Tuesday, October 19, 2010

ডাল ও তেলজাতীয় শস্যের ফলনে বিপ্লব ঘটাতে পারে জীবাণু সার

ডাল ও তেলজাতীয় শস্যের ফলনে বিপ্লব ঘটাতে পারে জীবাণু সার

বাকৃবি প্রতিনিধি
কৃষিনির্ভর এই দেশে কৃষির উন্নয়নের ওপর নির্ভর করে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন। আর কৃষি উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজন উন্নত প্রযুক্তির যথোপযুক্ত ও দক্ষ ব্যবহার। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যচাহিদা পূরণে সীমিতসংখ্যক জমিতে উত্পাদন বাড়াতে জমিতে ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক সার ও কীটনাশক, যা মাটির উর্বরাশক্তি কমিয়ে দেয় ও পরিবেশ দূষণ করে। ফলে দিনদিন আবাদি জমি হারিয়ে ফেলছে তার নিজস্ব উর্বরাশক্তি। এছাড়াও পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত সার ব্যবহারে ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি ফসলের পুষ্টিগুণও নষ্ট হয়। উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ফলনের জন্য বেশ কয়েকটি খাদ্য উপাদানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় নাইট্রোজেনের। এই নাইট্রোজেনের উত্স হলো ইউরিয়া সার। কিন্তু অতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহারে জমির উর্বরাশক্তি নষ্ট হয়। ইউরিয়া সারের বিকল্প হিসেবে জীবাণু সার, যা কার্যকর এবং মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় ও ফসলের উত্পাদন বৃদ্ধিতে অনন্য ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিজ্ঞানীদের অভিমত। জীবাণু সার হচ্ছে এক ধরনের সার, যার ভেতর প্রচুর বাছাইকৃত জীবন্ত অণুজীব অবস্থান করে। তিন ধরনের জীবাণু সার পাওয়া যায়। যেমন—নাইট্রোজেন বন্ধনকারী জীবাণু সার, ফসফরাস দ্রবীভূতকারী জীবাণু সার এবং আবর্জনা ও কম্পোস্ট থেকে গাছের খাদ্য সরবরাহকারী জীবাণু সার। বিভিন্ন ফসলের জন্য এ সার বিভিন্ন রকম। ডাল ও তেলজাতীয় (যথা—মুগ, মসুর, মাস, ছোলা, সয়াবিন, চীনাবাদাম ও বরবটি) ফসলের জন্য জীবাণু সার ইউরিয়া সার অপেক্ষা একদিকে যেমন জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করে, তেমনি ফসলের ফলন ও গুণগত মান বাড়ায়। এছাড়া এ সার ব্যবহারে খরচ কম এবং তা দামে সস্তা ও পরিবেশবান্ধব। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছে জীবাণু সার ব্যাবহারের ফলে মসুর, ছোলা, মুগ, চীনাবাদাম, বরবটি ও মাসকলাইয়ের ফলন ১৫-৪৫ শতাংশ এবং সয়াবিনের ক্ষেত্রে ৭০-১৫০ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব।
মসুর, মুগ ও মাসকলাইয়ের ক্ষেত্রে প্রতি কেজি বীজের জন্য ৪৫ গ্রাম এবং ছোলা, চীনাবাদাম, সয়াবিন ও বরবটির ক্ষেত্রে প্রতি কেজি বীজের জন্য ৩০ গ্রাম জীবাণু সার মেশাতে হবে। জীবাণু সারের পরিমাণ বেশি হলে কোনো ক্ষতি নেই। জীবাণু সার ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা মেনে চলতে হবে। জীবাণু সার যেহেতু জীবন্ত জীবাণু দিয়ে তৈরি করা হয়, তাই ফসলের ফলন নির্ভর করে জীবন্ত জীবাণুর সংখ্যার ওপর। তাই জীবাণু সার ক্রয় করার পর থেকে বীজের সঙ্গে মিশিয়ে বপন করা পর্যন্ত এদের জীবিত রাখতে হয়। এজন্য রোদ ও তাপ থেকে এ সারের প্যাকেটটিকে দূরে রাখতে হবে।
জীবাণু সার প্রযুক্তিটি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে ফসলের খাদ্য উপাদানের পরিমাণ ও জৈব পদার্থের পরিমাণ বৃদ্ধি করাসহ মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখা সম্ভব।

চরের মানুষের বন্ধু ভাসমান এক হাসপাতাল



চরের মানুষের বন্ধু ভাসমান এক হাসপাতাল

শাহাবুল শাহীন, গাইবান্ধা

গাইবান্ধার চরাঞ্চলে বিনামূল্যে চিকিত্সাসেবা দিচ্ছে লাইফবয় ফ্রেন্ডশিপ ভাসমান হাসপাতাল। সাত বছরে নয় লাখেরও বেশি মানুষকে অস্ত্রোপচারসহ অন্যান্য চিকিত্সাসেবা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে সাধারণ চিকিত্সা থেকে শুরু করে অস্ত্রোপচার, গর্ভবতী ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার পরিকল্পনা, চক্ষু ও দন্ত চিকিত্সা এবং ফিজিওথেরাপির ব্যবস্থা রয়েছে। বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের মাধ্যমেও সেবা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে রয়েছে ডিজিটাল এক্স-রে, ইসিজিসহ সব ধরনের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার ব্যবস্থা। ফলে যোগাযোগের সমস্যা ও অর্থাভাবে যাঁরা শহরের বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের কাছে যেতে পারেন না, তাঁরা এখন হাতের কাছে আধুনিক চিকিত্সাসেবা পাচ্ছেন। বেসরকারি সংগঠন ফ্রেন্ডশিপ ও ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড যৌথভাবে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে ইউনিলিভার।
ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল সূত্র জানায়, ফ্রেন্ডশিপ একটি বেসরকারি সংগঠন। ১৯৯৮ সালে এটি গড়ে ওঠে। ফ্রেন্ডশিপ ও ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড যৌথভাবে ১৯৯৮ সালে লাইফবয় ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালটি উদ্বোধন করে। ২০০২ সালে গাইবান্ধার চরাঞ্চলে হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়। গত সাত বছরে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও জামালপুর জেলার ৩৫টি স্পটে এ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল চিকিত্সাসেবা দেয়। গত ১ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের খাটিয়ামারীর চরে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের জাহাজ নোঙর করে। এখানে আড়াই মাস চিকিত্সাসেবা দেওয়া হবে। এখান থেকে হাসপাতালটি সদর উপজেলার মোল্লারচর ইউনিয়নের সিধাই গ্রামের চরে যাবে। তবে নদীর পানির গভীরতার ওপর স্পট নির্ধারণ নির্ভর করে। এর আগে একই উপজেলার এরেণ্ডাবাড়ী ইউনিয়নের হরিচণ্ডী গ্রামে দুই মাস ১৫ দিন চিকিত্সাসেবা দেওয়া হয়। মোল্লারচর ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান সরকার বলেন, ‘দুর্গম এলাকা হওয়ায় চরাঞ্চলে সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীরা আসতে চান না। এমনকি চরাঞ্চলে কোনো ওষুধের দোকান পর্যন্ত নেই। ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল চরাঞ্চলের মানুষকে হাতের কাছে চিকিত্সাসেবা পৌঁছে দিয়েছে। হাসপাতালের চিকিত্সা ক্যাম্পে মাইকিং করে রোগী পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। এমনকি এসব কাজে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ফ্রেন্ডশিপের বিভিন্ন সেমিনারে যোগ দিয়ে থাকি।’
ফ্রেন্ডশিপের তথ্যবিষয়ক কর্মকর্তা লোকমান হোসেন বলেন, হাসপাতালে দুজন চিকিত্সক নিয়মিত চিকিত্সাসেবা দিচ্ছেন। এ ছাড়া হাসপাতালে তিনজন নার্স, তিনজন চিকিত্সা সহকারী, তিনজন টেকনিশিয়ান, পাঁচজন সহকারী টেকনিশিয়ান, একজন ড্রাইভার, একজন কুক, একজন জাহাজ ক্লিনার, একজন মাস্টার, একজন মেকানিক, একজন জেনারেটর টেকনিশিয়ান ও ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিত্সক শফিউল আযম জানান, সপ্তাহের সাত দিনই সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বিনামূল্যে রোগীদের চিকিত্সাসেবা দেওয়া হয়। রোগীপ্রতি রেজিস্ট্রেশন ফি মাত্র পাঁচ টাকা। রেজিস্ট্রেশনের জন্য রোগীকে একটি বই দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দফায় চিকিত্সকের সঙ্গে সাক্ষাত্ করার জন্য তিন টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি নেওয়া হয়।
ফজলুপুর ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) জালাল উদ্দিন জানান, এসব ইউনিয়ন জেলার মূল ভূ-খণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। উপজেলা ও জেলার সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। ফলে মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নিতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয় এলাকার মানুষজনকে। এ জন্য অনেকেই অকালে মারা যান। এ বাস্তবতায় লাইফবয় ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল মানুষের ভীষণ উপকারে এসেছে। যাঁরা যোগাযোগ সমস্যা ও অর্থাভাবে শহরে গিয়ে চিকিত্সা নিতে পারেননি, তাঁরা এখন হাতের কাছেই আধুনিক চিকিত্সাসেবা পাচ্ছেন। তিনি বলেন, হাসপাতালটি মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। গ্রামপুলিশ দিয়ে হাসপাতালে কর্মরতদের নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।
নিয়মিত রোগী দেখা ছাড়াও ভাসমান হাসপাতালের আশপাশে প্রতিবছর গড়ে ১০টি চিকিত্সা ক্যাম্পের মাধ্যমে চিকিত্সাসেবা দেওয়া হয়। প্রতিটি ক্যাম্পে সাত দিন থেকে এক মাস পর্যন্ত চিকিত্সাসেবা দেওয়া হয়। হিউমেনিটারিয়ান এইড নামে ফ্রান্সের একটি সংগঠনের আর্থিক সহায়তায় বছরে অন্তত ৬০ জন বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক পর্যায়ক্রমে এসব ক্যাম্পে চিকিত্সাসেবা দেন।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি গ্রামের কৃষক আকবর মিয়া (৪৫) জানান, আমার ছেলে শাহজালালের (১৭) একটি পা জন্মের পর থেকেই বাঁকা ছিল। তাকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে হতো। লাইফবয় ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের বিদেশি চিকিত্সক দিয়ে অস্ত্রোপচারের পর সে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছে। জামালপুরের মৌলভীরচরের মামুন (১১) একইভাবে অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়েছে।
শুধু খাটিয়ামারীর চরের মানুষই নয়, পাশের ফুলছড়ি উপজেলার এরেণ্ডাবাড়ী, ফুলছড়ি সদর, ফজলুপুর, গাইবান্ধা সদর উপজেলার মোল্লারচর ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষও চিকিত্সাসেবা পাচ্ছে। এ ছাড়া কুড়িগ্রাম, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, রংপুর ও লালমনিরহাট থেকেও মানুষ এখানে চিকিত্সা নেয়। এরেণ্ডাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আমিনুল ইসলাম বলেন, সাধারণত চরাঞ্চলের হতদরিদ্র মানুষ অসুস্থ হলে গ্রাম্য কবিরাজ, ঝাড় ফুঁক ও পানিপড়ার ওপর নির্ভর করে থাকে; বিশেষত গর্ভবতী নারীদের বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। সময়মতো তাদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে না পারায় এর আগে চরাঞ্চলের অনেক নারীর অকালে মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বর্তমানে লাইফবয় হাসপাতালের কারণে এসব সমস্যা অনেক কমেছে।
হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, চিকিত্সাসেবা কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত নয় লাখ ৩৬ হাজার ২৫৬ জনকে বিনামূল্যে চিকিত্সাসেবা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ চিকিত্সাসেবা নিয়েছে পাঁচ লাখ ৭৩ হাজার ৯৪০ জন, অপারেশন দুই হাজার ৫০৫ জন; বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের মাধ্যমে চিকিত্সাসেবা নিয়েছে ৩৩ হাজার ৪২৭ জন, শল্য চিকিত্সা সুবিধা পেয়েছে পাঁচ হাজার ৫৫৭ জন এবং স্যাটেলাইট ক্লিনিকের মাধ্যমে তিন লাখ ৮২৭ জন চিকিত্সাসেবা নিয়েছে। এ হিসাবে দৈনিক গড়ে ৩৬৬ রোগীকে চিকিত্সাসেবা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে কর্মরত নার্স অঞ্জলী রানী বলেন, এখানে চিকিত্সা নিতে আসা লোকজনকে গুরুত্বসহ সেবা দেওয়া হয়। তাই চরাঞ্চল ছাড়াও বিভিন্ন জেলার মানুষ এ হাসপাতালে আসছে।
মোল্লারচর ইউনিয়নের ব্যাটকামারি গ্রামের দরিদ্র আছিরন বেগম (৭০) জানান, ‘হামরা জীবনে বড় ডাক্তারের কাচে যাবার পাইন্যাই। অসুক হলে ফকির-কবর্যাজের পানি পড়া খাচি। জাহাজের ডাক্তারের কাচে অপরাশোন করি হামার চোক ভালো হচে। গাঁওয়োত জাহাজকোনা না আইলে চোকের অসুক থ্যাকি গ্যালো হয়।’
খাটিয়ামারী গ্রামের পার্শ্ববর্তী কৃষ্ণমণিচর গ্রামের স্কুলশিক্ষক আলম মিয়া বলেন, চরাঞ্চলে অনেক বৃদ্ধ-বৃদ্ধা আছেন; যাঁরা জীবনেও এমবিবিএস ডাক্তারের চিকিত্সা নেননি। তাঁরাও এখানে সেই সুযোগ পাচ্ছেন। দুর্গম চরাঞ্চলে ঘুরে ঘুরে মানুষকে চিকিত্সাসেবা দেওয়ার উদ্যোগ মহত্। সরকারিভাবেও এটা সম্ভব হয়নি। খাটিয়ামারী গ্রামের মৃত বশির উদ্দিনের স্ত্রী জমিরন বেগম (৭০) নিজের ভাষায় বললেন, ‘হামরা গরিব মানুষ। ম্যাল্যা দিন অসুকোত ভুগচি। ভালো ডাক্তারের কাচে যে যামো, ট্যাকা পামো কোনটে। টাউনোত যাতে হামারগরে ১০০ ট্যাকা নাগে। দুই ব্যালা খাবার পাইন্যা, ট্যাকা জোগাড় করমো ক্যামন করি। বাড়ির কাচে জাহাজ আসি ভালো হচে। বড় ডাক্তারোক দ্যাকেয়া হামারগরে ম্যালা অসুক ভালো হচে।’
ফ্রেন্ডশিপের প্রজেক্ট ম্যানেজার অমল কুমার প্রামাণিক বলেন, হাসপাতালে চোখ অপারেশন, লেন্স স্থাপন, দন্ত, অর্থোপেডিক অপারেশন, প্লাস্টিক সার্জারি, গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্যসেবা, শিশু চিকিত্সা, পরিবার পরিকল্পনা ও স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ, ঠোঁট কাটা অপারেশন, স্ত্রীরোগের চিকিত্সা, ফিজিওথেরাপি, নাক, কান, গলার চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। ভাসমান হাসপাতালের চিকিত্সা সুবিধাভোগী ফজলুপুর ইউনিয়নের খাটিয়ামারী গ্রামের বদিউজ্জামানের স্ত্রী হাফিজা খাতুন (৪২) ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল থেকে হাঁপানি রোগের চিকিত্সা নিয়ে সুস্থ হওয়ার কথা জানান।
এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন রকিবুদ্দৌলা বলেন, ‘আমি একাধিকবার ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের কার্যক্রম ঘুরে দেখেছি। তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি চিকিত্সাসেবার পাশাপাশি এ হাসপাতালের চিকিত্সাব্যবস্থা ভালো। ওই সব চরাঞ্চলে পর্যাপ্ত সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী নেই। এ ছাড়া চরাঞ্চলের মানুষ অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে শহরে আসতে পারে না। এ ক্ষেত্রে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল চরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। তাই জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হয়ে থাকে।’

খুবি শিক্ষার্থীর সাফল্য : ধনচে গাছ থেকে পরিবেশবান্ধব ফাইবার বোর্ড

খুবি শিক্ষার্থীর সাফল্য : ধনচে গাছ থেকে পরিবেশবান্ধব ফাইবার বোর্ড

সোহেল রানা বীর, খুুবি
কম দামে আসবাবপত্র সরবরাহের জন্য বিভিন্ন সময় উড সায়েন্টিস্টরা বিভিন্ন ধরনের কম্পোজিট ম্যাটেরিয়াল, যেমন—পার্টিকেলবোর্ড, মেলামাইনবোর্ড, ফাইবারবোর্ড, প্লাইউড আবিষ্কার করেছেন। তবে উন্নতমানের ফাইবারবোর্ড হিসেবে মিডিয়াম ডেনসিটি ফাইবারবোর্ডের (এমডিএফ) গ্রহণযোগ্যতা সাধারণত আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি। কারণ এটি পার্টিকেলবোর্ডের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তাছাড়া কাঠের মতো ফিনিশিং করা যায় এবং পার্টিকেলবোর্ডের মতো মেলামাইন শিটের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু পার্টিকেলবোর্ড গাছের ফাইবার থেকে তৈরি করায় চাপ পড়ে বনজ সম্পদের ওপর। ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই বনজ সম্পদের বিকল্প হিসেবে যদি কৃষিজ পণ্য ব্যবহার করা যায় তবে বনজ সম্পদের ওপর চাপ যেমন কমবে, তেমনি কৃষিজ দ্রব্যের অর্থনৈতিক ব্যবহারটা আরও বৃদ্ধি পাবে। এই চিন্তা থেকে ধনচে গাছ থেকে ফাইবারবোর্ড আবিষ্কার করলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্টি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের মাস্টার্স ক্লাসের ছাত্র অতনু কুমার দাশ।
এ কাজে সফল হন তিনি দীর্ঘ এক বছর গবেষণার পর। একই ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে তিনি ফাইবারবোর্ডের নতুন এই কাঁচামাল আবিষ্কার করতে সক্ষম হন।
এ প্রতিবেদককে তিনি জানান, ধনচে গাছ শুধু জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ফলে এর ব্যবহার সীমিত। যদি এর থেকে বাণিজ্যিকভাবে ফাইবারবোর্ড তৈরি করা যায় তাহলে একদিকে বনজ সম্পদ ও অন্যদিকে বিপর্যয়ের আশঙ্কা থেকে রক্ষা পাবে পরিবেশ।
আবিষ্কারক অতনু কুমার দাশ বলেন, ফাইবারবোর্ড তৈরির জন্য প্রথমে ধনচে গাছ সংগ্রহ করে সেমিকেমিক্যাল পদ্ধতিতে ফাইবার তৈরি করতে হবে। পরে ফাইবারের ম্যাট তৈরি করে অ্যাডহেসিব মেশানো হট প্রেসে দিয়ে বিশেষ ধরনের বোর্ড প্রস্তুত করা হয়। সবশেষে ওই বোর্ড ট্রিমিং করা হয় নির্দিষ্ট তাপমাত্রায়।
এ আবিষ্কারের তত্ত্বাবধায়ক সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ধনচে গাছ থেকে ফাইবারবোর্ড তৈরির বিশেষ সুবিধা হলো এ গাছ আমাদের দেশে খুবই সহজলোভ্য। তাছাড়া এর তেমন কোনো অর্থনৈতিক গুরুত্ব নেই। ধনচে গাছ থেকে বাণিজ্যিকভাবে ফাইবারবোর্ড তৈরি করলে কম দামে সমমানের কাঠের বিকল্প আসবাবপত্র পাওয়া সম্ভব।
এ ধরনের আবিষ্কার বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করেন অতনু কুমার দাশ ও অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম। এজন্য তারা সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা কামনা করেন।

পোশাক বিদেশি স্টাইল এ দেশি

পোশাক বিদেশি
স্টাইল এ দেশি

কোলাজ জ্যাকেটের সঙ্গে পাতিয়ালার ফিউশন, রেড কার্পেট গাউনে মিশে যায় শাড়ির সৌন্দর্য। ফ্যাশন
ডিজাইনার অর্ণব সেনগুপ্ত এই এক্সক্লুসিভ ফ্যাশনকেই আমজনতার আয়ত্তে আনতে চান। সংযুক্তা বসু

ঙে রঙে ছন্দে ছন্দে ছুঁচ-সুতোর ফোঁড় দিয়ে দিয়ে তিনি পোশাক-আশাকের উপর এঁকে চলেন সারা ভারতের মেঠো রূপকথা। ফুলে ফুলে সাজানো কাশ্মীর থেকে মরুময় রাজস্থান থেকে সবুজ বাংলা থেকে পার্বত্য মণিপুরের লোকশিল্পকে ‘হাই প্রোফাইল’ ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের চিন্তাভাবনায়। এমব্রয়ডারিতেই মন প্রাণ ঢেলে দিয়েছেন তিরিশ পেরনো তরুণ ডিজাইনার অর্ণব সেনগুপ্ত। রঙের প্যালেট, আর ছুঁচসুতোর প্রতি তাঁর ভালবাসা আশৈশব। নিজের দিদাকে দেখতেন সারা দুপুর বসে, কেমন করে তিনি কাঁথা স্টিচ দিয়ে অপূর্ব নকশা তোলেন। সেই তখন থেকেই অর্ণবের শিল্পী সত্তার উন্মোচন।


রংবাহারি জমজমাট জ্যাকেট

চুড়িদার বা ট্রাউজার্সের ওপর সালোয়ার-শার্ট-টিশার্ট পরার একঘেয়েমি থেকে মুক্তির পথ খুঁজছেন অর্ণব। সেই জন্যই মনোহরণ নকশায় বানাচ্ছেন রকমারি জ্যাকেটে। বললেন, “এমন ভাবে জ্যাকেট বানাচ্ছি যাতে বিয়ে বাড়ি কি পার্টিতেও পরে যাওয়া যায়। এই জ্যাকেটের নাম দেওয়া যেতেই পারে কোলাজ জ্যাকেট।”

মডেল ইজি ইয়াসমিন পাশের ছবিতে পরেছেন এমন একটি বর্ণময় কোলাজ জ্যাকেট। গোড়ালি অবধি নেমে আসা জ্যাকেটের মূল কাপড়টি হল র’সিল্ক। তার ওপর জর্জেট, শিফন, এবং রেশমের নানা আকারের টুকরো টুকরো বর্ণিল কাপড় বসিয়ে করা হয়েছে প্যাচওয়ার্ক। লাল, হলুদ, কমলা, সবুজ, বেগুনি, ফিরোজা নীল টুকরো কাপড়ে গায়ে নানা প্রদেশের নকশা। কোথাও কাচ বসিয়ে গুজরাতি ফোঁড়, কোথাও রাজস্থানি ‘গোটা’ সেলাই, কোথাও বা জারদৌজি। ফাঁকেফোকরে বাংলার কাঁথা স্টিচ তো আছেই। ইচ্ছে হলে আজানুলম্বিতও পরা যেতে পারে। ‘‘জ্যাকেটের কয়েকটা বোতাম খোলা রেখেও স্টাইল করা যায়।’’

জ্যাকেটের পকেটেও শিল্পের ছোঁয়া

স্নিগ্ধ আর্থ কালারে ‘ক্লাসি’ লুক শর্ট জ্যাকেটও বানিয়েছেন এই রেঞ্জে অর্ণব। মটকার কাপড়ে তৈরি ঘিয়ে রঙের জ্যাকেটে বাহার খুলেছে আড়ি নকশায় আর ভিক্টোরিয়ান হাই কলারে। শরীরে আঁটা বা বডি হাগিং পোশাকটির ওয়েস্ট পকেট তৈরি হয়েছে সুতি-সিল্ক দিয়ে। জ্যাকেটের ভেতরে সাটিনের লাইনিং। “শর্ট জ্যাকেটের নীচে প্যান্ট পরাই যায়, কিন্তু পাতিয়ালা পরলে পুরো পোশাকটা অন্য মাত্রা পাবে। জ্যাকেটের সঙ্গে পাতিয়ালায় বেশি ঘের থাকলে ভাল দেখায়। পাতিয়ালার জন্য কাপড় লাগবে অবশ্যই চার মিটার।’’

নানা ধরনের খাদি কাপড় দিয়ে রংচঙা জ্যাকেট তৈরি হতে পারে। ঐতিহ্যবাহী দেশি পোশাক শাড়ি, লেহেঙ্গার পাশাপাশি ওয়েস্টার্ন আউটফিটের একটা বাজার তৈরির চেষ্টা করছেন নাম করা ডিজাইনারেরা। অর্ণবও পশ্চিমি পোশাক বানাচ্ছেন। তবে ওয়েস্টার্ন আউটফিটে খাঁটি দেশি ফ্যাশনের মিশেল ঘটিয়ে বানিয়ে চলেছেন এক সে বঢ়কর এক পোশাক।


পশ্চিমি গাউনে ভারতীয় ঘরানা

অস্কারের রেড কার্পেটে হলিউডের নায়িকা মাটিতে লুটিয়ে থাকা দীর্ঘ গাউন পরে যখন হাঁটেন, মনে হয় ও পোশাক নায়িকাদের গ্ল্যামারের সঙ্গেই বুঝি মানায়। “কিন্তু একটু উলটে পালটে নিলে গাউন হয়ে উঠতে পারে ভারতীয় মেয়েদের উৎসব-অনুষ্ঠানে যাওয়ার পোশাক। ভারতীয় মেয়েদের শরীরের গড়নের কথা ভেবেই গাউনে এনেছি শাড়ির মতো কুঁচি দেওয়ার স্টাইল। এতে গাউন সামলানো দায় মনে হবে না। এমন গাউন পরে পরিদের মতো উড়ে যাওয়া যায়।”


গাউন কাম শাড়ি

এমন একটি গাউন যার কাটিং এবং কুঁচি দেওয়ার কায়দায় রয়েছে সবরমতী স্টাইল। গুজরাত বা রাজস্থানের মেয়েরা যেমন সামনে আঁচল দিয়ে শাড়ি পরেন সেই ভাবেই দেওয়া হয়েছে গাউনের কুঁচি ও সেলাই। গাউনের বোতাম রয়েছে চোখের আড়ালে বাহুর নিচে, কোমরের উপরিভাগে ওভারল্যাপ করা কাপড়ের ভেতর। মনে হবে আর যে কোনও পোশাকের মতো ‘ইজি টু ওয়্যার’। এক বার গলিয়ে নিলেই হল। অর্ণব বললেন, “গাউনের কাপড়টি হল পশমিনা কট্‌ন। একটু খসখসে রাফ টেক্সচারের পশমিনা কটন কাশ্মীর এম্পোরিয়ামে গেলেই পাওয়া যাবে।” পশমিনা গাউনটি ম্যানিকুইনের গায়ে জড়িয়ে সরু-মোটা তুলির আঁচড় দিয়েছেন নানা রঙে তিনি।


আটপৌরে গাউন

অর্ণব দেখালেন আরও একটি গাউন যেখানে সেলাই আর কুঁচি পড়েছে বাংলার আটপৌরে শাড়ি পরার কায়দা মেনে। শ্যাওলা সবুজ আটপৌরে গাউনটির বুকের কাছে জারদৌজির কাজ। তার নীচ থেকে পা অবধি নেমে এসেছে হাতে আঁকা ফুলের ছবি। “ভারতীয় মেয়েদের এই ধরনের গাউনের কাটিংয়েই ভাল মানাবে বলে মনে হয়েছে আমার। সাবেকি গাউনের রীত রেওয়াজ তাই ভেঙে দিলাম। পশমিনা কটনের বদলে অবশ্য শিফন বা জর্জেটেও হতে পারে শাড়ি স্টাইলে গাউন।”

নেটের শাড়িতে ফুলের বাগান

মিহি নেটের ভেতর দিয়ে ছুঁচ ফুটিয়ে এমব্রয়ডারি করা! কী কঠিন কাজ! অর্ণব মেলে ধরলেন হালকা রঙের চার পাঁচ রকম ডিজাইনের নেটের শাড়ি। “নেটের ওপর কাশ্মীরি শালে যে ধরনের ফুলের নকশা থাকে সেই রকম ফুলের বোকে সেলাই করিয়েছি। জমাটি সুতোর ঘন কাজ নানা রঙের ফুলের বাগান শাড়ির পাড়ে। দেখে মনে হবে যেন বাগান চলেছে পায়ে পায়ে।”

নেটের শাড়ি নিজেই হাতে

ইচ্ছে করলে শৌখিন নেটের কাপড় কিনে ডিজাইনারের কাছে না গিয়ে ভাল এমব্রয়ডারি জানা শিল্পীকে দিয়েও সেলাই করিয়ে নেওয়া যেতে পারে। নিউ মার্কেটে এবং যে কোনও বড় ফ্যাব্রিকের দোকানে পাওয়া যায় সিল্ক নেট। সাড়ে চারশো টাকা মিটার। ভিসকোজ নেটের দাম কিছু কম। নব্বই টাকা মিটার। তাতেও ফুলেল নকশা ভাল ফোটে।


অর্ণবের জমিজিরেত

কলকাতার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজি বা নিফ্‌ট থেকে ফ্যাশন ডিজাইনিং নিয়ে পাশ করে অর্ণব বেশ কিছু দিন বাংলাদেশে ডিজাইনিং নিয়ে শিক্ষকতা করেছিলেন। দেশে ফিরে নাগা বস্ত্র দিয়ে তৈরি করেছিলেন ক্যাজুয়্যালওয়্যার। এর পর ধীরে ধীরে নিজেই ওয়ার্কশপ খুলে কাজে নামা। প্রায় ৩০০ কারিগর প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে অর্ণবের ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে সাহায্য করে জীবিকা নির্বাহ করেন। বললেন, “ইউরোপে ‘ফ্যাশন ফর অল’ ধারণাটা ইতিমধ্যে চালু হয়ে গেছে। এক্সক্লুসিভ শো রুম ছাড়িয়ে শপিং কমপ্লেক্সের খুচরো বিক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিতে চাই আমার নিজস্ব ডিজাইনের জামাকাপড়, শাড়ি। এটা যদি করতে পারি তবেই ডিজাইনার হিসেবে আমার সাফল্য।”

Source: Daily Anandabazar

Monday, October 18, 2010

বিদেশে কৃষি জমি লিজ : দেরিতে হলেও মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ

বিদেশে কৃষি জমি লিজ : দেরিতে হলেও মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ

০০ শফিকুর রহমান রয়েল

সম্প্রতি সাপ্তাহিক ২০০০-এ প্রকাশিত বিশেষ একটি প্রতিবেদন পড়লাম মনোযোগ দিয়ে। জানতে পারলাম, গত ২৪ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিম আফ্রিকায় 'ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন'-এ ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস। উদ্দেশ্য ছিল- বাজার অনুসন্ধান, জনশক্তি রফতানি ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা। দেশে ফিরে তিনি সাংবাদিকদের শুনিয়েছেন আশাব্যঞ্জক কথাবার্তা। ঘানা, সেনেগাল ও আইভোরিকোস্টকে কৃষি জমি লিজ নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রস্তাব গৃহীত হলে উৎপাদিত ফসল বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেবে দেশগুলো। তার মানে কৃষি কাজ করতে বাংলাদেশের কৃষকদের পশ্চিম আফ্রিকায় যাওয়ার একটা সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর তথ্য অনুসারে, লাইবেরিয়ায় মাত্র এক মার্কিন সেন্টের বিনিময়ে এক একর জমি লিজ নেয়া যায় এক বছরের জন্য। এ তো রীতিমতো পানির দাম!

মজার ব্যাপার হলো, বাংলাদেশ বিদেশে কৃষি জমি লিজ নেয়ার যে চিন্তা এখন করছে, অনেক দেশই তা শুরু করে দিয়েছে অনেক আগে। পুঁজি রফতানি করে, অথচ খাদ্য আমদানি করে, এমন দেশগুলো এই উদ্যোগের অগ্রপথিক। বিশ্ববাজার থেকে খাদ্য কেনার চেয়ে এই কৌশল বেশি কার্যকরী। সরকারী এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কোম্পানিগুলো বিদেশে কৃষি জমি লিজ নিয়ে ফসল ফলায়। তারপর যৎসামান্য দিয়ে বাকিটা জাহাজ ভরে নিয়ে আসে নিজেদের দেশে। তারা অবশ্য নিজেদের কৃষক পাঠায় না। চুক্তিভিত্তিক ওখানকার কৃষক দিয়েই উৎপাদন করে। অনেকেই এটিকে বলছে, নয়া সাম্রাজ্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি। তবে লিজ নেয়া দেশগুলোর দাবি- বীজ, প্রযুক্তি পুঁজি সরবরাহের বদৌলতে মুনাফা ভোগ করছে তারা।

বিদেশে কৃষি জমি লিজ নেয়ার ফলশ্রুতিতে গেলো বছরের সূচনায় সৌদি আরব প্রথম গমের চালানটি গ্রহণ করে। বাদশাহ আব্দুলস্নাহ এই মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য উৎসবের আয়োজন করেছিলেন। করবেনই বা না কোনো, সবে তো শুরু। এখন থেকে প্রতিবছর ইথিওপিয়া থেকে আসবে বিশাল পরিমাণের খাদ্য শস্য। বাদশাহ সম্পূর্ণ নিজের উদ্যোগেই জমি লিজ নেয়ার চুক্তি করেন দরিদ্র দেশটির সঙ্গে। প্রথম কয়েক বছর করের কোন ঝামেলা নেই। বিনিয়োগকারী সুযোগ পাচ্ছে উৎপাদিত সমস্ত খাদ্য শস্যই দেশে নিয়ে যাওয়ার। সৌদি আরব ইথিওপিয়াতে বিনিয়োগ করেছে ১১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডবস্ন- এফপি) ঠিক একই পরিমাণ অর্থ খরচ করেছে ইথিওপিয়াতে গত ৪ বছরে। তবে তাদের লক্ষ্য ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে আক্রান্ত মানুষগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা।

বিদেশে কৃষি জমিতে বিনিয়োগ নতুন কিছু নয়। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাওয়ার পর রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ও যৌথ খামারগুলো লিজ নেয়ার জন্য ভিড় করেছিলো বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা। তবে সাম্প্রতিক প্রবণতাকে একটু ভিন্ন বলেই মন হচ্ছে, বিশেষত চুক্তির পরিসরের কারণে। ১ লাখ হেক্টরের (২৪ হাজার একর) চুক্তি হলেই সেটিকে বলা হয় বড় চুক্তি। বর্তমানে চুক্তি হচ্ছে তারচে' অনেক বড় আকারে। কেবলমাত্র সুদানেই ৬ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমি লিজ নেয়ার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। সংযুক্ত আরব-আমিরাত ও মিশর নিয়েছে ৪ লাখ হেক্টর করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুদানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মোট কর্ষিত জমির এক-পঞ্চমাংশ তারা ছেড়ে দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের কাছে। আফ্রিকার সর্ববৃহৎ এ দেশটি ঐতিহ্যগতভাবে আরব বিশ্বের রুটির ঝুড়ি নামে পরিচিত। তবে লিজ সেই সব দেশই দিচ্ছে, যাদের রয়েছে কর্ষিত-অকৃর্ষিত প্রচুর জমি, অথচ ঘাটতি রয়েছে পুঁজির।

বিদেশে জমি লিজ নেয়ার দৌড়ে ইতোমধ্যে সামিল হয়েছে ভারত ও চীন। জৈব জ্বালানির জন্য পামওয়েল উৎপাদনের লক্ষ্যে চীন কঙ্গোর কাছ থেকে লিজ নিয়েছে ২.৮ মিলিয়ন হেক্টর জমি। সেখানে তারা গড়ে তুলছে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ পামওয়েল পস্নানটেশন। এরই মধ্যে সেখানে পেঁৗছে গিয়েছে চীনা কৃষি শ্রমিক। আরো ২ মিলিয়ন হেক্টরের জন্য তারা কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছে কঙ্গোর সঙ্গে। ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (আইএফপিআরআই) জানিয়েছে, ২০০৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত দরিদ্র দেশগুলোর প্রায় ২০ মিলিয়ন হেক্টর জমি লিজ হিসেবে বিনিময় হয়েছে। এ জন্য অর্থ চুক্তির পরিমাণ ২০ থেকে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অনেকেই এ বিষয়টিকে দেখছে ইতিবাচক দৃষ্টিতে। কারণ, প্রতি হেক্টর জমিতে যদি ২ টন খাদ্য শস্যও হয়, তবে তা হবে আফ্রিকায় গড় উৎপাদনের দ্বিগুণ। এতে করে পৃথিবীর খাদ্য সমস্যা কমানোর সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

আগে ভিন দেশের কৃষিতে বিনিয়োগ হতো কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়ে, কিন্তু এখন চলছে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে। তবে বেসরকারী পর্যায়ে বিনিয়োগও টিকে রয়েছে। গত বছর সুইডেনের আলপো এগ্রো কোম্পানি রাশিয়ার কাছ থেকে লিজ নেয় ১ লাখ ২৮ হাজার হেক্টর জমি। প্রায় সমপরিমাণ জমি কম্বোডিয়ার কাছ থেকে নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি কোম্পানি।

বৃহৎ পরিসরে জমি লিজ নেয়ার চিন্তাটা হয়তো বাংলাদেশ এখনই করছে না, কিন্তু স্বল্প পরিসরে হলেও এখনই শুরু করা উচিত। কারণ প্রতিদ্বন্দ্বীরা তৎপর। ভবিষ্যতে সস্তা বিনিময় মূল্য নাও থাকতে পারে। তবে আশার কথা- চাষাবাদ ব্যবস্থার উন্নয়নে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো। অদূর ভবিষ্যতে দেখা যেতে পারে বাংলাদেশের কৃষি শ্রমিকরা ফসল ফলাচ্ছে আফ্রিকায়, আর উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক চলে আসছে বাংলাদেশে।

- দ্যা ইকোনোমিস্ট অনুসরণে

শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি : আনন্দ পাঠের শিক্ষাঙ্গন

শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি : আনন্দ পাঠের শিক্ষাঙ্গন

আরশাদুল মোমিন
মানবিকতার বিকাশ এবং বাজার উপযোগী পেশাদার শিক্ষা—এই দুই বিশেষ লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব মোঃ ইমামুল কবীর শান্ত ডিজাইন, আর্ট এবং সাংস্কৃতিক শিক্ষা বিকাশের প্রত্যয়ে প্রতিষ্ঠা করেন সংস্কৃতিবিষয়ক বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়—‘শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি’। শিক্ষায় এখন বাজার উপযোগিতার বিবেচনা ও গ্রহণযোগ্যতা অধিকতর গুরুত্ব পেলেও মানবীয় গুণাবলী অর্জনের শিক্ষা বিষয়টি চরমভাবে অবহেলিত। প্রকৃত শিক্ষার জন্য চাই সাহিত্য-সংস্কৃতিবিষয়ক শিক্ষা ও গবেষণা। ফলে জনাব শান্ত পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা তথা অবকাঠামো নিশ্চিত করত ২০০৩-এ শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশনের অধীনে প্রতিষ্ঠা করেন গতানুগতিক শিক্ষা ধারা থেকে ব্যতিক্রম এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। যা উত্তরা মডেল টাউনের ছায়াঘেরা শীতল পরিবেশে একাধিক দৃষ্টিনন্দন ক্যাম্পাসে পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার ও ইউজিসি কর্তৃক অনুমোদিত-স্বীকৃত এই উচ্চ শিক্ষালয় থেকে বের হওয়া শিক্ষার্থীরা বাজার উপযোগী বিষয়ে শিক্ষাগ্রহণের ফলে খুব সহজে এবং দ্রুত বিভিন্ন চাকরির সুযোগ গ্রহণ করে পেশাগত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে। ফলে সীমিত সময়ের ব্যবধানে একটি স্বতন্ত্র ও ব্যতিক্রমধর্মী পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে খ্যাতি অর্জনে সক্ষম হয় এটি।
গুণগত মানের শিক্ষা ও স্বীকৃতি : খ্যাতিমান বিভিন্ন শিক্ষাবিদ কর্তৃক প্রণীত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জিত ডিগ্রিগুলো জাতীয়-আন্তর্জাতিক এবং সরকারি ও বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বিশেষ করে উচ্চ শিক্ষার জন্য দেশে-বিদেশে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য। প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রম উন্নত বিশ্বের যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের সমমানের। শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা, শিক্ষার উত্কর্ষে এবং সার্বিক মানোন্নয়নে সম্পৃক্ত রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সুদান, ভারত, শ্রীলংকাসহ দেশের বিশেষজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী। এছাড়াও এডেক্সেল ইন্টারন্যাশনাল, ইউকের অধীনে ইংল্যান্ড, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুযোগ রয়েছে।
বৃত্তি ও কাজের বিনিময়ে শিক্ষা: বৃত্তি ও কাজের বিনিময়ে শিক্ষা গ্রহণের বিরল সুযোগ তৈরি করেছে শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি। বিশেষত মেধাবী ও কম সুবিধাভোগী শিক্ষার্থীদের জন্য এটি সর্বমহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে।
বিশেষত্ব : আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষকদের দ্বারা বহুমুখী বাস্তব ডিজাইন, কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা। বিশেষ করে এদের পাঠ্যক্রম ও পাঠদান পদ্ধতি আন্তর্জাতিক মানের। এখানে বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা প্রদানের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে এবং পাঠদান করা হয় অত্যাধুনিক শিক্ষা প্রযুক্তি (অডিও ভিজুয়াল, সিডি) কম্পিউটার ল্যাব ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে।
সমসাময়িক তিনটি অনুষদের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। এসব অনুষদের অধীনে পরিচালিত প্রোগ্রামগুলো হচ্ছে- বিএ (অনার্স) ফ্যাশন ডিজাইন, অ্যাপারেল ম্যানুফেকচারিং, ইন্টেরিয়র আরকিটেকচার, গ্রাফিক্স ডিজাইন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া, প্রোডাক্ট ডিজাইন, কম্পিউটার সায়েন্স, ব্যাচেলর অব আরকিটেকচার, এমএ ফ্যাশন ডিজাইন, ইন্টেরিয়র ডিজাইন/প্রোডক্ট ডিজাইন, প্রোডাক্ট ডিজাইন অ্যান্ড ফ্যাশন মার্চেনডাইজিং, নৃত্য, মিউজিক, ড্রইং এন্ড প্রিন্টিং। এছাড়া বিবিএ, ল, ইংলিশ, ইসলামিক স্টাডিজ, সোস্যালজি অ্যান্ড অ্যানথ্রপলজি বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স করা যাবে।
আরও তথ্যের জন্য যোগাযোগ : মেইন ক্যাম্পাস : বাড়ি নং- ১, সড়ক -১৪, সেক্টর - ১৩, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০। ফোন : ৮৯২৩১৬৭, ৮৯১৮৯৩২, ৮৯৫৮০৪৮, ৮৯৫২৬১০।

Source: Daily Amardesh

Saturday, October 16, 2010

মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং সুন্দর আগামীর স্বপ্ন

মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং সুন্দর আগামীর স্বপ্ন

০০ নাহিদ হাসান ০০

পর্ৃিথবীর একভাগ মাটি আর তিনভাগ পানি। তাই পানির রাজ্যে দিনের পর দিন ভেসে চলা। সারাবিশ্বের হাজার হাজার আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল সংস্থা, নিজ নিজ দেশের জাতীয় পতাকা নিয়ে সিন্দাবাদের মতো বিশাল সমুদ্রের জাহাজগুলোতে হাতছানির ডাক শুধুমাত্র মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিদের। সমুদ্রের বিশাল বুকে নিজেকে ক্যাপ্টেন অথবা চিফ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার একমাত্র উপায় মেরিন ইঞ্জিরিয়ারিং-এ পড়াশোনা।

বিশ্ব অর্থনীতির বড় কর্মকাণ্ডে ৯০ শতাংশই পরিবাহিত হয় শিপিং ইন্ডাস্ট্রিতে। আর সেই শিপিংয়ের পরিবহন হচ্ছে জাহাজ। অর্থনীতিতে বার্ষিক আয়ের প্রায় ২০০ বিলিয়ন ইউএস ডলার আসে শিপিং খাত থেকে। সারাবিশ্বে প্রায় ৫ হাজার জাহাজ প্রতিদিন প্রায় ৬০০ কোটি টন পণ্য নিয়ে ১৫০টির বেশি দেশে ওয়ার্ল্ড ফ্লিট নিবন্ধিত হয়। প্রায় ১৩ লাখ সি ফেরিয়ার্স সারাবিশ্বে শিপিংয়ে কর্মরত। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের মূল বিন্দু দখল করে রেখেছেন সাদা সমুদ্রচারী অর্থাৎ মেরিন ইঞ্জিনিয়াররা।

মেরিনের কাজ :সাধারণত মেরিন ইঞ্জিনিয়ারদের তিনরকমের চাকরি হয়ে থাকে। নেভিগেশন, ইঞ্জিনিয়ারিং, রেডিও অ্যান্ড অয়্যারলেস কমিউনিকেশন।

নেভিগেশন :কার্গো ওঠানামা এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেভিগেশন ডিপার্টমেন্টের। জাহাজের নাবিকদের নিরাপত্তাও দেখতে হয় এই বিভাগকে। জাহাজের ক্যাপ্টেন হলো নেভিগেশন ডিপার্টমেন্টের প্রধান। খারাপ আবহাওয়ায় জাহাজ কোন পথে এবং কিভাবে যাবে তা ঠিক করেন ক্যাপ্টেন। তাদের সাহায্য করেন এই বিভাগের অন্যান্য ইঞ্জিনিয়াররা।

ইঞ্জিনিয়ারিং : জাহাজের যান্ত্রিক অবস্থা দেখাশোনার দায়িত্ব রয়েছে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারদের। ইঞ্জিনিয়ারিং যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার করতে হয় এদের।

রেডিও অ্যান্ড অয়্যারলেস কমিউনিকেশন : টেলিফোনের যোগাযোগ ব্যবস্থা পরিচালনা করেন এই বিভাগের কর্মীরা। সার্ভিস ডিপার্টমেন্ট জাহাজের কেটারিং যোগাযোগ করেন এই বিভাগ।

ভর্তির যোগ্যতা : মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি ও এইচএসসিতে কমপক্ষে জিপিএ ২.৫০ থাকতে হবে। আর শারীরিক যোগ্যতায় উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি বয়সসীমা সর্বোচ্চ ২৫ বছর।

বাংলাদেশ সরকার কতর্ৃক অনুমোদিত, ব্রিটিশ-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত শাহ্ মেরিন অ্যান্ড বিজনেস ইনস্টিটিউট মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স পরিচালনা করছেন। ২ বছর মেয়াদি এই কোর্সে প্রথম বছর আমাদের দেশে এবং ২য় বছর সাউথ টাইনসাইড কলেজ, ইংল্যান্ডে সম্পন্ন করবেন। পড়াশোনা শেষে সার্টিফিকেট প্রদান করবে ইংল্যান্ডের সাউথ টাইনসাইড কলেজ। যা বাংলাদেশে বেসরকারিভাবে পরিপূর্ণ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যোগাযোগ :শাহ্ মেরিন অ্যান্ড বিজনেস ইনস্টিটিউট, আদর্শ ছায়ানীড় হাউজিং সোসাইটি, বাড়ি- ১, রিং-রোড, শ্যামলী, ঢাকা। ফোন : ০১৭১৮০৮০২৩, ০১৯২৬৬৯৮৫৫৭, ৮১৫১০২৭
Source: Daily Ittefaq