Friday, December 3, 2010

মাটির স্পর্শ ছাড়াই পানিতে চাষাবাদের পদ্ধতি উদ্ভাবন

মাটির স্পর্শ ছাড়াই পানিতে চাষাবাদের পদ্ধতি উদ্ভাবন

বশিরম্নল ইসলাম মাটির স্পর্শ ছাড়াই পানির ওপর ফসল উৎপাদনের নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। পদ্ধতির নাম হাইড্রোফনিক বা পানিতে চাষাবাদ। এ পদ্ধতিতে সারা বছরই সবজি ও ফল উৎপাদন করা সম্ভব। আমাদের দেশে এ পদ্ধতি নতুন হলেও উন্নত বিশ্বে বাণিজ্যিকভাবে হাইড্রোফনিক পদ্ধতিতে সবজি ও ফল উৎপাদন করা হচ্ছে। জনবহুল দেশে যেখানে স্বাভাবিক চাষের জমি কম সেখানে ঘরের ছাদ, পলি টানের, নেট হাউসে হাইড্রোফনিক পদ্ধতিতে সবজি ও ফল উৎপাদন করা হচ্ছে। জনবহুল দেশে যেখানে স্বাভাবিক চাষের জমি কম সেখানে ঘরের ছাদ, পলি টানেল, নেট হাউসে হাইড্রোফনিক পদ্ধতিতে সবজি ও ফল উৎপাদন লাভজনক। অতি লাভজনক ফসলের ৰেত্রে বাণিজ্যিকভাবে হাইড্রোফনিক পদ্ধতিতে সবজি ও ফল উৎপাদনই শ্রেয়।
সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিউিটের উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রে হাইড্রোফনিক পদ্ধতিতে সাফল্যজনকভাবে মরিচ, লেটুস পাতা, টমেটো, শসা, ৰীরা এবং স্ট্রবেরি চাষাবাদ হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে প্রাথমিক গবেষণার সাফল্যের পরে এ পদ্ধতি মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দেয়া যাবে।
হাইড্রোফনিক পদ্ধতিতে মাটিবিহীন বড় স্টীলের বা পস্নাস্টিকের ট্রেতে পানির মধ্যে গাছের অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যোপাদানসমূহ পরিমিত মাত্রায় সরবরাহ করে সরাসরি ফসল উৎপাদন করা হয়।
দুই উপায়ে হাইড্রোফনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হয়। প্রথমটি সঞ্চালন পদ্ধতি, অপরটি সঞ্চালনবিহীন পদ্ধতি।
সঞ্চালন পদ্ধতিতে অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যোপাদানসমূহ পরিমিত মাত্রায় একটি ট্যাঙ্কে নেয়া হয় এবং সেখান থেকে একটি পাম্পের সাহায্যে পাইপের মাধ্যমে ট্রেতে পুষ্টি দ্রবণ সঞ্চালন করে ফসল উৎপাদন করে ফসল উৎপাদন করা হয়। এ পদ্ধতিতে প্রথম বছর খরচ একটু বেশি হলেও পরের বছর খরচ একটু কম পড়ে।
সঞ্চালনবিহীন পদ্ধতিতে সরাসরি ট্রেতে গাছের প্রয়োজনীয় খাদ্যোপাদানসমূহ পরিমিত মাত্রায় সরবরাহ করে সরাসরি ফসল উৎপাদন করা হয়। এতে পাম্প বা পানি সঞ্চালনের প্রয়োজন হয় না।
আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ সহজেই এ পদ্ধতি অনুসরণ করে পস্নাস্টিকের বালতি, পানির বোতল, মাটির পাতিল ইত্যাদি ব্যবহার করেও বাড়ির ছাদ, বারান্দা এবং খোলা জায়গায় অনেক কম খরচে ফসল উৎপাদন করা যায়।
হাইড্রোফনিক পদ্ধতিতে মাটির স্পর্শ ছাড়াই চারা উৎপাদনের জন্য স্পঞ্জকে নির্ধারিত বর্গাকারে ডটডট করে কেটে খাদ্যোপাদান সংবরিত দ্রবণ ভর্তি ট্রেতে ৫ থেকে ৮ সেন্টিমিটার পানি রেখে প্রতিটি স্পঞ্জের মধ্যে ১টি করে বীজ বপন করতে হয়। চারা গজানোর ১০ থেকে ১২ দিন পর তা স্টীলের ট্রে বা পস্নাস্টিকের বালতিতে গাছের প্রয়োজনীয় খাদ্যোপাদানসমূহ পরিমিত মাত্রায় সরবরাহ করে কর্কশীটের ওপর গর্তের মধ্যে স্থানানত্মরিত করতে হয়।
এ পদ্ধতিতে চারা রোপণের পর দ্রবণের পিএইচ (অমস্ন) মাত্রা ৫.৮ থেকে ৬.৫-এর মধ্যে এবং ইসি (ৰার) মাত্রা ১.৫ থেকে ১.৯-এর মধ্যে রাখা দরকার। গাছের বৃদ্ধির পর্যায়ে ওপর থেকে সুতা বা শক্ত রশি ঝুলিয়ে গাছকে সোজা ও খাড়া রাখতে হয় এবং পরিচর্যা সাধারণ গাছের মতোই করতে হবে।
আমাদের দেশের সাধারণ কৃষকরা যেভাবে ফসল চাষ করছে, এখানে শুধু পদ্ধতিগত কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। তবে উৎপাদন এবং গুণগত মানের দিকে অনেক বেশি সফল এ হাইড্রোফনিক পদ্ধতি।
প্রতি বছর জনসংখ্যা বৃদ্ধিসহ বিবিধ কারণে ব্যাপক হারে কমে যাচ্ছে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ। অল্প জায়গায় বর্ধিত জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণে হাইড্রোফনিক চাষ পদ্ধতি একটি উৎকৃষ্ট কৌশল।
Source: Daily janakantha

No comments:

Post a Comment