Thursday, July 15, 2010

গণতন্ত্র উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তি

গণতন্ত্র উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তি

বর্তমান সময়ে আলোচনার একটি অন্যতম বিষয়বস্তু হচ্ছে গণতন্ত্র এবং রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত উন্নয়ন। বর্তমান সরকার বেশকিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে। গণতন্ত্র উন্নয়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ এবং কীভাবে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্বচ্ছতা নিয়ে আসা যায় তা নিয়ে বর্তমান সরকার, জনগণ ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো আলাপ-আলোচনা করছে। আজকের প্রবন্ধ গণতন্ত্র উন্নয়নে অন্যান্য দেশ কীভাবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছে এবং কীভাবে আমাদের দেশেও ভূমিকা পালন করতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করা হলো। লিখেছেন ড. মশিউর রহমান

গণতন্ত্র উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তি
প্রথমত রাষ্ট্র, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, নির্বাচন ইত্যাদি সংক্রান্ত তথ্য জনগণের কাছে দ্রুত পৌঁছানোর জন্য গণতন্ত্র উন্নয়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ভূমিকা পালন করতে পারে।
দ্বিতীয়ত সহজে ও দ্রুততার সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাপারে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে এবং জনগণের মতামত সংগ্রহ করতে আইসিটি ভূমিকা রাখতে পারে।
রাজনীতির ক্ষেত্রে
রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোও তথ্যপ্রযুক্তিকে ব্যবহার করতে পারে তাদের সাংগঠনিক অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এবং জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে। রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ওয়েবসাইটে তাদের কর্মসূচিগুলো তুলে ধরতে পারেন। এছাড়া তাদের ব্যাপারে জনগণের মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি জানার জন্য ওয়েবসাইটগুলোর ফোরাম, মতামত, পুল ব্যবহার করা যেতে পারে। জনগণের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি জানার জন্য বর্তমানে আমরা নির্ভর করছি মিডিয়ার ওপর। সাংবাদিক ও লেখকরা যা লিখছেন, তা-ই যে জনগণের মতামত তাও কিন্তু নয়। কেননা এই মাধ্যমগুলোর কোনো কোনোটি আবার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির দ্বারা চালিত হয়ে থাকে। জনগণ সত্যিকারভাবে কী ভাবছে তা জানার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি বিভিন্নভাবে ভূমিকা রাখতে পারে।
বিগত আমেরিকার নির্বাচন নিয়ে সারাবিশ্বে খুব হৈচৈ হয়েছে এবং এক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। প্রার্থীরা নিয়মিত অনলাইনে তাদের ব্লগ লিখেছেন এবং সেখানে জনগণ সরাসরি তাদের মন্তব্য প্রার্থীদের জানিয়েছেন। এভাবে রাজনীতিকরা বুঝতে পারছেন জনগণের আকাঙ্ক্ষা। এছাড়া প্রার্থীরা তাদের ভিডিওগুলো ইউটিউব গুগল ভিডিওর মাধ্যমে অনলাইনে প্রচার করছেন। আমেরিকায় নির্বাচনের সব প্রার্থীরই ছিল খরহশবফরহ, Myspace, Facebook-এর মতো সোশ্যাল সাইটগুলোতে নিজস্ব ওয়েবসাইট। এই সাইটগুলো তাদের প্রচারণার জন্য খুবই সাহায্য করছে। এছাড়া জনগণের মতামত প্রার্থীরা জানতে পারছেন এই সাইটগুলোর মাধ্যমে। বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য তাদের আয়-ব্যয়, সংগৃহীত অর্থ সংক্রান্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য ওয়েবসাইটেই প্রকাশ করছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা একইভাবে ইন্টারনেটের এই টুলসগুলো ব্যবহার করে জনগণের সঙ্গে আরও সম্পৃক্ত হতে পারেন এবং তাদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারেন।
বারাক ওবামার ফেসবুক সাইট
বাংলাদেশেও গণতন্ত্র উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তিকে ব্যবহার করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে যা কিছুটা আশাব্যঞ্জক। উদাহরণস্বরূপ প্রথমেই বলতে হয় সুজনের পদক্ষেপের কথা। জাতীয় ও আঞ্চলিক ভোটগুলোতে যেসব প্রার্থী ভোটপ্রার্থী হবেন, তাদের তথ্যগুলো জনগণের কাছে পৌঁছানোর জন্য সুজন votebd.org ওয়েবসাইটটি তৈরি করেছিল। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে খুব সহজেই জনগণের কাছে তথ্য পৌঁছানো সম্ভব। এছাড়া সুজন ভোটের প্রার্থীদের সম্পর্কে জাতীয় সংবাদপত্রগুলোতে প্রকাশিত সংবাদ আর্কাইভগুলো দিয়েছিল। আমরা যেহেতু একটু ভুলোমনা, তাই আমাদের জন্য এই আর্কাইভগুলো সাহায্য করেছিল বৈকি! এছাড়া নির্বাচন কমিশনও প্রার্থীদের হলফনামার তথ্য তাদের ওয়েবসাইটে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিল।
তথ্যপ্রযুক্তি আমাদের আগামী বিশ্বের গণতন্ত্রকে অনেকখানিই বদলে দেবে। এমন একদিন আসবে যখন আর মানুষকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হবে না। ইতোমধ্যেই ইন্টারনেট বা অনলাইন ভোট, এসএমএস ভোট বিভিন্ন সংগঠনের নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। উদাহরণস্বরূপ ORCA নামে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের সাবেক ছাত্রদের সংগঠন তাদের সাংগঠনিক নির্বাচনে অনলাইন ভোট ব্যবহার করে। কিছুদিন আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমরা ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোট দিতে দেখেছি। আগামীতে এই প্রযুক্তিগুলো আমাদের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে ভূমিকা রাখতে পারে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে এখন সরাসরি জনগণের পরিবর্তে জনগণের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু ভবিষ্যতে জনগণই সরাসরি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে মতামত রাখতে পারবে।

আইএমআরএস : হাতের মুঠোয় গ্রন্থাগার

আইএমআরএস : হাতের মুঠোয় গ্রন্থাগার উন্নত বিশ্বের অনেক গ্রন্থাগারেই তথ্যসেবা হিসেবে চালু রয়েছে ইন্সট্যান্ট মেসেজিং রেফারেন্স সার্ভিস বা আইএমআরএস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক নাফিজ জামান শুভ নরওয়ে ও এস্তোনিয়ায় এ বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছেন। সম্প্রতি তাঁরই তত্ত্বাবধানে দেশে প্রথমবারের মতো ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে সেবাটি চালু হয়েছে। আইএমআরএস নিয়ে লিখেছেন তিনি।ঘরে বসেই গ্রন্থাগার থেকে আনা বইটির ফেরত দেওয়ার সময় বাড়াতে পারলে কিংবা গ্রন্থাগারে নতুন আসা বইটি নিজের নামে রিজার্ভ করতে পারলে মন্দ হয় না। আর এ সুবিধা যদি পাওয়া যায় বিনা খরচে, তাহলে তো আরো ভালো। উন্নত বিশ্বে সেবাটি অনেক আগে থেকেই চালু আছে। এর নাম ইন্সট্যান্ট মেসেজিং রেফারেন্স সার্ভিস বা আইএমআরএস।
১৯৮০ সালের দিকে 'ভার্চুয়াল গ্রন্থাগার' নিয়ে তথ্য বিজ্ঞানীরা কাজ শুরু করেন। নব্বইয়ের দশকে এসে তা পূর্ণতা পায়। ২০০০ সালের শুরুতেই আইএমআরএস এ তথ্যসেবার ধারণাই বদলে দেয়। এ পদ্ধতিতে লাইব্রেরি-সংক্রান্ত তথ্যসেবা চলে আসে হাতের মুঠোয়। ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় গত ১৮ জুলাই সীমিত পরিসরে দেশে প্রথমবারের মতো আইএমআরএস সেবা চালু করেছে। শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গবেষণাকাজে সহযোগিতার জন্য ইস্ট ওয়েস্ট গ্রন্থাগার থেকে তাৎক্ষণিক তথ্যসেবা পাচ্ছেন।

আইএমআরএস কী
যাদের ই-মেইল অ্যাকাউন্ট আছে, বিশেষ করে জিমেইল বা ইয়াহু, তারা কমবেশি ইন্সট্যান্ট মেসেজিং বা আইএমের সঙ্গে পরিচিত। অনলাইন বন্ধুদের সঙ্গে ব্যবহারকারী মেইলের বিকল্প হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে যে বার্তা আদান-প্রদান করে থাকেন, তাকে আইএম বলে। গ্রন্থাগার ও তথ্যকেন্দ্রে যখন এ সেবা চালু করা হয় তখন একে আইএমআরএস বলে। ব্যবহারকারীকে সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য পেঁৗছে দেওয়াই এ সেবার মূল লক্ষ্য। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আপনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চাকরিরত একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। গবেষণাকাজে এখন লন্ডন আছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গ্রন্থাগারে আছে এমন একটি গবেষণাপত্র, যা হঠাৎ খুব জরুরি হয়ে পড়ল। গবেষণাপত্রটি হাতে পেতে তো আপনার পক্ষে ঢাকা ফিরে আসা সম্ভব নয়। ইন্সট্যান্ট মেসেজিং রেফারেন্স সার্ভিসের মাধ্যমে আপনি লন্ডনে বসেই গবেষণাপত্রটি হাতে পেতে পারেন।

আইএমআরএস চালু করতে যা দরকার
ইন্সট্যান্ট মেসেজিং রেফারেন্স সার্ভিস চালুর জন্য নতুন করে অবকাঠামো তৈরির দরকার নেই। ইন্টারনেট সংযোগসহ একটি কম্পিউটার আর যেকোনো মেসেঞ্জার সফটওয়্যার যেমন_ইয়াহু, হটমেইল অথবা জিমেইলের মতো কোনো একটি চ্যাট ক্লায়েন্ট হলেই চলবে। সবশেষে প্রয়োজন ছোট্ট একটা প্রশিক্ষণ। ই-মেইল ব্যবহার করতে জানেন এমন গ্রন্থাগারকর্মী দিয়ে এ সেবাটি নির্দ্বিধায় পরিচালনা করা সম্ভব। এ সেবাটি পরিচালনার জন্য তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টার ব্যবহারিক প্রশিক্ষণই যথেষ্ট।
কোনো গ্রন্থাগারে আইএমআরএস চালু করতে সাধারণত গববনড় সফটওয়্যারটি ব্যবহার করা হয়। এটি ঞৎরষষরধহ-এর সমজাতীয় একটি সফটওয়্যার। এর মাধ্যমে সব ই-মেইল আইডি একটি প্লাটফর্মে ব্যবহার করা যায়। এতে একাধিক আইডির জন্য একাধিকবার পাসওয়ার্ড দিয়ে আইএমে ঢোকার প্রয়োজন নেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোনো ম্যাসেঞ্জার সফটওয়্যার ডাউনলোড না করেই গববনড় ওয়েব প্লাটফর্ম থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ইন্সট্যান্ট মেসেজিং করা যায়।
গববনড় রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রথমে http://www.meebo.com ঠিকানায় গিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। রেজিস্ট্রেশন করার পর আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন (Login) করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ নতুন অ্যাকাউন্টের নাম নধহনবরং এবং পাসওয়ার্ড নফ১২৩নফ। এ অ্যাকাউন্টে ঢুকতে আইডির ঘরে নধহনবরং-এর পাসওয়ার্ডের ঘরে নফ১২৩নফ দিয়ে ঢুকতে হবে।
এরপর সব ই-মেইল আইডিকে গববনড়-তে রেজিস্টার করতে হবে। এরপর ছোট একটি বক্স আসবে, যাতে ই-মেইল আইডি, পাসওয়ার্ড দিতে হবে। সঙ্গে নেটওয়ার্ক (যেমন yahoo, msn, facebook) নির্বাচন করে দিতে হবে। এরপর Contact list--এ ক্লিক করতে হবে। আমরা যদি কাউকে আমাদের বন্ধু তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে চাই, তাহলে ডান পাশে থাকা add contact--এর Remove Contact-এ ক্লিক করতে হবে। তেমনি কাউকে বাদ দেওয়ার জন্য Remove Contact-এ ক্লিক করতে হবে। ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি ইন্সট্যান্ট মেসেজিং রেফারেন্স সার্ভিস দিতে meebo me widgets থেকে কোড Cop করে লাইব্রেরির ওয়েবসাইটে Paste করতে হবে। ব্যস, সেবা শুরু হয়ে গেল।

গ্রাহকরা যেভাবে এ সেবা পাবেন
গ্রাহকরা দুই ভাবে সেবাটি পেতে পারেন। প্রথমত ব্যবহারকারীকে বলা হয় গ্রন্থাগারের ই-মেইল অ্যাড্রেসটি তার বন্ধু (ADD FRIEND) হিসেবে যুক্ত করে নেওয়া। গ্রন্থাগারকর্মীকেও ব্যবহারকারীর ই-মেইল হিসাবকে বন্ধু হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে যে গ্রন্থাগার এ পদ্ধতি ব্যবহার করে সেবাটি দিতে ইচ্ছুক তাদের উচিত গুরুত্বপূর্ণ সব চ্যাট ক্লায়েন্টেই (ইয়াহু, হটমেইল, জিটক ইত্যাদি) হিসাব খোলা। এ ক্ষেত্রে ব্যবহারকারী যে ই-মেইলই ব্যবহার করুক না কেন সেটিকেই সে ইন্সট্যান্ট মেসেজিংয়ের জন্য ব্যবহার করতে পারবে। নতুন করে আলাদা কোনো ই-মেইল অ্যাকাউন্ট তাকে খুলতে হবে না।
দ্বিতীয়ত গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ওয়েবসাইটে চ্যাটিং উইজেট যুক্ত করার মাধ্যমেও এ সেবা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে কোনো ই-মেইল অ্যাকাউন্টের প্রয়োজন নেই। এতে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা
রক্ষা হয়। আমাদের দেশে র‌্যাব, পুলিশ বিভিন্ন সময় অপরাধীদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য জনগণের সহযোগিতা চায়। সে ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন নম্বর ব্যবহার করা হয়। অনেকে মোবাইল ফোনে অপরাধীর তথ্য দিতে ভয় পান। কারণ তাঁরা মনে করেন, মোবাইল ফোন নম্বর ব্যবহার করে গোপনীয় তথ্য দিলে পরে সমস্যা হতে পারে। এ অবস্থায় আইএমআরএস আদর্শ সেবা হতে পারে। ব্যবহারকারী নির্দিষ্ট ইন্সট্যান্ট মেসেজিং ইনফরমেশন সেবায় অপরাধীর নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, কী অপরাধ করেছে ইত্যাদি লিখতে পারে। এতে র‌্যাব বা পুলিশ অপরাধী সম্পর্কে সহজেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে পারে।

কী ভাষা ব্যবহার করা হবে?
তথ্যানুসন্ধানকারীদের মধ্যে অনেকে ইংরেজিতে লিখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ নাও করতে পারেন। আর যেহেতু সেবাটি গণমানুষের জন্য উন্মুক্ত তাই ভাষাগত সীমাবদ্ধতা না থাকলেই ভালো। যেমন_AMI SHUVA DHAKA THAKEY LIKHCHI.AMAR E-‡OVERNANCE AR UPOR KICHU DOCUMENT DORKER. এভাবে লিখেও সেবাটি পাওয়া সম্ভব। বাংলাদেশে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে জনসাধারণের জন্য মোবাইল ফোনে এমন এসএমএস পাঠানোর নজির রয়েছে ।
১৮৫৪ সালে বেসরকারি গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে গ্রন্থাগার আন্দোলন শুরু হলেও গুটিকয় গ্রন্থাগার ছাড়া গ্রন্থাগারসেবার মান এখনো সেকেলে রয়ে গেছে। তবে বিনা পয়সার আইএমআরএস সেবা যদি গ্রন্থাগারগুলোতে চালু করা যায়, তবে এ ক্ষেত্রে গ্রন্থাগারের সেবার মান নিয়ে যে দুর্নাম রয়েছে তা অনেকটাই ঘুচবে। আমাদের দেশের গ্রন্থপ্রেমীদের জন্যও এটা হবে অনেক ভালো খবর।

Thursday, July 8, 2010

আসছে আফ্রিকার ধান 'নিরিকা'

আসছে আফ্রিকার ধান 'নিরিকা'

বদলে দেবে কৃষি অর্থনীতি সব মৌসুমে আবাদ হবে সেচ লাগবে না নষ্ট হবে না খরায়
০০ নিজামুল হক
আফ্রিকার কৃষি অর্থনীতি বদলে দেয়া ধান নিউ রাইস ফর আফ্রিকা (নিরিকা) এখন আবাদ হবে বাংলাদেশে। সরকারি উদ্যোগে ইতিমধ্যে এ ধানের পরীক্ষামূলক আবাদ করে সুফল পাওয়া গেছে। আচিরেই কৃষকদের মাঝে আবাদের জন্য এ ধান বীজ সরবরাহ করা হবে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কপের্ারেশনের (ডিএডিসি) কাছে বর্তমানে ১ টন নিরিকা ধানের বীজ মজুদ আছে বলে সংশিস্নষ্টরা জানিয়েছেন। একটি জাতের ধান আবাদে সুফল পাওয়ায় সমপ্রতি নিরিকা-২, নিরিকা-৩, নিরিকা-৪ এবং নিরিকা-১০ নামে আরো চারটি নতুন জাতের ধান বাংলাদেশে আনা হয়েছে।

বিএডিসির সদস্য পরিচালক ( বীজ ও উদ্যান) মোঃ নূরুজ্জামান বলেন, এক সময় আফ্রিকাকে অন্য দেশ থেকে চাল আমদানি করতে হত। আবাদযোগ্য তেমন জমিও ছিল না। কিন্তু সে দেশের কৃষি বিভাগ 'নিরিকা' নামে একে একে ৭৮টি নতুন উন্নত জাত উদ্ভাবন করে সে দেশের কৃষি অর্থনীতির চাকা বদলে দিয়েছে। সব সময়ই জমিতে ধান দেখা যায় ওই দেশে। এখন তারা চাল রপ্তানির পর্যায়ে পেঁৗছে গেছে। এ ধানের জাতটি বছরের সব সময়ই আবাদ করা যায়। শীত, গ্রীষ্ম বা অতি তাপমাত্রার সময়েও এটি ভাল ফলন দেয়। যে নতুন জাতের ধানের মাধ্যমে আফ্রিকার এই পরিবর্তন তা বাংলাদেশে এনে কৃষি অর্থনীতি বদলে দেয়ার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ 'নিরিকা'র একটি জাত এনে বিএডিসির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষামূলক আবাদ শুরু করে। অধিক খরা সহ্য করার ক্ষমতা রয়েছে ধানের এ জাতটিতে। বিএডিসি সূত্র জানায়, এ ধানের ফলন পাওয়া যাবে স্বল্প সময়ের মধ্যে।

গত এক বছর ৯ মাসে ৩টি পর্যায়ে পরীক্ষামূলক চাষ করে সুফল পাওয়া গেছে। বিএডিসির পরিচালক (বীজ) নূরুজ্জামান জানান, বিএডিসি আফ্রিকার এ 'নিরিকা' জাতের ধান আমন মৌসুমে ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম পরীক্ষামূলক আবাদ করে। এ সময় মাত্র ৬০ গ্রাম বীজ আবাদ করা হয়। বীজ বপন থেকে শুরু করে শস্য কর্তন পর্যন্ত সময় লাগে তিন মাস। হেক্টর প্রতি ফলন পাওয়া যায় ৪ থেকে সাড়ে ৪ টন। দ্বিতীয় বার আবাদ করা হয় ডিসেম্বর মাসে। এতে সময় লাগে ১১২-১১৫ দিন। হেক্টর প্রতি ফলন পাওয়া যায় ৪ দশমিক ৬০ টন।

তৃতীয় পর্যায়ে আউশ মৌসুমেও আবাদ করা হয়। এই মৌসুমে এ জাতের ধান ফলনে সময় লেগেছিল ৮৮ দিন। পরীক্ষামূলকভাবে এটি মধুপুর ও জীবননগরে আবাদ করা হয়। এর মধ্যে মধুপুরে ফলন পাওয়া পাওয়া গেছে ৮৮ দিনে এবং জীবননগরে পাওয়া গেছে ৮০ দিনে। বিএডিসি'র ঊধর্্বতন এক কর্মকর্তা জানান, 'কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে 'নিরিকা' জাতের ধানবীজ নিয়ে আসেন এবং বিএডিসি'কে পরীক্ষামূলক আবাদের জন্য প্রদান করেন।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এটি এমন এক ধরনের ধান যা তিন মৌসুমেই আবাদ করা যাবে। আফ্রিকার মতো এ ধানের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতি বদলে যাবে। যেসব জমি বর্তমানে অনাবাদি থাকছে, সেচ সুবিধা নেই, এমন জমিতেও জন্মাবে এই ধান। দিনের তাপমাত্রা যতই তীব্র হোক, তা এ ধানের উৎপাদনে কোন বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না। এ জাতের ধান বীজে কোন সুপ্ততা নেই, তাই এক ফসল তুলে ওই বীজ দিয়েই পরবতর্ী মৌসুমে চাষ করা যাবে।

বিএডিসি সূত্র জানায়, এ ধানের সুফল পাবার পর কৃষিমন্ত্রীর উদ্যোগে উগান্ডা থেকে চারটি জাত আনা হয়েছে। এগুলো পরীক্ষামূলকভাবে আবাদ করে কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করা হবে। কৃষি বিজ্ঞানীরা বলছেন, দেশের জনসংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি প্রতি বছর ১ শতাংশ হারে জমি কমছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন নতুন ধানের জাত দেশের ধানের চাহিদা মেটাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Source: Daily Ittefaq

Monday, July 5, 2010

ওয়েবে শেয়ারবাজার

ওয়েবে শেয়ারবাজার শেয়ারবাজারের খোঁজখবর জানতে স্টক এক্সচেঞ্জে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। এ-সংক্রান্ত অধিকাংশ তথ্য ওয়েবসাইটেই পাওয়া যায়। শেয়ারবাজারগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইট ছাড়াও রয়েছে একাধিক শেয়ারবাজার ফোরাম।

www.dsebd.org
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এটি। এখানে সব শেয়ারের দাম, প্রতিদিনের সর্বমোট লেনদেন, শেয়ারের সূচকসহ শেয়ারসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য মিলবে। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে তথ্য মিলবে company info বিভাগে।
www.csebd.com
চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারের নিজস্ব ওয়েবসাইট এটি। এ সাইটের মাধ্যমে চট্টগ্রামের শেয়ারবাজারের সর্বশেষ সংবাদ, বাজার মূল্য ইত্যাদি খবর পাওয়া যাবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক শেয়ারের জন্য আবেদনকারীদের ফলাফল জানা যাবে IPO LOTTERY RESULT বিভাগে। market information বিভাগে পাওয়া যাবে বাজারের সর্বশেষ তথ্য। Trading System, Listing Requirement, Listed Company-সহ আরো কিছু জরুরি বিভাগ রয়েছে এ সাইটে।
www.dg4q.com
সাইটটিতে নিবন্ধন করে মোবাইল ফোনে (আপাতত শুধু বাংলালিংক) এসএমএসের মাধ্যমে শেয়ারবাজারসংক্রান্ত সেবা পাওয়া যাবে। এখানে বিনামূল্যে পছন্দের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের সর্বশেষ দামও জানা যাবে। এ জন্য সাইটটিতে প্রবেশ করে নাম, ই-মেইল ও পাসওয়ার্ড দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে এবং পছন্দের প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারণ করে দিতে হবে।
bdstock.mobi
এটি মোবাইল ব্রাউজারের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ওয়েবসাইট। সাইটটিতে ঝযধৎব, ঝঃধঃং, ঘবংি এবং অমস-সহ বেশ কয়েকটি বিভাগ রয়েছে। ঘবংি ট্যাবে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন খবর পাওয়া যাবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক সাধারণ সভার তথ্য মিলবে 'অমস' বিভাগে।
নিচের সাইটগুলোতেও শেয়ারবাজারের বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাবে।
www.bangladeshstockmarket.com
www.bdstock.com
www.mydse.com
www.stockbangladesh.com
 
-আল-আমিন কবির

Thursday, July 1, 2010

প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে এগুচ্ছে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো

প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে এগুচ্ছে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো

০০ রেজা মাহমুদ

১৯৫০'র দশকের শেষদিকে জাপান নতুন প্রযুক্তি ও নতুন পণ্য উদ্ভাবনের মাধ্যমে শিল্প-বাণিজ্যের দিক দিয়ে ইউরোপ-আমেরিকার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছিল। ঠিক একইভাবে নতুন প্রযুক্তি ও পণ্য উদ্ভাবন করে উন্নত দেশগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এ মুহূর্তে বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো এগিয়ে যাচ্ছে। উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রাজিল, চীন, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও মেক্সিকো। প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনীর এই চ্যালেঞ্জে নেতৃত্ব দিতে প্রতিবছর উদীয়মান দেশগুলোতে লাখ লাখ গ্রাজুয়েট প্রকৌশলী পাস করে বের হচ্ছে। জাতিসংঘ বিনিয়োগ প্রতিবেদন, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার তথ্য ও ইকোনোমিস্ট ম্যাগাজিনের সামপ্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ বিষয়টি।

১৯৫০'র দশকে নতুন সব পণ্য উদ্ভাবনের মধ্যদিয়ে শিল্প বাণিজ্যের অঙ্গনে আমেরিকা ও ইউরোপের শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোরদার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত দেশ জাপান। ১৯৮০'র দশকে আমেরিকার গাড়ি নির্মাতা শিল্পগোষ্ঠির নির্বাহী কর্মকর্তারা দেখতে পান যে তাদের সরিয়ে দিয়ে এ ক্ষেত্রে বিশ্বের নেতৃত্বের আসনে উঠে বসেছে জাপান। জাপানি গাড়ীগুলো একদিকে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ির চেয়ে স্বল্পমূল্যের, অন্যদিকে এগুলো ছিল অধিক টেকসই। তারা নতুন মডেলের গাড়ি অত্যন্ত দ্রুত তৈরী ও বাজারজাত করতে সক্ষমতা দেখায়। মার্কিন গাড়ী নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাহীরা এর কারণ অনুসন্ধান করতে জাপান সফরে আসেন। মার্কিনীরা ধারণা করেছিল জাপানি গাড়ী নির্মাতাদের এই সফলতার কারণ হয়তো সহায়ক শিল্পনীতি বা সরকারী ভতর্ুকি। কিন্তু তারা দেখতে পান নতুন প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনই জাপানিদের এগিয়ে নিচ্ছে সফলতার সঙ্গে। তারা জাপানের এ পদ্ধতির নাম দেন 'বিশেষভাবে ঝুঁকে পড়া' (লিন ম্যানুফ্যাকচারিং) পণ্য উৎপাদন পদ্ধতি।

এই মুহূর্তে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোও একইভাবে নিত্যনতুন প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য উদ্ভাবনের মাধ্যমে শিল্প-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে উন্নত বিশ্বকে। আজ ইউরোপের ঘরে ঘরে তুরস্কের ইলেক্ট্রনিক্স ও ইলেক্ট্রিক পণ্যসামগ্রী অত্যন্ত জনপ্রিয়। শুধু তা-ই নয় তুরস্কের তৈরী ভারি ও উচ্চ প্রযুক্তির মেশিনারিজ রফতানিও ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সাথে চীন ও মালয়েশিয়ার শিল্পজাত পণ্য বিশ্বের পূর্ব-পশ্চিম সর্বত্রই সমাদৃত হচ্ছে। বিপুল জনসংখ্যার চীন ও ভারতের অভ্যন্তরেই রয়েছে বিশাল ভোক্তা গোষ্ঠি। ব্রাজিল ও রাশিয়াও পিছিয়ে নেই। এ মুহূর্তে উদীয়মান অর্থনীতির এই দেশগুলো বাণিজ্যিক উদ্ভাবনের এক উষ্ণ ক্ষেত্র। ঠিক যেমনটি ঘটেছিল ১৯৫০'র দশকে জাপানের বেলায়।

চীন, তুরস্ক ও মালয়েশিয়ার মত দেশগুলো নিত্যনতুন পণ্য ও সেবা নিয়ে হাজির হচ্ছে। আর এগুলো নাটকীয়ভাবে পশ্চিমা দেশের তুলনায় কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। এ দেশগুলো ৩০০০ ডলারে গাড়ি, ৩০০ ডলারে কম্পিউটার আর ৩০ ডলারে মোবাইল ফোন সরবরাহ করছে। এই মোবাইল ফোনগুলো প্রতি মিনিটে মাত্র ২ সেন্ট খরচে (সংশিস্নষ্ট) দেশব্যাপী সার্ভিস দিচ্ছে। এসব দেশ পণ্য তৈরি ও সরবরাহের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করছে। এমনকি তারা সম্পূর্ণ নতুন মডেলের ব্যবসায় পদ্ধতি উদ্ভাবন ও অনুসরণ করছে। সাপস্নাই চেইন ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে সবকিছুতেই নতুন পদ্ধতির উদ্ভাবন করছে উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তিগুলো।

যেসব দেশ এই সেদিনও স্বল্পমূল্যের পণ্য উৎপাদন করে আসছিল তারা কিভাবে নতুন মডেল উদ্ভাবনে এত সফল হল এ প্রশ্নেরও জবাব মিলেছে। গবেষণায় দেখা গেছে অদম্য উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর প্রতিযোগী কোম্পানির ভীতি এ দু'য়ের মিশ্র তাড়নায় নয়া প্রযুক্তি ও পণ্য উদ্ভাবনে এগিয়ে যাচ্ছে এসব দেশের কোম্পানিগুলো।

জাতিসংঘ বিনিয়োগ প্রতিবেদনে দেখা গেছে বর্তমানে প্রায় ২১,৫০০ মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি গড়ে উঠেছে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে। এর মধ্যে চীনের 'বিওয়াইডি' ব্যাটারি উৎপাদনে, ব্রাজিলের 'এমব্রায়ের' জেট বিমান নির্মাণে, তুরস্কের 'কেওসি' ভারি যন্ত্রপাতি তৈরিতে এবং মালয়েশিয়ার 'পেট্রোনাস' খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে উন্নত বিশ্বের সমক্ষেত্রের মাল্টিন্যাশনালের সাথে সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সামপ্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির সংখ্যা সামপ্রতিক কয়েক বছরে অনেক বেড়ে গেছে। একই সময়ে উন্নত দেশের বহুজাতিক কোম্পানিগুলোও এখন উদিয়মান এসব বাজারে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করছে। উদীয়মান দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং মেধাসম্পন্ন জনশক্তি সহজপ্রাপ্ত হওয়ায় মুনাফা বেশি পাওয়ার আশায়ই এই বিনিয়োগ বৃদ্ধি। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো আশা করছে আগামী কয়েক বছরে ৭০ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই আসবে উদীয়মান দেশগুলো থেকেই।

ফরচুন ৫০০ তালিকায় দেখা গেছে 'জেনারেল ইলেকট্রিকস', 'সিসকো', 'মাইক্রোসফট' প্রভৃতি কোম্পানি উদীয়মান দেশগুলোতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে। উন্নত ও উদীয়মান উভয়েরই বহুজাতিক কোম্পানিগুলো অনুধাবন করছে যে এসব বাজারে উন্নতি করতে হলে তাদের কঠোর চেষ্টা করে যেতে হবে। কারণ উদীয়মান দেশগুলোর বড় শহরগুলোর বাইরে দূরবতর্ী এলাকায়ও বাস করে বহু ভোক্তা। এর অর্থ হচ্ছে পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ পদ্ধতির ক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবনের চিন্তা করতে হচ্ছে তাদের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উদীয়মান বিশ্বের বাজার হচ্ছে দুনিয়ার সবচেয়ে কঠিন ব্যাপার। কারণ এসব জায়গায় সরবরাহ পদ্ধতি হতাশা সৃষ্টি করতে পারে, উপার্জন হতে পারে অভাবিতপূর্ব, দূষণ হতে পারে ফুসফুস দগ্ধকারী। সরকার কখনো সহায়ক কখনো হতাশাজনক নীতির অধিকারী হতে পারে এসব বাজারে। নকল প্রবণতা লাভ কমিয়ে দিতে পারে। দারিদ্র্যহতে পারে সর্বব্যাপী। মোটকথা উীয়মান বাজারে সাফল্যের দ্বীপ চারদিকে সমস্যার সাগরে ঘেরা থাকে; যা কখনো শক্তিশালী কোন কোম্পানিকেও অনেক সময় ব্যর্থ করে দিতে পারে। 'ইয়াহু!' এবং 'ই-বে' চীনে তাদের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস করতে বাধ্য হয়েছে। অন্যদিকে দেশটির মূল ভূখন্ড থেকে 'গুগল'কে হংকংয়ে সরে যেতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম গৃহস্থালি সামগ্রীর প্রস্তুতকারক 'বস্ন্যাক এন্ড ডেকর' চীন এবং ভারতে প্রায় অদৃশ্য অবস্থায় রয়েছে।

উদীয়মান দেশগুলোতে উলেস্নখিত সমস্যার সাথে সম্ভাবনাও রয়েছে অস্বাভাবিকভাবে বেশি। এখানে পণ্যের রয়েছে বিশাল বাজার। জনসংখ্যা রয়েছে উন্নত বিশ্বের চেয়ে অনেক বেশি আর তা বৃদ্ধিও পাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এই জনসংখ্যার একটি বৃহৎ অংশ মধ্যম আয় শ্রেণীতে প্রবেশ করতে যাচ্ছে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে। এসব দেশের অথনীতি দ্রুত প্রবৃদ্ধি লাভ করছে। কিছু কোম্পানি উন্নত দেশের মত আগের পদ্ধতি অনুসরণের ফলে ব্যয়াধিক্যের কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। উদীয়মান দেশে মেধাবী জনশক্তি সহজলভ্য, সস্তা ও প্রচুর। প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক প্রযুক্তিবিদ বেরিয়ে আসছেন এসব দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে।

উদীয়মান বাজারগুলোর চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনার এই মিশ্র অবস্থা গ্যাসভর্তি ককটেইলের মত এক অবস্থার সৃষ্টি করেছে। কারণ এসব বাজারে একদিকে বিপুল সংখ্যক ভোক্তা হচ্ছে দরিদ্র অন্যদিকে কোম্পানিগুলোকে যেতে হচ্ছে বিপুল পণ্য সম্ভার নিয়ে। ব্যাপক নকলপ্রবণতার কারণে কোম্পানিগুলোকে তাদের পণ্যসামগ্রিতে নিত্যনতুন পরিবর্তন আনতে হচ্ছে।

সেই আশির দশকের জাপানের শিল্পোন্নত হয়ে ওঠার গল্পই আবার ফিরে এসেছে। 'টয়োটা' এবং 'হোন্ডা' এখনো টিকে আছে নব উদ্ভাবনী ও গুণগতমান ব্যবস্থাপনার সুবাদে। কারণ ভূমি এবং কাঁচামালের মূল্য এখন জাপানে অনেক বেড়ে গেছে। অন্যদিকে উদীয়মান অর্থনীতির কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে এসব সমস্যা এখন সুবিধায় পরিণত হয়েছে। কারণ এসব দেশে ভূমি ও কাঁচামালের মূল্য এখনও কম। এ পর্যন্ত ব্যাপকভাবে ধারণা প্রচলিত ছিল যে বিশ্বায়ন পশ্চিমা বিশ্বের দ্বারা চালিত হয়ে বাকি বিশ্বের ওপর চেপে বসেছে। নিউইয়র্ক, লন্ডন ও প্যারিসের কাঁচঘেরা উঁচু দালানে বসে বস'রা বিশ্বায়ন নিয়ন্ত্রণ করবেন আর পশ্চিমা বিশ্বের ভোক্তারা প্রায় একচেটিয়াভাবে এর সুফল ভোগ করবেন। তবে এ ধারণা এখন আর খাটছে না। কারণ উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর ভোক্তারা পশ্চিমাদের তুলনায় দ্রুত ধনী হয়ে উঠছে।

উদ্ভাবনের পুরনো ধারণাও এখন চ্যালেঞ্জের মুখে। পশ্চিমারা বিশ্বাস করত তারা গবেষণাগারে নতুন একটি ধারণা তৈরি করে তা উন্নয়নশীল বিশ্বে রফতানি করবে। কিন্তু এখন এ ধারণার অসারতা প্রমাণিত হয়েছে। এখন উদীয়মান বাজারের দেশগুলো টেলিকম থেকে কম্পিউটার পর্যন্ত প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাওয়ার হাউজে পরিণত হয়েছে।

উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো ক্রমবর্ধমানহারে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য উদ্ভাবনে এগিয়ে যাচ্ছে। আর এ ধারায় বদলে যাচ্ছে উদীয়মান শক্তির দেশগুলোর জীবনধারাও। ২০০৯ সালের পিউ গেস্নাবাল অ্যাটিচিউডস প্রজেক্টস এক প্রতিবেদনে দেখিয়েছে এসব দেশের ৮৫ থেকে ৯৪ শতাংশ পর্যন্ত নাগরিক তাদের জীবনযাপনের মান নিয়ে সন্তুষ্ট। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র হেনরি ফোর্ডের প্রডাকশন লাইন অনুসরণ করেছিল, জাপান লিন ম্যানুফ্যাকচারিং আর এখন উদীয়মান শক্তিগুলো তাদের স্বতন্ত্র ধারা অনুসরণ করছে। শুধু সস্তা শ্রম নয় বরং নব উদ্ভাবনই উদীয়মান শক্তিকে এগিয়ে নিচ্ছে।
Source: Daily Ittefaq

Wednesday, May 26, 2010

ভাষা শিক্ষায় ঢাকা ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব

ভাষা শিক্ষায় ঢাকা ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব

আরশাদুল মোমিন
বর্তমান যুগে দ্রুত উন্নয়নশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে ভাষা শিক্ষা একটি অত্যাবশ্যকীয় বিষয়। সেক্ষেত্রে প্রথমেই এসে যায় আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে ইংরেজি। আমাদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি ফ্রেঞ্চ, জাপানিজ, স্প্যানিশ, জার্মান, ইতালিয়ান, আরবি ভাষা তথা অন্যান্য ভাষা শিক্ষা জরুরি। এখন মানুষ আর দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পড়াশোনা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অনেক ভাষা শিখছে। এতে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অনেক সহজে মানুষের খুব কাছাকাছি চলে যাওয়া সম্ভব।
কোন ভাষা কেন শিখবেন : বর্তমান বিশ্বে প্রফেশনালি তুলনামূলকভাবে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে ইংরেজি। এছাড়াও রয়েছে ফ্রেঞ্চ, স্প্যানিশ, জার্মান, জাপানি, আরবি, ইতালিয়ান ইত্যাদি। আর এগুলোই কোর্স হিসেবে রেখেছে ঢাকা ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব। সঙ্গে রয়েছে আরও বাংলা ভাষা কোর্স যা শুধু বিদেশিদের জন্য উন্মুক্ত।
ইংরেজি : আমাদের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বলা যায় এখানকার অনেক লোকরাই একাডেমিক শিক্ষার ভিত মজবুত হলেও তারা ইংরেজিতে দুর্বল। অনেকে ভালোভাবে ইংরেজি না জানায় নিজেকে স্মার্টলি তুলে ধরতে পারছে না। প্রফেশনালি অনেকে বিদেশিদের সঙ্গে ব্যবসায়িক আলোচনা করতে ব্যর্থ তথা চাকরি ও পড়াশোনার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। অন্যদিকে ইংরেজিতে দক্ষতা দেখিয়ে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত অনেক এগিয়ে।
ফ্রেঞ্চ : মূলত ইংরেজির পরের চাহিদাসম্পন্ন ভাষা ফ্রেঞ্চ। ফ্রান্স ছাড়াও কানাডাসহ বিশ্বের অন্য অনেক দেশে চাকরির ক্ষেত্রে ফ্রেঞ্চ জানা প্রার্থীদের আলাদা চোখে দেখা হয়।
স্প্যানিশ : আমেরিকায় তাদের নিজস্ব ভাষার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রেই স্প্যানিশ ভাষার ব্যবহার হচ্ছে।
জাপানি : জাপানে পড়াশোনা করার জন্য আজকাল জাপানি ভাষা জানা অনেকটাই বাধ্যতামূলক। সেজন্য আজকাল জাপান যেতে আগ্রহীদের জাপানি ভাষা শেখার অভূতপূর্ব প্রবণতা লক্ষ্য যাচ্ছে। এখন TOEFL/IELTS-এর মতো Proficicncy for Japanese Language. নামে একটি টেস্ট দিতে হয়।
জার্মান : বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কম্পিউটার প্রফেশনালদের জার্মানিতে যাওয়ার জন্য জার্মান ভাষা জানাটা অত্যাবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও জার্মানিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রচুর সুযোগ রয়েছে।
আরবি : ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বড় একটা মার্কেট হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য। এছাড়াও বাংলাদেশ থেকে প্রচুর জনশক্তি মধ্যপ্রাচ্যে রফতানি করা হয়। সেক্ষেত্রে আরবি ভাষা জানাটা নিঃসন্দেহে যোগাযোগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া প্রয়োজনীয় ভাষাগুলো ঢাকা ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাবে শেখানো হয়। বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রেও বিশেষভাবে সহায়তা করা হয়। ওঊখঞঝ/ঞঙঊঋখ-প্রিপারেশন কোর্স অফার করেও সুনাম অর্জন করেছে ঢাকা ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব।
বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ : ঢাকা ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব
নাভানা কটেজ, ফ্লাট-৫০১, রোড-১৭, হাউস-২৯, ব্লক-ই, বনানী, ঢাকা।
ফোন : ৮৮২৪২৬৬, ০১৭১৬৫০০২৩০, ০১৯১১৩৪০৫৮৬।

Monday, May 10, 2010

নর্দান মেডিকেল কলেজ : স্বল্প খরচে সর্বাধুনিক চিকিত্সা শিক্ষা

নর্দান মেডিকেল কলেজ : স্বল্প খরচে সর্বাধুনিক চিকিত্সা শিক্ষা

শাহ বুলবুল
চিকিত্সা প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। আমাদের দেশের এ খাতে এখন পর্যন্ত সরকারি প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে আমরা এক্ষেত্রে আরও পিছিয়ে পড়ছি। বাংলাদেশে ২৫ হাজার মানুষের জন্য গড়ে মাত্র একজন ডাক্তার রয়েছে। মানুষের একটা বিশাল অংশ আছে যারা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত একবারও একজন এমবিবিএস দেখাতে সক্ষম হয়নি। চিকিত্সা ক্ষেত্রে এমনি নাজুক অবস্থায় যথেষ্ট ডাক্তার গড়ে তোলাই হয়ে ওঠে আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ।
বর্তমানে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও গড়ে ওঠে বেশ ক’টি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। ‘নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হসপিটাল’ এদের মধ্যে অন্যতম। দেশে প্রয়োজনীয় ডাক্তার সৃষ্টির সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে সহজ সুলভ সেবা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে কলেজটির সঙ্গে গড়ে তোলা হয় একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল। নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৫ সালে। সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং সরকার কর্তৃক প্রণীত বিধিমালা পূর্ণকারী একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, যা মানব কল্যাণ ও সমাজ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইবিএটি) ট্রাস্ট কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত। নর্দান মেডিকেল কলেজের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদে আছেন শিক্ষাঙ্গনের পরিচিত মুখ এম আবু বকর সিদ্দিক।
বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো বাণিজ্যিক ধারায় গা ভাসালেও এ থেকে একেবারেই আলাদা নর্দান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। তাই আশার কথা এর স্বচ্ছ পথচলা আমাদের অতি সাধারণ পরিবার থেকেও গড়ে উঠতে পারে একজন মেধাবী ডাক্তার। বর্তমানে কলেজে ২২০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।
দেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর বিরুদ্ধে হাজারও অভিযোগ, আর বেশ ক’টি অভিযোগের বোঝা মাথায় নিয়ে অনুমোদন হারালেও নর্দানের গল্প কেবলই এগিয়ে চলার। এখানে প্রশাসনিক, অবকাঠামো আর একাডেমিক সব দিক দিয়েই রয়েছে স্বয়ংসম্পূর্ণতা।
বর্তমানে নর্দান মেডিকেল কলেজে ৬০ জন পূর্ণকালীন ফ্যাকাল্টি সদস্য রয়েছেন; যাদের মধ্যে ১৫ জন অধ্যাপক, ৪ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৭ জন সহকারী অধ্যাপক, ৩৪ জন প্রভাষক। উল্লেখ্য,নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সাবেক প্রধান প্রফেসর ডাঃ আনোয়ার হোসেন।
এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি মাল্টিমিডিয়া ও কম্পিউটার সফটওয়ারের মাধ্যমে কার্যকর শিক্ষাদান পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে। শিক্ষাদান ও গ্রহণের সঙ্গে সম্পৃক্তদের জন্য সঠিক পরিবেশ সৃষ্টি, সব কার্যক্রম ও পদ্ধতিসমূহের সার্বক্ষণিক তদারকি ও পরিপূর্ণ মূল্যায়নের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। প্রত্যেক মাসে নর্দান মেডিকেল কলেজ ক্লাস, এসাইনমেন্ট, মূল্যায়ন, বিষয়, শিক্ষক ও স্থানের বিস্তারিত বিবরণ ও সময়সূচি সম্বলিত একটি একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করে থাকে; যাতে মাসের কোনদিন শিক্ষার্থীদের ঠিক কি করতে হবে তা উল্লেখ থাকে। নিয়মিত পরীক্ষা, সাময়িক টেস্ট/এসাইনমেন্ট, কার্ড পূরণ ও সাময়িক পরীক্ষার মাধ্যমে ইন-কোর্স মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। পাশাপাশি টার্মের শেষ পরীক্ষার পর অভিভাবকদেরকে তাদের সন্তানের পড়াশোনার অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
কলেজটি প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই উচ্চমানের চিকিত্সা শিক্ষা প্রদান করে আসছে। এখানে শিক্ষার্থীদেরকে প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও যুগোপযোগী দৃষ্টিভঙ্গিতে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি তাদের পেশাগত মানোন্নয়নের উপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়। যাতে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী প্রশিক্ষণ ও অধ্যয়নের জন্য দৃঢ় ভিত্তির উপর দাঁড়াতে পারে এবং আন্তর্জাতিক মানের একজন ডাক্তার হয়ে গড়ে ওঠার জন্য যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী হয়।
নর্দান মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে রয়েছে প্রশাসনিক কার্যালয়, চারটি সুসজ্জিত প্যারাক্লিনিক্যাল ও প্রি-ক্লিনিক্যাল বিভাগ, কম্পিউটার ল্যাবসহ গ্রন্থাগার। শ্রেণীকক্ষসমূহ, ডিসেকশন হল, পরীক্ষাগার ও মিউজিয়ামসমূহ ধারণে উল্লিখিত বিভাগসমূহ পুরোপুরি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ও যথেষ্ট উপযোগী। এ ক্যাম্পাসে রয়েছে ভিজ্যুয়াল যন্ত্রপাতি ও মাল্টিমিডিয়া সরঞ্জামাদি সমৃদ্ধ তিনটি লেকচার হল ও তিনটি সেমিনার/টিউটেরিয়াল কক্ষ।
গ্রন্থাগারে বিভিন্ন বিষয়ের উপর পাঠ্যবই, রেফারেন্স, মনোগ্রাম ও জার্নালের উল্লেখযোগ্য সংগ্রহ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের বই নেয়ার সুযোগের পাশাপাশি এতে একসঙ্গে প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী বসে পড়াশোনা করতে পারে। দেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর মধ্যে নর্দান মেডিকেল কলেজে খুব কম খরচে একজন মেধাবী তার স্বপ্নের পেশা ডাক্তার হতে পারে। সরকারি বিধিমোতাবেক ৫% ফ্রি স্টুডেন্টশিপের পাশাপাশি এখানে ৫-১০% ফ্রি স্টুডেন্টশিপ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। মেধাবী, টার্ম ও সেশন পরীক্ষায় ভালো ফল লাভকারীদের জন্যও বিশেষ ছাড় ও বৃত্তির ব্যবস্থা রেখেছে নর্দান কর্তৃপক্ষ।
যোগাযোগ : হাউজ-৮৪, রোড-৮/এ (পুরাতন ১৫নং) ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৯ ফোন : ৮১৫৬৮৩৯, ৮১৫৬৯১৪।