Monday, October 4, 2010

সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ

সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ

শাহ বুলবুল
বাংলাদেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি একটি উল্লেখযোগ্য নাম। ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও অল্প সময়ের মধ্যে সুদক্ষ পরিচালনা পরিষদ, উপযুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সার্বিক প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়টি এখন দেশের শীর্ষ স্থানীয় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। এর বিভিন্ন অনুষদ থেকে পাস করা গ্র্যাজুয়েট ও মাস্টার্স ডিগ্রিধারীরা দেশে ও বিদেশে চাকরি ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্রে তাদের কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। এছাড়া শিক্ষক-শিক্ষিকারা দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন সভা, সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলের নজর কাড়ছে।
এ অনুষদের ছাত্রছাত্রীরা দেশের বিভিন্ন মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতায় তাদের উত্কর্ষতার প্রমাণ রেখে চলেছে। ২০০৯ সালে একাধিকবার আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির প্রশংসনীয় এবং গৌরবমণ্ডিত সাফল্য দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক তথ্য-প্রযুক্তিবিদদের নজর কেড়েছে। এ প্রতিযোগিতাগুলোতে একাধিকবার ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করার গৌরবও অর্জন করেছে।
সিনিয়র অধ্যাপকসহ ২৯ জন পূর্ণকালীন ও ১৪ জন খণ্ডকালীন শিক্ষক বর্তমানে এ অনুষদে কর্মরত। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অনুষদের সম্মানিত শিক্ষকমণ্ডলীও স্বীয় গবেষণা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অর্জন করে চলেছেন। এ অনুষদের স্থায়ী পদে কর্মরত এগারোজন শিক্ষক বর্তমানে বিদেশে উচ্চশিক্ষার্থে অবস্থান করছেন। কেবল গবেষণা ক্ষেত্রেই নয়, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ শিক্ষার্থীদের মান উন্নয়ন ও মেধা বিকাশে বিবিধ কার্যক্রম পালন করে থাকে। এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠ্যক্রম কার্যাবলীতে অংশগ্রহণ ও প্রশংসনীয় অর্জন, বিভিন্ন সেমিনার, কর্মশালা, শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ও আয়োজন ইত্যাদি।
অনুষদে প্রায়ই গবেষণা ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থানের উপর সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করা হয়ে থাকে, যেখানে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা তাদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা সরাসরি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিনিময় করতে পারেন। সম্প্রতি এ অনুষদের শিক্ষক মিসেস তাহরীমা রহমান এবং মিসেস ইসমাত রহমান হোটেল শেরাটনে ঙত্ধপষব ঈড়ত্ঢ়ড়ত্ধঃরড়হ আয়োজিত এক সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছেন, যেখানে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের শিক্ষাবিদ এবং তথ্যপ্রযুক্তিবিদদের এক মতবিনিময় ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের প্রাতিষ্ঠানিক কর্মক্ষেত্রে সহায়তার নিমিত্তে ওইঈঝ-চজওগঅণ সঙ্গে যৌথ পরিচালনায় প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ একটি কর্মশালার আয়োজন করেছে। শুধু কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেই নয়, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ শিক্ষার্থীদের গবেষণাক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পরিচিত করতে সর্বদা সচেষ্ট।
শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি সহপাঠ্যক্রম কার্যাবলীতে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের অংশগ্রহণ এবং অর্জন উল্লেখযোগ্য। অনুষদের কালচার ক্লাব, ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোজেক্ট ক্লাব, স্পোর্টস ক্লাব, ডিবেটিং ক্লাব, কম্পিউটার ক্লাব, সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ক্লাব ও সেমিনার ক্লাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নানামুখী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগের ঠিকানা : রোড নং # ৩, বাড়ী নং # ১৫/২, ধানমণ্ডি আ/এ, ঢাকা-১২০৫; ফোন : ৯৬৭৬০৩১-৫, মোবাইল : ০১৭৪১-৩০০০০২, ০১৮২৩-৬৬০৮৩৩

Sunday, October 3, 2010

অন্ধদের দৃষ্টি ফেরাতে চিপ

অন্ধদের দৃষ্টি ফেরাতে চিপ

যারা চোখের রেটিনার সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অন্ধ তাদের জন্য সুখবর বয়ে এনেছে জার্মানির টুবিনজেন বিশ্ববিদ্যালয় এবং রেটিনা ইমপ্ল্যান্ট এজি কোম্পানির বিজ্ঞানীরা। অন্ধদের চোখের রেটিনার পেছনে ছোট্ট একটি চিপ বসিয়ে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন এখানকার গবেষকরা। টুবিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এবারহার্ট জ্রেনারের মতে এই চিপস প্রতিস্থাপন করে আমরা অনেকের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। যে ক’জন রোগীর ওপর এই চিপস প্রতিস্থাপন করা হয়েছে তাদের মধ্যে কয়েকজন রেটিনার অসুখ রেটিনাইটিস পিগমেনটোসা বা আরপি এবং অন্যরা করোইডারেমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। আরপি রোগীদের অন্ধত্ব ছোটবেলা থেকেই শুরু হয়। তারা তখন রাতকানা, কোনো সুড়ঙ্গে আলো কম থাকলে না দেখা ইত্যাদি সমস্যায় আক্রান্ত হন এবং পরবর্তীকালে পুুরোপুরি অন্ধ হয়ে যান। এমনই এক অন্ধ ফিনল্যান্ডের মিক্কা টেরহো (৪৬)। তিনি আগে কিছুই দেখতে পেতেন না। জার্মানিতে চিকিত্সকরা তার রেটিনার পেছনে নতুন উদ্ভাবিত এই চিপ প্রতিস্থাপন করার পর তিনি দেখতে পাচ্ছেন। তাকে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, তিনি টেবিলের চামচ, মগ, প্লেট, ঘড়ির কাঁটা ইত্যাদি চিনতে পারছেন। ধূসর রঙের কয়েকটি শেডও আলাদা শনাক্ত করতে পারছেন। তিনি এখন ঘরে একাই ঘোরাফেরা করতে পারছেন। তিনি লোকজনের সঙ্গে মতবিনিময়ও করছেন। পরে আরও পরীক্ষা করে দেখা গেছে, তিনি বড় অক্ষরের লেখাও পড়তে পারছেন।
চোখের রেটিনাজনিত অন্ধত্ব সারাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেকেন্ড সাইট নামের একটি কোম্পানিও চিপস উদ্ভাবন করেছে। তবে তাদের চিপস দিয়ে সরাসরি দেখা যায় না। দেখার জন্য চোখের সামনে আলাদা ক্যামেরা বসাতে হয়। জার্মানির বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত চিপস চোখে পতিত আলোকে ইলেকট্রিক ইমপালসে রূপান্তরিত করে চোখের পেছনে অপটিক নার্ভে সঞ্চালিত করে ব্যক্তিকে দেখার শক্তি জোগায়। এই চিপটি পরিচালিত হয় ক্ষুদে ব্যাটারির মাধ্যমে যা কানের পেছনে আটকানো থাকে। এখান থেকে একটি ক্ষুদ্র তারের সাহায্যে রেটিনার পেছনে চিপটির সংযোগ দেয়া হয়। বিবিসি, গার্ডিয়ান

ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন-১ : সয়েল টেস্টিং কিট

ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন-১ : সয়েল টেস্টিং কিট

এমরানা আহমেদ

সেন্ট যোসেফ স্কুলের ক্ষুদে বিজ্ঞানী সাদ আহমেদ আকাশের উদ্ভাবন সয়েল টেস্টিং কিট। তার উদ্ভাবিত এ পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে মাটির জৈব পদার্থের পরিমাণ, ফসফরাস, সালফার বা অন্য যে কোনো পদার্থের শতকরা পরিমাপ অতিসহজেই নিরূপণ করা যাবে। এ পরিমাপ জানার পর বোঝা যাবে কোন মাটিতে কী ধরনের ফসল ফলবে। এভাবে উপযুক্ত মাটিতে প্রয়োজনীয় ফসলের চাষ করার মাধ্যমে ভালো ফসল পাওয়া সম্ভব। এছাড়াও বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের মাটি বেশি উর্বর সেটিও জানা সম্ভব হবে এ পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে। উর্বরতার ওপর ভিত্তি করেই বোঝা যাবে সেই অঞ্চলে কোনো ধরনের ফসল বাণিজ্যিক পদ্ধতিতে চাষ করা যাবে।
সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর সেকশন জেটসের ক্ষুদে বিজ্ঞানী সাদ আহমেদ আকাশ এই প্রতিবেদককে জানান, এ পদ্ধতি ব্যবহারে উপযুক্ত মাটিতে প্রয়োজনীয় ফসলের চাষ করার মাধ্যমে ভালো ফলন পাওয়া যাবে। দেশের কৃষিক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারবে। আকাশ আরও জানায়, সয়েল টেস্টিং কিট বাংলাদেশের মতো কৃষিনির্ভর দেশে অর্থনৈতিক উত্কর্ষ সাধনের জন্য যথোপযুক্ত। তার এই পদ্ধতি প্রয়োগে দেশের কৃষি আরও উন্নয়নের দিকে যাবে বলে তার কাছে মনে হয়েছে।
এরই মধ্যে মানিকগঞ্জে মাঠ পর্যায়ে শুরু হয়ে গেছে সয়েল টেসিল্টং কিট পদ্ধতির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ।
ক্ষুদে বিজ্ঞানী সাদ আহমেদ আকাশ কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে এই টেসিল্টং কিট এনে এ পদ্ধতির আরও উন্নতর প্রয়োগ করেছে। তার এ পদ্ধতিটি তাদের বিদ্যালয় আয়োজিত বিজ্ঞান মেলায় একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সে তুলে ধরে। এ পদ্ধতিটি উপস্থিত দর্শকদের এবং বিজ্ঞান মেলার বিচারকদের মুগ্ধ করেছিল। তার প্রকল্পটি উপস্থাপন করে জেটস সেকশন থেকে প্রথম স্থান অধিকার করে।

Friday, October 1, 2010

গাড়ি নিয়ে পালাবে কোথায়?

গাড়ি নিয়ে পালাবে কোথায়? একটু বেখেয়াল হলেই কয়েক লাখ টাকা দামের গাড়িটি নিয়ে চম্পট দিতে পারে চোর। টাকার লোভে আপনার অজান্তে যাত্রী বা মালামাল বহন শুরু করতে পারে অসৎ ড্রাইভার। তবে জিপিএস প্রযুক্তির সহায়তায় গাড়ির তাৎক্ষণিক অবস্থান জানা এখন অনেক সহজ। স্টিয়ারিং হাতে না থাকলেও দূর থেকে গাড়ি বন্ধ করে দেওয়াও সম্ভব। বিস্তারিত জানাচ্ছেন
আল-আমিন কবির গাড়ি নিয়ে ভাবনার দিন বুঝি ফুরোল। মাত্র কয়েকটি প্রযুক্তি, ব্যস। নিত্যনতুন আপনার গাড়িটি চোখের আড়ালে রেখেও এবার নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। অবশ্য এ জন্য গাঁট থেকে কিছু পয়সা খসবে। প্রযুক্তি-সংশ্লিষ্টরা এ ব্যবস্থার নাম দিয়েছেন 'ভেহিকল ট্র্যাকিং সিস্টেম'।

যেভাবে কাজ করে
ভেহিকল ট্র্যাকিং সিস্টেমে যানবাহনের অবস্থান বের করার জন্য গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম বা জিপিএস, জিপিআরএস এবং জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেম বা জিআইএস একত্রে কাজ করে। প্রতিটি প্রযুক্তিই আলাদাভাবে কাজ করলেও এটির সমন্বিত ফলাফলেই একটি যানবাহনের সুনির্দিষ্ট অবস্থান বের করা সম্ভব। এর জন্য নির্দিষ্ট যানবাহনটিতে আগে একটি বিশেষ ধরনের জিপিএস সমর্থক ডিভাইস ইনস্টল করতে হয়। গাড়ির গোপন স্থানে থাকা এ ডিভাইসটি মালিককে তাঁর গাড়ির সব ধরনের তথ্য দেয়। ডিভাইসটি জিপিআরএসের মাধ্যমে ওয়েবে এবং সংশ্লিষ্ট সার্ভারে বার্তা পাঠাতে সক্ষম। জিপিএস প্রযুক্তি জিপিআরএসের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জিআইএস ম্যাপে প্রদর্শন করতে পারে নির্দিষ্ট যানবাহনটি কোথায় আছে, কিভাবে আছে।
ভেহিকল ট্র্যাকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান 'এনট্র্যাক'-এর বিক্রয় বিভাগের সিনিয়র নির্বাহী তন্ময় সাহা জানান, যানবাহন ট্র্যাক করার এ প্রযুক্তির মাধ্যমে গাড়ির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে যেমন জানা সম্ভব তেমনি এর মাধ্যমে গাড়ির গতিও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। চালক বেপরোয়া গতিতে চালালেও মালিক ঘরে বসে তা স্বাভাবিক গতিতে ফিরিয়ে আনতে পারবেন। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা অনেকটাই কমবে। কোনোভাবে গাড়ি চুরি হলেও মালিক দূর থেকে এর স্টার্ট বন্ধ করে দিতে পারবেন। ফলে গাড়ি খোয়া যাওয়ার আশঙ্কাও কমে যাবে।
গাড়ি চলার সময় তেলের খরচ, তেলের বর্তমান অবস্থা ইত্যাদি সম্পর্কেও ব্যবহারকারীকে বিস্তারিত তথ্য দেবে এ প্রযুক্তি। একই সঙ্গে এ ডিভাইস এক স্থান থেকে অন্য স্থানের দূরত্ব নিরূপণ, ট্রিপ রিপোর্ট এবং ওভারস্পিড রিপোর্টও আলাদা করে দিতে পারে।
এ সেবার ব্যবহারকারীরা ওয়েবসাইট, মোবাইল এসএমএস এবং নির্দিষ্ট কল সেন্টারের মাধ্যমে গাড়ির অবস্থান জানতে পারবেন। ব্যবহারকারীরা যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে এ সেবা নেবেন তাদের প্রত্যেকেরই আলাদা ওয়েবসাইট রয়েছে। এ ওয়েবসাইটে গাড়ির মালিককে তার ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে। এর পরই তাঁর গাড়ির সম্পর্কে সব তথ্য জানা যাবে। এ ওয়েবসাইট ছাড়াও এসএমএসের মাধ্যমে গাড়ির আপডেট পাওয়া যাবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানই ঠিক করে দেবে ব্যবহারকারী কোন নম্বরে কী লিখে এসএমএস পাঠাবেন। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আলাদা কল সেন্টারও রয়েছে, যেখানে কল করে ব্যবহারকারী তাঁর গাড়ির তথ্য জানতে পারবেন।

রয়েছে পুলিশি সেবাও
চুরি হওয়া গাড়ি তাৎক্ষণিক উদ্ধারে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগে 'অটোমেটিক ভেহিকল ট্র্যাকিং ইউনিট' নামে একটি আলাদা ইউনিটও খোলা হয়েছে। ট্র্যাকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান 'এনট্র্যাক'-এর সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে এ সেবা ঢাকা মেট্রোপলিশন পুলিশ বা ডিএমপিতে চালু করা হয়েছে। যেসব যানবাহনে এ ডিভাইসটি ইনস্টল করা থাকবে তার মালিক সংশিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ডিএমপিকে জানাতে পারবেন। ডিএমপি এ সিস্টেম ব্যবহার করে গাড়িটির অবস্থান ও গতিবিধি নির্ণয় করে সেটি উদ্ধারে তাৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেবে।

সব গাড়িতেই বসানো যাবে
তন্ময় সাহা জানান, বেশির ভাগ মানুষের ধারণা, এ ধরনের ট্র্যাকিং সিস্টেম শুধু প্রাইভেটকার বা মাইক্রোবাসের ক্ষেত্রেই কাজ করে। এ জন্য অন্যান্য যানবাহনে তারা এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো উদ্যোগ নেয় না। এ জন্য তারা প্রায়ই ব্যাপক ক্ষতিরও সম্মুখ হয়। ট্রাক বা অন্যান্য মালবাহী গাড়িতে অন্য কারো মালামাল ওঠানো হচ্ছে কি না সেটিও জানা সম্ভব এ ধরনের প্রযুক্তির মাধ্যমে। মোটরগাড়ি, বাস, ট্রাক, মিনিবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ সব ধরনের যানবাহনেই এ প্রযুক্তি কাজ করবে। এ জন্য ডিভাইসটি ইনস্টল করে নিতে হবে গাড়িতে।

খরচাপাতি
ডিভাইসটির দাম পড়বে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। আর প্রতি মাসে ব্যবহারকারীদের দিতে হবে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। তবে প্রতিষ্ঠানভেদে এবং করপোরেট ব্যবহারকারীদের জন্য খরচের হেরফের হতে পারে। অনেক গাড়ির জন্য একই সঙ্গে এ প্রযুক্তির সহায়তা নিলে খরচ কম পড়ে।
ছয় মাস ধরে গাড়িতে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন গুলশানের মিজানুর রহমান। 'এ প্রযুক্তি ব্যবহার করলে গাড়ির খরচ কিছুটা বাড়ছে এটা সত্য, কিন্তু সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনা করলে খরচটা তেমন কিছু নয়। যে ব্যক্তি ১০ থেকে ৩০ লাখ বা ৪০ লাখ টাকা খরচ করে গাড়ি কিনবেন তিনি তাঁর গাড়ির নিরাপত্তার জন্য স্বল্প পরিমাণের এ খরচকে বড় মনে করবেন না। আমি ছয় মাসে এ সেবা ব্যবহার করে অনেক সুবিধা পাচ্ছি। আমার গাড়ি এখন অনেক নিরাপদ।' _এমনটিই জানালেন বেসরকারি ব্যাংকের এ কর্মকর্তা।

যারা সেবা দেবে

বিডিকম : 'গ্রাহকদের চাহিদামতো সব ধরনের সুবিধা দিতেই আমরা প্রস্তুত রয়েছি। আর আমাদের যানবাহন ট্র্যাকিং সিস্টেমেও রয়েছে প্রয়োজনীয় সব সুবিধা।'_জানালেন বিডিকম অনলাইনের প্রধান নির্বাহী সুমন আহমেদ সাবির। প্রতিষ্ঠানটির এ সুবিধা সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করতে হবে বাড়ি-৪৩, রোড-২৭ (পুরাতন), ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২০৯ ঠিকানায়। এ ছাড়া ৮১২৫০৭৪-৫ ফোনে এবং ওয়েবে www.bdcom.com-এ এ সেবা সম্পর্কে জানা যাবে।

ফাইন্ডার : এ প্রতিষ্ঠানটিও ভেহিকল ট্রাকিং-সংক্রান্ত সব ধরনের সেবা দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির ঢাকা অফিসের ঠিকানা : হাউস নম্বর-৭৬৯ (দ্বিতীয় তলা), সাত মসজিদ রোড, ধানমণ্ডি, ঢাকা-১২০৯। ৮১৫৭২১২ এবং ৮১৫৭১৩২ নম্বরে ফোন করে বিস্তারিত জানা যাবে। ওয়েবে জানতে পারেন www.finder-lbs.com থেকে। ঢাকার বাইরে সিলেট, চট্টগ্রাম, বগুড়াসহ বেশ কয়েকটি স্থানে এর আঞ্চলিক শাখা রয়েছে।
ট্র্যাক বাংলা : ট্র্যাক বাংলার যানবাহন ট্র্যাকিং সিস্টেম সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটির মাহবুব ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, ডিএমসি-ক-৪৬ (নিচতলা), মহাখালী দক্ষিণপাড়া, গুলশান, ঢাকা ঠিকানার অফিসেও যোগাযোগ করা যাবে। ০১৮১৭০০৪৩৩৫ নম্বরে কল করার পাশাপাশি www.trackbangla.com ঠিকানার ওয়েবসাইট থেকেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।
এনট্রাক : পরিবহন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিটল-নিলয় গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান এনট্রাক। www.nitsbd.com থেকে প্রতিষ্ঠানটির ভেহিকল ট্রাকিং সিস্টেম সম্পর্কে জানা যাবে। ফোন করা যাবে ০১৯৭০০০০৯৯৯ নম্বরে। মোবাইল ফোন অপারেটর বাংলালিংকের সাথে চুক্তিবদ্ধভাবে এসএমএসের মাধ্যমে ট্রাকিং সুবিধা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
তালুকদার আইসিটি : তালুকদার আইসিটির বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এঙ্িিকউটিভ মাহফুজুর রহমান জানান, গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের যানবাহন ট্র্যাকিং প্রযুক্তি সেবা দেওয়া হচ্ছে। ৫৭/১২ (তৃতীয় তলা, সোনারগাঁও প্লাজা, পূর্ব রাজাবাজার, পান্থপথ, ঢাকা ঠিকানায় সরাসরি যোগাযোগের পাশাপাশি ০১৭৩০-০৬১৮৮৮ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। www.talukderict.com/ vehicle-tracking-system.php ওয়েবসাইট থেকেও জানা যাবে বিস্তারিত।

লামায় বিরল প্রজাতির প্রাণী আটক

লামায় বিরল প্রজাতির প্রাণী আটক

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি
বান্দরবানের লামায় বিরল প্রজাতির একটি প্রাণী ধরা পড়েছে। স্থানীয় লোকজন দাবি করছেন, ধরাপড়া প্রাণীটি লতা বাঘ। সোমবার সকালে লামা বন বিভাগের আওতাধীন বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের পূর্বপাড়ায় এইচএম এরফানের বাড়িতে হানা দিলে লোকজন প্রাণীটিকে ধাওয়া করে কৌশলে ধরে ফেলে। প্রাণীটি খয়েরি ও কালো রংয়ের ডোরাকাটা। দৈর্ঘ্য আনুমানিক ৪ ফুট। বর্তমানে এটি এরফানের বাড়িতে রয়েছে।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট লামা সদর রেঞ্জ বন কর্মকর্তা কেএম নিজাহার উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। কাল সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বিরল প্রজাতির প্রাণীটি দেখার জন্য দূরদূরান্ত থেকে শত শত উত্সুক জনতা ভিড় জমায়।
Source: Daily Amardesh, 22-10-10

নার্সারী করে স্বাবলম্বী সখীপুরের কিসমত আলী কোটিপতি

নার্সারী করে স্বাবলম্বী সখীপুরের কিসমত আলী কোটিপতি

০০ মামুন হায়দার, সখীপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

কিসমত আলী তখন এসএসসি পাস করে সবেমাত্র ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হয়ে টাকার অভাবে লেখাপড়া করতে পারছিলেন না। বেকার যুবক কিসমতের অভাব ঘুচানোর চিন্তা সব সময় মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। অভাবের তাড়নায় পড়ালেখা বাদ দিয়ে ভবঘুরে হয়ে গেলেন কিসমত। এ অবস্থায় পারিবারিক চাপে বিয়ে করা এবং নববধূকে নিয়ে সংসার চালানো কঠিনভাবে ভাবিয়ে তুললো কিসমতকে। সে সময়ে নানা জায়গায় কর্মসংস্থানের খোঁজে ব্যর্থ হয়ে স্থানীয় (মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র) প্রশিকা এনজিওতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে সেখান থেকে মাত্র ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে নার্সারী করা শুরু করলেন। প্রথম ১/২ বছরে লাভের মুখ দেখলেন। সেই থেকে শুরু নার্সারী করা। তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। শুধুই সফলতা আর সফলতা। এভাবেই কথাগুলো বললেন এক সময়ের চরম হতদরিদ্রের কশাঘাতের মানুষ আজকের সফল কিসমত আলী। একে একে জানালেন কিসমতের সফল হওয়ার কাহিনী।

১৯৯৫ সাল। প্রশিকার ১০ হাজার টাকার ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে বাপের এক টুকরো জমিতে নার্সারী শুরু করেন। নার্সারীর প্রচার-প্রসার বাড়তে থাকলে জমি লিজ নিয়ে নার্সারীতে চারা উৎপাদন করেন। কিসমত আলী তিন একর জমি ১০ বছরের মেয়াদে লিজ নিয়ে বনজ, ফলদ ঔষধিসহ নানা প্রজাতির বৃক্ষের চারা উৎপাদন করছেন। সখীপুর সাগরদীঘি মহাসড়কের পাশেই কচুরা গ্রামে তার 'ইসমতারা' নার্সারীর বাগান। এক সময় কিসমত আলী নার্সারীর চারা বিভিন্ন হাট-বাজারে ফেরি করে বিক্রি করতেন। এখন তার বাগান থেকেই নারী-পুরুষরা চারা কিনতে আসেন। কিসমত আলী জানান প্রতিবছর তার নার্সারীতে তিন লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়। এর বিপরীতে উৎপাদন খরচ বাদে সে প্রতিবছর ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা লাভ পাচ্ছেন। বাৎসরিক ৫ জন এবং দৈনিক ১০/১২ জন শ্রমিক তার নার্সারীতে কাজ করছেন। কিসমত আলী নার্সারী করে স্বাবলম্বী হয়ে পরিবারের অভাব ঘুচিয়ে এখন একজন আদর্শ সফল মানুষ। তার দেখাদেখি সখীপুরের অনেক বেকার যুবক-যুবতী এ পেশায় নেমে স্বচ্ছল হচ্ছেন।

কিসমতের বাড়ি সখীপুর সদরে। বাবা গত হয়েছেন অনেক আগেই। স্ত্রী, দুই মেয়ে নিয়ে সুখে আছেন। এক সময় দু'মুঠো ভাতও যার জুটতো না, সেই কিসমত নার্সারী করে ২০ বিঘা জমি কিনেছেন, বাড়িতে পাকা ঘর। ৮/১০টি গরু পালন করেন। কিসমত আলী বেকাদের উদ্দেশ্যে বলেন, যারা এমন অভিশপ্ত জীবন যাপন করেন তারা ঘরে বসে না থেকে বা চাকরির পিছনে না ঘুরে নার্সারীর মতো পেশায় এলে তাদের সাফল্য অবারিত। এতে নিজে স্বাবলম্বী ও পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রণী ভূমিকা পালনও সম্ভব।

হতে চাই ই-কৃষক

হতে চাই ই-কৃষককৃষিকাজে এত দিন বয়োজ্যেষ্ঠ কৃষক আর কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শই ছিল ভরসা। সময় বদলেছে। ইন্টারনেট প্রযুক্তির কল্যাণে কৃষকরা এখন তথ্যকেন্দ্র থেকে নামমাত্র খরচে যেকোনো কৃষি সমস্যার সহজ সমাধান পাচ্ছেন। লিখেছেন হাবিবুর রহমান তারেক খুরারোগের ব্যবস্থাপত্রের জন্য মজিবুর রহমানকে এখন আর ১১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কৃষি অফিসে যেতে হয় না। গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সিঙ্গুয়া গ্রামের এ কৃষক জানান, মাত্র ১০ টাকা খরচ করে স্থানীয় বাজারের তথ্যকেন্দ্র থেকে ইন্টারনেটেই তিনি এ সমস্যার সমাধান পেয়েছেন। মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তারবিহীন ইন্টারনেট সংযুক্ত কম্পিউটারের মাধ্যমে নিকটবর্তী তথ্যকেন্দ্রে কৃষিবিষয়ক তথ্যসেবা পাচ্ছেন মজিবুরের মতো অনেক সচেতন কৃষক। সরেজমিন নরসিংদী ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় কৃষি তথ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করে এবং কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এ কৃষিসেবার সত্যতা পাওয়া গেছে।দেশজুড়ে কৃষি তথ্যসেবাকেন্দ্র
সারা দেশে এরই মধ্যে এক হাজারের বেশি কৃষি তথ্যসেবাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। কার্যক্রম ও সেবার মানের দিক থেকে এগিয়ে আছে গ্রামীণফোন কমিউনিটি ইনফরমেশন সেন্টার (জিপি-সিআইসি), রুরাল ইনফরমেশন সেন্টার (আরআইসি), অ্যাগ্রিকালচার ইনফো সেন্টার (এআইসিসি) এবং পল্লী তথ্যকেন্দ্র। প্রতিটি উপজেলায়ই জিপি-সিআইসির কার্যক্রম রয়েছে। এ সংস্থা ২০০৬ সালে ৫০০-রও বেশি তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করে। প্রাথমিক পর্যায়ে তথ্যকেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন নাগরিকসেবা দেওয়া হতো। ২০০৭ সালে কিছু তথ্যকেন্দ্র পরীক্ষামূলক কৃষি তথ্যসেবা দেওয়া শুরু করে। এখন প্রায় সব কেন্দ্র থেকেই এ সেবা দেওয়া হচ্ছে।
কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে 'ই-কৃষক' কর্মসূচি চালু করেছে জিপি-সিআইসির সহযোগী প্রতিষ্ঠান উইন ইনকরপোরেট। উইন ইনকরপোরেটের প্রধান নির্বাহী ড. কাশফিয়া আহমেদ জানান, 'বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে অনলাইনে কৃষিসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দেওয়া হচ্ছে এবং দেশব্যাপী বিভিন্ন তথ্যকেন্দ্রের উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, দিকনির্দেশনা ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষিসেবা দেওয়া হচ্ছে।'
তিনি জানান, তথ্যকেন্দ্রগুলো থেকে সপ্তাহে গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন তথ্যসেবা নিচ্ছেন। এ পর্যন্ত সহস্রাধিক কৃষক তথ্যসেবা নিয়ে উপকৃত হয়েছেন।
জিপি-সিআইসি সূত্রে জানা গেছে, তথ্যকেন্দ্রের অবস্থান জানতে www.gpcic.org অথবা www.ruralinfobd.com ওয়েবসাইট ভিজিট করতে হবে।
এসএমএসের মাধ্যমেও জানা যাবে নিকটস্থ তথ্যকেন্দ্রের ঠিকানা। গ্রামীণফোন অপারেটরের মোবাইল থেকে মেসেজ অপশনে গিয়ে ঈওঈ টাইপ করে একটা স্পেস দিয়ে উপজেলার নাম লিখে পাঠিয়ে দিন ২০০০ নম্বরে। ফিরতি মেসেজে উলি্লখিত উপজেলার তথ্যকেন্দ্রের অবস্থান জানা যাবে।
যেভাবে পেঁৗছে দেওয়া হয় কৃষি তথ্যসেবা
এ সেবা পেতে প্রথমে যোগাযোগ করতে হবে স্থানীয় তথ্যকেন্দ্রে। প্রাথমিক অবস্থায় তথ্যকেন্দ্রের অপারেটর www.ruralinfobd.com ওয়েবসাইটে সম্ভাব্য সমাধান আছে কি না তা দেখেন। অন্যথায় সংক্রমিত ফসল কিংবা গবাদিপশুর কিছু স্থিরচিত্র এবং রোগের বিবরণসহ ইমেইল করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে। ফিরতি ইমেইলেই থাকে সমাধান। প্রয়োজনে ভয়েস অথবা ভিডিও কনফারেন্সের সাহায্যও নেওয়া হয়।

'ই-কৃষক' কর্মসূচি
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব আইসিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (বিআইআইডি) ও জিপি-সিআইসির সহায়তায় ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে 'ই-কৃষক' কর্মসূচি চালু করে উইন ইনকরপোরেট। এখন ১০০টি কেন্দ্রের মাধ্যমে এ কর্মসূচির কার্যক্রম চলছে। বিআইআইডির ওয়েবসাইট (www.biid.org.bd) সূত্রে জানা যায়, কৃষিসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তথ্যসেবাকেন্দ্রের উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
তবে সেবা পেতে অবশ্যই কৃষককে তাঁর নিকটবর্তী তথ্যসেবাকেন্দ্র অথবা কমিউনিটি ইনফরমেশন সেন্টারের মাধ্যমে 'ই-কৃষক সদস্য ফরম' পূরণ করে সদস্য হতে হবে। বিআইআইডি থেকে সরবরাহ করা ফরম পূরণের পর প্রত্যেক কৃষককেই বিশেষ নম্বরসহ আইডি কার্ড দেওয়া হয়। অনলাইনে নির্দিষ্ট ফরম পূরণের মাধ্যমেও যেকোনো কৃষক 'ই-কৃষক' হিসেবে নিবন্ধিত হতে পারবেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম
বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় 'কৃষিতথ্য সার্ভিস' নামের একটি তথ্যসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ওয়েবসাইট-ভিত্তিক এ সেবাটি দেওয়া হচ্ছে 'কৃষিতথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র' (এআইসিসি)-এর মাধ্যমে।
কৃষিতথ্য সার্ভিসের ওয়েবসাইটে (www.ais.gov.bd) ই-কৃষি নামের একটি লিংক আছে। এখান থেকে কৃষক নিজে কিংবা এআইসিসির অপারেটরের সাহায্যে কৃষিবিষয়ক তথ্য পাবেন। তবে এ সাইটটিকে আরো তথ্যবহুল ও যুগোপযোগী করা উচিত বলে মত দেন কৃষি কর্মকর্তারা।

কৃষিবিষয়ক ওয়েবসাইট
শুধু কৃষি তথ্যকেন্দ্রই নয়, ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে কৃষিবিষয়ক বিভিন্ন তথ্য। কৃষকদের জন্য বিভিন্ন পরামর্শের পাশাপাশি তাদের সফলতার গল্প ও কৃষি ব্যবসাবিষয়ক তথ্যও রয়েছে এসব সাইটে। মসলা, ঔষধি, ফলদ গাছের চাষ পদ্ধতির তথ্যও মিলবে এসব সাইটে।
www.agrobangla.com ঠিকানার ওয়েবসাইটটিতে রয়েছে ধান, আলু, শাকসবজি, সারসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আর সংশ্লিষ্ট কৃষকদের জন্য পরামর্শ। এখানে ফলমূল ও শাকসবজি চাষ, বাড়ির ছাদে টবে ধান, সবজি, ফুল চাষ পদ্ধতিসহ প্রয়োজনীয় কৃষিবিষয়ক আরো তথ্য মিলবে। কৃষি সংক্রান্ত আরো তথ্য পাওয়া যাবে www.ais.gov.bd, www.ekrishok.com, www.krishibangla.com, www.moa.gov.bd, www.badc.gov.bd, www.knowledgebank-brri.org, www.dae.gov.bd, www.bari.gov.bd, www.bina.gov.bd, www.sca.gov.bd সাইট থেকে।