বগুড়ার কৃষি যন্ত্রাংশ শিল্পে সম্ভাবনা বিপুল
প্রয়োজন সরকারের সুদৃষ্টি
প্রয়োজন সরকারের সুদৃষ্টি
০০ মুন্না রায়হান, বগুড়া থেকে
প্রয়োজনীয় পুঁজি, নির্দিষ্ট প্রসেসিং জোন, দক্ষ শ্রমিক, বিদু্যৎ ও গ্যাসের অভাবে বগুড়ায় যথাযথভাবে বিকশিত হচ্ছে না বিপুল সম্ভাবনাময় কৃষি যন্ত্রাংশ তৈরী শিল্প। অথচ এখানে তৈরী কৃষি যন্ত্রাংশ দেশের মোট চাহিদার ৮০ শতাংশ পূরণ করছে। শুধু তাই নয় বৈধ ও অবৈধভাবে প্রচুর কৃষি যন্ত্রাংশ ভারত ও নেপালসহ বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে। এই শিল্পের সাথে জড়িয়ে রয়েছে প্রায় ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান।
উদ্যোক্তারা বলেছেন, এই শিল্পের বিকাশের জন্য প্রয়োজন সরকারের সুদৃষ্টি। বেশী কিছু নয়, স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ, নির্দিষ্ট একটি প্রসেসিং জোন ও চাহিদা মতো গ্যাসের ব্যবস্থা করলে রীতিমতো বিপস্নব ঘটবে এই শিল্পে। কারণ এখানে তৈরী এসব যন্ত্রপাতির মান চীন ও জাপানের চেয়ে কোন অংশেই কম নয়। উদ্যোক্তারা আরো জানান, এ শিল্পকে আন্তর্জাতিক পযর্ায়ে নিয়ে যেতে হলে পাম্প টেস্টিং সেন্টার, হিট ট্রিটমেন্ট পস্নান্ট, মডেল ওয়ার্কশপ নির্মাণ করতে হবে।
বগুড়ার বিসিক, গোহাইল রোড, স্টেশন রোড, রেলওয়ে মার্কেট, সান্তাহারসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা কৃষি যন্ত্রাংশ তৈরীর বিভিন্ন কারখানায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে এসব কারখানা ও ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপ। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এসব কারখানায় শ্রমিকরা কয়েক শিফ্টে কাজ করে। প্রতি বছর এই শিল্পে বার্ষিক টার্নওভার এক থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা বলে ব্যবসায়ীরা জানান।
নিলু ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্বত্বাধিকারী নূরুল ইসলাম বলেন, এই শিল্পে প্রধান সমস্যা পুঁজি। ব্যাংক থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পোষায় না। এরপর রয়েছে দক্ষ শ্রমিকের প্রচণ্ড অভাব। কাজ শিখলেই শ্রমিকরা অন্যত্র চলে যায়। তিনি আরো বলেন, আগে শুধু কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরী হতো। কিন্তু এখন অন্যান্য যন্ত্রপাতিও তৈরী করা হচ্ছে। তাই সারা বছরই কাজ লেগেই থাকে। একতা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শামীম বলেন, চাহিদা মতো বিদু্যৎ না পাওয়ায় খুব ভোগান্তি হয়। ঠিক সময় মাল ডেলিভারি দেয়া যায় না।
ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপের মন্টু মিয়া বলেন, ১৫/১৬ বছর আগে ১ লাখ টাকা দিয়ে শুরু করেছিলাম। কিন্তু প্রয়োজনীয় পুঁজির অভাবে খুব বেশী অগ্রসর হতে পারিনি।
সংশিস্নষ্টরা জানিয়েছেন, ষাটের দশকে তৎকালীন সরকার কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রাংশ সরবরাহ শুরু করে। এসব যন্ত্রাপতি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হত। ফলে খরচ পড়ত অনেক বেশী। সে কারণে স্থানীয় কারিগররাই প্রয়োজনীয় কৃষি যন্ত্রাংশ তৈরী শুরু করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর উদ্যোগটি আ্েরা জোরালো হয়। একইসাথে বগুড়ার পাশর্্ববর্তী জেলাগুলোতেও এখানকার তৈরী কৃষি যন্ত্রাংশের চাহিদা বাড়তে থাকে। এক পযর্ায়ে সারাদেশে বগুড়ার তৈরী কৃষি যন্ত্রাংশ কৃষকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কারণ চীন ও জাপান থেকে যেসব কৃষি যন্ত্রাংশ আমদানি করা হয় সেগুলোর দাম অনেক বেশী পড়ে। কিন্তু স্থানীয়ভাবে তৈরী কৃষি যন্ত্রাংশের মান তাদের চেয়ে যেমন কোন অংশেই কম নয় তেমনি দামেও অনেক কম।
ভাঙ্গা জাহাজের লোহাসহ পরিত্যক্ত লোহা গলিয়ে এসব যন্ত্রাংশ তৈরী হয়। বগুড়ায় এ ধরনের ফাউন্ড্রি শিল্প রয়েছে প্রায় ৪৫টি। এছাড়া বিভিন্ন ছোট, বড় ও মাঝারি মানের কৃষি ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ও ওয়ার্কসপ রয়েছে ৫০০ থেকে ৬০০টি। এসব কারখানায় তৈরী যন্ত্রাংশের মধ্যে রয়েছে পানির পাম্প, টিউবওয়েল, শ্যালো ইঞ্জিনের লায়নার, পিস্টন , পাওয়ার টিলার, ধান ও ভুট্টা মাড়াই মেশিনসহ সকল কৃষি উপকরণাদি। এছাড়াও পস্নানার, ক্রাংকশ্যাফট্ গ্রান্ডিং, মিলিং, সেপার, বোরিং মেশিন, লেদ মেশিন, ছ' মেশিন ইত্যাদি তৈরী হয়। এসব কারখানা দেখতে মাঝে মাঝে বিদেশীরা আসেন। তারা এসব উন্নতমানের যন্ত্রাংশ দেখে মুগ্ধ হন।
বগুড়ায় এ শিল্পকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিরাট মার্কেট। শুধু কৃষি যন্ত্রংশ বিক্রির দোকানই রয়েছে এক থেকে দেড় হাজার। দেশের প্রত্যন্ত এলাকার ক্রেতারা এখান থেকে কৃষি যন্ত্রাংশ কিনে নিয়ে যায়। কৃষি ভিত্তিক শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও নানান সমস্যার কারণে তা দ্রুত অগ্রসর হতে পারছে না। এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারলে এখানে উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ কৃষি যন্ত্রপাতি বিদেশে রফতানি করে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।
এ প্রসঙ্গে ফোরাম অফ এগ্রো মেশিনারি ম্যানুফ্যাকচারিং এন্ড প্রসেসিং জোন, বগুড়ার সভাপতি গোলাম আজম টিকুল ইত্তেফাককে বলেন, বিরাট সম্ভাবনাময় হলেও এই শিল্প অবহেলিত। সারা বগুড়ায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এই শিল্প। কিন্তু নির্দিষ্ট একটি জোন না থাকলে কখনোই এই শিল্পের বিকাশ সম্ভব নয়। এছাড়া রয়েছে গ্যাসের সমস্যা। শিল্পে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রয়েছে। ফার্নেস অয়েল দিয়ে কারখানা চালালে উৎপাদন খরচ বেশী পড়ে। তিনি আরো বলেন, সরকারতো কৃষিখাতে ভর্তুকি দিচ্ছে। যদি এই শিল্পে এরকম কোন সুবিধা দেয় তাহলে উৎপাদন খরচ কম হবে।
এ প্রসঙ্গে বিসিকের ডিজিএম আলতাফ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরী শিল্পের বিকাশে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচীর আওতায় ঋণ ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। তবে এই শিল্পের বিকাশে বড় সমস্যা অবকাঠামো ও জায়গার অভাব। কেননা শিল্প নগরীতে আর কোন পস্নট নেই উদ্যোক্তাদের বরাদ্দ দেয়ার জন্য। তবে বগুড়ার শান্তাহারে সরকারের সাড়ে ১৫ একর খালি জায়গা আছে। সরকারের কাছে আমরা প্রস্তাব দিয়েছি বিসিককে এই জায়গা বরাদ্দ দিতে।
Source: Daily Ittefaq
উদ্যোক্তারা বলেছেন, এই শিল্পের বিকাশের জন্য প্রয়োজন সরকারের সুদৃষ্টি। বেশী কিছু নয়, স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ, নির্দিষ্ট একটি প্রসেসিং জোন ও চাহিদা মতো গ্যাসের ব্যবস্থা করলে রীতিমতো বিপস্নব ঘটবে এই শিল্পে। কারণ এখানে তৈরী এসব যন্ত্রপাতির মান চীন ও জাপানের চেয়ে কোন অংশেই কম নয়। উদ্যোক্তারা আরো জানান, এ শিল্পকে আন্তর্জাতিক পযর্ায়ে নিয়ে যেতে হলে পাম্প টেস্টিং সেন্টার, হিট ট্রিটমেন্ট পস্নান্ট, মডেল ওয়ার্কশপ নির্মাণ করতে হবে।
বগুড়ার বিসিক, গোহাইল রোড, স্টেশন রোড, রেলওয়ে মার্কেট, সান্তাহারসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা কৃষি যন্ত্রাংশ তৈরীর বিভিন্ন কারখানায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে এসব কারখানা ও ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপ। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এসব কারখানায় শ্রমিকরা কয়েক শিফ্টে কাজ করে। প্রতি বছর এই শিল্পে বার্ষিক টার্নওভার এক থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা বলে ব্যবসায়ীরা জানান।
নিলু ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্বত্বাধিকারী নূরুল ইসলাম বলেন, এই শিল্পে প্রধান সমস্যা পুঁজি। ব্যাংক থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পোষায় না। এরপর রয়েছে দক্ষ শ্রমিকের প্রচণ্ড অভাব। কাজ শিখলেই শ্রমিকরা অন্যত্র চলে যায়। তিনি আরো বলেন, আগে শুধু কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরী হতো। কিন্তু এখন অন্যান্য যন্ত্রপাতিও তৈরী করা হচ্ছে। তাই সারা বছরই কাজ লেগেই থাকে। একতা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শামীম বলেন, চাহিদা মতো বিদু্যৎ না পাওয়ায় খুব ভোগান্তি হয়। ঠিক সময় মাল ডেলিভারি দেয়া যায় না।
ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপের মন্টু মিয়া বলেন, ১৫/১৬ বছর আগে ১ লাখ টাকা দিয়ে শুরু করেছিলাম। কিন্তু প্রয়োজনীয় পুঁজির অভাবে খুব বেশী অগ্রসর হতে পারিনি।
সংশিস্নষ্টরা জানিয়েছেন, ষাটের দশকে তৎকালীন সরকার কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রাংশ সরবরাহ শুরু করে। এসব যন্ত্রাপতি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হত। ফলে খরচ পড়ত অনেক বেশী। সে কারণে স্থানীয় কারিগররাই প্রয়োজনীয় কৃষি যন্ত্রাংশ তৈরী শুরু করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর উদ্যোগটি আ্েরা জোরালো হয়। একইসাথে বগুড়ার পাশর্্ববর্তী জেলাগুলোতেও এখানকার তৈরী কৃষি যন্ত্রাংশের চাহিদা বাড়তে থাকে। এক পযর্ায়ে সারাদেশে বগুড়ার তৈরী কৃষি যন্ত্রাংশ কৃষকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কারণ চীন ও জাপান থেকে যেসব কৃষি যন্ত্রাংশ আমদানি করা হয় সেগুলোর দাম অনেক বেশী পড়ে। কিন্তু স্থানীয়ভাবে তৈরী কৃষি যন্ত্রাংশের মান তাদের চেয়ে যেমন কোন অংশেই কম নয় তেমনি দামেও অনেক কম।
ভাঙ্গা জাহাজের লোহাসহ পরিত্যক্ত লোহা গলিয়ে এসব যন্ত্রাংশ তৈরী হয়। বগুড়ায় এ ধরনের ফাউন্ড্রি শিল্প রয়েছে প্রায় ৪৫টি। এছাড়া বিভিন্ন ছোট, বড় ও মাঝারি মানের কৃষি ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ও ওয়ার্কসপ রয়েছে ৫০০ থেকে ৬০০টি। এসব কারখানায় তৈরী যন্ত্রাংশের মধ্যে রয়েছে পানির পাম্প, টিউবওয়েল, শ্যালো ইঞ্জিনের লায়নার, পিস্টন , পাওয়ার টিলার, ধান ও ভুট্টা মাড়াই মেশিনসহ সকল কৃষি উপকরণাদি। এছাড়াও পস্নানার, ক্রাংকশ্যাফট্ গ্রান্ডিং, মিলিং, সেপার, বোরিং মেশিন, লেদ মেশিন, ছ' মেশিন ইত্যাদি তৈরী হয়। এসব কারখানা দেখতে মাঝে মাঝে বিদেশীরা আসেন। তারা এসব উন্নতমানের যন্ত্রাংশ দেখে মুগ্ধ হন।
বগুড়ায় এ শিল্পকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিরাট মার্কেট। শুধু কৃষি যন্ত্রংশ বিক্রির দোকানই রয়েছে এক থেকে দেড় হাজার। দেশের প্রত্যন্ত এলাকার ক্রেতারা এখান থেকে কৃষি যন্ত্রাংশ কিনে নিয়ে যায়। কৃষি ভিত্তিক শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও নানান সমস্যার কারণে তা দ্রুত অগ্রসর হতে পারছে না। এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারলে এখানে উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ কৃষি যন্ত্রপাতি বিদেশে রফতানি করে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।
এ প্রসঙ্গে ফোরাম অফ এগ্রো মেশিনারি ম্যানুফ্যাকচারিং এন্ড প্রসেসিং জোন, বগুড়ার সভাপতি গোলাম আজম টিকুল ইত্তেফাককে বলেন, বিরাট সম্ভাবনাময় হলেও এই শিল্প অবহেলিত। সারা বগুড়ায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এই শিল্প। কিন্তু নির্দিষ্ট একটি জোন না থাকলে কখনোই এই শিল্পের বিকাশ সম্ভব নয়। এছাড়া রয়েছে গ্যাসের সমস্যা। শিল্পে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রয়েছে। ফার্নেস অয়েল দিয়ে কারখানা চালালে উৎপাদন খরচ বেশী পড়ে। তিনি আরো বলেন, সরকারতো কৃষিখাতে ভর্তুকি দিচ্ছে। যদি এই শিল্পে এরকম কোন সুবিধা দেয় তাহলে উৎপাদন খরচ কম হবে।
এ প্রসঙ্গে বিসিকের ডিজিএম আলতাফ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরী শিল্পের বিকাশে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচীর আওতায় ঋণ ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। তবে এই শিল্পের বিকাশে বড় সমস্যা অবকাঠামো ও জায়গার অভাব। কেননা শিল্প নগরীতে আর কোন পস্নট নেই উদ্যোক্তাদের বরাদ্দ দেয়ার জন্য। তবে বগুড়ার শান্তাহারে সরকারের সাড়ে ১৫ একর খালি জায়গা আছে। সরকারের কাছে আমরা প্রস্তাব দিয়েছি বিসিককে এই জায়গা বরাদ্দ দিতে।
Source: Daily Ittefaq
No comments:
Post a Comment