায় সাড়ে ১৩ হাজার টাকা বা হেক্টরে ১ লাখ টাকা। এ হিসেবে বাংলাদেশের মোট ৮২.৯০ লক্ষ হেক্টর আবাদি জমির ২৫% বা ২০.৭৩ লক্ষ হেক্টর জমিতে মাচায় লতা জাতীয় ফসল চাষ করে বার্ষিক ২০ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা বা ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাড়তি আয় করা সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনে কৃষিবিদ জাফর সাদেক তাদের দুই ভাইয়ের উদ্ভাবিত 'দোতলা কৃষি' পদ্ধতি দেশব্যাপী চালু করার জন্য সরকারের সুদৃষ্টি ও আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
Source: Daily Ittefaq, 20th January-2011
No comments:
Post a Comment