Wednesday, March 2, 2011

বাকৃবি গবেষকের সাফল্য : কোয়েলের উচ্চ উত্পাদনশীল নতুন ৮টি উপজাত উদ্ভাবন

বাকৃবি গবেষকের সাফল্য :

কোয়েলের উচ্চ উত্পাদনশীল নতুন ৮টি উপজাত উদ্ভাবন

ময়মনসিংহ ও বাকৃবি প্রতিনিধি
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পোল্ট্রিবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শহিদুর রহমান দেশে প্রথমবারের মতো অর্গানিক মাংস উচ্চ উত্পাদনশীল কোয়েলের নতুন ৮টি উপজাত উদ্ভাবন করেছেন। ফলে দেশে অর্গানিক মাংস উত্পাদনের নতুন মাত্রা যোগ হলো। সফল উদ্ভাবিত নতুন রঙের কোয়েলগুলোর উপজাতের নামকরণ করা হয়েছে বিবি-হোয়াইট, বিবি-ঢাকাইয়া, বাউ-ফন, বাউ-লেয়ার, বিবি-টুক্সেডো, বাউ-অ্যাশ, বিবি-বস্ন্যাক, বিবি-রোসেটা। এদের মধ্যে বিবি-হোয়াইট ও বিবি-ঢাকাইয়া বেশি লাভজনক।
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার আমিষের চাহিদা পূরণে হাইব্রিড মুরগির মাংস ও ডিমের বিকল্প নেই। কিন্তু বর্তমানে উত্পাদিত মুরগির খাবারে ব্যাপক হারে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। ওইসব অ্যান্টিবায়োটিক মুরগি থেকে মানুষের শরীরে আসে। ফলে মানুষের শরীর কোনো রোগে আক্রান্ত হলে অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করে না। ফলে মানুষ ক্যান্সার, বন্ধ্যাত্বসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এমতাবস্থায় অর্গানিক মাংস আমিষের অভাব পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সে ক্ষেত্রে কোয়েলের মাংস ও ডিম সম্পূর্ণ অর্গানিক। কারণ কোয়েলের রোগ হয় না। ফলে কোয়েলকে কোনো ধরনের ওষুধ বা টিকা দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু কোয়েলের সহজলভ্যতা না থাকায় মানুষ ইচ্ছা করলেও এর ডিম ও মাংস খেতে পারে না। কোয়েলের মাংস ও ডিম সহজলভ্য করতে দীর্ঘদিন ধরে পোল্ট্রিবিজ্ঞানীরা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কোয়েলের নতুন ৮টি উপজাতের লাভজনক দিক সম্পর্কে উদ্ভাবক ড. শহিদুর রহমান জানান, ‘নতুন উদ্ভাবিত কোয়েল ৮টি আট রঙের যা আগের কোয়েল থেকে ভিন্ন। মুরগির মতো কোয়েল পালনে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হয় না। এতে অর্গানিক মাংস উত্পাদন সম্ভব। এসব কোয়েল রোগমুক্ত। কোনো ভ্যাকসিন ও ওষুধ লাগে না। শহরের ছাদে বা সিঁড়ির ধারে খাচায় অল্প জায়গায় পালন করা যায়। সৌখিন মানুষের মনের খোরাক জোগায়। কোয়েল পালন গরিব মানুষের হাতের নাগালে। মাত্র ৪০ দিন বয়সেই ডিম দেয়া শুরু করে ও মাংস হিসেবে খাওয়া যায়। শিশুদের কোয়েলের ডিম অত্যন্ত প্রিয়। গবেষণায় দেখা গেছে, কোয়েলের মাংস ও ডিম হার্ট ডিজিজ কমায়। বার্ধক্য দূর করে। অল্প পুঁজিতে বাণিজ্যিকভাবে পালন করা যায়। কোয়েল পালনে দ্বিগুণ লাভ করা যায়। গবেষক আরও জানান, এক হাজার কোয়েল পালন করে মাসে ৯ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব।
বাকৃবি রিসার্স সিস্টেম (বাউরেস) ও বিএলআরই’র অর্থায়নে গবেষণা প্রকল্পটিতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের পোল্ট্রিবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শহিদুর রহমানকে সহযোগিতা করেন বিএলআরআই’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. নজরুল ইসলাম ও পোল্ট্রিবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স শিক্ষার্থী কেএম গোলাম রছুল।
Source: Daily Amardesh, 2th March

Tuesday, February 15, 2011

উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি প্রযুক্তি "লবণের বাটিতে গাছ"

উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি প্রযুক্তি "লবণের বাটিতে গাছ"

প্রফেসর ড. মো. সদরুল আমিন

আমরা চারা রোপণের পূর্বে গর্তের তলদেশে কয়েক কেজি লবণ দিয়ে যে নারিকেলসহ বেশ কিছু নাট-পাম গাছ লাগাই তা "লবণের বাটিতে গাছ" লাগানোর মতই। দেশের উপকূলীয় কৃষি পরিবেশ অঞ্চল ১৩ থেকে ১৮ এবং ২৩/২৪ মিলে ফসলি জমির প্রায় শতকরা ৩৬ ভাগ অনাবাদি থাকে, যদিও এ মাটির লবণের তীব্রতা মধ্যমেরও কম। পটুয়াখালীর দুমকি এলাকায় আমি হেক্টরে ৪ টন গম, ৭ টন ভুট্টা, ৪৫ টন মিষ্টি আলু, ৩০ টন লাউ, ৩৫ টন মুলা, ৩০ টন টমেটো নিজে উৎপাদন করেছি। এজন্য প্রযুক্তির মধ্যে ছিল মাটির সোডিয়াম, কেলসিয়াম, মেগনেসিয়ামের সালফেট, কার্বনেট/ বাইকার্বনেট লবণসমূহের পারস্পারিক অনুপাত ভিত্তিতে এসএআর, টিএসএস, ইসি এবং পিএইচ বিশেস্নষণ করে মৃত্তিকা পরিচর্যা করা, জমি গভীর চাষ দেয়া ও সুষম সার দেয়া, যা একজন কৃষিবিদ মৃত্তিকা বিজ্ঞানীর দক্ষতার আওতাভুক্ত। তাই উপকূলীয় অঞ্চলের মৃত্তিকা প্রযুক্তি হিসেবে আমি নিম্নরূপ সুপারিশ করছি-

১. একটু লম্বা জাতের ধান (স্থানীয়/উফশী/হাইব্রিড) চাষ করতে হবে; ২. তেল ফসল হিসেবে চিনাবাদাম, তিল ও সূর্যমুখীর চাষ করতে হবে। সূর্যমুখী জাতের মধ্যে হাইব্রিড এসএইচ/কেবিএইচ/পিএসি/সানব্রেড গ্রুপের জাত নির্বাচন করে তাতে বিঘাতে ২৬ কেজি ইউরিয়া, ৮০ কেজি এসএসপি এবং ২৩ কেজি পটাশ সার দিতে হবে। সবজির জন্য জমিতে ভিরিডি পাউডার প্রয়োগসহ উঁচু আইল তৈরি করে তার ঢালে চারা লাগাতে হবে। সকল জমিতে বিঘাপ্রতি ১.৫ থেকে ২ টন জৈব সার এবং ১ থেকে ২ কেজি বোরন সার দিতে হবে।

বাংলাদেশের সাতক্ষীরা থেকে চকোরিয়া মহেশখালী পর্যন্ত কশ মাটিতে (এসিড সালফেট) যে ফসল হয় তা নিতান্তই "লবণের বাটিতে গাছ" লাগানোর মত। বর্ণিত এসব প্রযুক্তি অবলম্বন করে এলাকার বিপুল পরিমাণ জমি আবাদে আনা এবং আবাদকৃত জমির ফসল উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব, এজন্য প্রয়োজন কেবল সরকারের সদিচ্ছা এবং উপযুক্ত মৃত্তিকা প্রযুক্তি নির্বাচন ও প্রতিপালন। দেশের দক্ষিণ এলাকার জন্য ফসল উৎপাদন বাড়ানোর জন্য এ পর্যন্ত অন্তত ১০টি ছোট-মধ্যম প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যার ফাইনাল রিপোর্ট পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায় না, অর্থাৎ সরকারের সদিচ্ছায় দুর্বলতা ছিল। তাই বলছি সরকারের সদিচ্ছা ও যথার্থ মৃত্তিকা পরিচর্যা অবলম্বন করে দেশের উপকূলীয় পশ্চিমাঞ্চলে খাদ্যসহ অনেক ফসল উৎপাদন সম্ভব, যা ভারত থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত উপকূল ও পাশর্্ববতর্ী এলাকার গাছের জন্য প্রজাতিভেদে নূ্যনতম সহনীয় মাত্রার লোনা মাটিতে সম্ভব করা হয়েছে। কেবল খেয়াল রাখতে হবে যে কেউ যেন বাটির লবণ ফেলে দিয়ে সেখানে গাছ লাগিয়ে "লবণের বাটিতে গাছ" লাগানোর কথাটি বলার সুযোগ না পায়।

Friday, February 11, 2011

বিশ্বের কনিষ্ঠ প্রাণী আবিষ্কারক সাজিদ

বিশ্বের কনিষ্ঠ প্রাণী আবিষ্কারক সাজিদ
আবদুল্লাহ আল মামুন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

নতুন প্রজাতির ব্যাঙ আবিষ্কার করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ হাওলাদার। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত বন্যপ্রাণীবিষয়ক জার্নাল জুট্যাক্সয়ে লেখা প্রকাশ করেছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রাপ্ত বিরল প্রজাতির এ ব্যাঙ আবিষ্কার করে তিনি পরিণত হয়েছেন বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ প্রাণী আবিষ্কারক হিসেবে। বাংলাদেশে প্রাপ্ত বা কোনো বাংলাদেশি কর্তৃক উভচর, সরীসৃপ বা স্তন্যপায়ী প্রাণী আবিষ্কারের রেকর্ড এটিই প্রথম।
এ প্রসঙ্গে সাজিদের লেখা প্রকাশিত হওয়া জার্নাল 'জুট্যাক্সা'র প্রধান সম্পাদক ড. জি-ক্যুআ্যং জ্যাং (Dr Zhi-Qiang Zhang) বাংলাদেশ প্রতিদিনের এই প্রতিনিধিকে এক ই-মেইল বার্তায় জানান, বিশ্বে এ প্রজাতির ব্যাঙ আর কোথাও আবিষ্কৃত হয়নি, এটিই প্রথম। আমরা তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি এবং কোনো বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের জার্নালে এটিই কোনো বাংলাদেশির লেখা প্রকাশিত হলো।
সাজিদ তার শিক্ষক আসমতের নামানুসারে তার আবিষ্কৃত ব্যাঙের নাম দিয়েছেন 'ফেজারভারিয়া আসমতি'। গত ৯ ফেব্রুয়ারি জুট্যাক্সয়ে তার প্রাপ্ত ব্যাঙ সম্পর্কিত প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয়। একক ব্যক্তি কর্তৃক খ্যাতিমান কোনো কো-অথরের সহায়তা ছাড়া প্রাণী আবিষ্কার ও আন্তর্জাতিক জার্নালে লেখা প্রকাশের ঘটনা এটিই প্রথম।
এ ব্যাপারে সাজিদ হাওলাদার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমি কতটা আনন্দিত বুঝাতে পারব না। আমার সব কৃতিত্ব আমার শিক্ষক ও দেশের মানুষকে দিতে চাই। সরীসৃপ প্রজাতি নিয়ে অব্যাহতভাবে কাজ করে আমি আমার কাজের মাধ্যমে বেঁচে থাকতে চাই।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর এমন আবিষ্কার সম্পর্কে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. আলাউদ্দিন বলেন, তার আবিষ্কার সম্পর্কে শুনে আমরা খুবই আনন্দিত। সে বিশ্বের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করেছে। আমরা তার গবেষণা কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাই।
খ্যাতিমান প্রাণিবিজ্ঞানী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. গাজী সৈয়দ মোহাম্মদ আসমত সাজিদের আবিষ্কার প্রসঙ্গে জানান, সাজিদই একমাত্র বাংলাদেশি যে প্রাণী আবিষ্কারের কৃতিত্ব অর্জন করল। তার কৃতিত্বের জন্য সারা বাংলাদেশ গর্ব করতে পারে। এ ধরনের গবেষণামূলক কর্মকাণ্ডে ভবিষ্যতে সাজিদকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য আমি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।
সাজিদ কর্তৃক আবিষ্কৃত ব্যাঙ ও তার প্রবন্ধ প্রকাশে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রি-এর কিউরেটর ড. ড্যারেল ফ্রস্ট। বিশ্বের সরীসৃপ প্রাণীর শ্রেণীবিন্যাসের ক্ষেত্রে সাজিদই সর্বকনিষ্ঠ বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। বিশ্বজুড়ে সমাদৃত প্রাণী বিজ্ঞানী ড. ক্রেইগ এডলার সম্পাদিত ইনডেক্স অব অথরস অব হারপেটোলজিক্যাল ট্যাক্সোনমিস্ট-এর লেখক ড. জন এস এপলেগার্থ এক অভিনন্দন বার্তায় সাজিদের কৃতিত্বের জন্য তাকে অভিনন্দন জানিয়ে তার সাফল্য কামনা করেছেন।
২০০৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর থেকে ব্যাঙ নিয়ে কাজ শুরু করেন সাজিদ। ব্যক্তিগতভাবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাঙের জীবন প্রণালী ও বংশবৃদ্ধি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা চালিয়ে যান তিনি। এ সময়ে ব্যাঙের বংশবৃদ্ধির জন্য হটস্পট হিসেবে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের কাটাপাহাড় রাস্তার দুই পাশ থেকে বিভিন্ন ব্যাঙের স্যাম্পল সংগ্রহ করতে থাকেন তিনি। এর মধ্যে ২০০৮ সালে একদিন পেয়ে যান বিরল প্রজাতির একটি ব্যাঙ। স্বভাবমতো সেটিকে তিনি ব্যক্তিগত সংরক্ষণাগারে নিয়ে গিয়ে এটির প্রজাতি ও প্রকৃতি উদ্ধারের কাজে লেগে যান। কিন্তু সারা বিশ্বে এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত ও তালিকাভুক্ত সাড়ে ছয়শ প্রজাতির মধ্যেও এ ব্যাঙের অস্তিত্ব খুঁজে পাননি। তারপর শুরু হয় অন্য ধরনের গবেষণা। এ ব্যাঙের ব্যতিক্রমী ডাক ও বৈশিষ্ট্য বের করতে তিনি যোগাযোগ করেন বিশ্বের সেরা সব প্রাণিবিজ্ঞানীর সঙ্গে। দীর্ঘসময় ধরে পর্তুগাল, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্য, জার্মানি, জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের সহযোগিতায় ব্যাঙের ডাকের সাউন্ড এনালাইসিস এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হন যে এ ধরনের ব্যাঙের অস্তিত্ব বাংলাদেশেই পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে তিনি বিশ্বের সেরা প্রাণিবিজ্ঞানীদের সম্পাদনায় প্রকাশিত বণ্যপ্রাণীর শ্রেণীবিন্যাসের কাজে নিয়োজিত জার্নাল জুট্যাক্সা-তে এ বিষয়ে একটি প্রবন্ধ পাঠান। ওই জার্নাল কর্র্তৃপক্ষ তার আবিষ্কারের সত্যাসত্য যাচাইয়ের পর চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি প্রবন্ধটি গ্রহণ করেন। এরপর গত মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) জুট্যাক্সা জার্নালের ২৭৬১ ভলিউমে এটি প্রকাশিত হয়। এর মাধ্যমে প্রথম কোনো বাংলাদেশির প্রবন্ধ এ জার্নালে প্রকাশিত হলো।

Source: Daily Bangladesh Pratidin, 11th Feb-2011

Wednesday, February 9, 2011

ভৈরবে গড়ে উঠেছে স্টিলের নৌকা নির্মাণ শিল্প

ভৈরবে গড়ে উঠেছে স্টিলের নৌকা নির্মাণ শিল্প

মো. মোস্তাফিজুর রহমান আমিন, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)

ভৈরবে গড়ে উঠেছে স্টিলের মালবাহী নৌকা নির্মাণ শিল্প। অসংখ্য নদ-নদী আর খাল-বিল-হাওরাঞ্চল পরিবেশিষ্ট হওয়ায় এ অঞ্চলে এ নৌকার চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক। ফলে প্রতি বছরই নতুন নতুন উদ্যোক্তা এ সম্ভাবনাময় খাতে পুঁজি বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। আর এ শিল্পে এলাকার কয়েকশ’ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হওয়ায় তারাও বেশ ভালো আছেন পরিবার-পরিজন নিয়ে।
ড্রেজিংয়ের বালি, পাথর, কয়লা, কাঠ ও ইট ইত্যাদি মালামাল পরিবহন করা হয় এসব স্টিলের নৌকা দিয়ে। মালামাল পরিবহনে এ নৌকা অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় এর চাহিদাও বাড়ছে দিন দিন। ভৈরবসহ আশপাশে বর্তমানে ১০ থেকে ১২টি স্থানে এ নৌকা তৈরি হচ্ছে। ২ হাজার ৫শ’ থেকে ২ হাজার ৬শ’ বর্গফুট আয়তনের একেকটি স্টিলের নৌকা তৈরি করতে সময় লাগে তিন মাসের মতো। প্রতিটি নৌকা নির্মাণে শ্রমিকের প্রয়োজন ১০ থেকে ১২ জন। দক্ষ-অদক্ষ প্রতি শ্রমিক প্রতি মাসে বেতন পান সাড়ে ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। স্টিলের নৌকা তৈরির উদ্যোক্তারা জানান, প্রথমে তারা সুনামগঞ্জ, সরাই ও বাজিতপুর এলাকা থেকে এসব স্টিলের নৌকা কিনে আনতেন। ধীরে ধীরে এর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ১০/১২ বছর আগে থেকে ভৈরবে সীমিত আকারে এর নির্মাণ কাজ শুরু হলেও পরে চাহিদা থাকায় ভৈরবসহ আশপাশে বেশ কয়েকটি স্থানে নৌকা নির্মাণ শুরু হয়। তারা জানান, বছরে প্রায় অর্ধশত স্টিলের নৌকা নির্মাণ হচ্ছে এখানে। প্রতিটি নৌকা তৈরিতে প্রথমে সাড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকা ব্যয় হলেও নির্মাণসামগ্রী এবং শ্রমিকের মজুরিসহ আনুষঙ্গিক সব কিছুর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে খরচ পড়ে ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকা। আয়তন ও আকার অনুযায়ী কোনোটির ব্যয় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। ১৫ থেকে ২০ বছর মেয়াদি একেকটি নৌকা থেকে এক বছরে ভাড়া আদায় হয় ৫ থেকে সাড়ে ১০ লাখ টাকা। ফলে লাভজনক হওয়ায় অনেকেই এ শিল্প খাতে পুঁজি বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
Source: Daily Amardesh

Saturday, February 5, 2011

আমিরের বায়ুচালিত গাড়ি আসছে শিগগিরই

আমিরের বায়ুচালিত গাড়ি আসছে শিগগিরই

আসাদুজ্জামান ফিরোজ, বগুড়া
বগুড়া শহরের কাটনারপাড়ার রহিম ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক আমির হোসেন এক অসাধারণ প্রতিভাবান ব্যক্তি। এর আগে তিনি বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তৈরি করে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিলেন। আবারও দেশে ঝড় তুলতে যাচ্ছেন। অল্পদিনের মধ্যে বাতাসচালিত গাড়ি দেশবাসীকে উপহার দিতে পারবেন বলে তিনি জানান।
প্রাকৃতিক বাতাস শক্তিকে অটোমেটিক ফাংশনে রূপান্তর করে বিদ্যুত্ উত্পাদনের মাধ্যমে কিছু করা যায় কি-না তার ওপর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এর মধ্যে আবার প্রাকৃতিক বজ্রপাতকে আয়ত্তে এনে কিভাবে জ্বালানির কাজে লাগানো যায় তার ওপরও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমির হোসেন বলেন, আমরা শুধু মরীচিকার পেছনে ছুটছি। কারণ আল্লাহ পৃথিবীতে ৪টি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দিয়েছেন। এগুলো হলো পানি, বাতাস, সূর্য ও বজ্রপাত রশ্মি। এই বজ্রপাত অল্প সময়ের জন্য হয়। কিন্তু এই বজ্রপাত রশ্মি বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে আয়ত্বে নিতে পারলে এখান থেকেও জ্বালানি কাজে লাগানো সম্ভব। তবে সর্বশেষ তার তৈরি বাতাসচালিত গাড়ি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চালাচ্ছেন তিনি।
সর্বাধুনিক ও সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি নতুন গাড়ি চলবে বাতাসে। এই গাড়ি চালাতে লাগবে না জ্বালানি। ঘনীভূত বাতাস ট্যাংকে ভরে পিচঢালা পথ ধরে ছুটবে গাড়ি। অন্য ১০টি গাড়ির মতো সমানতালে চলবে। এতে মূল্যবান জ্বালানি তেলের অপচয় রোধের পাশাপাশি পরিবেশ দূষণকারী কোনো গ্যাস নির্গমনের আশঙ্কাও থাকবে না। বাতাসনির্ভর গাড়িটি হলো ৫ আসনবিশিষ্ট। গাড়ির বডি নির্মিত হবে হাওয়াই অ্যালাই দিয়ে। ওজন মাত্র ৩০০ কেজি। অন্য গাড়িগুলো যেভাবে জ্বালানি তেল সংরক্ষণের জন্য ট্যাংক থাকে, এটিতেও তেমনি থাকবে। তবে ট্যাংকে শুধু প্রাকৃতিক ঘনীভূত বাতাস ভরা থাকবে। কমপ্রেসারের মাধ্যমে এই ট্যাংকে প্রাকৃতিক বাতাস ভরতে সময় লাগবে ৮ মিনিট। প্রতি চার ঘণ্টা পর পর গাড়িটিতে কমপ্রেসারের মাধ্যমে বিকল্প পথে একটি ফুয়েল বার্নার ঘনীভূত বাতাস গরম করার মাধ্যমে বাতাসের চাপ বাড়িয়ে দেবে। এভাবে গাড়ির গতি বাড়বে। শুধু ২৪টি পিনিয়াম দিয়ে তৈরি করা ইঞ্জিন, যা চলবে শুধু এয়ার টারবাইন দিয়ে।
দূর পথ ভ্রমণের ক্ষেত্রে খুব সহজ হবে এই গাড়িটি। আবার যদি এমনটি হয় রাস্তায় যানজটে পড়লে গাড়ি যাতে উড়ে চলতে পারে তারও ব্যবস্থা আছে। এই গাড়ি খাড়াভাবে শূন্যে ওঠে যেতে পারবে এবং একই সঙ্গে শূন্যে স্থির হয়ে থাকতে পারবে। রাস্তায় প্রতি ঘণ্টায় ৮০ মাইল এবং আকাশে এর গতি হবে প্রতি ঘণ্টায় ১৫০ কিমি প্রায়। বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ইয়ার টারবাইনে ঘুরবে ১০০০ ওয়াটের একটি জেনারেটর। এটি সর্বোচ্চ ৫০০ ফুট পর্যন্ত উঁচুতে উড়তে পারবে। চলন্ত সময়ে ডানে-বামে ইচ্ছামত ঘোরানো যাবে।
দরজাগুলো অটোরিমোট সিস্টেমে খোলা ও বন্ধ করা যাবে। সামনে-পেছনে চলাচলের জন্য অটোমনিটর ফাংশন সিস্টেম থাকবে। যে কোনো সময় যে কোনো অবস্থায় গাড়ি চলাচলে কোনো প্রকার সমস্যায় পড়তে হবে না। এ গাড়ি তৈরিতে খরচ হবে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা। চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে মিডিয়ার সামনে চলন্ত অবস্থায় উপস্থাপন করা হবে বাতাসচালিত এই গাড়ি এমনই দাবি করলেন এর উদ্ভাবক আমির হোসেন। এই প্রযুক্তিগুলো মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের বেশকিছু সূরা থেকে গবেষণা করে পেয়েছেন বলে তিনি জানান।
Source: Daily Amardesh, 06th Feb-2011

Friday, February 4, 2011

নাটোরে বিনা চাষে রসুন

নাটোরে বিনা চাষে রসুন

চলতি রবি মৌসুমে নাটোরে বিনা চাষে রসুনের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও প্রায় চার হাজার হেক্টর অতিরিক্ত জমিতে এবার রসুন চাষের আওতায় এসেছে।
১৯৯৫-৯৬ সালে জেলার গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলা এলাকার কৃষকরা স্ব-উদ্যোগে বিনা চাষে রসুনের আবাদ প্রচলন করেন- যা বাংলাদেশে প্রথম। এরপর গ্রামগুলোতে রসুন চাষের জমির পরিমাণ বাড়তে থাকে। পরে গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলার পাশাপাশি অন্য উপজেলাগুলোতে এর চাষাবাদ সমপ্রসারিত হয়।
বিনা চাষে রসুনের চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে গুরুদাসপুরের কাছিকাটা এলাকার কৃষক জেহের আলী বলেন, বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর সাধারণত কার্তিক মাসে নরম জমিতে বিনা চাষে রসুনের কোয়া লাগানো হয়। এতে সেচেরও বেশি প্রয়োজন হয় না। জমিতে আগাছা থাকে কম। তুলনামূলকভাবে সারের ব্যবহারও কম করতে হয়। রোপণের ১২০ দিনের মধ্যে রসুন তোলা যায়। রবি মৌসুমের রসুন উৎপাদন খরচ প্রচলিত চাষাবাদের মাধ্যমে উৎপাদিত রসুনের চেয়ে তুলনামূলকভাবে কম। বিঘাপ্রতি উৎপাদন হয় ২৫ থেকে ৩০ মণ। জেলা কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, ২০০৮-০৯ সালে ৭,৫৫০ হেক্টর এবং ২০০৯-১০ সালে ৯,৩৯০ হেক্টর জমিতে রসুন চাষ হয়। রসুন চাষের পরিধি পর্যায়ক্রমে আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মৌসুমে ১০ হাজার ৭০ হেক্টর জমি চাষাবাদ করে ৬০ হাজার ৪২০ টন রসুন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১৩ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে রসুন চাষ হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, উৎপাদন ৮০ হাজার টন ছাড়িয়ে যাবে। আবাদি জমির মধ্যে ৮ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে বিনা চাষে রসুন এবং অবশিষ্ট জমিতে প্রচলিত পদ্ধতির চাষের মাধ্যমে রসুন আবাদ করা হয়েছে। আবাদি জমির বেশিরভাগ গুরুদাসপুর উপজেলায়।
বিনা চাষে রসুন আবাদ সম্পর্কে শস্য ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত সিংড়া উপজেলার কুমিরা গ্রামের কৃষক জুলফিকার আনাম বলেন, অল্প পরিশ্রমে অল্প ব্যয়ে কৃষকরা বিনা চাষে রসুন আবাদে ঝুঁকছেন। এটি একটি লাভজনক ফসল হিসেবেই আমরা এর আবাদ করে থাকি। পাশাপাশি রসুনের বাজারমূল্য বেশি হওয়ার কারণেও কৃষকদের রসুন আবাদে আগ্রহ আরো বেড়েছে।
নাটোর কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক এম. দেলোয়ার হোসেন বলেন, কৃষকদের মাঝে বিনা চাষে রসুন জনপ্রিয় হওয়ায় কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। রসুনের বাজারমূল্য চড়া হওয়ার কারণে কৃষকরা বেশি মুনাফার আশায় এবার অধিক জমিতে রসুন চাষ করেছেন। কৃষকদের যেকোনো ধরনের সমস্যায় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ তাদের পাশে আছে।
ফারাজী আহম্মদ রফিক বাবন, বাসস

Thursday, February 3, 2011

'মারের সাগর পাড়ি দেব'

'মারের সাগর পাড়ি দেবইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তত্ত্বাবধানে নতুন প্রযুক্তির ১০টি নৌকা তৈরি করেছে সাভারের 'তাড়াতাড়ি শিপইয়ার্ড'। পাটের নৌকার মতো ফাইবার গ্লাসের এ নৌকাও বাংলাদেশের জেলেদের জন্য কাজ করবে লাইফজ্যাকেটের মতো। বিস্তারিত বলছেন তায়েফুর রহমান তাড়াতাড়ি শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নৌপ্রকৌশলী ইভ মার বলেন, 'নৌকাটি ফাইবার গ্লাস ও প্লাস্টিকের সমন্বয়ে তৈরি।' দেড় থেকে দুই টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন নৌকাটির নকশা করেছেন ফ্রান্সের বিখ্যাত ভিপিএলপি ইয়েস্ট ডিজাইন কোম্পানির নৌপ্রকৌশলী মার্ক ভ্যান পেটিগেম। প্রতিটি নৌকা তৈরিতে খরচ হয়েছে সাড়ে তিন লাখ টাকা। কাঠের নৌকার চেয়েও দ্রুত চলবে এগুলো।
আকারে প্রতিটি নৌকা ৩০ ফুট লম্বা ও সাড়ে ছয় ফুট চওড়া। মাস্তুলের উচ্চতা সাত মিটার এবং পাল ১৮ বর্গমিটার। সুদৃশ্য পালের রং লাল। জ্বালানি সাশ্রয়ী এ নৌকার রক্ষণাবেক্ষণেও তেমন খরচ হবে না। তা ছাড়া পানিতে ডুবে না যাওয়াটাই এর সবচেয়ে বড় গুণ।ফাইবার গ্লাসের প্রতিটি নৌকায় রয়েছে ১৬ অশ্বশক্তির ইঞ্জিন, দুইটি ব্যাটারি, সোলার সিস্টেম, জ্বালানি তেলের তিনটি পাত্র, অগি্ননির্বাপক যন্ত্র, নৌকা বাঁধার লোহার চেইন, দুটি বয়া, পাঁচটি লাইফজ্যাকেট, কম্পাস, রেডিও ও দিকনির্দেশনার বাতি। ডিজেলচালিত হলেও বাতাস অনুকূলে থাকলে পালের সাহায্যেও চলবে এ নৌকা।২২ জানুয়ারি ঢাকার সাভারের কর্ণপাড়ায় তাড়াতাড়ি শিপইয়ার্ডে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের বাগেরহাটের রামপাল, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও হিজলা, পটুয়াখালীর দশমিনা ও বাউফল, ভোলার দৌলতখান ও তজুমদ্দিন, বরগুনার বেতাগী, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ এবং সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার ৫০ জন দরিদ্র জেলের মধ্যে প্রথম দফায় বিনা মূল্যে ১০টি নৌকা হস্তান্তর করা হয়। এর আগে ওই ৫০ জনকে সাভারের বংশী নদীতে চারদিন ধরে ফাইবার নৌকা চালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।হস্তান্তর অনুষ্ঠানে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মাহবুবুর রহমান বলেন, 'প্রাথমিক পর্যায়ে ৪০টি নৌকা বিতরণ করা হবে। এতে উপকৃত হবে ২০০ জেলে। ভালো ফল পাওয়া গেলে পরে আরো নৌকা বিতরণ করা হবে।ইইউর প্রতিনিধি কোন ডোচাটু বলেন, 'দরিদ্র মৎস্যজীবীদের পক্ষে নৌকাগুলো কেনা সম্ভব নয়। তাই দরিদ্র জেলেদের বিনা মূল্যে এ নৌকা প্রদানের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ইইউ।বিনা মূল্যে উন্নত প্রযুক্তির নৌকা পেয়ে প্রান্তিক জেলেরা বেশ উচ্ছ্বসিত। ভোলার দৌলতখানের জেলে জাহাঙ্গীর জানান, আইলা তার নৌকার সঙ্গে ভাইকেও কেড়ে নিয়েছিল। তিনি হয়ে যান নিঃস্ব। এখন ফাইবার গ্লাসের নৌকায় সওয়ার হয়ে জীবন বদলে দেওয়ার পালা।
Source: Daily Kalerkantho, 1th Feb-2011