Showing posts with label FASHION TECH. NEWS. Show all posts
Showing posts with label FASHION TECH. NEWS. Show all posts

Sunday, December 5, 2010

বিলিয়ন ডলার পাদুকা রপ্তানী শিল্প খুব দূরে নয়

বিলিয়ন ডলার পাদুকা রপ্তানী শিল্প খুব দূরে নয়

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ : বিশেস্নষক

চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর এই পাঁচ মাসে ১১ কোটি ৮৮ লাখ ডলারের পাদুকা রপ্তানী হয়েছে বাংলাদেশ থেকে সারা দুনিয়ায়। আগের অর্থবছরের এই সময়ের তুলনায় শতকার ৪৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে পাুদকা রপ্তানী আয়ে। এ ধারা চলতে থাকলে অর্থবছর শেষে আয় দাড়াবে প্রায় ৩০ কোটি মার্কিন ডলার যা টাকার অংকে ২১শ কোটি।

এটি কিন্তু স্বপ্ন নয় বরং ঘটতে যাচ্ছে এমন এক সমূহ সম্ভাবনা। ঘটতে পারে বা ঘটতে যাচ্ছে এমন আরো একটি বিশাল সম্ভাবনা বাস-াবায়ন পর্বও শুরু হয়েছে এরমধ্যেই। সেটি হলো শত কোটি ডলার পাদুকা রপ্তানীকারক দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের নাম। এটিও ঘটবে আগামী তিন বছরের মধ্যেই। এটি কোন স্বপ্নচারী বিবৃতি নয় বরং আগাম হিসেব করলে মিলে যায় এমন ব্যাপারই।

২০১৩ সাল নাগাদ শতকোটি বা বিলিয়ন ডলার ফুটওয়্যার রপ্তানী শিল্প হবে বাংলাদেশে এটি হলফ করেই বলা যায় যদি না দেশে এমন কোন রাজনৈত্যিক বা প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে যাতে দেশি বিদেশি উদ্যোক্তাদের গুটাতে হয় উৎপাদনরত ও নির্মিয়মান কারখানাগুলো ।

চলতি অর্থবছর শেষে না হয় ত্রিশ কোটি ডলার হলোই পাদুকা রপ্তানী- কিন্তু এর পরের আড়াই তিন বছরের বাকি সত্তর কোটি ডলার কোথা থেকে আসবে?

হিসেবটা এখান্ইে।

বর্তমানে একটিমাত্র বৃহৎ রপ্তানীকারক এপেক্স-আডেলকি ফুটওয়্যার ছাড়া বাকি গোটা চলি্লশেক ছোট মাঝারী সু ইন্ড্রাস্টি রপ্তানী বাজারের জন্য পাদ-কা উৎপাদন করছে তাদের অনেকেরই কমবেশি সমপ্রসারন হবে, প্রবৃদ্ধি হবে। কারন বিশ্ববাজারে বাংলাদেশী পাদুকার ব্যপক চাহিদা সৃষ্টি হচ্ছে। আগামী তিন বছরে পাদুকা রপ্তানীতে মূল প্রবৃদ্ধি আসবে নির্মিয়মান কারখানাগুলো থেকেই।

ছ'মাস আগে চট্রগ্রামে নির্মান শুরু হয়েছে ইয়াংওয়ান ফুটওয়্যার কমপ্লেক্স। কোরিয়ান ইয়াংওয়ান কর্পোরেশন বাংলাদেশ এর একক বৃহত্তম রপ্তানীকারক তৈরী পোষাক খাতে। তারা স্পোর্টসওয়্যার ও আউটারওয়্যার উৎপাদন করে। ইয়াংওয়ান এবার বাংলাদেশে নির্মান করছে এশিয়ার বৃহত্তম জুতার কারখানা যেখানে প্রায় ৩০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। কারখানার প্রথম ধাপ আগামী অর্থবছরের শুরতে উৎপাদনে যাবে। জানা গেছে, ২০১৩ সালের মধ্যে তাদের পরিকল্পনামত পুরো উৎপাদন ক্ষমতা কাজ শুরু করবে তাতে তারা ২৫ কোটি ডলার রপ্তানী করবে বাৎসরিক। ইয়াংওয়ান এখন মাঝারী আকারের কারখানায় নাইকি সহ কিছু দামী বান্ড্রের জন্য স্পোর্টস ফুটওয়ার উৎপাদন করে যা থেকে ২০১০ সালে রপ্তানী আয় ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

তাদের প্রতিষ্টান এর এক-তুতীয়াংশ না করলেও ইয়াংওয়ান মনে করে ২০১৩ সালের মধ্যেই বাংলাদেশে বিলিয়ন ডলার পাদুকা রপ্তানী শিল্প হবে।

ইয়াংওয়ান ছাড়াও বিশ্বের বড়ো মাপের জুতা উৎপাদকেরা এখানে কারখানা গড়তে শুরু করেছেন। চ্রটগ্রামে একটি মাঝারী মাপের কারখানা করছে তাইওয়ানের পাও চেন যারা বিশ্বে এক নম্বর। চিনে পাও চেন এর কারখানাগুলো পাঁচ লাখ শ্রমিক কাজ করে। পর্যাপ্ত জায়গা পেলে পাও চেন আরো বড়ো কারখানা করতো বাংলাদেশেও। তাইওয়ান থেকে জেন-চেন জেন-ফোর্ডসহ আরো কিছু জুতা প্রস-ুতকারক এসেছে বাংলাদেশে, কারখানা বানাচ্ছে তারা। বনবন সু এসছে যারা বানায় হিউগো বস ব্রান্ডের জুতা।

স্থানীয়রাও বসে নেই। ইপিজেড এর বাইরে গোটা দশেক কারখানা নির্মর্িয়মান। এমনই একজন উদ্যোক্তা বাংলাদেশ ফিনিসড লেদার এক্সপোর্টাস এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি টিপু সুলতান। ভদ্রলোক ফেনিতে গড়ে তুলছেন একটি কারখনা। ছমাস পর প্রতিদিন দুহাজার পিস জুতা উৎপাদন ক্ষমতা নিয়ে প্রথম ধাপ চালু করবেন তিনি এরপর আগামী বছর তিনেকে সমপ্রসারন হবে দশ হাজার পিসে।

টিপু বলেন, চিনের শ্রমিক সংকট ও পশ্চিমা আমদানীকারকদের নতুন আমদানীসুত্র খোঁজার কারনে বাংলাদেশের পাদুকা শিল্পের বিশাল সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে। তাই অনেকেই সাহস করছেন কারখানা করতে।

নিকট ভবিষ্যতেই বিলিয়ন ডলার পাদুকা রপ্তানী শিল্পটি দেখতে পাচ্ছেন, শীর্ষ ও অভিজ্ঞ রপ্তানীকারক, এপেক্স-আডেলকি এর ব্যাবস্থাপনা পরিচালক, সৈয়দ নাছিম মঞ্জুরও।

প্রতিদিন প্রায় ১৮ হাজার জোড়া পাদুকা তৈরী করে এপেক্স-আডেলকির বাৎসরিক টার্নওভার প্রায় ১০ কোটি ডলার। ফেব্রুয়ারীতে তাদের অংশিদারিত্বে ব্লু ওশান নামে আরেকটি কারখানা চালু হবে।

বর্তমান প্রবৃদ্ধি ও সমপ্রসারিত উৎপাদন ক্ষমতা নিয়ে ২০১৩ সাল নাগাদ নাছিম মঞ্জুরদের প্রতিষ্ঠান ২০ কোটি ডলার সু এক্সপোর্ট টার্নওভারের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকবে এটি হিসব কষলেই মিলে যায়।

নাছিম বললেন, প্রচলিত বাজার জাপান ও জার্মানী ছাড়াও আমেরিকার ক্রেতারা আজকাল বেশ আসছেন বাংলাদেশে।

তবে ইউনির্ভাসিটি অফ পেনসিলভেনিয়ার বিখ্যাত ওয়ারটন বিজনেস স্কুলে পড়ে আসা এই মেধাবী উদ্যোক্তা বলেন, সব সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকারকে বিদু্যৎ সহায়তা দিতে হবে, অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে দ্রুত। শিল্পের গুড ইমেজ উন্নয়নে হাজারীবাগের ট্যানারী দূষনও বন্ধ করতে হবে দ্রত, বলেন টিপু সলতান ও নাছিম মঞ্জুর দুজনেই।
Source: Daily Ittefaq

Friday, December 3, 2010

মসলিনের ইতিকথা

মসলিনের ইতিকথা

সৈ য় দ লু ত্ ফু ল হ ক
খ্রিস্টপূর্ব ২০০ বছর আগে গ্রিকরা ভারতীয় কার্পাসের কথা বলেছে। স্ট্যাটিটিয়াস (Statitius) কার্পাস তুলাকে ‘কবোসম’ বলেছেন। জে ফর্বেস রয়েল (J Forbes Rayle, M.D, F.R.S) তাঁর গ্রন্থ 'The Early History of Cotton' গ্রন্থে লিখেছেন। গ্রিকরা ঢাকার মসলিনকে ‘গ্যাঞ্জোটিকা’ নামে উল্লেখ করেছেন। যেহেতু বস্তুটি গঙ্গা উপকূলে তৈরি হতো। বাংলাদেশী বস্ত্র শিল্পীর এই মসলিন শিল্প জগদ্বিখ্যাত। বিখ্যাত গ্রিক পর্যটক প্লিনি থেকে শুরু করে ডা. উরে (Dr. Ure) এবং টেইলর পর্যন্ত বিখ্যাত ব্যক্তিরা মসলিন সম্পর্কে বহু লেখায় ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
প্লিনির সময়ে মসলিনের নাম ছিল ‘কার্পাসিয়াম’, যদিও এই শব্দটি সংস্কৃত ভাষার কার্পাস শব্দের অপভ্রংশ। অতীতকালে ঢাকার আশপাশে ভাওয়াল রাজার অধীনে কাপাসিয়া প্রধান কেন্দ্র ছিল। ‘কার্পাসিয়াম’ শব্দ থেকে ‘কাপাসিয়া’ অঞ্চলের নামকরণ করা হয়েছে। খ্রিস্ট ধর্মীয় গ্রন্থে (বাইবেল) এই মসলিনের উল্লেখ পাওয়া যায়। (ইজেফিল, ১৪শ অধ্যায় এবং ইলিয়ায় ১০, ১৩ ও তৃতীয় অধ্যায়ে) প্লিনি লিখেছেন, রোমে রাজপ্রাসাদের মেয়েরা মসলিন বস্ত্র পরিধান করিয়া স্বীয় নগ্ন অবয়ব সাধারণ মানুষের কাছে উপস্থাপন করত। (A dress under whose slight veil our women continue to show their shapes to the public.)
ডাক্তার উরে বলেছেন, ‘রোমের স্বর্ণযুগে ঢাকার মসলিন রোমের রাজ মহিলাদের সবচেয়ে প্রিয় এবং বিলাস বসন হিসেবে আদৃত ছিল (cotton manufacturer of Great Britain by Dr. Ure) কবি ইয়েটস লিখেছেন, বঙ্গদেশের কার্পাস খ্রিস্টপূর্ব দুইশত বছর পূর্বে গ্রিক দেশে প্রচলিত ছিল।
জুভিনেলের পুস্তকেও মসলিনের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। প্লিনির লেখাতে পাওয়া যায়, বাংলাদেশের ঢাকা নগরী মসলিনের সর্বশ্রেষ্ঠ কেন্দ্রবিন্দু ছিল। সুপ্রাচীন কাল থেকে ঢাকাই মসলিনের সুখ্যাতি প্রতিষ্ঠিত। চীন, তুরস্ক, সিরিয়া, আরব, ইথিওপিয়া, পারস্য ও স্পেনে এই মসলিনের বাণিজ্য প্রচলিত ছিল। সিল্ক রোড, নৌপথে, মধ্য এশিয়া থেকে ইউরোপ-অবধি এই মসলিনের বাণিজ্য প্রচলিত ছিল। বঙ্গদেশ থেকে আরব বণিকেরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মসলিন রফতানি করেছে। প্রবাদ আছে, তদানীন্তন স্পেনের রানী ইসাবেলার অত্যন্ত প্রিয় ছিল এই মসলিন। বঙ্গদেশের এই মসলিন যেত তাঁর কাছে। তা ছাড়া প্রভেন্স, ইতালি লেংগুইডকে ঢাকার মসলিন প্রেরিত হতো।
মিসরের রাজা এন্টোনিও (ক্লিওপেট্রার নন্দিতপ্রেমিক) তাঁর সৈন্যদের ‘কার্বাসাম’ বস্ত্র উপহার দিয়েছিলেন। ট্রেভারনিয়ার লিখেছেন, মুহাম্মদ আলী বেগ ভারত বর্ষ থেকে ফিরে রাজা চাসেফিকে মূল্যবান প্রস্তরখচিত ডিম্বাকৃতির একটি নারিকেল উপহার দেন। তার মধ্যে ৬০ হাত দীর্ঘ একটি মসলিন কাপড় ছিল। কাপড়টি এতই পাতলা ছিল যে, হাতে রাখলে কোনো কিছু আছে বলে মনে হতো না।
খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষভাগে ‘এরিয়ান’ ঢাকার মসলিনের উল্লেখ করেছেন (Periplus of the Erythrean sea) দুই চীনদেশীয় পর্যটক নবম শতাব্দীতে ভারতবর্ষের বিবরণীতে একটি পুস্তক লিখেছেন (Account of India and China by Two Mohammadan Travellers) নূরজাহানের মাতার এই উপহারে জাহাঙ্গীরের অহমিকায় ছেদ পড়ে যায়। প্রতিদানে জাহাঙ্গীর তাঁর শাশুড়িকে কিছু উপহার দেয়ার প্রস্তাব করেন। শাশুড়ি তেমনি এক পেয়ালা মসলিন দিলেই চলবে বলে জানিয়ে দেন। জাহাঙ্গীর মসলিন সংগ্রহের জন্য ২২০০ অশ্বারোহী সৈন্য বঙ্গদেশের উদ্দেশে প্রেরণ করেন। বঙ্গদেশের উদ্দেশে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে পথিমধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ সৈন্যের প্রাণহানি ঘটে। পানিতে ডুবে, ম্যালেরিয়া, দস্যুর আক্রমণ ইত্যাদি কারণে। কিন্তু ওইসব সৈন্যরা ছোট্ট একটি পেয়ালা পূর্ণ করার মতো মসলিন সংগ্রহ না করে দিল্লি দরবারে ফিরে যায়। এই সামান্য মসলিন দিল্লির সম্রাট শাশুড়িকে উপহার দিয়েছিলেন। শাশুড়ি অত্যন্ত খুশি হয়েছিলেন; কিন্তু সম্রাট অপূর্ণ কাপটির বেদনা সারাজীবন বইতে হয়েছে। সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্ত্রী নূরজাহানের কাছে মসলিন অত্যন্ত প্রিয় ছিল। মোগল সম্রাটরা মসলিনের প্রতি এত ঈর্ষান্বিত ছিলেন যে মসলিনের প্রচার ও বিদেশ পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছিলেন। নূরজাহানের সুরুচির কারণে ভারতের সব নগরীতে মসলিন একটি বিশেষ স্থান দখল করেছিল।
মসলিনের সুতা সাধারণত মেয়েরা তৈরি করত এবং এটি মেয়েদের কাজ হিসেবে গণ্য করা হতো। পুরুষরা সুতা কাটাকে অপমানজনক মনে করত। যেসব সৈন্য বা রাজা যুদ্ধে পরাজিত হতেন, তাদের অপমান করার জন্য সুতা কাটতে দেয়া হতো। বাংলার সুতো কাটার ওপর বৈষ্ণব সঙ্গীত প্রচলিত গানটি ছিল এরূপ—
“(সে হাটে) বিকায় নাতো অন্য সুতা
বিনা তাঁতি নন্দের সুত
সে হাটের প্রধান তাঁতি, প্রজাপতি পশুপতি,
আর যত আছে তাঁতি-তাদের শুধু যাতাযাতি\”
মসলিনে সূক্ষ্ম সুতা কাটার জন্য তরুণী মেয়েদের ব্যবহার করা হতো, কারণ তাদের দৃষ্টিশক্তি ও হাতের সাহায্যে সূক্ষ্মতা অনুভূত হতো। বয়স বাড়লে অনুভূতিগুলো নষ্ট হয়ে যায়। 'India of Ancient and Middle Age' গ্রন্থে মিসেস ম্যানিং লিখেছেন, ঘাসের ওপর বিছানো একখানি সুদীর্ঘ মসলিন একটি গাভী খেয়ে ফেলেছিল। যার জন্য গাভীর মালিক দণ্ডিত হয়েছিল। ঐতিহাসিক কাফি খাঁ মোগল অন্তঃপুরে মসলিনের কদরের কথা লিখেছেন। বস্ত্র শিল্পের ইতিহাসে মসলিন সর্বশ্রেষ্ঠ বলে প্রমাণিত হয়েছে। ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় মাত্র একটি ঘর তাঁতি মসলিন বয়ন করতে পারত, তা পরবর্তী সময়ে বিলীন হয়ে যায়। ১৭৭৬ খ্রিস্টাব্দে একখানি মসলিন ৬০ পাউন্ডে বিক্রি হতো। তার দৈর্ঘ্য ছিল বিশ গজ, ওজন ছিল সাড়ে সাত আউন্স। সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে একখানি মসলিন ৪০০ পাউন্ডে বিক্রি হতো। টপোগ্রাফি অব ঢাকায় ১৬০ হাত লম্বা একখানি মসলিনের ওজন ছিল চার তোলা। এই মসলিন সোনারগাঁয়ে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তৈরি হয়েছিল।
ব্রহ্মপুত্র, পদ্মা ও মেঘনার মিলনস্থলে ১৯৬০ বর্গমাইল জুড়ে পৃথিবীর সর্বোত্কৃষ্ট মসলিন তৈরি হতো। এর কেন্দ্রস্থল ছিল ‘কাপাসিয়া’। তাছাড়া ঢাকা, মুড়াপাড়া, সোনারগাঁ, ডেমরা, তিতবর্দী, বালিয়াপাড়া, নপাড়া, মৈকুলী, বাহারক, চরপাড়া, বালটেক, নবীগঞ্জ, সাহাপুর ও সামরাই প্রভৃতি স্থানে মসলিন উত্পন্ন হতো। ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে মসলিনের অবনতির দিনেও ঢাকায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা, সোনারগাঁয়ে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ডেমরায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, তিতবর্দীতে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মসলিন রফতানি বা বিক্রি হয়েছিল। ১৭৫৩ খ্রিস্টাব্দে ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার বস্ত্র বিক্রি হয়েছিল। ১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দে ৫০ লাখ টাকার মসলিন বিদেশে রফতানি হয়েছিল।
ইংরেজ শাসনামলে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাপড় প্রস্তুত করে ঢাকার মসলিনের সঙ্গে পাল্লা দেয়া সম্ভব হচ্ছিল না। ওয়াটসন সাহেব লিখেছেন 'With all our machines and wonderful Intentions we have neither to been unable to produce a fabric which for fineness or utility can equal the woven air of Dacca.' আমাদের বস্ত্রের নানাবিধ অত্যাশ্চর্য উপায়গুলো থাকা সত্ত্বেও চারুশিল্প হিসেবে মসলিনের ঐন্দ্রজালিক সক্ষমতার সঙ্গে পাল্লা দিতে পারিনি। ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ সরকার ঢাকার মসলিন উত্পাদন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করে এবং ব্রিটিশদের তৈরি কাপড় রফতানি শুরু করে। ফলে মসলিন উত্পাদন ক্রমে ক্রমে বিলোপ হতে থাকে। তাছাড়া মসলিন প্রস্তুতকারী তাঁতি ও সুতা তৈরির কারিগরদের ওপর নানা প্রকার নির্যাতন শুরু করা হয়। এমনকি মসলিন তৈরির সূক্ষ্ম কারিগরদের আঙুল কেটে দেয়া হয়।
বঙ্গদেশের গোটা প্রদেশে এই বস্ত্র তৈরি হতো। এর বাণিজ্যের প্রধান স্থান ছিল ঢাকা, সুবর্ণগ্রাম, ডেমরা, তিতবর্দী, জঙ্গলবাড়ি ও বাজিতপুর। প্রাচীনকাল থেকে পৃথিবীর সুসভ্য দেশ থেকে এসব অঞ্চলে বণিকদের আগমন ঘটেছিল।
বর্তমান প্রজন্মের কাছে মসলিন একটি নাম এবং ইতিহাস বিশ্বখ্যাত এই মসলিন আমার ঐতিহ্যের সম্পদ। সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম এই মসলিন হয়তো আমরা আর তৈরি করতে পারব না। যদিও বর্তমানে কিছু মসলিন তৈরি হচ্ছে, যা আগেকার তুলনায় অত্যন্ত স্থূল। আসুন, সবাই মিলে গৌরবোজ্জ্বল মসলিনের গৌরব ফিরিয়ে আনি।
গ্রন্থসূত্র
১. চীনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
২. বৃহত্ বঙ্গ, ড. দীনেশচন্দ্র সেন
৩. প্রাচীন আরবের ইতিহাস ও বেদুঈন পোশাক, আরব সরকার প্রকাশিত

Thursday, December 2, 2010

বিশ্ব বাজারে বগুড়ার নকশি কাঁথা

বিশ্ব বাজারে বগুড়ার নকশি কাঁথা
০০আমিনুল ইসলাম চৌধুরী,বগুড়া অফিস

বগুড়ার পলস্নীবধূদের নিপুণ হাতে তৈরী হস্তশিল্প বিশ্ব বাজারে স্থান করে নিয়েছে। তৈরী হচ্ছে নকশি কাঁথা, বুটিক, টেবিল ক্লথ, বস্নক প্রিন্টিং উলেন শাল, কুশন, তাল_ খেজুরের পাতা ও শ্বাস থেকে তৈরী ব্যাগ, বাস্কেট। এ শিল্পে কাজের সুযোগ পেয়ে বগুড়া শহর, শহরতলি ও গ্রামের দরিদ্র ও হতদরিদ্র দেড় শতাধিক পলস্নীবধূ স্বাবলম্বী হয়েছে। গৃহকর্মের ফাঁকে বাড়তি আয়ের সুযোগ পেয়েছে। বগুড়া শহরের বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) পলস্নী উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে গ্রামের দরিদ্র ও হতদরিদ্র মহিলাদের সংগঠিত করে প্রায় দশ বছর আগে এ প্রকল্পটি শুরু করেছে। এ সময়ের মধ্যে প্রকল্পের আওতায় মহিলাদের সুচি শিল্প থেকে হস্ত শিল্পের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মহিলারা এখন ডিজাইন তৈরীতেও পারদর্শী। নিপুণ হাতে তৈরী নকশি কাঁথা, কুশন, নকশি করা শাল, তাল খেজুরের পাতা ও শ্বাস থেকে তৈরী বাস্কেট, ব্যাগ, টেবিল ল্যাম্প ক্রয় করে বাজারজাত করছে পলস্নী উন্নয়ন প্রকল্প (পাপ)। বিদেশের বাজারেও এসব হস্ত ও সুচি শিল্পের নমুনা তুলে ধরেছে পাপ। তিন/ চার বছরের ব্যবধানে পাপ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ইংল্যান্ড, জার্মান, ইতালি ও নরওয়ে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের তালিকায় যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। স্বীকৃতি পেয়েছে ওয়ার্ল্ড ফেয়ার ট্রেড সংস্থা ( ডবিস্নউএফটিও), এশিয়া ফেয়ার ট্রেড ফোরাম (এএফটিএফ ও ইকোটা ফেয়ার ট্রেড ফোরামের ( ইএফটিএফ)। বিশ্ব বাজার ধরতে পাপ এসব শিল্প মেলায় অংশগ্রহণ করে এখানকার দরিদ্র-হতদরিদ্র মহিলাদের তৈরী হস্ত ও সুচি শিল্পের সুনাম ও চাহিদা তৈর করতে সক্ষম হয়েছে। এখন বিদেশীরাই বগুড়ার গ্রামের মহিলাদের সাথে চুক্তি করছে। ডিজাইন করে দিচ্ছে।

সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক শেখ আবু হাসানাত সাঈদ জানিয়েছেন, গত অর্থবছরে ২৫ লাখ টাকার পলস্নী মহিলাদের তৈরী ১০টি শিল্পকর্ম রপ্তানি করা হয়েছে। এ বছর আরো ৩০ লাখ টাকার চাহিদাপত্র পাওয়া গেছে। বগুড়া শহর, শহরতলি ও গ্রামগুলো হচ্ছে লতিফপুর কলোনী, বেজোড়া, নন্দগ্রাম, জামপাড়া, দেঘলকান্দি, মাঝগ্রাম, নিশ্চিন্তপুর উলেস্নখযোগ্য। গ্রামের প্রায় প্রতিটি ঘরের মহিলারা অবসরে বা গৃহকর্মের ফাঁকে সুচি শিল্পকর্মে ব্যস্ত। দেঘলকান্দি গ্রামের দরিদ্র পরিবারের গৃহবধূ বেবী বেগম, সাজেদা বেগমের সংসারে একদিন অভাব অনটন লেগেই থাকত। সমাজে ছিলেন অনাঙ্ক্ষিত। ছিল না মর্যাদা। পলস্নী উন্নয়ন প্রকল্পের (পাপ) সাথে যুক্ত হয়ে ও প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন সে একজন উপার্জনক্ষম নারী। সমাজেও মর্যাদা পাচ্ছেন। বেবী বেগমের মত সাজেদা, পাপিয়ারাও আজ সুচি ও হস্তশিল্প থেকে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছে। বগুড়া শহরের চকলোকমান এলাকায় পাপের অফিসে গিয়ে দেখা হল দুজন বিদেশিনী এনা ও ইউত্তার সাথে। একজন এসেছেন লন্ডন থেকে, অপরজন এসেছেন নরওয়ে থেকে বগুড়ার মহিলাদের তৈরী নকশিকাঁথা, কুশন, পাটের ব্যাগ ও পরিবেশ বান্ধব তাল ও খেজুর পাতা ও শ্বাস থেকে তৈরী হস্তশিল্প পরিদর্শনে। নিজের দেশের জন্য অর্ডার নিয়ে যাবেন। এনা ও ইউত্তার জানালেন, এখানকার হস্তশিল্প তাদের দেশে যথেষ্ট চাহিদা আছে। এ দুজন বিদেশিনী এবার ৫ লাখ টাকা মূল্যের হস্তশিল্পের অর্ডার দিয়েছেন।
Source: Daily Ittefaq

প্র জ ন্ম মু খ : দেশীয় ব্র্যান্ড নিয়ে এক নতুন প্রজন্ম

প্র জ ন্ম মু খ: দেশীয় ব্র্যান্ড নিয়ে এক নতুন প্রজন্ম:
তানজীম হক ও আসমা সুলতানা
০০ তামান্না শারমীন ০০

শৈশব থেকেই ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডের বৈচিত্র্যময় ফ্যাশন ওয়্যার হাউসগুলো কাছে টানতো তাকে। কিন্তু টেনিস খেলার সুবাধে ট্রেন্ডি বিদেশি ব্র্যান্ডের স্পোর্টস পোশাকগুলো বেশি পরা হতো তার। বিদেশি নানাবিধ ব্র্যান্ডের পোশাকের লেবেলে যখন 'মেইড ইন বাংলাদেশ' দেখতেন, তখন থেকেই দেশীয় ব্র্যান্ড ডেভলপের প্রতি মনোযোগী হয়ে উঠেন তিনি। শুধু তাই নয় নিজের ব্র্যান্ড ছড়িয়ে দিতে স্বপ্ন দেখতেন বিশ্বজুড়ে। তবে সেই স্বপ্ন সফল হবে কিনা তা কিন্তু কখনো নিশ্চিতভাবে ভাবেননি। ভাবনার সেই হয়ে ওঠা অনেকটাই সফল হয়েছে আরেকটি মানুষের প্রচেষ্টায়। তার ভালো লাগা আর পাশে থেকে সাহস এবং কর্মপরিকল্পনা যোগানো যেন এই মানুষটিকে আজকের এই প্রজন্মের অন্যতম অধিনায়ক করে তুলেছে। হঁ্যা, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে সাফল্যের ব্যাকরণে সত্যিই যেন ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির অধিনায়ক হয়ে উঠেছেন তানজীম হক। চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট বাবার ইচ্ছে ছিল ছেলে বড় চিকিৎসক হবে। আর পারিবারিক আবহ ছিল তাই। কিন্তু নিজের স্বপ্ন আর জীবনের হাতছানি তাকে করে দিল অন্য একটি সফল মুখ। হয়ে গেলেন দেশীয় জনপ্রিয় একটি ব্র্যান্ডের কর্ণধার ও ফ্যাশন ডিজাইনার।
স্বপ্ন বুননের শুরুটা বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজে পড়াকালীন সময়ে। ঝোঁকের মাথায় তখনকার প্রেয়সীকে (বর্তমানে সহধর্মিনী আসমা সুলতানা) নিয়ে শুরু করেন চমৎকার কিছু টিশার্টের লাইনআপ। তখনই তানজীম হকের ক্রিয়েটিভিটিকে স্বাগত জানান সবাই। উৎসাহের ডানা পাখা মেলে আকাশে। পাশাপাশি আসমা সুলতানা শুধু তার জন্য অনুপ্রেরণা নয় বরং এক সত্যিকার সহযোগী ও সহকর্মী হয়ে উঠেন। এখনো এই সাফল্যের পুরোটা জুড়ে নিজের অস্তিত্ব ঘোষণা করে আছেন এই প্রজন্মেরই আলোচিত মুখ আসমা সুলতানা। পরিচিতির আলোয়ে তানজিম হক নিজেকে যেমন তুলে ধরেছেন তেমনি আসমা সুলতানা আড়ালে থেকে সেই তুলে ধরাকে শক্তিশালী করেছেন। আর এই দু'জনের উদ্যোগেই নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে ১৯৯৭ সালের দিকে খুবই স্বল্প পরিসরে ধানমন্ডিতে পর্দা তোলেন স্বপ্নের প্রথম পাঠের। গল্পের নাম 'ইস্ট্যাসি'! 'ইস্ট্যাসি' শুরু থেকেই ছিল একটি এমবিও (মাল্টি ব্র্যান্ড আউটলেট)। ফ্যাশনের চলতি ধারা, পোশাকের গুণগত মান রক্ষা এবং মূল্যসীমা ক্রয়সীমার মধ্যে রাখাই ছিল ইস্ট্যাসির তখনকার মূলমন্ত্র।
দেশীয় ফ্যাশন সংস্কৃতিতে ট্রেন্ডি পোশাকে জীবনধারার পরিবর্তন আনতে ইস্ট্যাসি ছিল কেবলমাত্র একটি পদক্ষেপ। তানজীম হক জানান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফ্যাশন সচেতনতাকে উন্নীত করা এবং বিদেশে দেশীয় ব্র্যান্ড ডেভলপের উদ্দেশ্যেই আমার এই এগিয়ে চলা। ক্যালভিন কেলিইন বা রাল্প রাউরেন-এর মতো বিশ্বসেরা ব্র্যান্ড দেশে ডেভেলপ করার প্রয়াসে ২০০৬ সালে তানজীম নামে নিজস্ব লেবেল অবমুক্ত করেন ডিজাইনার তানজীম হক। তানজীম শুরু থেকেই ফ্যাশন সচেতন শ্রেণীকে লক্ষ্য করে ওয়্যারেবল পোশাক তৈরি করেছেন। তিনি মনে করেন, উচ্চবিত্ত শ্রেণী বিদেশে ভ্রমণকালীন অভিজ্ঞতার কারণে ধারণা পাচ্ছেন কনজামশন প্যাটার্ন-কাটিংয়ের পরিবর্তন সম্পর্কে। জানতে পারছেন আধুনিক লাইফ স্টাইলের নানাবিধ ফ্যাশন অনুষঙ্গ নিয়েও। ফলে, তাদের এই আকাঙ্ক্ষা পূরণে 'তানজীম' তার গুণগত মান নিয়ে এগিয়ে এসেছে। বর্তমানে 'তানজীম' ব্র্যান্ডের অধীনে সম্পূর্ণ ফ্যাশন ওয়্যারের পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে চমৎকার সব জুতোর আর্ট লাইন। তানজীম হক মনে করেন, দেশীয় ফ্যাশন লাইফস্টাইলে বেড়ে যাবে গেস্নাবাল আউটফিটের চাহিদা। করপোরেট লাইফস্টাইলে ভিন্নতা আসবে। এবং তখন এসব ক্যাজুয়াল, ফরমাল ও পার্টি ওয়্যার শূন্যতা পূরণ করবে আরো বেশি। নিত্যনতুন ধ্যানধারণা আর ডিজাইনের সঙ্গে মেলবন্ধন ও পরিচিতি করানোটাই এখন তার লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে কাজ পাগল এই মানুষটি সহযোগী আরো ৩ জন ডিজাইনার নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন দৈনিক ১৫ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে।
ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে সফলতার মূলমন্ত্র বলতে তিনি মনে করেন, একজন ফ্যাশন ডিজাইনার বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে পারেন না। তার কর্মের সৃষ্টিশীলতার বহিঃপ্রকাশ একজন ক্রেতার চাহিদাকে পূরণ করতে পারছে কি না, তা তাকে দেখতে হবে। এজন্য তার প্রয়োজন হবে তার সামগ্রীর বিক্রেতা, ডিজাইন স্বাতন্ত্র্য, কাপড়ের গুণাগুণ, আলোকচিত্রী, সেলসম্যান, ফ্যাশন সাংবাদিকসহ সকলের অকুণ্ঠ সমর্থন। তানজীম জানান, শিগগিরই ১৮-৪০ বছরের বয়সসীমা যাদের, তাদের জন্য জারজেইন (দুই কন্যা জারা ও জেইনা'র নামে) নামে লেডিস ব্র্যান্ড ও শিশুদের জন্য ক্র্যাশ নামে কিডজ ব্র্যান্ড আসছে তানজীমের আউট লাইনে। এছাড়াও, শিগগিরই ভারতের কয়েকটি প্রদেশেও ইস্ট্যাসি-এর বেশকটি আউটলেট যাত্রা শুরু করবে।

Monday, November 1, 2010

ডেনিম ড্রিম: লক্ষ কোটি টাকা আয়ের হাতছানি

ডেনিম ড্রিম: লক্ষ কোটি টাকা আয়ের হাতছানি

আরাম আর স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠা ক্যাজুয়াল জিন্স, জ্যাকেট ও নানা ডেনিমওয়্যার বিশ্ববাজারের পোষাক বিক্রির উল্লেযোগ্য অংশ। স্বাচ্চন্দ্যের সুবিস-ৃত এই বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ একটি অনিবার্য অনুষঙ্গ।

ইউরোপ আমেরিকার কোন কিশোর, তরুন বা প্রৌঢ়ের পরিহিত জিন্সটির ভেতরে নির্দিষ্ট স্থানে একটি ছোট লেবেলে মেড-ইন-বাংলাদেশ- এতো খুবই সাধারন এখন।

ডেনিমওয়্যারের পরিমানগত রপ্তানীতে চিনের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। চাট্টিখানি কথা নয়- সারা বিশ্বে ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় পণ্যের দ্বিতীয বৃহত্তম উৎপাদক বাংলাদেশ!

আট হাজার কোটি মার্কিন ডলারের বিশ্ববাজার ডেনিম পোষাকের, আর সেখানে বাংলাদেশের ডেনিম পোষাক রপ্তানী প্রায় সাড়ে তিনশ কোটি মার্কিন ডলার।

গড়ে কম মূল্যের ডেনিম পোষাক রপ্তানী করে বলেই বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী হওয়া স্বত্বেও বিশ্ব ডেনিম বাজারে তার শেয়ার শতকরা চার শতাংশেরও কম। তুরস্ক, তিউনিশিয়া বা মেস্কিকোর মতো উন্নত ও দামি ডেনিমের ফ্যাশন জিন্স রপ্তানী করতে পারলে বর্তমান পরিমানেই আয় হতো এখনকার দ্বিগুণ। পরিমান বাড়লে আরো শত কোটি বা হাজার কোটি মার্কিন ডলার আয় হতো।

এমন সপ্ন বোধহয় আর সুদূর পরাহত নয়। বাংলাদেশের ডেনিম শিল্পের সামপ্রতিক সমপ্রসারণ আর মূল্য-সংযোজন প্রচেষ্টায় উঁিক দিচ্ছে এক ডেনিম ড্রিম, এক উজ্জ্বল আগামী।

মাসখানেক আগে ভারতীয় ডেনিম উৎপাদক অরবিন্দ যখন কুিমল্লা ইপিজেড একটি আধুনিক ডেনিম কারখানা স্থাপনের ঘোষণা দেয়, তখন ব্যাপারটি সবার দৃষ্টিতে আসে। ভেতরে ভেতরে স্থানীয় উৎপাদকেরাও সমপ্রসারণ আর আরো উন্নত ডেনিম তৈরীর উদ্যোগ নিয়েছে।

স্থানীয় উদ্যোক্তাদের আছে বিশের অধিক ডেনিম কারাখানা। এর অর্ধেকেরও বেশি এখন উৎপাদন ক্ষমতা সমপ্রসারনে নেমে গেছে। আরো আধুনিক ডেনিম-ফ্যাশন ডেনিম বা প্রিমিয়াম ডেনিম- উৎপাদনের জন্য আধুনিক মেশিনারী স্থাপন করছে।

গত ৫-৭ বছরে স্থাপিত হওয়া ডেনিম কারখানাগুলো বেশিরভাগ এমনিতেই অনেকটা অগ্রসর প্রযুক্তি নিয়ে স্থাপিত। এখন আরো অগ্রসর প্রযুক্তি আসছে। দেশের বৃহত্তম পারটেক্স ডেনিম এর উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে উদ্যোক্তা। আগামী বছরেই মাসিক ৫০ লক্ষ গজ উৎপাদন ক্ষমতায় গিয়ে এটি হবে এশিয়ার বৃহৎ ডেনিম মিলগুলোর একটি।

পারটেক্স ডেনিম এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, শওকত আজিজ রাসেল বলেন, বর্ধিত চাহিদার নিরিখেই প্রকল্প সমপ্রসারণ হচ্ছে। তার মতে, উৎপাদন খরচ আরো বৃদ্ধি ও শ্রমিক সংকটে পড়ে চিনা রপ্তানীকারকেরা যখন বায়ারদের অর্ডার ঠিকমত দিতে পারছেন না, তখন তারা অর্ডার বাড়াতে চাচ্ছে বাংলাদেশে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অন্যতম রপ্তানী পণ্য ডেনিমওয়্যার এর ভবিষ্যত আরো ভালো দেখেই তারা বিশাল বিনিয়োগের সাহস করেছেন। ''শুধু গ্যাস আর বিদু্যতের নিশ্চয়তা যদি দিতে পারতো সরকার আরো তবে অনেক বেশি সাহসী হওয়ার সাহস ছিলো বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের।" বললেন, রাসেল, যিনি স্বাগত জানান অরবিন্দকেও।

বিশ্বের ৩য় বৃহত্তম ডেনিম উৎপাদক, অরবিন্দ এর সিইও, আমির আখতার বলেন, বাংলাদেশের ডেনিমওয়্যার উৎপাদকদের তারা ডেনিম কাপড় সরবরাহ করে আসছিলেন ভারত থেকে। স্থানীয় উৎপাদন দিয়ে এবার তাদের ক্রেতাদের চাহিদা মিটবে। অরবিন্দ কুমিল্লায় তাদের কারখানার পাশে ডেনিমওয়্যার সেলাই কারখানাও করবে লিভাইস ও ডিজেল এর মতো বিখ্যাত ব্রান্ডগুলোর জন্য।

আরগন ডেনিম ও ইভিন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান, আনওয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, এতোদিন বাংলাদেশের পরিচিতি ছিলো শুধু কমদামী ও বেসিক ডেনিমের সস-া জিন্স ও ডেনিমওয়্যারে। দু'এক বছর ধরে ক্রেতারা কিছু দামি ফ্যাশন ডেনিম ও প্রিমিয়াম ডেনিম এর অর্ডার দিয়ে পরীক্ষা করেছেন আর সে পরীক্ষায় পাশ করেছেন আমাদের রপ্তানীকারকেরা। ক্রমশ আস্থা বাড়ছে, আরো উজ্জ্বল হচ্ছে অধিক মূল্য-সংযোজিত ডেনিমের সম্ভাবনা।

বত্রিশ বছর আগে আগে আমেরিকান এক আমদানীকারকের উদ্দেশ্যে কয়েক হাজার ডলারের এক কনসাইনমেন্ট শার্ট রপ্তানী দিয়ে শুরু হয়েছিলো বাংলাদেশের পোষাক রপ্তানীর অভিযাত্রা। শার্ট দিয়ে শুরু হলেও কয়েক বছর পরেই বটমস বা ট্রাউজার হয়ে উঠে শীর্ষপণ্য। বিগত অর্থবছরে তৈরী পোষাক শিল্পই এনেছে মোট রপ্তানী আয়ের প্রায় আটাত্তর শতাংশ- সাড়ে বারোশ' কোটি মার্কিন ডলার বা সাতাশি হাজার কোটি টাকা। এখন ডেনিম শিল্পের অভিযাত্রা সফল হলে এ দশকেই বাৎসরিক লাখ কোটি টাকা আয় হতে পারে শুধু ডেনিমওয়্যার দিয়েই।
গ্যাস-বিদু্যত হলে লাখ কোটি টাকার ডেনিমওয়ার রপ্তানী আয় নিশ্চিত করা আকাশ কুসুম কিছু নয়। বিজিএইএ প্রেসিডেন্ট ও এনভয় ডেনিমের এমডি আব্দুস সালাম মুর্শেদীও ডেনিম ড্রিম এর সওয়ার। তার মতে ''বাংলাদেশী সাপ্লায়ার্স ক্যান ডু" এই আস্থা এখন বিশ্বজুড়ে। এই আস্থা অর্জন করেছে আমাদের শ্রমিক
আর উদ্যোক্তারাই।
Source: Daily Ittefaq

পার্ল ইনস্টিটিউট: ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে পড়াশোনা

পার্ল ইনস্টিটিউট: ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে পড়াশোনা

শাহ বুলবুল
বিশ্বখ্যাত পার্ল একাডেমির বারিধারার ক্যাম্পাসটির নাম ‘পার্ল ফ্যাশন ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ’। মূলত এই ক্যাম্পাসের মাধ্যমেই পার্ল বাংলাদেশে তার শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এটি বাংলাদেশের অন্যতম গার্মেন্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান; যার রয়েছে আইএসও স্বীকৃতিসহ আন্তর্জাতিকমানের ফ্যাকাল্টি। তাছাড়া পার্লই বাংলাদেশের একমাত্র ফ্যাশন ডিজাইননির্ভর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের নটিংহ্যাম ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটিসহ সংশ্লিষ্ট অন্য আন্তর্জাতিক সেন্টারগুলোর সঙ্গে অ্যাফিলিয়েশন রয়েছে। সুতরাং বাংলাদেশের পার্ল ক্যাম্পাসে পড়াশোনা করেই একজন শিক্ষার্থী পেতে পারেন নটিংহাম ট্রেন্ট অনুমোদিত ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ।
পার্ল একাডেমি বাংলাদেশ ক্যাম্পাসের শুরু থেকেই ছিল এক্ষেত্রে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে একটু ভিন্নতা এবং গুণগত মানসম্পন্ন। পার্লের সবগুলো কোর্সই শতভাগ চাকরিমুখী এবং পার্ল তার বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করে। এ ইনস্টিটিউট থেকে কোর্স সম্পন্নকারীরা এরই মধ্যে সাফল্যের সঙ্গে বিভিন্ন কোম্পানিতে চাকরি করছেন। বিশ্বমানের শিক্ষা, প্রযুক্তিগত সমর্থন ও ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং সবমিলিয়ে পার্লের একজন শিক্ষার্থী বিশ্ব শ্রমবাজারে নিজেকে তুলে ধরতে সক্ষম হবেন। প্রকৃত অর্থে পার্ল ফ্যাশন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই বিভিন্ন সময়োপযোগি কোর্স চালু রেখে দেশের পোশাক খাতে একদল সুশিক্ষিত কর্মী তৈরির চেষ্টা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্র্রতি পার্ল শুরু করেছে ফ্যাশন ডিজাইনে ৪ বছর মেয়াদি বিএ অনার্স প্রোগ্রাম।
এই প্রোগ্রামের আওতায় কোর্স ২টি হলো : ১. ফ্যাশন মার্চেন্ডাইজিং অ্যান্ড প্রোডাকশন ২. ফ্যাশন ডিজাইন। বাংলাদেশে এই প্রথম পার্লই ফ্যাশন ডিজাইনে ৪ বছর মেয়াদি বিএ অনার্স প্রোগ্রাম শুরু করল। একজন পরিপূর্ণ ফ্যাশন ডিজাইনার তৈরিতে এটি দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে মাইলফলক হয়ে থাকবে। পার্ল ফ্যাশন ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ শিক্ষার্থীদের জন্য নিশ্চিত করছে বিশ্বমানের ফ্যাকাল্টি। এখানকার শিক্ষার্থীরা ভারতে পার্ল একাডেমির নিজস্ব ক্যাম্পাসগুলো ছাড়াও বিশ্বের নামকরা ইউনিভার্সিটিগুলোতে ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুযোগ পেয়ে থাকে।
ভর্তি ও অন্যান্য তথ্যের জন্য : পার্ল ফ্যাশন ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ, বাড়ি-১১, রোড-৬, বারিধারা, ঢাকা। ফোন : ৮৮৫৭৭৬৩, ০১৭৩৩৭১৫৭৩৩।

Tuesday, October 19, 2010

পোশাক বিদেশি স্টাইল এ দেশি

পোশাক বিদেশি
স্টাইল এ দেশি

কোলাজ জ্যাকেটের সঙ্গে পাতিয়ালার ফিউশন, রেড কার্পেট গাউনে মিশে যায় শাড়ির সৌন্দর্য। ফ্যাশন
ডিজাইনার অর্ণব সেনগুপ্ত এই এক্সক্লুসিভ ফ্যাশনকেই আমজনতার আয়ত্তে আনতে চান। সংযুক্তা বসু

রঙে রঙে ছন্দে ছন্দে ছুঁচ-সুতোর ফোঁড় দিয়ে দিয়ে তিনি পোশাক-আশাকের উপর এঁকে চলেন সারা ভারতের মেঠো রূপকথা। ফুলে ফুলে সাজানো কাশ্মীর থেকে মরুময় রাজস্থান থেকে সবুজ বাংলা থেকে পার্বত্য মণিপুরের লোকশিল্পকে ‘হাই প্রোফাইল’ ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের চিন্তাভাবনায়। এমব্রয়ডারিতেই মন প্রাণ ঢেলে দিয়েছেন তিরিশ পেরনো তরুণ ডিজাইনার অর্ণব সেনগুপ্ত। রঙের প্যালেট, আর ছুঁচসুতোর প্রতি তাঁর ভালবাসা আশৈশব। নিজের দিদাকে দেখতেন সারা দুপুর বসে, কেমন করে তিনি কাঁথা স্টিচ দিয়ে অপূর্ব নকশা তোলেন। সেই তখন থেকেই অর্ণবের শিল্পী সত্তার উন্মোচন।


রংবাহারি জমজমাট জ্যাকেট

চুড়িদার বা ট্রাউজার্সের ওপর সালোয়ার-শার্ট-টিশার্ট পরার একঘেয়েমি থেকে মুক্তির পথ খুঁজছেন অর্ণব। সেই জন্যই মনোহরণ নকশায় বানাচ্ছেন রকমারি জ্যাকেটে। বললেন, “এমন ভাবে জ্যাকেট বানাচ্ছি যাতে বিয়ে বাড়ি কি পার্টিতেও পরে যাওয়া যায়। এই জ্যাকেটের নাম দেওয়া যেতেই পারে কোলাজ জ্যাকেট।”

মডেল ইজি ইয়াসমিন পাশের ছবিতে পরেছেন এমন একটি বর্ণময় কোলাজ জ্যাকেট। গোড়ালি অবধি নেমে আসা জ্যাকেটের মূল কাপড়টি হল র’সিল্ক। তার ওপর জর্জেট, শিফন, এবং রেশমের নানা আকারের টুকরো টুকরো বর্ণিল কাপড় বসিয়ে করা হয়েছে প্যাচওয়ার্ক। লাল, হলুদ, কমলা, সবুজ, বেগুনি, ফিরোজা নীল টুকরো কাপড়ে গায়ে নানা প্রদেশের নকশা। কোথাও কাচ বসিয়ে গুজরাতি ফোঁড়, কোথাও রাজস্থানি ‘গোটা’ সেলাই, কোথাও বা জারদৌজি। ফাঁকেফোকরে বাংলার কাঁথা স্টিচ তো আছেই। ইচ্ছে হলে আজানুলম্বিতও পরা যেতে পারে। ‘‘জ্যাকেটের কয়েকটা বোতাম খোলা রেখেও স্টাইল করা যায়।’’

জ্যাকেটের পকেটেও শিল্পের ছোঁয়া

স্নিগ্ধ আর্থ কালারে ‘ক্লাসি’ লুক শর্ট জ্যাকেটও বানিয়েছেন এই রেঞ্জে অর্ণব। মটকার কাপড়ে তৈরি ঘিয়ে রঙের জ্যাকেটে বাহার খুলেছে আড়ি নকশায় আর ভিক্টোরিয়ান হাই কলারে। শরীরে আঁটা বা বডি হাগিং পোশাকটির ওয়েস্ট পকেট তৈরি হয়েছে সুতি-সিল্ক দিয়ে। জ্যাকেটের ভেতরে সাটিনের লাইনিং। “শর্ট জ্যাকেটের নীচে প্যান্ট পরাই যায়, কিন্তু পাতিয়ালা পরলে পুরো পোশাকটা অন্য মাত্রা পাবে। জ্যাকেটের সঙ্গে পাতিয়ালায় বেশি ঘের থাকলে ভাল দেখায়। পাতিয়ালার জন্য কাপড় লাগবে অবশ্যই চার মিটার।’’

নানা ধরনের খাদি কাপড় দিয়ে রংচঙা জ্যাকেট তৈরি হতে পারে। ঐতিহ্যবাহী দেশি পোশাক শাড়ি, লেহেঙ্গার পাশাপাশি ওয়েস্টার্ন আউটফিটের একটা বাজার তৈরির চেষ্টা করছেন নাম করা ডিজাইনারেরা। অর্ণবও পশ্চিমি পোশাক বানাচ্ছেন। তবে ওয়েস্টার্ন আউটফিটে খাঁটি দেশি ফ্যাশনের মিশেল ঘটিয়ে বানিয়ে চলেছেন এক সে বঢ়কর এক পোশাক।


পশ্চিমি গাউনে ভারতীয় ঘরানা

অস্কারের রেড কার্পেটে হলিউডের নায়িকা মাটিতে লুটিয়ে থাকা দীর্ঘ গাউন পরে যখন হাঁটেন, মনে হয় ও পোশাক নায়িকাদের গ্ল্যামারের সঙ্গেই বুঝি মানায়। “কিন্তু একটু উলটে পালটে নিলে গাউন হয়ে উঠতে পারে ভারতীয় মেয়েদের উৎসব-অনুষ্ঠানে যাওয়ার পোশাক। ভারতীয় মেয়েদের শরীরের গড়নের কথা ভেবেই গাউনে এনেছি শাড়ির মতো কুঁচি দেওয়ার স্টাইল। এতে গাউন সামলানো দায় মনে হবে না। এমন গাউন পরে পরিদের মতো উড়ে যাওয়া যায়।”


গাউন কাম শাড়ি

এমন একটি গাউন যার কাটিং এবং কুঁচি দেওয়ার কায়দায় রয়েছে সবরমতী স্টাইল। গুজরাত বা রাজস্থানের মেয়েরা যেমন সামনে আঁচল দিয়ে শাড়ি পরেন সেই ভাবেই দেওয়া হয়েছে গাউনের কুঁচি ও সেলাই। গাউনের বোতাম রয়েছে চোখের আড়ালে বাহুর নিচে, কোমরের উপরিভাগে ওভারল্যাপ করা কাপড়ের ভেতর। মনে হবে আর যে কোনও পোশাকের মতো ‘ইজি টু ওয়্যার’। এক বার গলিয়ে নিলেই হল। অর্ণব বললেন, “গাউনের কাপড়টি হল পশমিনা কট্‌ন। একটু খসখসে রাফ টেক্সচারের পশমিনা কটন কাশ্মীর এম্পোরিয়ামে গেলেই পাওয়া যাবে।” পশমিনা গাউনটি ম্যানিকুইনের গায়ে জড়িয়ে সরু-মোটা তুলির আঁচড় দিয়েছেন নানা রঙে তিনি।


আটপৌরে গাউন

অর্ণব দেখালেন আরও একটি গাউন যেখানে সেলাই আর কুঁচি পড়েছে বাংলার আটপৌরে শাড়ি পরার কায়দা মেনে। শ্যাওলা সবুজ আটপৌরে গাউনটির বুকের কাছে জারদৌজির কাজ। তার নীচ থেকে পা অবধি নেমে এসেছে হাতে আঁকা ফুলের ছবি। “ভারতীয় মেয়েদের এই ধরনের গাউনের কাটিংয়েই ভাল মানাবে বলে মনে হয়েছে আমার। সাবেকি গাউনের রীত রেওয়াজ তাই ভেঙে দিলাম। পশমিনা কটনের বদলে অবশ্য শিফন বা জর্জেটেও হতে পারে শাড়ি স্টাইলে গাউন।”

নেটের শাড়িতে ফুলের বাগান

মিহি নেটের ভেতর দিয়ে ছুঁচ ফুটিয়ে এমব্রয়ডারি করা! কী কঠিন কাজ! অর্ণব মেলে ধরলেন হালকা রঙের চার পাঁচ রকম ডিজাইনের নেটের শাড়ি। “নেটের ওপর কাশ্মীরি শালে যে ধরনের ফুলের নকশা থাকে সেই রকম ফুলের বোকে সেলাই করিয়েছি। জমাটি সুতোর ঘন কাজ নানা রঙের ফুলের বাগান শাড়ির পাড়ে। দেখে মনে হবে যেন বাগান চলেছে পায়ে পায়ে।”

নেটের শাড়ি নিজেই হাতে

ইচ্ছে করলে শৌখিন নেটের কাপড় কিনে ডিজাইনারের কাছে না গিয়ে ভাল এমব্রয়ডারি জানা শিল্পীকে দিয়েও সেলাই করিয়ে নেওয়া যেতে পারে। নিউ মার্কেটে এবং যে কোনও বড় ফ্যাব্রিকের দোকানে পাওয়া যায় সিল্ক নেট। সাড়ে চারশো টাকা মিটার। ভিসকোজ নেটের দাম কিছু কম। নব্বই টাকা মিটার। তাতেও ফুলেল নকশা ভাল ফোটে।


অর্ণবের জমিজিরেত

কলকাতার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজি বা নিফ্‌ট থেকে ফ্যাশন ডিজাইনিং নিয়ে পাশ করে অর্ণব বেশ কিছু দিন বাংলাদেশে ডিজাইনিং নিয়ে শিক্ষকতা করেছিলেন। দেশে ফিরে নাগা বস্ত্র দিয়ে তৈরি করেছিলেন ক্যাজুয়্যালওয়্যার। এর পর ধীরে ধীরে নিজেই ওয়ার্কশপ খুলে কাজে নামা। প্রায় ৩০০ কারিগর প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে অর্ণবের ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে সাহায্য করে জীবিকা নির্বাহ করেন। বললেন, “ইউরোপে ‘ফ্যাশন ফর অল’ ধারণাটা ইতিমধ্যে চালু হয়ে গেছে। এক্সক্লুসিভ শো রুম ছাড়িয়ে শপিং কমপ্লেক্সের খুচরো বিক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিতে চাই আমার নিজস্ব ডিজাইনের জামাকাপড়, শাড়ি। এটা যদি করতে পারি তবেই ডিজাইনার হিসেবে আমার সাফল্য।”

Source: Daily Anandabazar