Showing posts with label IT Tech. News. Show all posts
Showing posts with label IT Tech. News. Show all posts

Tuesday, January 3, 2012

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনাময় দেশী প্রকল্প

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনাময় দেশী প্রকল্প
আমাদের দেশে আন্তর্জাতিক মানের অনেক প্রকল্পের কাজ হয়। গবেষণাধর্মী এসব প্রকল্প যতটা আশাব্যঞ্জকভাবে শুরু হয়, শেষ পর্যন্ত তা আশা ভঙ্গের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর শেষটা বেশিরভাগ সময়ই তিমিরে থেকে যায়। এমন বেশিরভাগ প্রকল্প কাজে লাগানো হয় না, বা কাজে লাগানো যায় না। অবশ্য এর অন্যতম কারণ এগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে তেমন একটা পরিচিতি পায় না। কিছু প্রকল্প আলোর মুখ দেখলেও উদ্যোক্তাদের অভাবে তেমন একটা কাজে লাগানো যায় না। অবশ্য এর মধ্যে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক কারণও কিছুটা দায়ী। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন হাজার হাজার প্রকল্প কোনো কাজে আসছে না। আর এর পেছনে যাদের অবদান তারাও সেভাবে পরিচিতি বা স্বীকৃতি পান না। আমাদের দেশে এ ধরনের প্রকল্পের সংখ্যা একেবারে কম নয়। এমন কিছু প্রকল্পের বর্ণনা এই লেখার মাধ্যমে পাঠকের কাছে তুলে ধরার প্রয়াস পাব। নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বুয়েটের কিছু মেধাবী শিক্ষার্থীর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এসব প্রকল্প।



প্রকল্প-১ : পিপীলিকা সার্চ ইঞ্জিন

পিপীলিকা বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র সার্চ ইঞ্জিন, যা বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই কাজ করতে সক্ষম। এই উন্মুক্ত ওয়েব সার্ভিসটি সারা দেশের সাম্প্রতিক ও ব্যবসায় সংক্রান্ত সংবাদ অনুসন্ধান করতে সহায়তা করে। এটি দেশের প্রধান ২টি বাংলা ও ২টি ইংরেজি পত্রিকার সংবাদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্লেষণ ও সংরক্ষণ করে। জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিনগুলোর কোনোটিতেই বাংলা ভাষার ওপর তেমন গুরুত্ব আরোপ করা হয়নি। এতে বাংলা সংবাদ বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্ব দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

পিপীলিকায় বেশ কয়েক ধরনের তথ্য অনুসন্ধানের সুবিধা রয়েছে।

পিপীলিকায় ২টি ভিন্ন ধরনের সার্চ সুবিধা রয়েছে: কর্পোরেট অনুসন্ধান এবং সংবাদ অনুসন্ধান।

সাধারণভাবে কেউ সার্চ করলে সংবাদ অনুসন্ধানের ফল দেখানো হয়। কেউ যদি কর্পোরেট অনুসন্ধান করতে চান, তবে সার্চ বক্সের নিচের কর্পোরেট অনুসন্ধান বক্সে ক্লিক করে নিতে হবে।



কর্পোরেট অনুসন্ধান : পিপীলিকাতে প্রায় ৬০ হাজার প্রতিষ্ঠানের তথ্য রয়েছে। প্রতিটি কোম্পানির নাম, ঠিকানা, ফোন, ফ্যাক্স ইত্যাদি দিয়ে কোনো ব্যবহারকারী সার্চ করে তার কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে পারেন। প্রতিটি কোম্পানির তথ্যাবলী গ্রুপ করে দেখানো হয়। মোট কত সময় লেগেছে, মোট ফল এবং প্রতিটি পাতায় সর্বোচ্চ ১০টি ফল দেখানো হয়। প্রতিটি ফলের ডান পাশে একটি লেখা আসে Related News, কেউ এখানে ক্লিক করে সহজেই ওই ফলটির নাম দিয়ে সংবাদ অনুসন্ধান করতে পারেন। এভাবে যেকেউ কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংবাদ অনুসন্ধান করতে পারেন।

সংবাদ অনুসন্ধান : পিপীলিকার সংবাদ অনুসন্ধান বিভাগটি আবার কয়েকটি ভাগে বিভক্ত : সাধারণ সার্চ, স্থানভিত্তিক সার্চ এবং ক্যাটাগরিভিত্তিক সার্চ।

তবে স্থানভিত্তিক ও ক্যাটাগরিভিত্তিক সার্চ এখন শুধু বাংলার জন্য উন্মুক্ত।

সাধারণ সার্চ : সাধারণ সার্চে যেকোনো শব্দ বা শব্দাবলী দিয়ে সার্চ করলে সেই শব্দের বা শব্দাবলীর ভিত্তিতে সার্চ ফল দেখানো হয়। যদি কেউ ইংরেজিতে সার্চ করেন, তবে কোনো ক্যাটাগরি অনুযায়ী ফল দেয়া হয় না। সংবাদ সার্চের ফলের পাশাপাশি একই শব্দ বা শব্দাবলীর কর্পোরেট সার্চের প্রথম ১০টি ফল পাশে আলাদা স্থানে দেখানো হয়। প্রয়োজনে তার নিচের Search More এই স্থানটিতে ক্লিক করে সে আবার কর্পোরেট অনুসন্ধানে চলে যেতে পারে। উল্লেখ্য, বাংলার জন্য কোনো কর্পোরেট অনুসন্ধানের সুবিধা রাখা হয়নি।

পিপীলিকার বাংলা সার্চের জন্য এর নিজস্ব একটি বাংলা অভিধান ব্যবহার করা হয়েছে। যদি ব্যবহারকারী কোনো শব্দের ভুল বানান দেন, তাহলে পিপীলিকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সঠিক বানান খুঁজে নিয়ে সেই নতুন শব্দ দিয়ে অনুসন্ধান চালায়, ফল দেয় এবং সাথে সাথে ব্যবহারকারীকে জানিয়ে দেয় তার কোন শব্দের বানান ভুল ছিল এবং সঠিক কোন শব্দ দিয়ে অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। ব্যবহারকারী চাইলে পরে সেই ভুল শব্দ দিয়েই আবার অনুসন্ধান চালাতে পারেন। ইংরেজি সার্চের ক্ষেত্রে অভিধানটি ব্যবহার করা হয়নি।

ফলাফলে দেখানো হবে- মোট অনুসন্ধানের সময়, মোট ফলের মাঝে প্রথম কতগুলো ফল দেখানো হলো, প্রতিটি ফলের হেডলাইন বা টাইটেল, প্রতিটি ফল থেকে হাইলাইটেড বা চুম্বক অংশ এবং সংবাদটির মূল সোর্সের ওয়েব লিঙ্ক এবং ক্যাশ করা সংবাদটি।

ব্যবহারকারী মূল ওয়েবলিঙ্ক বা হেডলাইনে ক্লিক করলে সহজেই মূল সংবাদ সোর্সে যেতে পারেন। আবার ক্যাশে ক্লিক করলে তিনি এখানেই একসাথে সংবাদটির হেডলাইন, সোর্স, মূল সংবাদ, তারিখ ও ওয়েবলিঙ্ক দেখতে পারবেন। এজন্য তার মূল সোর্সে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

স্থানভিত্তিক সার্চ : কোনো ব্যবহারকারী যদি সার্চ বক্সে কোনো জেলার নাম ইংরেজিতে লেখার চেষ্টা করেন, তাহলে পিপীলিকা তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাতে ওই স্থানের নাম সাজেশন হিসেবে দেয়ার চেষ্টা করবে। ব্যবহারকারী যদি শুধু স্থানটির নাম দিয়ে অনুসন্ধান করেন, তাহলে পিপীলিকা তার ফল প্রকাশের সাধারণ পদ্ধতিটি পরিবর্তন করে একটি বিশেষ পদ্ধতিতে ফল প্রকাশ করবে। সে সেই জেলার সাম্প্রতিক সময়ের তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করে কয়েকটি ক্যাটাগরিতে প্রকাশ করবে, যেমন- অপরাধ, ব্যবসায়, রাজনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, পরিবেশ, খেলাধুলা, স্বাস্থ্য, কৃষিতথ্য ইত্যাদি। প্রতিটি ক্যাটাগরিতে দেখানো হবে প্রথম ৫টি ফল এবং মোট ফল সংখ্যা।

কোনো ব্যবহারকারী More স্থানে ক্লিক করে সহজেই ওই জেলার ওই ক্যাটাগরির বাকি ফল দেখতে পারবেন। স্থানভিত্তিক সার্চের সময় অভিধান প্রয়োগ করা হয়নি।

ক্যাটাগরিভিত্তিক সার্চ : পিপীলিকায় বর্তমানে মোট ৯টি ক্যাটাগরি রয়েছে : অপরাধ, ব্যবসায়, রাজনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, পরিবেশ, খেলাধুলা, স্বাস্থ্য, কৃষিতথ্য এবং জাতীয় ই-তথ্যকোষ।

জাতীয় ই-তথ্যকোষ ছাড়া বাকি ক্যাটাগরিগুলো বিভিন্ন ধরনের সংবাদ নির্দেশ করে। কোনো ব্যবহারকারী যেকোনো একটি ক্যাটাগরিতে ক্লিক করে তার সার্চ বক্সে দেয়া শব্দ বা শব্দাবলী শুধু ওই ক্যাটাগরির সংবাদসমূহে অনুসন্ধান করতে পারবেন। উল্লেখ্য, সাধারণ সার্চের সময় সব ক্যাটাগরির সংবাদের মাঝে অনুসন্ধান চালানো হতো। এই সার্চের ক্ষেত্রেও সাধারণ সার্চের মতো ফল দেখানো হবে।

জাতীয় ই-তথ্যকোষ সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ক্যাটাগরি। এই ক্যাটাগরিতে মূলত জাতীয় ই-তথ্যকোষ/জ্ঞানকোষ (National Infokosh)-এর তথ্যসমূহ সংরক্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।

যেহেতু পিপীলিকার বর্তমান সংস্করণটি একটি আলফা সংস্করণ, সেহেতু এতে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। আমরা মূলত মূল ওয়েবলিঙ্কের ভিত্তিতে ক্যাটাগরি করায় অনেক সময় একই হেডলাইনের সংবাদ অনেকবার, অনেকভাবে আসতে পারে। কিন্তু একটু লক্ষ করলেই দেখা যাবে প্রতিটি সংবাদের ওয়েবলিঙ্ক ভিন্ন ভিন্ন।

এই সার্চ ইঞ্জিনটি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি থিসিসের ফল। উল্লেখ্য, সার্চ ইঞ্জিনটি নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় গত কয়েক বছর ধরে কাজ করে আসছে। পিপীলিকার আগের ভার্সনটি একুশে ফিন্যান্স নামে পরিচিত ছিল। এটিতেও পিপীলিকার গবেষকেরা কাজ করেছিলেন। একুশে ফিন্যান্স Digital Innovation Fair 2010, Sylhet-এ প্রথম পুরস্কার পেয়েছিল। তবে সেটাতে পিপীলিকার অনেক ফিচার অনুপস্থিত ছিল। বিশেষ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলা অভিধানের প্রয়োগ ও বিভিন্ন ধরনের কাস্টমাইজড সার্চ ফল একমাত্র পিপীলিকাই দিতে পারে। এ ছাড়া পিপীলিকাতে বাংলার তথ্য পার্সিং করার জন্য সম্পূর্ণ নতুন ধরনের অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হয়েছে।

এ প্রকল্পের টিমে আছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আহমেদ চিশতী, বুরহান উদ্দিন এবং মো: রুহুল আমিন সজীব।

প্রকল্প-২ : ডিজিটাল ডায়রি

কর্মব্যস্ত জীবনে আমাদের সময় সম্পর্কে সচেতন না হলে নানা ঝামেলায় পড়তে হবে। প্রতিদিনের নানা দরকারি কাজ মনে রাখার ঝামেলা থেকে আমাদের মুক্তি দিতে পারে একটি ডিজিটাল ডায়রি। মাইক্রোকন্ট্রোলার প্রকল্পের টিমটি এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস তৈরি করার চেষ্টা করেছে, যা একই সাথে অ্যালার্ম ঘড়ি এবং ডায়রির কাজ করতে পারে।



বর্তমানে প্রায় সব মোবাইল ফোনসেটে রিমাইন্ডার এবং অ্যালার্ম সুবিধা রয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ সাধারণ মানের সেটে এসব সুবিধা গ্রাহকবান্ধব হয় না। তাই এ থেকে আমরা তেমন একটা উপকৃত হই না। সে জন্য প্রয়োজনীয় কাজের কথা মনে করিয়ে দেয়া, এর সুবিধা গ্রাহকবান্ধব উপায়ে এবং সাশ্রয়ী মূল্যে এনে দিতে এই প্রকল্প দলটি মাইক্রোকন্ট্রোলারনির্ভর একটি ডিজিটাল ডায়রি তৈরি করেছে।

এই ডিজিটাল ডায়রিতে ব্যবহারকারী খুব সহজে নির্দিষ্ট সময়ে একটি কাজের বিবরণ অথবা কোনো প্রয়োজনীয় কথা সেট করে দিতে পারবেন এবং ওই সময় চলে এলে এই ডিভাইসটি ডিসপ্লেতে সেভ করে রাখা মেসেজটি দেখাবে এবং একটি অ্যালার্ম দেবে।

এই প্রকল্পে মাইক্রোকন্ট্রোলার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ATMEGA16 এবং ডিসপ্লে হিসেবে ব্যবহার হয়েছে 420 alphanumeric LCD HD44780। এতে যা যা ব্যবহার করা হয়েছে, তার মধ্যে আছে : Atmega16, 420 alphanumeric LCD display, Push Button, IC 74LS32, Buzzer, Voltage Regulator, Capacitors, Resistance and Potentiometer এবং Heat sink.

এছাড়া সফটওয়্যার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে : এভিআর স্টুডিও, পনিপ্রগ এবং প্রোটিয়াস।

পরবর্তী সময়ে এতে দিন, মাস ও বছর হিসেবেও অ্যাপয়েন্টমেন্টের তালিকা এবং সহজে খুঁজে তা বের করার সুবিধা সংযোজন করা হবে। ডিজিটাল ডায়রিতে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যোগ করা হবে পাসওয়ার্ড প্রটেকশনের সুবিধা, যা ব্যবহারকারীকে প্রাইভেট ডাটা নিরাপদে রাখার নিশ্চয়তা দেবে। সহজে প্রতিদিনের সব কাজের তালিকা আকারে দেখার সুবিধা থাকবে।

এই প্রকল্পে বর্তমানে মেমরি হিসেবে মাইক্রোকন্ট্রোলারের Bcig ব্যবহার করা হয়েছে, যা খুব বেশি বড় নয়। তাই পরবর্তী সময়ে তা মেমরি কার্ড দিয়ে বদলে দেয়া হবে।

এ প্রকল্পের সদস্য হিসেবে যারা কাজ করছেন, তাদের মধ্যে আছেন মুহিব খান, মো: কাইসার-বিন-সাইয়েদ, মো: আসিফ, রাইসুল ইসলাম রাসেল এবং জয়ন্ত বিশ্বাস। এরা সবাই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

প্রকল্প-৩ : মঙ্গলদ্বীপ

বাঙালি তথ্যপ্রযুক্তিবিদদের আবিষ্কার মানবকল্যাণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার করা হলে সেটি অসাধারণ সৌন্দর্য ধারণ করে। এরকম অসাধারণ সৌন্দর্য ধারণকারী কাজ করেছেন সিলেট শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কমপিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তরুণ তথ্যপ্রযুক্তিবিদেরা। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য নানা সুবিধা দিয়ে এমন একটি সফটওয়্যার এরা তৈরি করেছেন। এ সফটওয়্যারটির নাম মঙ্গলদীপ। মঙ্গলদীপ এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের মঙ্গলের জন্য কাজ করা তরুণ তথ্যপ্রযুক্তিবিদদের কথা তুলে ধরা হয়েছে এখানে। এতে তথ্য সহায়তা দিয়েছেন সুমন তালুকদার।

জীবনের প্রত্যেকটা মুহূর্ত অনেকটা উপভোগ্য। কিন্তু এদেশের প্রতিবন্ধী মানুষ তাদের অধিকার থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত। ফলে জীবনের উপভোগ্য সময়গুলোতে তাদের অংশ নেয়া থাকে সীমিত। এর কারণ, বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে প্রায় সবখানে প্রতিবন্ধী মানুষগুলো অপ্রতিবন্ধী মানুষের চরম অবহেলার শিকার হয়। তাই প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কে ছাত্রসমাজের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা এখন সময়ের দাবি। উন্নত দেশগুলোর মতোই এখন সময় এসেছে বাংলাদেশের এই পেছনে ফেলা জনগোষ্ঠীকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে যথাযথ অধিকার ও সুযোগ দেয়ার।

যেখানে অনেক সমাজে প্রতিবন্ধীদের সৃষ্টিকর্তার অভিশাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, প্রতিবন্ধীদের সমাজের বাইরের অংশ হিসেবে কল্পনা করা হয়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার হতে হয়, সেখানে প্রতিবন্ধীদেরই একটি অংশ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের মঙ্গল কামনায় সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন তরুণ বিজ্ঞানী তৈরি করেছেন ‘মঙ্গলদীপ’। এর ফলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা খুব সহজেই উচ্চশিক্ষার পথের সব বাধা পেরিয়ে সাফল্যের সোনালি সূর্যের কাছাকাছি পৌঁছতে পারবে। কমপিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ওই তিন তরুণ বিজ্ঞানী হলেন আলমগীর কবির, সাজেদুর রহমান খান তপু ও রুবি পাল। তাদের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে ছিলেন ওই বিভাগেরই দুই শিক্ষক আনিকা মাহমুদ ও রুহুল আমীন সজীব।

তিন তরুণ বিজ্ঞানী জানান, যখন তাদের গবেষণা করার সুযোগ এলো তখন তারা গতানুগতিক ধারার বাইরে কিছু করতে চেয়েছিলেন, যা সামান্যতম হলেও কারও উপকারে আসবে। তারা সিদ্ধান্ত নেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করার, যারা অন্য সবার মতো সহজেই কমপিউটার ব্যবহার করতে পারবে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের বেছে নেয়ার কারণ হিসেবে তারা বলেন- প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যেমন ঘৃণার চোখে দেখা হয়, তেমনি একজন স্বাভাবিক মানুষ সমাজে যেসব অধিকার ভোগ করেন, তা থেকেও বঞ্চিত করা হয় তাদের। শিক্ষাক্ষেত্রে তাদের আলাদা নজরে দেখা হয়। মনে করা হয়, এরা শিক্ষা গ্রহণের উপযুক্ত পাত্র নয়। কখনো তারা শিক্ষিত হবে না বা তাদের শিক্ষিত করে তোলা সম্ভব নয়। সমাজের এ ভ্রান্ত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করতেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের মঙ্গলে ‘মঙ্গলদীপ’-এর যাত্রা শুরুর চিন্তা করেন ওই তিন তরুণ বিজ্ঞানী।



দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করার বিষয়টি এরা প্রথমে এদের তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষিকা আনিকা মাহমুদকে জানান। আনিকা মাহমুদ তাদের বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর বিভাগে কিছু ছাত্র আছে যারা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং ওই শিক্ষার্থীরা কমপিউটার নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। তারপর ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে তরুণ তিন বিজ্ঞানী তাদের তত্ত্বাবধায়ক আনিকা মাহমুদের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর বিভাগে যান। কথা বলেন ওই বিভাগের শিক্ষক ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কিছু ছাত্রের সাথে। এরা কথা বলেন ভাস্কর ভট্টাচার্য নামের এক শিক্ষকের সাথে, যিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হলেও কমপিউটার ব্যবহারে পারদর্শী। তাকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের একজন অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত বলা হয়। ওই বিভাগের যে সফটওয়্যার (RR) ব্যবহার করা হয় তা ইংরেজি ভাষায়। মায়ের ভাষায় কথা বলতে যেমন ভালো লাগে, শুনতেও তেমন। তাই এরা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য খুব সহজে ব্যবহারযোগ্য বাংলা ভাষায় বলে শোনাবে এমন সফটওয়্যার তৈরির সিদ্ধান্ত নেন, যা তাদের কমপিউটার ব্যবহার অনেক সহজ করবে বলে জানান আলমগীর কবির, সাজেদুর রহমান খান তপু ও রুবি পাল।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য মনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কষ্ট লাঘবের পথে এগিয়ে যাওয়া শুরু করেন তারা। আর তাদের এ পথের রাসত্মা দেখাতে হাজির হন শাবির কমপিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক রুহুল আমীন সজীব। তার উৎসাহেই দ্রুতগতিতে এগিয়ে যান তারা। ওই তিন তরুণ জানান, সজীব স্যারের প্রেরণাতেই তারা কিছু একটা করতে সমর্থ হয়েছেন। এ সফটওয়্যারটিতে ব্যবহার করা হয়েছে সি শার্প ল্যাঙ্গুয়েজ। এছাড়া আই ফিল্টার, এমএস অফিস অবজেক্ট লাইব্রেরি ইত্যাদি প্যাকেজ এবং মেইলের জন্য এসএমটিপি ও পপ প্রটোকল ব্যবহার করা হয়েছে।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের সাহায্যকারী এ সফটওয়্যারের নাম দেয়া হয়েছে মঙ্গলদীপ। এ সফটওয়্যারটি ব্যবহার করার মাধ্যমে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা সহজেই সাধারণ মানুষের মতো কমপিউটার ব্যবহার করতে পারবে এবং কমপিউটারের দৈনন্দিন কাজ করতে পারবে। এমনকি ইন্টারনেটের মাধ্যমে খুব সহজেই মেইল পড়া ও পাঠাতে পারবে। মঙ্গলদীপ ব্যবহার করে একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী খুব সহজেই ওয়ার্ড সম্পাদনা, গান শোনা, ই-বুক পড়া, মেইল পাঠাতে ও গ্রহণ করতে, সফটওয়্যার ইনস্টল-আনইনস্টল করাসহ মোটামুটি দরকারি প্রায় সব কাজ করতে পারবে।

আলমগীর কবির, সাজেদুর রহমান খান তপু ও রুবি পাল জানান, একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী যেকোনো প্রোগ্রামই চালু করুক না কেন, এ সফটওয়্যার সহজ, বোধগম্য ভাষায় প্রতিটি কমান্ড, অক্ষর, শব্দ পড়ে শোনাবে, যা একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সহজেই বোঝে সে এখন কী কাজ করছে কিংবা পরবর্তী নির্দেশনাইবা কি? এটি প্রচলিত অন্যান্য যেকোনো সফটওয়্যারের চেয়ে অনেক কম ধাপ। এক কথায় শর্টকাট কী ব্যবহার করার মাধ্যমে ওয়ার্ড সম্পাদনা, গান শোনা, মেইল সেন্ড ও রিসিভসহ দরকারি প্রোগ্রামগুলো চালু ও পরিচালনায় সাহায্য করে। ভবিষ্যতে এ সফটওয়্যারের পরিসর বাড়ানোসহ কিভাবে এর ব্যবহার আরো সহজ করা যায়- এ ভাবনাই এখন এই তিন শিক্ষার্থীর।

এ সফটওয়্যারের দ্বিতীয় তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করেছেন রুহুল আমীন সজীব। এ বিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়ে। প্রতিবন্ধীদের একটি অংশ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের সুবিধার্থেই এ সফটওয়্যারটি ডেভেলপ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে পড়াশোনা কমপিউটারভিত্তিক। ইন্টারনেট থেকে বিভিন্ন পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড করে পড়ে থাকে শিক্ষার্থীরা। এ সফটওয়্যারের ফলে পিডিএফ ফাইল পড়ে পড়ে শোনানো হয়। রুহুল আমীন সজীব এ সফটওয়্যারের সবচেয়ে মজার বিষয়টির কথা বলতে গিয়ে বলেন, এ সফটওয়্যারের মাধ্যমে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা বিশ্বের মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে পারবে খুব সহজেই।

প্রকল্প-৪ : দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের অক্ষর শনাক্তকরণ

এ প্রকল্পে কাজ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কানিজ ফাতেমা মাধবী, মারিয়া জামান, নায়লা বুশরা এবং ফারজানা বিনতে ইউসুফ।



দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা অক্ষর চেনার জন্য ব্রেইলি বর্ণমালা ব্যবহার করে থাকেন, যেখানে মাত্র ৬টি ডট দিয়ে ২৬টি বর্ণমালা এবং ১০টি অঙ্ক বা সংখ্যাকে প্রকাশ করা সম্ভব। ডটের অবস্থান স্পর্শের মাধ্যমে অনুভব করে পড়া এবং লেখার জন্য দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের মাঝে ব্রেইলি বর্ণমালা খুবই জনপ্রিয়। ডটগুলো প্রতি সারিতে ২টি করে মোট ৩টি সারিতে পাশাপাশি বসানো থাকে।

ডটগুলোর বিভিন্ন বিন্যাসের মাধ্যমে যেভাবে বর্ণমালা এবং সংখ্যা প্রকাশ করা হয়, তা নিচে দেয়া হলো :

আলোচ্য প্রকল্পটিতে ৬টি বাটনের কম্বিনেশন বা বিন্যাস ব্যবহার করে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য একটি কীবোর্ড তৈরি করা হয়েছে। এই কীবোর্ডের আউটপুট সিরিয়াল কমিউনিকেশনের মাধ্যমে কমপিউটারে ডিসপ্লে করা হয়েছে। এছাড়া টাইপ করতে ভুল করলে তাকে একটি সঙ্কেত শোনানোর মাধ্যমে সতর্ক করা এবং কোনো সঠিক বর্ণ টাইপ করলে সেটিও শোনানো হয়েছে। এতে সে বুঝতে পারে তার কাঙ্ক্ষিত বর্ণটিই লেখা হয়েছে।

আমাদের দেশের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের বেশিরভাগই অক্ষরজ্ঞান থেকে বঞ্চিত। বিশ্বজুড়ে ব্রেইলি পদ্ধতি বহুল প্রচলিত হলেও আমাদের দেশে এই পদ্ধতি ব্যবহারের খুব বেশি সুযোগ এখনও তৈরি হয়নি। এ প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা মনে করেন এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে এর মাধ্যমে ব্রেইলি পদ্ধতিতে লেখাপড়ার ক্ষেত্রে একটি বড় সুবিধা সৃষ্টির পাশাপাশি উৎসাহ তৈরি হবে। তাছাড়া এটি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের কমপিউটার ও মোবাইল ব্যবহারের সুবিধা দেবে, যা বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য জরুরি। দেশের সুবিধাবঞ্চিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের সহায়তা দেয়া ও দেশের আইটি ক্ষেত্রে অবদান রাখার ইচ্ছে থেকেই এই প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়।

এই প্রকল্পটি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বাচ্চাদের বিদ্যালয়ে কমপিউটার শেখার সুযোগ তৈরি করবে এবং এর মাধ্যমে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা কর্মস্থলে স্বাভাবিকভাবে বিভিন্ন কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করবে ও আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ পাবে।

এতে যেসব হার্ডওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে তার মধ্যে আছে : ATmega16L মাইক্রোকন্ট্রোলার, MAX232 IC, ক্যাপাসিটর, রেজিস্টর, ডায়োড, পুশ বাটন, নাইন ওয়ে আরএস২৩২ কানেক্টর, ৫ ভোল্ট বিদ্যুৎ সরবরাহ, কমপিউটার এবং তার।

এতে ব্যবহার করা সফটওয়্যারগুলো হচ্ছে : আইডিই : এভিআর স্টুডিও৪, সাপোর্ট : এভিআর লাইব্রেরি, কম্পাইলার : উইনেভর এবং প্রোগ্রাম সফটওয়্যার : পনিপ্রগ ২০০০।

একই সাথে অন্ধ এবং নিরক্ষর মানুষকে অক্ষরজ্ঞান দান করার জন্য এই ডিভাইসটি বিশেষ উপযোগী। এর মাধ্যমে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের পক্ষে কমপিউটারে লেখা টাইপ করা সম্ভব এবং টাইপ করা শব্দটি শোনা সম্ভব। এ ছাড়া ভুল অক্ষর টাইপে ব্যবহারকারী একটি সতর্ক সঙ্কেত শুনতে পাবেন, যা তাদের বিশেষ অক্ষর পদ্ধতি তথা ব্রেইলি বর্ণমালা শিখতে সাহায্য করবে।

বিভিন্ন ইলেকট্রিক্যাল ডিভাইসে আলোচ্য ডিভাইসের ব্যবহার অন্ধদের অক্ষর চেনায় ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়াও অক্ষর চেনার পাশাপাশি শব্দ চেনার উপযোগী করে একে আরো উন্নত করা সম্ভব। এটি ব্যবহার করে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ কীবোর্ড এবং মোবাইলও তৈরি করা সম্ভব।

আলোচ্য প্রকল্পের ডিভাইসটির মাধ্যমে অক্ষরের উচ্চারণ শোনানো গেলেও এটিকে এখনো শব্দ উচ্চারণের উপযোগী করে তোলা হয়নি।

এটি তৈরিতে আনুমানিক খরচ হয়েছে ১০০০ টাকা। বাণিজ্যিকভাবে এই ডিভাইসটি তৈরি করা সম্ভব। সম্ভাব্য খরচ ১৫০০-২০০০ টাকা।

এর স্ক্রিনশট হচ্ছে সার্কিট কনফিগারেশন, হাইপারটার্মিনালে অক্ষর ডিসপ্লে এবং হাইপারটার্মিনালে অক্ষর ডিসপ্লে।

প্রকল্প-৫ : ফ্যানের স্বয়ংক্রিয় গতি নিয়ন্ত্রণ

এ প্রকল্পটিতে যারা আবদান রেখেছেন তাদের মধ্যে আছেন : আদিল নওশাদ, শাকিল আহমেদ, মো: লুৎফর রহমান মিলু, আশেকুল ইসলাম তৌহিদ, সুবির সাহা এবং আবু হেনা মোস্তফা কামাল।

প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল ঘরের তাপমাত্রার সাথে সাথে বৈদ্যুতিক পাখার গতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। কাজটি করার জন্য প্রথমেই আমাদের জানা দরকার ঘরের প্রকৃত তাপমাত্রা কত। এজন্য এ প্রকল্পে একটি টেম্পারেচার সেন্সর (LM35, range 2-150) আইসি ব্যবহার করা হয়েছে। এই আইসি (LM35) প্রতি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার সাথে ১০ মিলিভোল্টের একটি অ্যানালগ ডিসি ভোল্টেজ দেয়। অর্থাৎ ঘরের তাপমাত্রা যদি ২৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড হয়, তাহলে আমরা LM35-এর কাছে ২৫x১০ = ২৫০ মিলিভোল্ট আউটপুট পাই। LM35-এর কাছ থেকে পাওয়া এনালগ ভোল্টেজকে মাইক্রোকন্ট্রোলারের অ্যানালগ টু ডিজিটাল কনভার্টার এডিসি দিয়ে ডিজিটাল ডাটায় কনভার্ট করা হয়। এতে দুটি সেভেন সেগমেন্ট ডিসপ্লেতে ০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড থেকে ৯৯ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত দেখানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

দ্বিতীয় কাজটি হলো একটি ফ্যানের গতি নিয়ন্ত্রণ। এজন্য একটি স্টেপার মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। ধরে নেয়া হয়েছে, ২০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের কম তাপমাত্রায় ফ্যান বন্ধ রাখা যেতে পারে। তাপমাত্রা ২০ থেকে ২৫ ডিগ্রি হলে ফ্যান সবচেয়ে আস্তে ঘুরবে। তাপমাত্রা ২৫ থেকে ২৭ ডিগ্রির মাঝে থাকলে ফ্যানের রেগুলেশন একধাপ বাড়বে। এভাবে ক্রমে তাপমাত্রা বাড়বে এবং সেই সাথে ফ্যানের গতি বাড়তে থাকবে। ধরে নেয়া হয়েছে তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রির বেশি হচ্ছে সবচেয়ে গরম আবহাওয়া। তাই তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি অতিক্রম করলে ফ্যান সর্বোচ্চ গতিতে ঘুরবে। একটি আলাদা সুইচ আছে মোটরের জন্য। এটি দিয়ে ইচ্ছে করলে মোটর বন্ধ করে রাখা যাবে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কিছু ভালো উপায় বের করা এ প্রকল্পের একটি লক্ষ্য।

এই রেগুলেটর সাধারণ রেগুলেটরের তুলনায় দামে খুব বেশি হবে না। অন্য আরো সাধারণ রেগুলেটরের মতো ইচ্ছেমতো মোটরের গতি বাড়ানো-কমানো যাবে।

এতে যেসব প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে তার মধ্যে আছে : মাইক্রোকন্ট্রোলার এটিমেগা৩২, টেম্পারেচার সেন্সর (এলএম৩৫), আইসি (৪৫১১), সেভেন-সেগমেন্ট ডিসপ্লে এবং ইউএলএন২০০৩ (স্টেপার মোটর ড্রাইভার)।

এতে ব্যবহার করা সফটওয়্যারগুলো হচ্ছে : প্রোটিয়াস সিমুলেটর, এভিআর স্টুডিও এবং পনিপ্রগ কোনো রেগুলেটর ছাড়াই ফ্যানের গতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে-কমবে তাপমাত্রা ওঠা-নামার সাথে সাথে। অনেক সময় দেখা যায় রাতের শুরুতে খুব বেশি গরম লাগে। আবার শেষ রাতের দিকে বেশ ঠান্ডা পড়ে। আমরা ফ্যান ফুল স্পিডে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। কিন্তু শেষ রাতে ঘুমে থাকা অবস্থায় ফ্যান বন্ধ করার উপায় থাকে না। সে ক্ষেত্রে এই স্বয়ংক্রিয় রেগুলেটর বেশ কাজে আসতে পারে।

যদি এমন কিছু করা যেত, যাতে করে ঘরে কোনো মানুষ কক্ষে থাকলেই ফ্যান ঘুরবে, অন্যথায় ফ্যান স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে, তাহলে সেটা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে অনেক বড় অবদান রাখতে পারত। এই প্রকল্পটি নিয়ে যারা কাজ করছেন তারা মোশন ডিটেক্টর দিয়ে কাজটা করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। তদের আশা, তারা এতে সফল হতে পারবেন।

সাধারণ রেগুলেটরের তুলনায় এর আকার সামান্য বড় হবে। যেহেতু মাইক্রোকন্ট্রোলার ডিসি ৫ ভোল্টে কাজ করে সেজন্য অ্যাডাপ্টার সার্কিট অতিরিক্ত লাগবে। টেম্পারেচার সেন্সর বেশ ভালোমানের না হলে ভুল তাপমাত্রা আসতে পারে। ৩০০ টাকার মধ্যেই এটা বানানো সম্ভব।

প্রকল্পে কর্মকর্তাদের ভবিষৎ পরিকল্পনা হলো এয়ারকন্ডিশনারের রেগুলেশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা। ঘরে কোনো মানুষ না থাকলে ঘরের বাতি, ফ্যান, এয়ারকন্ডিশনার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। ঘরে কেউ এলে ঘরের বাতি, ফ্যান, এয়ারকন্ডিশনার স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবার চালু হয়ে যাবে।

প্রকল্প-৬ : পথ অনুসরণকারী গাড়ি

ইংরেজিতে এর নাম দেয়া যায় ‘লাইন ফলোয়ার কার’। এ প্রকল্পের জন্য প্রেরণার উৎস কী? এ প্রকল্পের পেছনে যারা কাজ করছেন, তাদের একজনের বক্তব্য হচ্ছে- ‘ছোটবেলা থেকে একটি স্বপ্ন ছিল রোবট বানানোর। কিন্তু কখনই চেষ্টা করা হয়নি। তাই এবার যখন আমাদের প্রকল্পের প্রস্তাব দিতে বলা হলো, তখন আমরা সবাই একটি রোবট বানানোর ব্যাপারে একমত হলাম। কিন্তু অন্যান্য বিষয়ের বিভিন্ন প্রকল্প ও পরীক্ষা থাকার কারণে আমাদের সময় ছিল খুবই সীমিত। তাই সঠিক সময়ের মাঝে শেষ করতে পারব কি না, এ ব্যাপারে আমরা নিশ্চিন্ত ছিলাম না। রোবট জগতের জনপ্রিয় একটি চরিত্র হলো পথ অনুসরণকারী বাহন, যে সম্পূর্ণ নিজের বুদ্ধিমত্তায় চলাচল করতে পারবে। পৃথিবীর অনেক বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানে এক সেক্টর থেকে আরেক সেক্টরে মালামাল পরিবহনে এটি ব্যবহার করা হয়। এ কারণেই আমরা এটি বানানোর জন্য আগ্রহী হলাম।’

এই রোবটটি হলো একটি গাড়ি। গাড়িটি একটি কালো রাস্তা অনুসরণ করতে পারে। এ গাড়িতে একটি লাইট সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে, যেটি আলোর তীব্রতা অনুসারে বিভিন্ন মান দান করে। এই মান থেকে গাড়িটি ঠিক করে নেয় তার চলার পথ। গাড়িটি সম্পূর্ণ নিজের বুদ্ধিমত্তায় চলাচল করবে।

কলকারখানার অভ্যন্তরীণ মালামাল পরিবহনে এর ব্যবহার যথেষ্ট লাভজনক ও সুবিধাজনক। ইতালির ম্যারেনারোতে অবস্থিত জগদ্বিখ্যাত ফেরারি (Ferrari) কোম্পানির গাড়ি তৈরির কারখানাতে ‘লাইন ফলোয়ার কার’ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আমাদের দেশেও বিভিন্ন গার্মেন্টসে ‘লাইন ফলোয়ার কার’ ব্যবহার করার সুযোগ আছে, যা সামগ্রিক ব্যয় কমিয়ে আনবে। এছাড়া বিভিন্ন সাফারি পার্ক ও অন্যান্য বিনোদনমূলক পার্কে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। এর বুদ্ধিমত্তা আরো বাড়িয়ে রাস্তায় ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে চালকের অসাবধানতার জন্য দুর্ঘটনা কমবে। ব্যয়বহুল মুভিং ওয়াকওয়ে বা চলন্ত পথ, LFC-র সস্তা এবং বাণিজ্যিক বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে।

এই রোবটে বেশকিছু হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে। এর হার্ডওয়্যারগুলোর মধ্যে আছে : আলোকনির্ভর রোধ (Light Dependent Resistance-LDR), আলো নিঃসরক ডায়োড (LED) এলএম৩৩৯ কম্পারেটর, রেজিস্ট্যান্স, ATMega8 মাইক্রোকন্ট্রোলার, ফিক্সড ভোল্টেজ রিলে, ডিসি মোটর, ব্যাটারি ৩.৭ ভোল্ট, ব্যাটারি ৫ ভোল্ট, ব্যাটারি ১২ ভোল্ট।

আর এতে যে সফটওয়্যার ব্যবহার হয়েছে তা হচ্ছে : Atmel এভিআর স্টুডিও এবং পনিপ্রগ।

এই বর্তমানে শুধু একটি কালো রাস্তা অনুসরণ করতে পারে। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের পরিকল্পনা হচ্ছে এটিকে এমন সক্ষমতা দেয়া, যাতে এটি সামনে বাধা পেলে ভেঁপু বাজাবে ও বাধা অতিক্রম করার জন্য রাস্তা থেকে বের হবে এবং আবার রাস্তা অনুসন্ধান করবে। এতে করে এটি হবে পরিপূর্ণ আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন।

এই রোবট গাড়িতে এখনো ব্রেক সংযোজন করা হয়নি। গাড়ির চাকা একটি নির্দিষ্ট সীমায় ঘুরতে পারে বলে রাস্তার বাঁক অনেক বেশি হলে গাড়ি এখনো সেই বাঁক বুঝতে পারে না। এছাড়া এতে যেহেতু সাধারণ ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে, সেজন্য ব্যাটারির ক্ষয় একটি বড় সমস্যা। ব্যাটারি ক্ষয় হয়ে গাড়ির গতি এবং চাকার ঘূর্ণনের ওপর প্রভাব ফেলে। তবে অতি শিগগিরই এসব সমস্যার বাস্তব ও সফল সমাধান করার ব্যাপারে আশাবাদী।

এ বিষয়ে প্রকল্প টিমের সদস্যদের পূর্ব অভিজ্ঞতার অভাবে এরা নির্মাণ সময়ে অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট করেছেন। ফলে তাদের প্রাথমিক নির্মাণ খরচ স্বাভাবিকের একটু বেশি ছিল। তাদের প্রায় ৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। তবে তাদের বিশ্বাস ৩ হাজার টাকার মধ্যে কাজটি করা সম্ভব।

এ প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের ধারণা- এই প্রকল্পটির নানাবিধ প্রয়োগ হওয়া সম্ভব। যেমন- কোনো শিল্পকারখানার একটি বিভাগ থেকে অন্য একটি বিভাগে প্রায়ই মালামাল পরিবহনের প্রয়োজন পড়ে। এই মালামাল পরিবহন করার জন্য এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় গাড়ি ব্যবহার করা সম্ভব।

প্রজেক্ট যাদের মাধ্যমে সম্পাদিত হচ্ছে তারা সবাই বুয়েটের ছাত্র। এদের মধ্যে আছেন : মো: মাহফুজুল ইসলাম, আমিনুর রশীদ আসিফ, রিয়াজ মোর্শেদ মাসুদ, আরাফাত রহমান, নগীব মেশকাত, মো: আফিবুজ্জামান অনিক, আশুতোষ দত্ত, এফ.এ. রেজাউর রহমান চৌধুরী, কাজী তাসনিফ ইসলাম এবং মো: নাজমুল হাসান।

প্রকল্প-৭ : পার্কিং এরিয়া কন্ট্রোল

এ প্রকল্পে বুয়েটের যেসব ছাত্র কাজ করেছেন তাদের মধ্যে আছেন : নওরিন সুলতানা, ইশিতা জামান, মামুনুর রশিদ, শাগুফতা মেহনাজ, আশিকুর রহমান আজিম এবং রাফায়েত আলী।



পার্কিং এরিয়ায় প্রবেশ ও প্রস্থান নির্ণয় করার জন্য দুটি সেন্সর রাখা হয়েছে। এ দুটি সেন্সর একত্রে প্রবেশ/বাহির নির্ণয় করতে পারে। পার্কিং এরিয়ায় কত গাড়ি আছে, তা সবসময় একটি ডিসপ্লেতে দেখানো হয়। এছাড়া বর্তমান গাড়ির সংখ্যা পরিবর্তন হলে সে তথ্য নিয়ন্ত্রণকক্ষের কমপিউটারে পাঠানো হয়। নিয়ন্ত্রণকক্ষের অপারেটর চাইলে পার্কিং এরিয়ায় সর্বোচ্চ কত গাড়ি প্রবেশ করতে পারবে, তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। একটি স্টেপার মোটরচালিত গেটের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কোনো একটি গাড়ির ‘প্রবেশ’ নিয়ন্ত্রকের নির্ধারণ করে দেয়া সর্বোচ্চ মানের সীমার মধ্যে হলে এই গেটটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে এবং গাড়িটি প্রবেশ করার পর বন্ধ হয়ে যাবে। কোনো একটি গাড়ি এরিয়া থেকে বের হতে চাইলেও এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলবে এবং এরপর বন্ধ হবে। এ প্রকল্পের লক্ষ্য পার্কিং এলাকা নিয়ন্ত্রণের কাজটি স্বয়ংক্রিয় করা।

শুধু পার্কিং এরিয়ার ক্ষেত্রেই নয়, বরং আরো অনেক ক্ষেত্রে এ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ব্যবহার করা যায়। যেমন- শিল্পক্ষেত্রে স্টোরেজে অথবা প্যাকেটজাত করার ক্ষেত্রে প্রোডাক্টের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, যেকোনো ক্ষেত্রে কোনো কিছুর প্রবেশ কিংবা বেরিয়ে যাওয়ার সতর্কসঙ্কেত তথ্য হিসেবে কমপিউটারে পাঠানো ইত্যাদি।

এতে ব্যবহার করা হার্ডওয়্যারগুলো হচ্ছে : সেন্সর, স্টেপার মোটর, মাইক্রোকন্ট্রোলার এটিমেগা ১৬, ৭ সেগমেন্ট ডিসপ্লে, ইউএলএন ২০০৩ আইসি, ৭৪৪৭ আইসি, ম্যাক্স ২৩২ আইসি, এএস ২৩২ কানেক্টর (৯ পিন) ইত্যাদি। আর সফটওয়্যারগুলোর মধ্যে আছে : এভিআর স্টুডিও ৪-হাইপারটার্মিনাল।

এটির উন্নয়ন সাধন করলে হাইপারটার্মিনালের পরিবর্তে ওয়্যারলেসের মাধ্যমে কমপিউটারে তথ্য দেয়া-নেয়া করতে পারবে। অপারেটর চাইলে ইচ্ছেমতো গেট নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

বর্তমানে একই সাথে প্রবেশ ও বাইর হওয়ার কাজটি নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি। ধরে নেয়া হয়েছে একই সময়ে শুধু একটি গাড়ি প্রবেশ বা প্রস্থান করবে। তবে চাইলে উভয় দিক থেকে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

সম্পূর্ণভাবে কাজটি শেষ করতে ব্যয় হয়েছে ২০০০ টাকার কাছাকাছি। বাণিজ্যিকভাবে তৈরি করার জন্য প্রয়োজন উচ্চশক্তিসম্পন্ন সেন্সর ও মোটর। প্রধানত এগুলোর মূল্যের ওপরই নির্ভর করবে বাণিজ্যিকভাবে প্রস্ত্ততের মোট ব্যয়।

প্রকল্প-৮ : সিকিউরড প্রোডাক্ট কাউন্টার

বিভিন্ন কোম্পানিতে উৎপাদিত পণ্যসামগ্রীর গণনা ও পণ্যের নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী স্বয়ংক্রিয় আধুনিক প্রযুক্তি হলো এই সিকিউরড প্রোডাক্ট কাউন্টার। এর সাহায্যে উৎপাদিত পণ্যের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা (যেমন- চুরি ঠেকানো, অবৈধ হস্তক্ষেপ রোধ ও সঠিক গণনা) সম্ভব। কোম্পানির উর্ধতন কর্মকর্তার জন্য বিশেষ পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করার ব্যবস্থা রয়েছে। উর্ধতন কর্মকর্তা চাইলে একটি নির্দিষ্ট সময় পর তার অনুপস্থিতিতে প্রোডাক্ট কাউন্টার চালু করে দিতে পারেন। সিস্টেমটি অফ করে নির্দিষ্ট সময় পর অন করতে হয়। এমন ঘটনার পরিপূর্ণ সমাধান এ প্রযুক্তিতে আছে। তাছাড়া এখানে রয়েছে অ্যালার্মিং সিস্টেম, যা যেকোনো অবৈধ হস্তক্ষেপকে প্রতিরোধ করবে। এই প্রযুক্তিতে পণ্য গণনা করা হয় স্পর্শ ছাড়া সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে। কোম্পানির উর্ধতন কর্মকর্তা চাইলে একজন কর্মচারী দিয়ে অ্যালার্মিং সিস্টেম কন্ট্রোল করতে পারবেন। নতুনভাবে গণনা করার জন্য পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন অবস্থায় কোম্পানির উর্ধতন কর্মকর্তা অ্যাকাউন্টার রিসেট করতে পারবেন। এই প্রযুক্তির সীমারেখা এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতে আরও সুবিধা বাড়ানোর জন্য দূরবর্তী জায়গা থেকে সিস্টেমটি মেসেজের মাধ্যমে কন্ট্রোল করার ব্যবস্থা করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। উর্ধতন কর্মকর্তা চাইলে দূর থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সিস্টেমটি চালু রাখতে পারবেন। এতে সময় ও কষ্ট দুটিই লাঘব করা যাবে। আবার যে ব্যক্তি অবৈধভাবে পণ্যে হস্তক্ষেপ করবে, তাকে শনাক্ত করার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হবে। উৎপাদিত পণ্যের হার দেখানোর ব্যবস্থা করা হবে। একাধিক কর্মকর্তা যেন লগইন করতে পারেন সেই ব্যবস্থা রাখা হবে। উর্ধতন কর্মকর্তা চাইলে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে পারবেন। কমপিউটারের সাথে ইন্টারফেসিংয়ের মাধ্যমে পণ্য সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য কমপিউটারে রাখা যাবে। এতে পণ্য সম্পর্কিত পরিসংখ্যান বের করা যাবে, যা বিভিন্ন অফিসের কাজে ব্যবহার করা যাবে।



সিমেন্ট কারখানায় উৎপাদিত সিমেন্টের বস্তা গণনা, পেপসি, ডিউ, কোকাকোলা ইত্যাদি বিভিন্ন পানীয় কোম্পানির উৎপাদিত পানীয় বোতল গণনা, কসমেটিক্স কোম্পানির উৎপাদিত সাবান, তেল, পাউডার ইত্যাদি গণনা, বিমানবন্দরে ব্যাগ গণনা এর মাধ্যমে সম্ভব। এছাড়া আরও বিভিন্ন কাজে এই প্রকল্প ব্যবহার করা যাবে।

এতে ব্যবহার করা হার্ডওয়্যারের মধ্যে আছে: মাইক্রোকন্ট্রোলার (এটিমেগা ৮), আইআর সার্কিট, লেড, মোটর ড্রাইভার আইসি (এল২৯৮), ডিকোডার (৭৪৪৭), সুইচ, কনভাইর বেল্ট, অ্যালার্ম স্পিকার, সেভেন সেগমেন্ট ডিসপ্লে, কেপাসিটর, ভোল্টেজ রেগুলেটর (৭৮০৫), রেজিস্ট্যান্স ও ডিসি মোটর।

এই প্রকল্প তৈরিতে খরচ হয়েছে ৩ হাজার টাকা। বাণিজ্যিক উৎপাদনে এর জন্য খরচ পড়বে ১০ হাজার টাকা।

এই প্রকল্প টিমে যারা সংশ্লিষ্ট তাদের মধ্যে আছেন : মো: আসিফ হুসাইন, মো: নওশাদ আলম, মো: মুশফিকুর রহমান, মো: আহসান অনিক এবং অভিজয় চাকমা।

প্রকল্প-৯ : স্বয়ংক্রিয় রুম লাইট নিয়ন্ত্রণ

এ প্রকল্প টিমে যারা আছেন তারা হলেন : মাহবুবা নিম্মি, সুরাইয়া তাইরিন, নাযিফা কারিমা, অর্পিতা রায়, রুমানা আক্তার এবং কামরুন নাহার লিজা। এরা সবাই বুয়েটের ছাত্র।



স্বয়ংক্রিয়ভাবে রুমের বাতি জ্বালানো-নেভানোর মাধ্যমে বিদ্যুতের অপচয় রোধ, রুমে আসা লোকসংখ্যা গণনা, সেই সাথে স্বয়ংক্রিয় স্বাগত-বার্তা দেয়া। রুমের দরজায় লাগানো থাকবে একটি সেন্সর, যা রুমে কেউ ঢুকলে বা বের হলে সেন্স করবে। রুমে কেউ প্রবেশ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতি জ্বলবে। সবাই চলে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা নিভে যাবে। এ প্রকল্প তৈরিতে ব্যবহার হয়েছে মাইক্রোকন্ট্রোলার (এটিমেগা ১৬), সেভেন সেগমেন্ট ডিসপ্লে, আইআর সেন্সর, ডিকোডার ইত্যাদি হার্ডওয়্যার। সহায়ক সফটওয়্যার হিসেবে ব্যবহার হয়েছে এভিআর স্টুডিও।

এর মাধ্যমে রুমের বাতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। অডিটোরিয়াম, শপিং মল, সেমিনার রুম, শ্রেণীকক্ষে উপস্থিত লোকসংখ্যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানা যাবে এবং উপস্থিত লোকের উদ্দেশে যেকোনো ঘোষণা বা তথ্য ডিসপ্লেতে দেখানো যাবে।

এছাড়া এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফ্যান নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এবং কোনো রুমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা অ্যালার্ম সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কোনো রুম সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্যাদি স্বয়ংক্রিয়ভাবে রুমের বাইরে প্রদর্শন করা সম্ভব।

এই প্রকল্প তৈরিতে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ হাজার টাকা।

প্রকল্প-১০ : নিরাপদ ই-ভোটিং

একটি ভালো নির্বাচন ব্যবস্থা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অন্যতম পূর্বশর্ত। নির্বাচন ব্যবস্থা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হলে ভোটার ও প্রার্থী উভয়ই ভোটের ফল মেনে নিতে পারেন সন্তুষ্টচিত্তে। কিন্তু বাংলাদেশ তথা পৃথিবীর ইতিহাসে আমরা খুব স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমই দেখতে পাই। বরং নির্বাচনের ফলকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশসহ অন্যান্য দেশে নৈরাজ্য, সহিংসতা এমনকি খুনের ঘটনা পর্যন্ত হয়ে থাকে। আর এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে সব মহলের কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো নির্বাচন পদ্ধতি প্রবর্তিত হয়নি। এর ফলে নির্বাচনে দুর্নীতির আশঙ্কা সব সময়ই ছিল এবং তা রাজনৈতিক দলগুলোকে বিভিন্ন সময় নির্বাচনের ফল না মানতে প্রভাবিত করেছে।







সম্প্রতি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন তথা ইভিএম চালু করার প্রস্তাব দিয়েছে। আগামী সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা উচিত কি না, তা এখন দেশজুড়ে একটি আলোচনার বিষয়বস্ত্ততে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও এ নিয়ে চরম মতপার্থক্য বিরাজ করছে। সাধারণ লোকজনও এ নিয়ে নানা মন্তব্য করছেন, যদিও বেশিরভাগ লোকের এই প্রযুক্তির বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ধারণা নেই। আলোচ্য প্রকল্পে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে আরও নিরাপদ এবং যুগোপযোগী একটি ইলেকট্রনিক পদ্ধতি উদ্ভাবনের চেষ্টা করা হয়েছে।

একটি ভালো ভোটিং পদ্ধতি- সেটা ইলেকট্রনিক, মেকানিক্যাল কিংবা প্রচলিত ব্যালট পেপার ব্যবহার যা-ই হোক না কেন, কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রত্যেক ভোটারের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, ভোটারের নিরাপত্তা বিধান করা, ভোটার কোন প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন তা কোনোভাবেই প্রকাশ না পাওয়া, ভোট দেয়া ও গণনায় কোনোরকম কারচুপির সুযোগ না থাকা এবং সর্বোপরি ভোটের ফল দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়া। একটি আদর্শ ভোটিং ব্যবস্থা অবশ্যই শিক্ষা, বয়স, শারীরিক সক্ষমতা নির্বিশেষে সব ভোটারের কাছে বোধগম্য হবে। ভোট গ্রহণের পদ্ধতি এবং সময়সীমা এমন হওয়া উচিত, যাতে নির্দিষ্ট ভোটাররা একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভোটদান করতে পারেন। বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর এবং সংস্কৃতির মানুষকে এসব সুবিধা নিশ্চিত করা বেশ কঠিন। এক্ষেত্রে প্রচলিত ব্যালট পদ্ধতির চেয়ে ইলেকট্রনিক ভোটিং বেশ কার্যকর এবং ফলপ্রসূ পদ্ধতি হিসেবে পরিগণিত হতে পারে, যদি অন্যান্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। অবশ্য প্রচলিত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের কিছু নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতাও পরিলক্ষিত হয়, যা নির্বাচনের ফলকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে।

ইলেকট্রনিক ভোটিং পদ্ধতি সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের পূর্বশর্তগুলো ভালোভাবেই পূরণ করতে পারে প্রচলিত ব্যালট পেপার পদ্ধতির চেয়ে। ই-ভোটিং বলতে ভোট গ্রহণ এবং ভোট গণনার ইলেকট্রনিক পদ্ধতিকে বোঝায়। প্রচলিত ই-ভোটিং পদ্ধতির স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা নিয়ে একটু বিতর্কের অবকাশ রয়েছে। বর্তমানে প্রচলিত ইভিএমের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার পরিবর্তন করার মাধ্যমে কারচুপি করা যায়। হার্ডওয়্যার পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে আসল ডিসপ্লের পরিবর্তে নকল ডিসপ্লে ব্যবহার এবং তথ্য সংরক্ষণকারী মেমরি চিপসে ক্লিপ ব্যবহার। সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলে এবং ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়াতে ইভিএমের নিরাপত্তা বাড়ানো নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তার আলোকে এই পূর্ণ নিরাপদ আধুনিক ইলেকট্রনিক ভোটিং পদ্ধতি ডিজাইন করা হয়েছে বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের দাবি।

ই-ভোটিংয়ের আওতায় ভোটার ইভিএম ব্যবহার করে ভোট দেবেন। দক্ষিণ এশিয়াতে ভারত প্রথম ইভিএমের ব্যবহার শুরু করে এবং পর্যায়ক্রমে তা পাশের দেশগুলো চালু করে। সম্প্রতি একদল বিশেষজ্ঞ এ ধরনের ইভিএমের কিছু নিরাপত্তা-ত্রুটি খুঁজে পেয়েছেন। বর্তমানে নির্বাচনের আগে বিভিন্ন প্রার্থীর এবং প্রতীকের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা স্থাপন করা হয়। ইভিএম মেশিনে কিছু বোতাম থাকে, যা নির্বাচনের প্রতিযোগী প্রার্থীর নাম ও প্রতীকের পাশে বসানো হয়। সবকিছু যাচাই শেষ হওয়ার পর ভোটার এই মেশিনে তার পছন্দসই প্রার্থীর পাশের বোতাম টিপে ভোট দিয়ে থাকেন। তৎক্ষণাৎ ভোট দেয়া হয়ে যায়, কিন্তু ভোটার তার কাঙ্ক্ষিত প্রার্থীকে ভোট দিতে পারলেন কি না কিংবা তার ভোট গণনা হলো কি না, তার কোনো প্রমাণ এখানে থাকে না।

স্বচ্ছ ও নিরাপদ ভোট গ্রহণের জন্য একটি আধুনিক ইলেকট্রনিক ভোটিং পদ্ধতির প্রস্তাব করা হয়েছে আলোচ্য প্রকল্পে, যাতে প্রচলিত ই-ভোটিংয়ের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপত্তামূলক বৈশিষ্ট্য সন্নিবেশিত হয়েছে। তিন নম্বর চিত্রে এ প্রকল্পের প্রস্তাবিত পদ্ধতির একটি সরল কাঠামো প্রকাশ পেয়েছে। এই ব্যবস্থায় বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি করে সার্ভার থাকবে, যা সরাসরি ঢাকায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে যুক্ত হবে। একটি জেলার সব ভোটকেন্দ্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাথে ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্ত হবে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে ডাটাবেজে রাখা হবে যেন উপযুক্ত ও প্রাপ্তবয়স্ক কোনো ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়েন। যখন একজন ভোটার ভোটকেন্দ্রে যাবেন, তখন তিনি সেই কেন্দ্রে ভোটদানের যোগ্য কি না, তা যাচাই করা হবে ভোটার পরিচয়পত্র নম্বর এবং আঙুলের ছাপ যাচাইয়ের মাধ্যমে। কোনো ভোটারের একবার এসব মিলে যাওয়ার পর এই তথ্যগুলোতে আর নির্বাচনের দিন প্রবেশ করানো যাবে না। এই পদ্ধতিতে একজন আরেকজনের ভোট দিতে পারবেন না, বা একজন দুইবার ভোট দিতে পারবেন না। যাচাইয়ের পর সব তথ্য মিলে গেলে ভোটার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এই ভোট সাথে সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সার্ভার এবং ঢাকায় নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে হালনাগাদ হয়ে যাবে। ভোট গ্রহণ শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সার্ভার সেই জেলার প্রত্যেক কেন্দ্র, আসন এবং প্রার্থীর সমন্বয়ে ফল প্রকাশ করবে, যা সাথে সাথে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়েও পাওয়া যাবে। যদি কোনো এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ না থাকে, তাহলে সেখানে ভোটার যাচাই করার প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রচলিত নিয়মেই হবে। তার নাম ভোটার তালিকার সাথে মিলিয়ে দেখা হবে এবং ভোট নেয়ার পর হাতে অমোচনীয় কালি লাগিয়ে দেয়া হবে। নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষ হলে ইভিএমগুলো সংগ্রহ করা হবে এবং ভোট প্রতিস্থাপনযোগ্য মেমরির মাধ্যমে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সার্ভারে স্থানান্তর করা হবে। ফল পূর্বে উল্লিখিত নিয়মেই প্রকাশিত হবে।

এই পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া দুই ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথমত- ভোটার একজন প্রার্থী পছন্দ করবেন, যা তিনি প্রচলিত ইভিএমে করে থাকেন। কিন্তু তৎক্ষণাৎ ভোট দেয়ার পরিবর্তে তিনি ইভিএমে একটি বোতাম টিপে তার পছন্দসই প্রার্থী নির্বাচন করবেন, তারপর আরেকটি বোতাম টিপে তাকে ভোট দেয়া নিশ্চিত করবেন। দ্বিতীয়ত- বোতাম টেপার পর একটি ব্যালট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছাপা হবে এবং তা নিরাপদ ও স্বচ্ছ পথে একটি সুরক্ষিত ও স্বচ্ছ বাক্সে জমা হবে। একই সাথে ইভিএম একটি রসিদ ছাপবে। সেখানে ভোটারের জন্য তালিকা নম্বর দেয়া থাকবে। ভোটার সেই রসিদটি নিজের কাছে সংরক্ষণ করবেন। এভাবে ভোট ইলেকট্রনিক ও ব্যালট দুই মাধ্যমেই সংরক্ষিত হবে। যদি নির্বাচনে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ ওঠে, তাহলে এই ব্যালটগুলো গণনা করা হবে। যেহেতু ভোট ইলেকট্রনিক এবং ব্যালট দুই মাধ্যমেই সংরক্ষিত হবে, তাই দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকবে না। জেলা প্রশাসকের সার্ভার কক্ষে একটি বড় মনিটর থাকবে। যেখানে প্রত্যেক কেন্দ্রের সংগৃহীত ভোটের সংখ্যা প্রদর্শন করা হবে এবং যখনই কোনো কেন্দ্রে কোনো ভোট দেয়া হবে, সাথে সাথে তা হালনাগাদ করা হবে। প্রত্যেক প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট সেখানে কোন কেন্দ্রে কত ভোট গৃহীত হচ্ছে, তা দেখতে পারবেন এবং তারা যেকোনো ধরনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম দুর্নীতির চেষ্টাও ধরতে পারবেন খুব সহজে।

নিচের চিত্রে প্রস্তাবিত ই-ভোটিং পদ্ধতিতে কিভাবে ভোট গ্রহণ ও গণনা করা হবে তা দেখানো হয়েছে।

প্রার্থী ১ – ‘XX’ ভোট
প্রার্থী ২ – ‘XX’ ভোট
ভোটকেন্দ্র ১ – ‘XX’ ভোট
ভোটকেন্দ্র ২ – ‘XX’ ভোট

পূর্বে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ থেকে আমরা অনুধাবন করতে পারি এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হলে :

০১. কোনো ভোটার একবারের বেশি ভোট দিতে পারবেন না।

০২. ভোটের ব্যালট পেপার কপি সংরক্ষিত থাকবে, তাই কোনো ইলেকট্রনিক বিপর্যয় ঘটলে ভোট গ্রহণ বাতিল হবে না।

০৩. এমনকি যদি ইভিএম ভোটকেন্দ্র থেকে সরিয়ে ফেলা হয়, তা নির্বাচনের ফলের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। কারণ ফল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সার্ভারেও সংরক্ষিত থাকবে।

০৪. কেউ সার্ভার থেকে কোনো ভোট কমাতে/বাড়াতে পারবেন না, যেহেতু সেটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাসহ সংরক্ষিত থাকবে।

০৫. একই সময়ে একাধিক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থাকায় কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন ভোট সংখ্যার গরমিল করতে পারবেন না।

এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য, ভোট গ্রহণের প্রতিটি ধাপে কাজ করা ব্যক্তিদের অবশ্যই রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ, সৎ, বিশ্বস্ত ও কর্মঠ হতে হবে, যাতে এই ই-ভোটিং পদ্ধতি সব রাজনৈতিক দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়।

ভোট গ্রহণ শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সার্ভার কোন প্রার্থী কোন ভোটকেন্দ্রে কত ভোট পেয়েছেন তা প্রকাশ করবে। এটা প্রমাণিত, প্রচলিত ব্যালট পেপার পদ্ধতির চেয়ে ই-ভোটিং পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ ও গণনা করতে অনেক কম সময় লাগবে। প্রস্তাবিত পদ্ধতিকে আরো দ্রুততর করা যাবে যদি একটি ভোটকেন্দ্রে বেশিসংখ্যক ইভিএম সংযুক্ত করা হয়।

ইন্টারনেটের মতো বিশাল টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসারের সাথে সাথে আমাদের জীবনের মান ও পদ্ধতিতে এক ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তনের একটি হচ্ছে কোনো সরকারের কর্মপরিকল্পনা ভালোভাবে বাস্তবায়নের জন্য ই-সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা। ই-ভোটিং পদ্ধতির আধুনিকায়ন ই-সরকার ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার অন্যতম পূর্বশর্ত। প্রস্তাবিত পূর্ণ নিরাপত্তামূলক ই-ভোটিং পদ্ধতি সহজ, নিরাপদ, আধুনিক, স্বচ্ছ ও দক্ষ এবং এটা ইলেকট্রনিক, তথ্য ও টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নের মাধ্যমে ডিজাইন করা হয়েছে। এটা বলা নিরাপদ যে, যদি প্রস্তাবিত ই-ভোটিং পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয় তাহলে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যা সব রাজনৈতিক দল, দেশের মানুষ ও বিদেশি পর্যবেক্ষকদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। এটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রশাসনিক পরিকল্পনার নিরবছিন্নতা নিশ্চিত করবে, যা বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখার জন্য খুবই প্রয়োজন। তাই বলা যায়, এই ই-ভোটিং পদ্ধতি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে একটি ছোট পদক্ষেপ, কিন্তু শান্তিপূর্ণ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার পথে এক বিশাল নবযাত্রা।

এখন প্রশ্ন হলো, ই-ভোটিংয়ে তো আমাদের যেতে হবে। কিন্তু কোন সময় এবং কী পটভূমির প্রেক্ষিতে? আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কী প্রস্তাবিত পূর্ণ নিরাপত্তামূলক ই-ভোটিং পদ্ধতি প্রবর্তন করা সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে এই প্রযুক্তি নিয়ে কিছু গবেষণা ও অনুসন্ধান করতে হবে প্রকল্পের মাধ্যমে। এই প্রকল্পগুলো হতে পারে : ০১. পদ্ধতি উন্নয়ন, ০২. ছোট পরিসরের নির্বাচনে তা পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার, ০৩. সেখানে সফল হলে বড়ো পরিসরের নির্বাচনে ব্যবহার। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ২-৩ লাখ ইভিএম লাগবে, যা সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে দেশেই তৈরি হবে। তাছাড়া ছোট পরিসরে ইভিএম ব্যবহার করে কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে, তা দূর করার জন্য কিছু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন দরকার হবে। সর্বোপরি এসবের জন্য একটি আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যা ২০১৪-এর নির্বাচনের আগে সম্ভব নয়। যদি এই প্রযুক্তি ব্যবহারে তাড়াহুড়া করা হয়, তাহলে তা কোনোভাবেই পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। তাই এই প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের অভিমত, ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রস্তাবিত ই-ভোটিং পদ্ধতি শতকরা ৫-১০ ভাগ ব্যবহার করা হোক। আর ২০১৯-এর নির্বাচন থেকে তা পুরোপুরি ব্যবহার করাই যুক্তিসঙ্গত হবে। ততদিনে আমাদের দেশের জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর এই প্রযুক্তি সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা গড়ে উঠবে এবং তারা নির্বাচনের ফল মেনে নিতেও সক্ষম হবেন কোনো ধরনের কারচুপির অভিযোগ উত্থাপন ছাড়াই।

এ প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন : ড. এম আবদুল আউয়াল, অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান। ড. সাজ্জাদ হোসেন, সহকারী অধ্যাপক। আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, ছাত্র, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও কমপিউটার সায়েন্স অনুষদ, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। ড. আশরাফুল আমীন, সহকারী অধ্যাপক, ইঞ্জিনিয়ারিং ও কমপিউটার সায়েন্স অনুষদ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ।

শেষ কথা

আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনেক ধরনের প্রকল্পের কাজ হয়, যা আমাদের দেশীয় প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিতে পারে। একথা বলার অপেক্ষা রাখে না, দেশীয় শিল্পের চাহিদার সাথে আমাদের দেশীয় শিক্ষার মিল তেমন একটা নেই। অথচ এই মিল বা ধারাবাহিকতা থাকাটা খুব জরুরি। এই মিল না থাকার কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন সদ্য পাস করে বের হওয়া উচ্চশিক্ষিতরা। এরা যথেষ্ট যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কাজে লাগছেন না আর দেশীয় শিল্প তাদের কাজে লাগাতে পারছে না। তবে দেশীয় প্রকল্পগুলো যদি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যেত, তাহলে এই সমস্যা থাকত না। সেই সাথে শিল্প বা ইন্ডাস্ট্রিগুলোর সাথে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দূরত্ব কমে যেত। এসব প্রকল্প যে আন্তর্জাতিক মানের, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। এখন সরকারসহ দেশের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এই প্রকল্পগুলো কাজে লাগানোর জন্য এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই এসব প্রকল্পের শ্রমে নিয়োজিত শিক্ষক ও ছাত্রদের পরিশ্রম সফল হবে। সেই সাথে প্রযুক্তিগত দিক থেকে দেশকেও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : webtonmoy@yahoo.com, mortuzacsepm@yahoo.com
Source: Monthly Computer Jagat

Tuesday, January 11, 2011

ফ্রিবি পে সল্যুশন : ক্রেডিট কার্ড বা নগদ টাকার বিকল্প প্রযুক্তি : ড. সাইফুরের উদ্ভাবনে ব্যাপক সাড়া

ফ্রিবি পে সল্যুশন : ক্রেডিট কার্ড বা নগদ টাকার বিকল্প প্রযুক্তি : ড. সাইফুরের উদ্ভাবনে ব্যাপক সাড়া

এনা, নিউইয়র্ক
প্রযুক্তির সুবাদে এখন আর কেনাকাটায় দরকষাকষির জন্য টাকার বান্ডিল কিংবা ক্রেডিট কার্ড পকেটে ভরে দোকানে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। কোন জিনিসে কত ডিসকাউন্ট পাওয়া যাবে, তা নিয়েও সেলসম্যানের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার দরকার হবে না। কোন স্টোরে কখন মূল্যহ্রাস ঘোষণা করা হচ্ছে এবং দ্রব্যের ডিসকাউন্ট প্রাপ্তির আগাম কুপনও ডাকযোগে বাসায় আসার দরকার হবে না। সবকিছুই সম্পাদিত হবে মোবাইল ফোনে। মোবাইল ফোনকে মানিব্যাগ/ওয়ালেট হিসেবে ব্যবহারের সর্বাধুনিক একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশী আমেরিকান কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ড. সাইফুল খন্দকার। নতুন এ সফটওয়্যারের নাম হচ্ছে ‘ফ্রিবি পে’। আর এটি যুক্তরাষ্ট্রের তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ফেসবুক, গুগলসহ বিখ্যাত সব কোম্পানির পক্ষ থেকে সাইফুল খন্দকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে ‘ফ্রিবি পে’ কেনা অথবা পার্টনার হওয়ার জন্য। যুক্তরাষ্ট্রের ১০ লাখেরও বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক স্থাপনকারী ‘আরবিএস’ চাচ্ছে এ প্রযুক্তির স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হতে। ফেসবুকের একজন কো-ফাউন্ডার ফেসক্যাশ সল্যুশন নিয়ে কাজ করছেন। তিনিও ড. সাইফুল খন্দকারের সঙ্গে লবিং করছেন এ প্রযুক্তির সহায়তা নিতে। কানাডা, প্যারিসসহ ইউরোপের কয়েকটি কোম্পানিও চেষ্টা করছে প্রচণ্ড আগ্রহ নিয়ে।
তিনদিনব্যাপী ‘দ্য ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশন এক্সপো ২০১১’-এর প্রথম দু’দিনই জ্যাকব জেভিট কনভেনশন সেন্টারে ড. সাইফুল খন্দকারের এ উদ্ভাবনী নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল পরিলক্ষিত হয়। এ প্রদর্শনীতে ভারতের টাটাসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৫শ’রও বেশি আইটি কোম্পানি অংশ নিচ্ছে। তারা সবাই নিজ নিজ উদ্ভাবিত পণ্যের দোকান দিয়েছেন। ৬২ দেশের ৫০ হাজারেরও বেশি ক্রেতা-দর্শক প্রদর্শনীতে এসেছেন বলে আয়োজকরা জানান। মোটা অর্থের বিনিময়ে প্রতিটি কোম্পানিকে এ প্রদর্শনীতে অংশ নিতে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৯১১ সাল থেকে আইটি সেক্টরের প্রদর্শনী হয়ে আসছে নিউইয়র্কে। ৩০ বছর আগের প্রদর্শনীতেও কল্পনা করা যায়নি যে, ২০১১ সালের প্রদর্শনীতে বিশ্বের সব অঞ্চলের ক্রেতা-উদ্ভাবকের বিরাট সমাগম ঘটবে। ‘কতদূর এসেছি, তোমরা কতদূর যেতে চাও’ স্লেম্লাগানে উজ্জীবিত এবারের এ প্রদর্শনীতে আটলান্টাভিত্তিক আইটি কোম্পানি ‘এমআইথ্রি’র কর্ণধার ড. সাইফুল খন্দকার এবং তার সহযোগী তথা পণ্য উদ্ভাবন ও উন্নয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রড স্ট্র্যামবাহ, বিক্রয় ও ব্যবসায়িক উন্নয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কনস্ট্যান্স কোর্টনি, বিজনেস ম্যানেজার জিল রবার্টস এবং এমআইপির পরিচালনা পরিষদের সদস্য এজাজ চৌধুরী ছিলেন অনেকের মধ্যমণি। এমআইথ্রি’র মাধ্যমে বিশাল এ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশও গর্বে মেতে উঠেছিল। অনেক ক্রেতার সঙ্গেই কথা বলার সময় ড. সাইফুল খন্দকার বাংলাদেশকে টেনে নিয়ে এসেছেন। উল্লেখ্য, এমআইথ্রি’র ‘ফ্রিবি পে’র স্টলের সন্নিকটেই ভারতীয় টাটা কোম্পানির স্টল। সেখানেও ভিড় পরিলক্ষিত হয়, তবে ‘ফ্রিবি পে’র মতো নয়।
নতুন এ উদ্ভাবন সম্পর্কে ড. সাইফুল খন্দকার প্রদর্শনী কেন্দ্রে বলেন, ‘আইটি সেক্টরের গবেষকরা মনে করছেন ২০১৫ সালের মধ্যে বিশ্বের বড় বড় সিটির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ৭০ শতাংশ বিক্রি সম্পাদিত হবে অনলাইনে মোবাইল টেলিফোনে। আর এক্ষেত্রে আমাদের উদ্ভাবিত ‘ফ্রিবি পে’ হবে পাইওনিয়ার। তিনি বলেন, মোবাইল ফোনকে কেনাকাটার অবলম্বনে পরিণত করার সফটওয়্যার তৈরির কাজে আরও কয়েকজন হাত দিয়েছেন। পরীক্ষামূলকভাবে কেউ কেউ করছেনও। কিন্তু আমরা সরাসরি বাজারে চলে এসেছি সবার আগে। তাই আমাদের সফটওয়্যার সবার দৃষ্টি কেড়েছে। তিনি বলেন, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ক্রমান্বয়ে মোবাইল ফোনের ওপর মানুষের নির্ভরতা বাড়ছে। অনলাইনকে অনেক মানুষ বেঁচে থাকার অবলম্বনে পরিণত করেছেন। কেনাকাটার ক্ষেত্রেও সে অবলম্বন খুব দু্রত বাড়বে বলে মনে করছি। নগদ অর্থ বহন করা অথবা ক্রেডিট কার্ড ওয়ালেট/মানিব্যাগে রাখা খুব নিরাপদ নয়। এছাড়া ক্রেডিট কার্ডে বিল পরিশোধের পর ডাকযোগে বিল আসবে বাসায়। পোস্টাল স্ট্যাম্প ব্যয়ের পাশাপাশি সময়ও দিতে হবে সে চেক লিখতে। কিন্তু ‘ফ্রিবি পে’তে সেসব ঝামেলা নেই। সেলফোনই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করবে। ক্রেডিট কার্ডের ব্যালেন্স সংরক্ষিত থাকবে ফোনের মেমোরিতে। বিল পর্যালোচনা করবে মোবাইল ফোন নিজেই। সেলসম্যানকে বলতে হবে না কিছুই। সবকিছু মুহূর্তে ঘটে যাবে পছন্দের জিনিস হাতে নেয়ার পরই। ড. সাইফুল খন্দকার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় প্রতিষ্ঠানে এরই মধ্যে অনলাইনে বিক্রি শুরু হয়েছে। অর্থাত্ তাদের সব পণ্য ওয়েবসাইটে চলে গেছে। এভাবেই আমাদের উদ্ভাবিত সফটওয়্যারের দিকে মানুষের ঝোঁক বাড়বে।
SOURCE: Daily Amardesh

Sunday, January 2, 2011

বাংলা ভাষার নতুন ভ্রমণ

বাংলা ভাষার নতুন ভ্রমণ

সিরাজুল ইসলাম | তারিখ: ২১-০১-২০১১

ইউএনএল (ইউনিভার্সাল নেটওয়ার্কিং ল্যাঙ্গুয়েজ) মানবসভ্যতার জন্য একটি অতুলনীয় অর্জন। আট বছর আগেও মানুষ ভাবতে পারেনি যে একটি ডিজিটাল ভাষার মাধ্যমে পৃথিবীর সব ভাষাভাষীর মানুষ নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে পারবে নিজ ভাষার মাধ্যমে। অথচ তা-ই হলো। আপনি যত বড় পণ্ডিতই হোন না কেন, পৃথিবীর ডজন খানেক ভাষা আপনি সারা জীবনে হয়তো আয়ত্ত করতে পারেন। কিন্তু ইউএনএল এমন একটি প্রাযুক্তিক ভাষা, যার মাধ্যমে আপনি অন্য শত শত ভাষার সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করতে পারেন নিজ ভাষার মাধ্যমেই। এ ভাষা অদৃশ্য। তা ধরাছোঁয়ার বাইরে। কম্পিউটারে ইউএনএল প্রোগ্রামে যান এবং আপনার নিজ ভাষায় ভিন্ন ভাষী বন্ধুকে পত্র, প্রবন্ধ, বই—যা ইচ্ছা লিখুন। উপমাস্বরূপ, বন্ধুটি যদি আরবি ভাষাভাষী হন, নিজ ভাষায় লিখুন এবং টিপ দিন আরবি ভাষার বোতামে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি তা আরবি ভাষায় পেয়ে যাবেন, চীনা হলে চীনা ভাষায় পাবেন। জাপানি হলে জাপানি ভাষায়। আবার ওপার থেকে তিনি যখন তাঁর নিজ ভাষায় উত্তর লিখে বাংলা ভাষার বোতামে চাপ দেবেন, তৎক্ষণাৎ তা আপনি বাংলা ভাষায় পেয়ে যাবেন। অর্থাৎ লেখালেখি, গবেষণা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কূটনৈতিক—যেকোনো যোগাযোগ এখন ইউএনএলের মাধ্যমে করা সম্ভব এবং তাৎক্ষণিকভাবে। এর জন্য বিদেশি ভাষা জানার দরকার নেই।
তবে বাংলা ভাষার জন্য এ সুবিধা এখনো সৃষ্টি করা যায়নি। কারণ, বাংলা ভাষাকে এখনো ইউএনএলের সদস্যভুক্ত করা হয়নি। হিন্দি, উর্দুসহ দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি ভাষা ইউএনএলের সদস্য হয়ে নিজ ভাষার মাধ্যমে পৃথিবীর অন্যান্য ভাষার সঙ্গে যোগাযোগ করছে; কিন্তু বাংলাদেশ এখনো এর সদস্য হওয়ার জন্য এগিয়ে আসেনি। সদস্য হওয়ার কিছু পূর্বপ্রস্তুতি আছে, যেমন ইউএনএল নির্মিত ছকে বাংলা ভাষার একটি ডিজিটাল অভিধান ও একটি ডিজিটাল শব্দকোষ নির্মাণ করা, যা কিনা এ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান করেনি। ইউএনএল পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে জাতিসংঘের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সাল নেটওয়ার্কিং ল্যাঙ্গুয়েজ ফাউন্ডেশন, জেনেভা। বিশ্বের প্রতিটি ভাষা যেন ইউএনএলের সুবিধা নিতে পারে এবং প্রত্যেক মানুষ যেন তা অবাধে ব্যবহার করতে পারে, সে জন্য ইউএনএল সবার জন্য বিনা মূল্যে খুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক যে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইউএনএলের সদস্য হওয়ার জন্য এগিয়ে আসেনি। সদস্য হতে গেলে যে ডিজিটাল শর্ত পূরণ করতে হয়, তা পালন করার সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি।
সুখের কথা, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি এ উদ্দেশ্যে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্পের কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। ইউএনএলের সদস্য হওয়ার পূর্বশর্তে বাংলা ডিজিটাল শব্দকোষ ও অভিধান নির্মাণে একটি বড় কলাকুশলী দল কাজ শুরু করেছে। প্রকল্পটিকে প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহায়তা দেওয়ার জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, সরকারি সাহায্য পেলে দেড়-দুই বছরের মধ্যে বাংলা ভাষাও ইউএনএলের সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করবে। তখন বাংলা ভাষার মাধ্যমে অন্যান্য ভাষার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে ইউএনএলভুক্ত ভাষার সদস্যসংখ্যা ১৬৫। কিন্তু বিশ্বের পঞ্চম বৃহৎ ভাষা বাংলা এখনো এর সদস্যপদ নিতে পারেনি। অর্থাৎ সদস্যপদ নেওয়ার শর্তাবলি পূরণ করতে পারেনি। এটা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় গ্লানি বলতে হবে। কেননা, যে ভাষার জন্য মানুষ আন্দোলন করেছে, প্রাণ দিয়েছে, যে ভাষা আন্দোলনের সম্মানে একুশে ফেব্রয়ারি বিশ্বের মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে, সে ভাষা এখনো ইউএনএলের মাধ্যমে বিশ্বভাষাগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারেনি, সে গ্লানি রাখার জায়গা কোথায়?
 সভাপতি, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি

সালাহ্ উদ্দিন
ভাষার প্রধান বাহক মানুষ। আরও কিছু বিষয় আছে, যারা ভাষাকে বয়ে নিয়ে চলে, যেমন বই। ভাষার এই গমনাগমনে ভাষা নিজে পরিবর্তিত হয়, অপরিচিতের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে। কিন্তু তার জন্য এক ভাষার মূল বক্তব্যকে অন্য ভাষায় রূপান্তরিত হতে হয়। এই কাজ করে থাকেন কোনো অনুবাদক। রাষ্ট্রীয় কোনো যোগাযোগ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য বা সাহিত্যের ক্ষেত্রেও অনুবাদকের দয়ার ওপর সবাইকে নির্ভর করতে হয়। এমন যদি হয়, পৃথিবীর অন্তত ১৫০টি ভাষাকে সহজেই অনুবাদ করে ফেলা যাবে বাংলায় এবং এর জন্য অনুবাদককেও কাঠ-খড় পোড়াতে হবে না। বসে থাকতে হবে না দীর্ঘ সময়। স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তা করা যাবে। কেবল একটি বোতাম চাপায় দেখা গেল মুহূর্তেই সাহিত্যে ২০১০ সালের নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক মারিয়া বার্গাস য়োসা স্প্যানিশ ভাষায় রচিত বা পর্তুগিজ ভাষায় রচিত আরেক নোবেল বিজয়ী হোসে সারামাগোর উপন্যাস খুব সহজেই রূপান্তরিত হয়ে গেল বাংলায়। এরকম কিছু স্বপ্ন বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েই কাজ শুরু করেছিল জাপানের ‘ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সিটি’ ১৯৯৬ সালে। এখন বলা যায় ইউএনএল বা ইউনিভার্সাল নেটওয়ার্কিং ল্যাঙ্গুয়েজ প্রযুক্তির আওতায় ১৬৫টি ভাষাকে অন্য যেকোনো ভাষায় রূপান্তরের কাজ করা যাবে চোখের পলকেই। নতুন খবর হচ্ছে বাংলা ভাষাও এখন সংযুক্ত হচ্ছে এই প্রকল্পের সঙ্গে।

প্রসঙ্গ ইউএনএল
ইউএনএল বা ইউনিভার্সাল নেটওয়ার্কিং ল্যাঙ্গুয়েজ এমন একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, সংক্ষেপে যদি বলা হয়: কেবল একটি বোতাম চাপার ব্যবধানে পাল্টে দেবে এক ভাষাকে অন্য ভাষায়। তবে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা পেতে হলে প্রাথমিক শর্ত হলো অনুবাদের সুবিধা পাওয়ার আগে ওই ভাষার সম্পূর্ণ একটি অভিধান ও ব্যাকরণকে ইউনিকোডে ব্যবহারের উপযুক্ত করে তৈরি করতে হবে। অর্থাৎ এমন একটি নির্দেশাবলি তৈরি করতে হবে, যা যেকোনো ভাষাকে সেই নির্দেশাবলির আওতায় ইপ্সিত ভাষায় রূপান্তরিত করতে পারবে। যে কারণে এই সেবামূলক প্রকল্পে যে প্রতিষ্ঠান তার ভাষার ব্যাকরণ ও অভিধান তৈরি করতে পারবে, তারাই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে। ইউএনের তত্ত্বাবধানে জাপান এই প্রকল্পের কাজ শুরু করে প্রায় ২০০ কম্পিউটার প্রযুক্তিবিদ ও ভাষাবিদের সমন্বয়ে।
এখান আসা যাক বাংলা ভাষার কথায়, অন্য একটি নির্দিষ্ট ভাষাকে বাংলায় রূপান্তর করতে প্রথমে ওই ফরমায়েশটি ইউএনএল প্রযুক্তিতে সরবরাহ করতে হবে। সরবরাহকৃত লেখা অনুবাদের জন্য এই প্রযুক্তি যাঁরা নিয়ন্ত্রণ করছেন, অর্থাৎ ইউএন, তাঁদের অনুমতি পেতে হবে। তাঁদের অনুমতি পাওয়ার পরই কেবল ভিন ভাষার বইটি আমাদের ভাষায় প্রয়োজনীয় অনুবাদ করা যাবে। শুরু থেকেই জাতিসংঘের আওতায় এই অনুবাদ প্রকল্পের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম বেধে দেওয়া হয়েছে। যেমন, একটি রাষ্ট্র কেবল একটি ভাষাকেই তাদের রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে ইউএনএল প্রযুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। আর এই প্রযুক্তিতে সব ভাষা অনুবাদের ক্ষেত্রে ইংরেজি হলো মান ভাষা অর্থাৎ আমি ভাত খাই রুশ ভাষার এই বাক্যটি প্রথমে অনুবাদ হবে ইংরেজিতে তারপর বাংলায়।

বাংলা ভাষার নতুন ভ্রমণ
বর্তমান ইন্টারনেটের দুনিয়ায় সারা বিশ্বই এখন হাতের মুঠোয়, কিন্তু ভাষাগত সমস্যায় অনেক সময় সহজ কাজটিও দুর্বোধ্য ঠেকে। কিন্তু বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ যদি এই ইউএনএল-এর আওতায় চলে আসে তাহলে আর্থিক লেনদেন থেকে শুরু করে কূটনৈতিক যোগাযোগ বা সাংস্কৃতিক যোগাযোগ সব ক্ষেত্রেই ইন্টারনেটের নতুন দুনিয়াকে আরও সহজ ও গতিশীল করে তুলবে।
ভারত হিন্দি ভাষার পাশাপাশি বাংলাকেও এই প্রযুক্তির আওতায় আনতে চেয়েছিল কিন্তু ইউনাইটেড নেশনস ল্যাঙ্গুয়েজ ফাউন্ডেশনের অনুমোদন না পাওয়ায় তা বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ বাংলাকে এই প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় অবকাঠামো ও আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছে। প্রযুক্তিবিদ ও ভাষাবিদদের সমন্বয়ে এখন একদল গবেষক কাজ করছেন ইউএনএল প্রযুক্তির সঙ্গে কাজ করতে পারে বাংলা ভাষার এমন একটি ব্যাকরণ ও অভিধান তৈরির। এতে সংযুক্ত হবে বাংলা ভাষায় মান ভাষার বাইরেও সাহিত্যে ব্যবহূত ভাষা, আঞ্চলিক ভাষা ও রবীন্দ্র-সাহিত্য। গবেষকেরা মনে করেন রবীন্দ্র-সাহিত্য অভিধান তৈরিতে, ভাষা নির্মাণে একটা বড় ভূমিকা রাখবে। ইতিমধ্যে ইন্টারনেটে রবীন্দ্র-সাহিত্য ইউনিকোডে রূপান্তর করা হয়েছে। এশিয়াটিক সোসাইটির সঙ্গে যোগ দিয়ে এই কাজে সংশ্লিষ্ট হয়েছে কলকাতার সোসাইটি অব ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ টেকনোলজি রিসার্চ বা এসএনএলটিআর। আশা করা যায়, দেশি-বিদেশী গবেষকদের চেষ্টায় এক বছরের মধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। অভিধান ও ব্যাকরণ তৈরির পর এই প্রযুক্তি ব্যবহারের অনুমোদন পেয়ে যাবে বাংলাদেশ। এশিয়াটিক সোসাইটির পরিকল্পনা অনুযায়ী তারপরই শুরু হয়ে যাবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ অনুবাদ এবং তা বাজারজাত করার কাজ।
ইউএনএলের আবিষ্কার এবং এই প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার অন্তর্ভুক্তি রাষ্ট্রিক-সামাজিক, গবেষণাসহ নানা ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ উন্মোচন করবে সন্দেহ নেই। বিশ্বের পঞ্চম ভাষা হিসেবে এর ব্যবহার হবে বহুমাত্রিক। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের বাংলাভাষী কোনো মানুষ সহজে অন্য ভাষাকে যেমন নিজের ভাষায় পড়তে পারবে, ঠিক তেমনি অন্য ভাষার মানুষও বাংলা ভাষার রসাস্বাদন করতে পারবে নিজের ভাষায়। এখন শুধু অপেক্ষা।
Source: Daily Prothom alo

Thursday, December 2, 2010

প্রযুক্তির আলো ছড়াচ্ছে নারান্দী চীন মৈত্রী কেন্দ্র

প্রযুক্তির আলো ছড়াচ্ছে নারান্দী চীন মৈত্রী কেন্দ্র

বশীর আহমেদ, নরসিংদী থেকে ফিরে
প্রযুক্তির আলো ছড়াচ্ছে নারান্দী চীন মৈত্রী কেন্দ্র। নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে সবুজে ঘেরা নারান্দী গ্রাম। প্রত্যন্ত এ গ্রামেই ২০০৭ সালের ২ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করে নারান্দী চীন মৈত্রী কেন্দ্র। এ কেন্দ্রের মাধ্যমে কম্পিউটার জ্ঞানে আলোকিত হচ্ছে এলাকার শিশুরা। বিশিষ্ট সাংবাদিক ও দ্য নিউজ টুডে পত্রিকার
সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ ঢাকার চীনা দূতাবাসের সহায়তায় গড়ে তোলেন এ কেন্দ্রটি। ১০টি কম্পিউটার নিয়ে যাত্রা শুরু হয় ওই কেন্দ্রের। গতকাল তিনটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার, দুটি সাউন্ড সিস্টেমসহ আরও কিছু প্রযুক্তির সরঞ্জামযুক্ত হলো ওই কেন্দ্রে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং জিয়ানিই গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে এসব সরঞ্জাম নারান্দী-চীন মৈত্রী কেন্দ্রের চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন আহমেদের কাছে তুলে দিয়ে তার অনুভূতির কথা জানিয়ে বলেন, আমি সত্যিই খুব আনন্দিত। কেন্দ্রটি সঠিকভাবেই সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে। এখানকার শিশুদের কম্পিউটার প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে আমরা কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখতে পারছি। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। আজকের এই শিশুরা কম্পিউটার জ্ঞানের মাধ্যমে শুধু নিজেদেরই গড়ে তুলবে না, জাতির এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক ঐতিহাসিক বাংলাদেশকে চীন শ্রেষ্ঠ বন্ধুদের একজন মনে করে। আগামী দিনগুলোতে এই বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। অনুষ্ঠানে নারান্দী-চীন মৈত্রী কেন্দ্রের চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ চীনকে বাংলাদেশের সত্যিকারের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শিশুদের জন্য গড়ে দেয়া কম্পিউটার শিক্ষার এই কেন্দ্রটি বাংলাদেশের প্রতি চীনের অকৃত্রিম ভালোবাসার একটি নিদর্শন। বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের সাবেক রাষ্ট্রদূত চাই শি নিজেই এ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছিলেন। কম্পিউটার প্রযুক্তির এই যুগে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের শিশুদের গড়ে তুলতে এ কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল মজিদ হূমায়ুন এবং মৈত্রী কেন্দ্রের পরিচালক জয়নুল আবেদীনও বক্তব্য রাখেন।
এই মৈত্রী কেন্দ্রের শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে কেন্দ্রের প্রধান প্রশিক্ষক আকরাম হোসেন রুমি আমার দেশকে বলেন, কম্পিউটার সম্পর্কে শিশুদের প্রাথমিক ধারণা দেয়া হয় এখানে। এখানে রয়েছেন চারজন প্রশিক্ষক। প্রতি মাসে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ুয়া ৪০ শিশুকে কম্পিউটার অপারেট করাসহ এমএসওয়ার্ড এবং পাওয়ার পয়েন্ট সম্পর্কে শিক্ষা দেয়া হয়। এলাকার চারটি স্কুল থেকে শিশুরা কম্পিউটার শিখতে এখানে আসে। আগামী বছর থেকে এখানে চীনা ভাষা শিক্ষা কোর্স চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
এ কেন্দ্রের মাধ্যমে কম্পিউটার শিখতে পেরে দারুণ খুশি চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র শাহীন। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সে জানায়, আমি এখন কম্পিউটার চালাতে পারি। কম্পিউটারে গেমস খেলতে আমার দারুণ ভালো লাগে। আমি আরও অনেক কিছু শিখতে চাই এখান থেকে।’
গতকালের অনুষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশিত সঙ্গীত, নৃত্য, কৌতুক মন ছুঁয়েছে সবার। বিশেষ করে চীনা ভাষায় পরিবেশিত সঙ্গীত ছিল সবচেয়ে উপভোগ্য। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ, বিশিষ্ট সাংবাদিক নেতা বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, বৈশাখী টেলিভিশনের সিইও মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, বিএফইউজে মহাসচিব এমএ আজিজ, দৈনিক যুগান্তরের নির্বাহী সম্পাদক সাইফুল আলম, দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক আবদুল হাই সিকদার, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরদার ফরিদ আহমেদ, এনটিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক খাইরুল আনাম মুকুল প্রমুখ।

Monday, November 1, 2010

বাংলাদেশে চালু হলো ই-পেমেন্ট গেটওয়ে

বাংলাদেশে চালু হলো ই-পেমেন্ট গেটওয়ে

গেস্নাবালাইজেশন এর এই যুগে ইন্টারনেটের মাধ্যমে আজ আমরা পৃথিবী নামক গ্রহটিকে পরখ করতে পাচ্ছি একদম হাতের মুঠোয়। যোগাযোগ, শিক্ষা-সংস্কৃতি-বিনোদনের ক্ষেত্রে ঘটিয়েছে এক বৈপস্নবিক মহা-পরিবর্তন। বেড়েছে জানার সুযোগ, বলার সুযোগ, আয়ের সুযোগ। ইন্টারনেটকে ভাল উদ্দেশ্যে যথার্থভাবে কাজে লাগাতে পারলে এটিই হতে পারে আর একটি 'গার্মেন্টস শিল্প'- আরেকটি কারখনা- যার থেকে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি অনায়াসেই। যখন একটি নতুন পদ্ধতি কোন জনগোষ্ঠীর পরিবর্তন সাধিত করার স্বার্থে প্রয়োগ করা হয়, তখন এর সাফল্য নির্ভর করে এই জনগোষ্ঠীর ব্যাপক অংশগ্রহণে। আর ঐ পদ্ধতিটি ভেস্তে যায় যদি জনগোষ্ঠীর কোন প্রকার উপকারে আসে না বা পদ্ধতির দ্বারা তারা উপকারটি সহজে লাভ করতে পারে না। ইন্টারনেট প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষ এখন ই-কমার্স নামক যে পদ্ধতিতে সারা বিশ্বব্যাপী নিজস্ব পণ্য-দ্রব্য বেচা-কেনার সুযোগ পাচ্ছে সে পদ্ধতিটি যদি আমরা আমাদের দেশে সফলতার সাথে বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলে আমরাও পিছে পড়ে থাকব না এবং পিছে পড়ে থাকতে হবে না। কিন্তু তার জন্য অনেকগুলো কাজ করতে হবে যা এখনো আমাদের দেশে অনুপস্থিত। ই-কমার্সের মাধ্যমে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করতে উভয় পক্ষকেই তার মূল্য পরিশোধ/ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। আর এই প্রাপ্তি/পরিশোধ পদ্ধতিটি যে প্রক্রিয়ায় নিশ্চিত করতে হয় তার নামই হল ই-পেমেন্ট প্রসেসর পদ্ধতি। পেমেন্ট গেটওয়ের সাথে আমাদের দেশের ব্যাংক ব্যবস্থাও জড়িত। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের ব্যাংকগুলি বাইরের দেশের ই-চেক, মেইল চেক, মানি ট্রান্সফার, ব্যাংক ওয়্যারহাউজ ট্রান্সফার ইত্যাদি ব্যাপারগুলি নিয়ে কাজ করে না। যার ফলে অনলাইন মানি ট্রান্সফার সম্ভব হয় না।

ই-পেমেন্ট প্রসেসর/ গেটওয়ে'র সাথে পণ্য ক্রেতা, বিক্রেতা, ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড কোম্পানী, ব্যাংক কোম্পানী, ই-পেমেন্ট প্রসেসিং কোম্পানী ও সরকার জড়িত থাকে।

ই-পেমেন্ট একাউন্ট কি: জিমেইল, ইয়াহু, হটমেইল, ইত্যাদি ই-মেইল একাউন্ট এর মতই একটি একাউন্ট; যেখানে আপনার ব্যক্তিগত তথ্যাদি, ব্যাংক একাউন্টস, ক্রেডিক/ডেবিট/ভিসা বা মাষ্টার কার্ডের মতো ইন্টারন্যাশনাল একসেপ্টেড কার্ড সংক্রান্ত হিসাব জমা থাকবে। এবং আপনি এই একাউন্ট ব্যবহার করার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী টাকা ট্রান্সফার, ক্রয়-বিক্রয় ইত্যাদি লেনদেন সমুহ সম্পন্ন করতে পারবেন।

ই-পেমেন্ট একাউন্ট প্রসেসিং কোম্পানী: সমগ্র বিশ্বে সবচেয়ে বহুল প্রচলিত, কার্যকর ও একসেপ্টেড প্রতিষ্ঠান হল 'পেপাল'। এছাড়াও রয়েছে এলার্টপে, ই-গোল্ড সহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠান। আমাদের পাশর্্ববর্তী দেশ ভারতে পেপাল, এলার্টপে, ডিসকভারসহ বিভিন্ন ই-পেমেন্ট সিস্টেম বিদ্যমান রয়েছে অথচ আমাদের দেশেই এর ব্যবস্থা নেই। সমপ্রতি বাংলাদেশে প্রথমবারের মত ইলেকট্রনিক কমার্স (ই-কমার্স) ব্যাংকিং চালুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দ্রুত পরিবর্তনশীল তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে ই-কমার্স ব্যাংকিং চালু করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে চালু করার বিষয়টি সময়ের দাবী হলেও বাংলাদেশে অনেক দেরীতে চালু হলো শুধুমাত্র ই-কমার্স ব্যাংকিং সেবা। প্রাথমিক পর্যায়ে এর মাধ্যমে প্রথমবারের মত বাংলাদেশে অনলাইন লেনদেন কার্যক্রম চালু হলো। কিন্তু বিদেশ থেকে টাকা আনার পদ্ধতিতে জটিলতা এখনো বিদ্যমান। যদিও বাংলাদেশে অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা চালু করার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সকল লেনদেন এখন ঘরে বসেই করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে বিভিন্ন সেবা খাতের বিল পরিশোধ, শপিংমলে কেনাকাটাসহ সঞ্চয়ী হিসাব থেকে চলতি হিসেবে অর্থ স্থানান্তর করতে কারো বাইরে যাওয়ার দরকার হবে না। যদিও বর্তমানে বাংলাদেশে কয়েকটি ব্যাংক ছাড়া বাকী সব ব্যাংকের অনলাইন ব্যাংকিং শুরুর প্রস্তুতি নেই, যাদের প্রস্তুতি আছে তারাও গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের অভাবে সহসাই অনলাইন ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করতে পারছে না। বাংলাদেশে অনলাইন ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি সংশিস্নষ্ট বিশেষজ্ঞরা। কেননা, ইতোমধ্যেই সার্কুলার জারির মাধ্যমে ই-কমার্সের আওতায় সার্বিক লেনদেন সম্পন্ন করতে দেশের সকল তফসিল ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সার্কুলারে বলা হয়েছে, ই-কমার্স কার্যক্রমের সুবিধার জন্য এখন থেকে সব তফসিলি ব্যাংক গ্রাহকদের বিভিন্ন তথ্য ও সেবা প্রদান করবে। এর মধ্যে রয়েছে- অনলাইনে যেকোন গ্রাহক তার প্রাপক পক্ষের সেবা (গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, টেলিফোন, হাসপাতাল) বিল পরিশোধ করতে পারবেন। আশা করা যাচ্ছে, ই-কমার্স ভিত্তিক অনলাইন ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা ও পেপাল-এর অনুমোদন হলেই আউটসোর্সিং শিল্প হতে অর্থ আনায়নের কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম চালু হবে যাবে পুরোদমে।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ইন্টারনেটে পন্য কেনাবেচার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত একমাত্র ডাচবাংলা ব্যাংক লিমিটেড কার্যকারি পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হয়েছে। ব্যাংকটি চলতি বছরের ৩ জুন তিনটি মার্চেন্ট নিয়ে বাংলাদেশে প্রথম ই-কমার্স কার্যক্রম চালু করে। ই-কমার্স কার্যক্রম সম্পর্কে আমাদের সাথে কথা বলেছেন ব্যাংকটির ই-কমার্স প্রজেক্টের হেড অব বিজনেস মো. রবিউল আলম।

কাস্টমারগণ কিভাবে আপনাদের ব্যাংকের ই-কমার্স সেবা গ্রহন করবে?

আমাদের সাথে ডেসকো, চরকা ডট কম এবং একুশে ডট কম ডট বিডি প্রথম থেকেই ই-কমার্স মার্চেন্ট হিসেবে কাজ করছে। সমপ্রতি আরও চারটি প্রতিষ্ঠান আমাদের মার্চেন্ট হয়েছে। কাষ্টমারগণ সংশিস্নষ্ট মার্চেন্টদের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে তাদের পছন্দের পণ্য বা সেবা পছন্দ করবে। তারপর শিপিং এড্রেস, ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার, একাউন্ট হোল্ডারের নাম, সিভিসি নাম্বার এবং এক্সপায়ারি তারিখ প্রবেশ করাতে হবে। তবে ডাচ বাংলা ব্যাংকের নেক্সাস কার্ড ব্যাবহারকারীগণ সিভিসি কার্ডের বদলে কার্ডটির গোপন পিন নাম্বার দিবেন।

আপনাদের গেটওয়ে ব্যবহার করে কোন কোন ব্যাংকের একাউন্টহোল্ডারগণ পণ্য ক্রয় করতে পারবে?

বিশ্বের যেকোন স্থানের যেকোন ব্যাংকের ভিসা বা মাস্টার কার্ড এবং ডাচ বাংলা ব্যাংকের নেক্সাস কার্ড ব্যবহার করে আমাদের গেটওয়ে ব্যবহার করা যাবে এবং কেনাকাটা করা যাবে। এখানে মজার ব্যাপার হচ্ছে যেকোন ব্যক্তি খুব সহজেই অন্যদেশে বসেও তার ঢাকার বন্ধু বা আত্মীয়কে পছন্দের পণ্য বা সেবা কিনে দিতে পারবে।

ই-কমার্সে আগ্রহীগণ কীভাবে আপনাদের অনুমোদিত মার্চেন্ট হতে পারবে?

ই-কমার্স মার্চেন্ট হতে চাইলে তার কয়েকটি বিষয়ে আমরা নজর দিয়ে থাকি। সেগুলো হচ্ছে- আগ্রহী প্রার্থীর একটি কোম্পানির প্রোফাইল আমাদের কাছে জমা দিতে হবে। কোম্পানির তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রার্থীর অফিস ভিজিট করা হয়। কোম্পানির নামে ডিবিবিএল একাউন্ট থাকতে হবে। কোম্পানির একটি ওয়েব পোর্টাল, ডেডিকেটেড সার্ভার এবং স্ট্যাটিক আইপি প্রয়োজন হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আমাদের সাথে একটি চুক্তি করতে হবে।

০০ মাহফুজুর রহমান মুকুল

সাক্ষাৎকার

অনলাইনে বা ইন্টারনেটে অর্থ লেনদেন বর্তমানে উন্নত দেশগুলোতে একটি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। ঘরের চাল-ডাল থেকে শুরু করে সবকিছুই ঘরে বসে অনলাইনে অর্ডার দিয়ে পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশে এই দৃশ্যটি খুব সামান্য কিছু মানুষের কাছে পরিচিত হলেও অধিকাংশ মানুষই ই-কমার্সের সাথে কিংবা অনলাইন পেমেন্টের সাথে পরিচিত নয়। অনলাইনে লেনদেন মূলত দুই প্রকারের বলা যায়। একটি হচ্ছে স্থানীয় বা অভ্যন্তরীন এবং অন্যটি হচ্ছে আন্তর্জাতিক। এবছরের শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশে স্থানীয় অনলাইন লেনদেন এর অনুমতি প্রদান করলেও এখনো পর্যন্ত এর বাস্তব প্রয়োগ খুব একটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বাংলাদেশের অনলাইন লেনদেন এবং ই-কমার্সের সম্ভাবনা ও বাস্তবতা নিয়ে দৈনিক ইত্তেফাকের সাথে কথা বলেছেন শীর্ষস্থানীয় আইএসপি প্রতিষ্ঠান বিডিকম অনলাইন লিমিটেডের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক সুমন আহমেদ সাবির।

এই মুহুর্তে আমাদের দেশে অনলাইনে লেনদেনের বাস্তবতা কি?

অনলাইনে বা ইন্টারনেটে লেনদেনের এই বিষয়টি ১০ বছরের পুরনো একটি ধারণা। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যেই আমাদের দেশে অনলাইনে লেনদেনের অনুমতি দিলেও শুধুমাত্র ডাচবাংলা ব্যাংক ছাড়া তেমন কাউকে ফলপ্রসু কোন কার্যক্রম এখনো নিতে দেখা যায়নি। তবে আরও কয়েকটি ব্যাংক ইতোমধ্যে অনলাইনে লেনদেনের বিষয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে।

অনলাইন পেমেন্ট কার্যক্রম চালু হলে কী ধরনের সুযোগ সুবিধা পাওয়া যেতে পারে?

অনলাইনে লেনদেন চালু হলে নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিনোদন পণ্য ঘরে বসেই সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। বাস,ট্রেন, পেস্নন, স্টিমারের টিকেট কাটার ক্ষেত্রে অনেক ক্ষেত্রেই ভোগান্তি পোহাতে হয় যাত্রীদের। অনলাইনে লেনদেনের সুযোগ থাকলে বিভিন্ন টিকেট কাটার কাজগুলো খুব সহজ হয়ে যাবে।

ই-কমার্স চালু হলে পণ্যে ক্রেতারা কতখানি স্বচ্ছ সেবা পাবে বলে মনে করছেন?

সমাজের অপেক্ষাকৃত ধনী শ্রেনীর মানুষই ই-কমার্সের মাধ্যমে পণ্য বা সেবা ক্রয় করবে যারা খুবই সচেতন। অন্যদিকে যারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করবে তারা নিজেদের ব্যবসার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই ভালো সেবা দিতে বাধ্য থাকবে। কারণ, ভালো সেবা দিতে না পারলে কখনোই একজন ক্রেতা দ্বিতীয়বার তার সেবা নিতে আসবে না। তবে, বর্তমানে উন্নত দেশ গুলোতে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে প্রতারণা বন্ধের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। ই-কমার্সকে নিরাপদ রাখার স্বার্থে এই প্রযুক্তি বাংলাদেশে নিয়ে আসতে হবে।

পেপাল উন্মুক্ত করে দিলে আমাদের দেশের মানুষের কী ধরনের সুযোগ সুবিধা পাবে?

আমাদের দেশে পেপাল চালু হলে আন্তর্জাতিক লেনদেনগুলো অনেক সহজতর হবে। বর্তমানে দেশে পেপাল চালু না থাকায় তরুণ প্রজন্মের সুযোগগুলো মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে। ইন্টারনেটে অনেক ফ্রিল্যান্সিং কাজ আছে যেখানে পেপাল একাউন্ট না থাকলে অর্থ উত্তোলন করা যায় না। পেপাল চালু হলে সেসব কাজ করে আমাদের তরুণ প্রজন্ম প্রচুর বৈদেশিক অর্থ উপার্জন করতে পারবে।

অনলাইনে লেনদেন চালু এবং ই-কমার্স বাস্তবায়নে আমাদের দেশের ব্যাংকগুলোর কী ধরনের ভূমিকা পালন করা উচিত?

যেহেতু সরকার অনুমতি দিয়ে দিয়েছে, সেহেতু ব্যাংকগুলো নিজেদের স্বার্থেই ই-কমার্স চালু করা উচিত। কারণ যারা ই-কমার্স আগে চালু করবে তারাই এই জগতে অগ্রপথিক হয়ে থাকবে।

এই মুহুর্তে কোন বিষয়গুলো অনলাইনে লেনদেন চালুর পথে অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে?

এই মুহুর্তে তেমন কোন অন্তরায় আছে বলে আমি মনে করি না। এখন শুধুই প্রয়োগ করার ব্যাপার। এতদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ কনটেন্ট ছিল না। আশা করছি আগামী এক বছরের মধ্যেই আমাদের দেশে ই-কমার্সের ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ্য করতে পারব।

একজন ফ্রিল্যান্সারের দৃষ্টিতে অনলাইন লেনদেন

দেশের অভ্যন্তরে অনলাইন লেনদেনে বাস্তবিক পক্ষে এখন আর তেমন কোন সমস্যা নেই। তা যেমন আইটি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তেমনি ব্যাংক কতর্ৃপক্ষও ভাবছেন। শুধুমাত্র কনটেন্টের অভাব, মানসিকতার অভাব, সাহসী উদ্যোক্তার অভাব এবং মানুষের কাছে প্রচারনার অভাবে স্থানীয় বাজারে ই-কমার্সের প্রসার এখনো ঘটেনি বলেই ধরা যায়। তবে, দেশের অভ্যন্তরীন অনলাইন লেনদেন সন্তুষ্ট করতে পারেনি অনেক ফ্রিল্যান্সারকেই। তারা এখন পেপাল এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অর্থ লেনদেনকারী গেটওয়ে চালু হওয়ার প্রত্যাশা করছেন। আমরা কথা বলেছি রাকিবুর রহমান নামে এমনই একজন ফ্রিল্যান্সারের সাথে যিনি দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং কাজ করে অর্থ উত্তোলনে ঝামেলায় পড়েছেন।

একজন ফ্রিল্যান্সার কোন কোন মাধ্যম ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন করতে হয়?

ফ্রিল্যান্সারগণ অর্থ লেনদেনের জন্য ক্রেডিটকার্ড, পেপাল, মানিবুকার্স, এলার্টপে, লিবার্টি রিভার্স, ব্যাংক ট্রান্সফার, গুগল চেকআউট কিংবা বিভিন্ন সাইট থেকে প্রদত্ত পেঅনার ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে থাকেন। তবে এর মধ্যে পেপাল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।

এই মুহুর্তে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারগণ কিভাবে অর্থ লেনদেন করে থাকে?

বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারগণ অর্থ লেনদেনের মধ্যে অর্থ গ্রহণটাই বেশি করে থাকেন। এর জন্য তারা পেপাল, মানিবুকার্স, এলার্টপে অথবা বিভিন্ন সাইট থেকে প্রদত্ত পেঅনার ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে থাকেন। যদিও পেপাল বাংলাদেশে অনুমদিত নয়। কিছু কিছু ফ্রিল্যান্সারগণ বিভিন্ন উপায়ে পেপাল ব্যবহার করে থাকেন। কেউ কেউ অন্যের ভেরিফাইড পেপাল একাউন্ট ব্যবহার করেও অর্থ গ্রহণ করে থাকেন। আবার বাংলাদেশে বসেও কেউ কেউ অন্য দেশের এড্রেস ব্যবহার করে পেপাল একাউন্ট তৈরী করে থাকেন। তবে এই ক্ষেত্রে একাউন্টটি ভেরিফাইড করা সম্ভব হয় না। এ ধরনের একাউন্ট দিয়ে ফরেন কারেন্সি শুধু মাত্র পেপালে গ্রহণ করা যায়। পরে পরিচিত কারো ভেরিফাইড একাউন্টে সেই ফরেন কারেন্সি ট্রান্সফার করে বাংলাদেশি টাকা গ্রহণ করতে হয়। এত কিছুর মধ্যে বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে মানিবুকার্স ব্যবহার করা অনেকটা সহজ। এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশি যেকোন ব্যাংকে টাকা ট্রান্সফার করা যায়। আস্তে আস্তে বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

অর্থ লেনদেন করতে কী ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে?

মানিবুকার্সের মাধ্যমে বাংলাদেশে অর্থ আনা সহজ হলেও বেশিরভাগ ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলো কিংবা বায়াররা মানিবুকার্সের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করতে চান না। অনেক ক্ষেত্রে একমাত্র পেপালেই অর্থ লেনদেন করতে হয়। এ জন্য তখন বাধ্য হয়ে কাজগুলো ছেড়ে দিতে হয় অথবা অন্যের পেপালের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করতে হয়। আর সেক্ষেত্রে ডলার প্রতি ৬০ টাকা থেকে ৬৫ টাকার বেশি পাওয়া যায় না। কখনও কখনও ২০% থেকে ২৫% পর্যন্ত পেপাল ইউজারকে দিয়ে অর্থ গ্রহণ করতে হয়। আবার সবার ক্ষেত্রে এরকম পরিচিত পেপাল ভেরিফাইড ইউজার ম্যানেজ করাও সম্ভব হয় না।

অন্যদিকে কোন কোন ফ্রিল্যান্সার তাদের প্রয়োজনে দেশের বাইরে থেকে বিভিন্ন সফটওয়্যার কিংবা সার্ভিস নিয় থাকেন। আর তার জন্য মাস্টার কার্ড কিংবা ভিসা কার্ড অথবা পেপালের প্রয়োজন হয়। আমাদের দেশের ব্যাংকগুলো থেকে যে সকল ক্রেডিটকার্ড প্রদান করা হয় সেগুলো দেশের বাইরে ব্যবহার করা যায়না। কিছু কিছু ব্যাংক ডুয়াল কারেন্সি কার্ড দিলেও সেসব কার্ড দিয়ে অনলাইনে পেমেন্ট করা যায় না, শুধুমাত্র বিদেশে কেনাকাটা, হোটেল কিংবা বিমান ভাড়া দেওয়া যায়। অন্য কোন কাজে লাগানো যায় না। যদিও এখন কিছু কিছু ব্যাংক অনলাইনে পেমেন্ট করার জন্য বিভিন্ন শর্ত আরোপে ক্রেডিটকার্ডের সুবিধা দিচ্ছে কিন্তু সেসব কার্ড পাওয়ার জন্য যেসকল নিয়মকানুন এবং শর্ত থাকে তা প্রায় বেশিরভাগ ফ্রিল্যান্সারদের পক্ষেই মেটানো সম্ভব হয়ে উঠে না। তাই এক্ষেত্রেও অন্যের ভেরিফাইড পেপাল একাউন্ট ব্যবহার করতে হয়। এর জন্য ডলার প্রতি ৭৫ টাকা থেকে ৮০ টাকা গুনতে হয়। 
Source: Daily Ittefaq

Thursday, September 30, 2010

পৃথিবী বদলে দেবে আমাদের সালমান!

পৃথিবী বদলে দেবে আমাদের সালমান!পৃথিবী বদলে দিতে পারে_এমন সব 'আইডিয়া' জনসমক্ষে তুলে আনার জন্য গুগল ২০০৮ সালে তাদের দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে 'প্রজেক্ট টেন টু দ্য হানড্রেড' পুরস্কার ঘোষণা করে। ১০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এ পুরস্কার জেতার জন্য এক লাখ ৫৪ হাজার 'আইডিয়া' জমা পড়ে। দুই বছর যাচাই-বাছাই শেষে সেরা পাঁচ আইডিয়ার মধ্যে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের অধিবাসী সালমান খানের বিনা মূল্যে অনলাইন ভিডিও টিউটরিয়াল 'খান একাডেমী'। জিতে নিয়েছেন ১৪ কোটি টাকার সমমানের পুরস্কার। বিস্তারিত জানাচ্ছেন হাজ্জাজ-বিন-ইউসুফ ও আল-আমিন কবির শখের বসে বা প্রয়োজনের তাগিদেই হাজারটা 'আইডিয়া' ঘুরপাক খায় মানুষের মাথায়। এর মধ্যে এমন অনেক আইডিয়া আছে, যা বাস্তবায়ন করতে পারলে বদলে যাবে গোটা পৃথিবীই। এ রকম পরিকল্পনাগুলোকে জনসমক্ষে আনার জন্য 'প্রজেক্ট টেন টু দ্য হানড্রেড' (www.project10tothe100.com) নামে ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠানটির দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর ১৭০টির বেশি দেশ থেকে পৃথিবী বদলে দিতে পারে এমন দাবি নিয়ে এক লাখ ৫৪ হাজার অ্যাপ্লিকেশন জমা পড়ে। দীর্ঘ দুই বছর যাচাই-বাছাই শেষে এ বিপুলসংখ্যক আইডিয়া থেকে চূড়ান্তভাবে ১৬টি পরিকল্পনা নির্বাচন এবং তার তালিকা প্রকাশ করে গুগল। এরপর চূড়ান্তভাবে এ প্রকল্পগুলোর মধ্যে মাত্র পাঁচটি প্রকল্পকে চূড়ান্ত বিজয়ী আইডিয়া হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। এসব নির্বাচিত আইডিয়াকে আরো বিস্তৃত করার জন্য প্রতিটি প্রকল্পকে বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আর পরিকল্পনাকারীদের সম্মাননা দেওয়া হয়েছে পৃথিবী বদলে দেওয়ার 'আইডিয়া গুরু' হিসেবে।

সেরা পাঁচ 'আইডিয়া'
সেরা পাঁচ আইডিয়া'র মধ্যে শিক্ষা বিভাগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছে সালমান খানের 'খান একাডেমী'র (www.khanacademy.org) বিনা মূল্যে শিক্ষামূলক অনলাইন ভিডিও টিউটরিয়াল। এ প্রকল্প আরো এগিয়ে নিতে খান একাডেমীকে ২০ লাখ ডলার বা ১৪ কোটি টাকা পুরস্কার দিয়েছে গুগল। যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান ও গণিত প্রতিযোগিতা দলকে (www.usfirst.org) 'রিয়েল ওয়ার্ল্ড ওয়ার্কিং এক্সপেরিয়েন্স' ধারণা দেওয়ার জন্য ৩০ লাখ ডলার দেওয়া হয়েছে। সরকারের সব কাজকে একেবারেই স্বচ্ছ করার জন্য http://public.resource.org ধারণাকেও দেওয়া হয়েছে ২০ লাখ ডলার পুরস্কার। গাড়ি চালানোতে নতুন প্রযুক্তির 'আইডিয়া' দেওয়ার জন্য http://shweeb.com প্রকল্পকে দেওয়া হয়েছে ১০ লাখ ডলার। আর আফ্রিকান শিক্ষার্থীদের গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষা দিতে নতুন ধরনের আইডিয়া দেওয়ার জন্য ২০ লাখ ডলার পুরস্কার পেয়েছে এইমস নামের( www.aims.ac.ya) একটি প্রকল্প।
একজন সালমান খান
সালমানের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার নিউ অর্লিয়ন্স শহরে। তাঁর দাদাবাড়ি বাংলাদেশের বরিশালে। অনেক আগেই সালমানের বাবা অভিবাসী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। যুক্তরাষ্ট্রেই বেড়ে ওঠেন সালমান। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব আইটি (এমআইটি) থেকে গণিত, তড়িৎ কৌশল ও কম্পিউটার বিজ্ঞান_এ তিন বিষয়েই স্নাতক করেন তিনি। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তড়িৎ কৌশলে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এখানেই থেমে থাকেনি তাঁর শিক্ষাজীবন। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলে ব্যবসায় প্রশাসন থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন এ মেধাবী।
তাঁর অনলাইন অঙ্ক শেখার টিউটরিয়াল সাইট www.khanacademy.org ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করলেও ২০০৯ সালের শেষ দিক থেকে তিনি এতে পরিপূর্ণ সময় দিতে শুরু করেন। এ পর্যন্ত খান একাডেমীর ইউটিউব চ্যানেল থেকে ভিডিও টিউটরিয়াল দেখা হয়েছে আড়াই কোটিরও বেশি বার! আর এ ইউটিউব চ্যানেলটির স্থায়ী দর্শকসংখ্যা ৭৫ হাজারের বেশি!

খান একাডেমীর বেড়ে ওঠা
২০০৪ সালের শেষ দিকে চাচাতো বোন নাদিয়াকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে দূর থেকেই ইয়াহু ডুডল নোটপ্যাডের মাধ্যমে অঙ্ক শেখাতে শুরু করেন সালমান খান। অল্প অল্প করে তাঁর এ উদ্যোগে 'ফেল্টুশ' চাচাতো বোনটি একসময় অঙ্ক পরীক্ষায় দারুণ ফল করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিল। এ ঘটনার পর অন্য আত্মীয়স্বজনও তাঁদের সন্তানদের অঙ্ক শেখানোর দায়িত্ব দিলেন সালমানের ওপর। হায়! এত শিক্ষার্থীকে অঙ্ক শেখানোর সময় তিনি কিভাবে পাবেন? এ সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি ভাবতে শুরু করলেন। পেয়েও গেলেন 'আইডিয়া'।
২০০৬ সালের ১৬ নভেম্বরে কম্পিউটারে অঙ্কের ওপর কয়েকটি ভিডিও টিউটরিয়াল তৈরি করে সেগুলো ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউবে আপলোড করে দিলেন তিনি। ভিডিও দেখেই তাঁর শিক্ষার্থীরা অঙ্ক শিখতে লাগল। ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার পর পরিকল্পনাটি আরো বিস্তৃত করলেন তিনি। শুধু নিকটাত্মীয় নয়, পৃথিবীর সব শ্রেণীর শিক্ষার্থী যাতে এ ভিডিও দেখে অঙ্ক শিখতে পারে সে উদ্যোগ নিলেন। কাজের ফাঁকে বিভিন্ন 'লেসন'-এর ভিডিও টিউটরিয়াল তৈরি করতে লাগলেন। দিন দিন বাড়তে থাকল তাঁর ভিডিও টিউটরিয়ালের জনপ্রিয়তা। প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শক তাঁর ভিডিওগুলো দেখতে শুরু করলেন। ব্যাপক চাহিদার ভিত্তিতে ২০০৯ সালের শেষ দিকে ছেড়ে দিলেন চাকরি। এরপর দিনের সম্পূর্ণ সময় তিনি ভিডিও টিউটরিয়াল তৈরির কাজে মন দিলেন।

টিউটরিয়াল কথা
সালমানের তৈরি অনলাইন টিউটরিয়াল প্রতিষ্ঠানে (www.khanacademy.org) বর্তমানে এক হাজার ৮০০-র বেশি ভিডিও টিউটরিয়াল রয়েছে। সাইটটিতে ভিডিওগুলোর মধ্যে রয়েছে বীজগণিত, পাটিগণিত, ব্যাংকিং ও অর্থ, জীববিদ্যা, ব্রেইন টিজার, ক্যালকুলাস, রসায়ন, ক্রেডিট ক্রাইসিস, অর্থনীতি, ডেভেলপমেন্ট ম্যাথ, ডিফারেনশিয়াল ইকুয়েশন, ফিনান্স, গিথনার প্ল্যান, জিওমেট্রি, ইতিহাস, লিনিয়ার অ্যালজেবরা, অরগানিক রসায়ন, পলসন বেলআউট, ফিজিকস, প্রি-অ্যালজেবরা, প্রি-ক্যালকুলাস, প্রোবাবলিটি, পরিসংখ্যান, ট্রিগনোমেট্রি, ভ্যালুয়েশন ও ইনভেস্টিং, ভেনচার ক্যাপিটাল ও শেয়ারবাজারসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর সব ধরনের টিউটরিয়াল। ভিডিও টিউটরিয়ালগুলো গুগলের ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউবে আপলোড করে রাখা। আর প্রতিষ্ঠানটির মূল সাইটে পাওয়া যাবে টিউটরিয়ালগুলোর ভিডিও লিংক। খান একাডেমীর সব ভিডিও টিউটরিয়াল পাওয়া যাবে www.youtube.com/user/khanacademy চ্যানেলে। নিজের তৈরি টিউটরিয়ালগুলো সম্পর্কে টিভি চ্যানেল সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সালমান খান বলেন, যে উদ্যোগটি আমি গ্রহণ করেছি সেটি বিশ্বব্যাপী সব শ্রেণীর শিক্ষার্থীর জন্য ছড়িয়ে দিতে চাই। আমি নিজে যতটুকু করেছি সেটি এ প্রকল্পের ছোট্ট একটি দিক। আমার এ প্রকল্পের মাধ্যমে কোটি কোটি শিক্ষার্থী যেমন শিখতে পারবে, তেমনি কোটি কোটি মানুষ এর সঙ্গে সহজে যুক্তও হতে পারবে।

মুক্ত ভিডিও
খান একাডেমী সারা বিশ্বের শিক্ষার্থীদের জন্য অতি প্রয়োজনীয় একটি প্রকল্প। এ প্রকল্প ঘিরে বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও অফুরন্ত। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তাঁর ভিডিও টিউটরিয়ালগুলো বাণিজ্যিকীকরণ করার জন্য। কিন্তু সেসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন সালমান খান। তাঁর সব ভিডিও টিউটরিয়াল তিনি মুক্ত (ওপেনসোর্স) করে দিয়েছেন। বাণিজ্যিকীকরণ করলে টিউটরিয়ালগুলো থেকে তিনি লাখ লাখ ডলার আয় করতে পারতেন জেনেও তা তিনি সহজেই প্রত্যাখ্যান করেছেন! তাঁর ভিডিও টিউটরিয়ালগুলো ওপেনসোর্স লাইসেন্সের অধীনে থাকায় যে কেউ এগুলো অনলাইন থেকে ডাউনলোড, অন্যকে বিতরণ, অনুবাদ প্রকল্প এবং এগুলো বর্ধিত করতে পারবেন। ইতিমধ্যে কয়েকটি দেশে এ ভিডিও টিউটরিয়ালগুলো আঞ্চলিকীকরণ বা সে দেশের নিজস্ব ভাষায় অনুবাদকরণ শুরু হয়ে গেছে।

বিল গেটসের প্রিয় শিক্ষক!
বিল গেটসের পরিচয় নিশ্চয়ই কাউকে নতুন করে দিতে হবে না। বিশ্ব তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের উল্লেখযোগ্য এ ব্যক্তির সবচেয়ে প্রিয় শিক্ষকের নাম কী? এমন প্রশ্নের জবাবে বিল গেটস বলেছেন সালমান খানের নাম! এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বিল গেটস বলেন, "সালমান খান যে কাজটি করেছেন সেটি সত্যিই 'অ্যামেজিং'! কঠিন কঠিন বিষয়কে তিনি খুব সহজেই তুলে এনেছেন।" বিল গেটস ও তাঁর ১১ বছরের সন্তান এখন নিয়মিত খান একাডেমী থেকে অনলাইনে বীজগণিত ও জীববিদ্যার বিভিন্ন বিষয় শিখছেন। এটি তাঁদের বীজগণিত ও জীববিদ্যা শিখতে অনেক সহযোগিতা করছে। বিল গেটসের ভাষায়, 'সালমান খান যে কাজটি করেছেন সেটি সত্যিই অবিশ্বাস্য!'

অনুবাদ করা যেতে পারে টিউটরিয়াল
আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের গণিতে অনেক ভয়। তাদের জন্য টিউটরিয়ালগুলো অনুবাদ বা আঞ্চলিকীকরণ করা যেতে পারে। তাহলে তাদের অঙ্কভীতি দূর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভিডিও টিউটরিয়ালগুলো ওপেনসোর্স-ভিত্তিক হওয়ায় যেকোনো ভাষায় এটি অনুবাদ করে নিতে আইনগত কোনো বাধা নেই। টিউটরিয়ালগুলো সহজবোধ্য করার উদ্যোগ নিলে আমাদের শিক্ষার্থীরাও হতে পারবে বিল গেটসের সহপাঠী।

Tuesday, September 28, 2010

আপনিও শুরু করুন ই-কমার্স

আপনিও শুরু করুন ই-কমার্স রিপন রায়হান গত জুন থেকে আমাদের দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে অনলাইন পণ্য কেনাকাটা সুবিধা বা ই-কমার্স চালু হয়েছে। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের গেটওয়ের মাধ্যমে বর্তমানে ক্রেতারা অনলাইনে পণ্য কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘরে বসেই পেয়ে যাচ্ছেন যেকোনো পণ্য। পণ্য কেনার পাশাপাশি যে কেউ ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিজের পণ্য বিক্রিও করতে পারেন। আইনগতভাবে বৈধ হওয়ার পরও জনসচেতনতা আর উদ্যোগ না থাকায় এটি তেমন জনপ্রিয় হচ্ছে না। তবে এ ব্যবসা যে আমাদের দেশে শিগগিরই জনপ্রিয় হবে এমনটি স্বীকার করেন সবাই। ই-কমার্স ব্যবসার শুরুতেই তাই যোগ দিতে পারেন ই-কমার্স ব্যবসায়ীর দলে।ই-কমার্সে পণ্য বিক্রির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইন-নির্ভর, তাই এটি শুরুর প্রথম পদক্ষেপই হলো নজরকাড়া এবং নিরাপদ একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা। ওয়েবসাইটের ডোমেইন নাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে ছোট এবং সহজে মনে রাখা যায় এমন নাম নির্বাচন করা উচিত। 'ওয়েবসাইট যেন দ্রুত খোলা যায় এ জন্য উন্নতমানের হোস্টিং বেছে নেওয়া উচিত। উন্নতমানের হোস্টিংয়ে সাইট দ্রুত খোলে। হোস্টিং নির্বাচনের ক্ষেত্রে ডেডিকেটেড বা ভিপিএস সার্ভার নির্বাচন করতে হবে। কারণ শেয়ারড হোস্টিং ই-কমার্সের জন্য একেবারেই নিরাপদ নয়। আর সাইটটি থেকে যাতে খুব সহজেই ব্যবহারকারীরা পণ্য কিনতে পারেন এমনভাবে ডিজাইন করা উচিত।' জানান বিডিওয়েবমল্যুশনসের প্রধান নির্বাহী এস এম মেহেদী হাসান। তিনি আরো জানান, বিভিন্ন স্ক্রিপ্টে ই-কমার্স সাইট তৈরি করা যায়। ই-কমার্স সাইট ডেভেলপ করতে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। তবে এসএসএল সার্টিফিকেট ও ভেরিসাইন কমোডো সাইটের নিরাপত্তা প্রত্যয়নপত্র কিনতে অতিরিক্ত টাকা পরিশোধ করতে হয়। যাঁরা কম টাকার মধ্যে ই-কমার্স সাইট তৈরি করতে চান তাঁরা বিনা মূল্যে ম্যাজেন্টা কমার্স স্ক্রিপ্ট ব্যবহার করতে পারেন। এটি একটি ডিফল্ট ওয়েব স্ক্রিপ্ট, যেটি থেকে বিনা মূল্যে কোড নিয়ে সার্ভারে আপলোড করে দিলেই ই-কমার্স সাইট তৈরি হয়ে যায়। ই-কমার্স সাইট তৈরি করতে এটি অনেক জনপ্রিয় একটি স্ক্রিপ্ট আর এর নিরাপত্তায়ও তেমন কোনো ত্রুটি নেই। জনপ্রিয় পেমেন্ট সিস্টেমগুলো এতে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই (ডিফল্ট) দেওয়া থাকে। গুগল চেকআউট, পেপাল, মাস্টার কার্ডসহ অন্যান্য পেমেন্ট ব্যবস্থা রয়েছে এতে।
সাইট ডেভেলপের কাজ শেষ হওয়ার পর অনলাইনে ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্থ পাওয়ার জন্য ব্যাংকের সঙ্গে অনলাইন পেমেন্ট চুক্তি সম্পাদন করতে হয় বলে জানালেন আঁকা টেকনোলজিসের প্রধান নির্বাহী সোহেল ইকবাল। বাংলাদেশে একমাত্র ডাচ্-বাংলা ব্যাংক অনলাইন পেমেন্ট সুবিধা দিচ্ছে। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মার্চেন্ট হওয়ার পর ব্যাংকের সরবরাহ করা এপিআই সাইটে বসাতে হবে। 'এপিআই বসানোর কাজ সাইটটির ডেভেলপাররাই সাধারণত করে দেন'_বলেন সোহেল ইকবাল। এ ছাড়া ব্যাংকের আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড সংগ্রহ করেও অনলাইনে পেমেন্ট গ্রহণ করা যায়। সে ক্ষেত্রে যে ব্যাংক থেকে ক্রেডিট কার্ড সংগ্রহ করতে চান সে ব্যাংকে যোগাযোগ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কিছু কাগজপত্র ও পাসপোর্ট জমা দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড সংগ্রহ করা যায়। অনলাইন অর্থ লেনদেন প্রতিষ্ঠান পেপালের মাধ্যমেও অনেকেই পণ্য বিক্রি করে থাকেন। আমাদের দেশে পেপালের সমর্থন না থাকায় আপাতত এ সুবিধা ব্যবহার করা যায় না।

Thursday, July 15, 2010

গণতন্ত্র উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তি

গণতন্ত্র উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তি

বর্তমান সময়ে আলোচনার একটি অন্যতম বিষয়বস্তু হচ্ছে গণতন্ত্র এবং রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত উন্নয়ন। বর্তমান সরকার বেশকিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে। গণতন্ত্র উন্নয়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ এবং কীভাবে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্বচ্ছতা নিয়ে আসা যায় তা নিয়ে বর্তমান সরকার, জনগণ ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো আলাপ-আলোচনা করছে। আজকের প্রবন্ধ গণতন্ত্র উন্নয়নে অন্যান্য দেশ কীভাবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছে এবং কীভাবে আমাদের দেশেও ভূমিকা পালন করতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করা হলো। লিখেছেন ড. মশিউর রহমান

গণতন্ত্র উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তি
প্রথমত রাষ্ট্র, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, নির্বাচন ইত্যাদি সংক্রান্ত তথ্য জনগণের কাছে দ্রুত পৌঁছানোর জন্য গণতন্ত্র উন্নয়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ভূমিকা পালন করতে পারে।
দ্বিতীয়ত সহজে ও দ্রুততার সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাপারে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে এবং জনগণের মতামত সংগ্রহ করতে আইসিটি ভূমিকা রাখতে পারে।
রাজনীতির ক্ষেত্রে
রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোও তথ্যপ্রযুক্তিকে ব্যবহার করতে পারে তাদের সাংগঠনিক অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এবং জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে। রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ওয়েবসাইটে তাদের কর্মসূচিগুলো তুলে ধরতে পারেন। এছাড়া তাদের ব্যাপারে জনগণের মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি জানার জন্য ওয়েবসাইটগুলোর ফোরাম, মতামত, পুল ব্যবহার করা যেতে পারে। জনগণের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি জানার জন্য বর্তমানে আমরা নির্ভর করছি মিডিয়ার ওপর। সাংবাদিক ও লেখকরা যা লিখছেন, তা-ই যে জনগণের মতামত তাও কিন্তু নয়। কেননা এই মাধ্যমগুলোর কোনো কোনোটি আবার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির দ্বারা চালিত হয়ে থাকে। জনগণ সত্যিকারভাবে কী ভাবছে তা জানার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি বিভিন্নভাবে ভূমিকা রাখতে পারে।
বিগত আমেরিকার নির্বাচন নিয়ে সারাবিশ্বে খুব হৈচৈ হয়েছে এবং এক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। প্রার্থীরা নিয়মিত অনলাইনে তাদের ব্লগ লিখেছেন এবং সেখানে জনগণ সরাসরি তাদের মন্তব্য প্রার্থীদের জানিয়েছেন। এভাবে রাজনীতিকরা বুঝতে পারছেন জনগণের আকাঙ্ক্ষা। এছাড়া প্রার্থীরা তাদের ভিডিওগুলো ইউটিউব গুগল ভিডিওর মাধ্যমে অনলাইনে প্রচার করছেন। আমেরিকায় নির্বাচনের সব প্রার্থীরই ছিল খরহশবফরহ, Myspace, Facebook-এর মতো সোশ্যাল সাইটগুলোতে নিজস্ব ওয়েবসাইট। এই সাইটগুলো তাদের প্রচারণার জন্য খুবই সাহায্য করছে। এছাড়া জনগণের মতামত প্রার্থীরা জানতে পারছেন এই সাইটগুলোর মাধ্যমে। বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য তাদের আয়-ব্যয়, সংগৃহীত অর্থ সংক্রান্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য ওয়েবসাইটেই প্রকাশ করছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা একইভাবে ইন্টারনেটের এই টুলসগুলো ব্যবহার করে জনগণের সঙ্গে আরও সম্পৃক্ত হতে পারেন এবং তাদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারেন।
বারাক ওবামার ফেসবুক সাইট
বাংলাদেশেও গণতন্ত্র উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তিকে ব্যবহার করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে যা কিছুটা আশাব্যঞ্জক। উদাহরণস্বরূপ প্রথমেই বলতে হয় সুজনের পদক্ষেপের কথা। জাতীয় ও আঞ্চলিক ভোটগুলোতে যেসব প্রার্থী ভোটপ্রার্থী হবেন, তাদের তথ্যগুলো জনগণের কাছে পৌঁছানোর জন্য সুজন votebd.org ওয়েবসাইটটি তৈরি করেছিল। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে খুব সহজেই জনগণের কাছে তথ্য পৌঁছানো সম্ভব। এছাড়া সুজন ভোটের প্রার্থীদের সম্পর্কে জাতীয় সংবাদপত্রগুলোতে প্রকাশিত সংবাদ আর্কাইভগুলো দিয়েছিল। আমরা যেহেতু একটু ভুলোমনা, তাই আমাদের জন্য এই আর্কাইভগুলো সাহায্য করেছিল বৈকি! এছাড়া নির্বাচন কমিশনও প্রার্থীদের হলফনামার তথ্য তাদের ওয়েবসাইটে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিল।
তথ্যপ্রযুক্তি আমাদের আগামী বিশ্বের গণতন্ত্রকে অনেকখানিই বদলে দেবে। এমন একদিন আসবে যখন আর মানুষকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হবে না। ইতোমধ্যেই ইন্টারনেট বা অনলাইন ভোট, এসএমএস ভোট বিভিন্ন সংগঠনের নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। উদাহরণস্বরূপ ORCA নামে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের সাবেক ছাত্রদের সংগঠন তাদের সাংগঠনিক নির্বাচনে অনলাইন ভোট ব্যবহার করে। কিছুদিন আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমরা ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোট দিতে দেখেছি। আগামীতে এই প্রযুক্তিগুলো আমাদের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে ভূমিকা রাখতে পারে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে এখন সরাসরি জনগণের পরিবর্তে জনগণের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু ভবিষ্যতে জনগণই সরাসরি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে মতামত রাখতে পারবে।